একসময় যেখানে চাষ হতো শুধু ধান-পাট, এখন সেই জমিতেই ফলছে আখসহ লাখ লাখ টাকার অন্যান্য মূল্যবান ফসল। সারি সারি মিষ্টি আখে ভরে উঠেছে মানিকগঞ্জের মাঠ। এক বিঘা জমিতে খরচ হচ্ছে ২০ থেকে ২৫ হাজার, আর মৌসুম শেষে বিক্রি প্রায় লাখ টাকার আখ। তাই স্বাদে-মিষ্টিতে পরিচিত এই ফসলই এখন অনেক কৃষকের কাছে হয়ে উঠেছে আয়ের বড় ভরসা।
মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার রমনপুর ও পাথরাইল গ্রামের মাঠজুড়ে এখন আখের রাজত্ব। চলতি মৌসুমে জেলায় ৫২৪ হেক্টর জমিতে হয়েছে আখের আবাদ। সদর থানা, সিংগাইর ও সাটুরিয়ায় আখ চাষ হচ্ছে সবচেয়ে বেশি।
আশ্বিনে জমিতে আখের চারা রোপণ করে প্রায় এক বছর চলে পরিচর্যা। ভাদ্র মাসে শুরু হয় কাটা। একই জমিতে মুলা, গাজর, ধনেপাতা, লালশাক কিংবা তামাকের মতো ফসলও চাষ করছেন কৃষকেরা। ফলে আখের পাশাপাশি মিলছে বাড়তি আয়ও।
ঈশ্বরদী, বোম্বাই, রংবিলাস, ধলি ও মিস্রিমালাসহ বিভিন্ন জাতের আখের চাষ হচ্ছে এই অঞ্চলে। ফলন ভালো, রোগবালাই কম, আর মিষ্টি হওয়ায় এসব আখের চাহিদাও বেশ। রাজধানীর কারওয়ান বাজার, টাঙ্গাইলসহ বিভিন্ন এলাকার ব্যবসায়ীরা মাঠ থেকেই কিনে নিয়ে যাচ্ছেন এই আখ।
প্রতিটি আখ পাইকারিতে বিক্রি হচ্ছে ২০ থেকে ২৫ টাকা দরে। পরে খুচরা বাজারে সেই আখের দাম উঠছে ৪০ থেকে ৫০ টাকা। এতে কৃষকের পাশাপাশি লাভবান হচ্ছেন ব্যবসায়ীরাও।
তবে সার ও উৎপাদন উপকরণের দাম নিয়ে কিছুটা দুশ্চিন্তায় কৃষকেরা। তাদের প্রত্যাশা, উপকরণের দাম সহনীয় রাখা ও সরকারি সহযোগিতা নিশ্চিত করা হলে আরও বাড়বে আখের আবাদ।
মিষ্টি আখে শুধু মাঠের চিত্রই নয়, বদলে যাচ্ছে কৃষকের ভাগ্যের হিসাবও। লাভজনক এই আবাদে তাই প্রতিনিয়তই বাড়ছে কৃষকের আগ্রহ। আর এতেই নতুন করে আখ চাষে স্বপ্ন বুনছেন মানিকগঞ্জের অনেক কৃষক।
Reporter Name 

























