ঢাকা ১২:৪৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬, ২৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পৌর মেয়র থেকে দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদের পথে মির্জা ফখরুল

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১২:০৫:২৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬
  • ০ বার
ছাত্ররাজনীতি দিয়ে হাতেখড়ি, তারপর শিক্ষকতা, সরকারি চাকরি, পৌরসভার মেয়র, সংসদ সদস্য ও মন্ত্রিত্বের দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এখন বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হওয়ার পথে।
বর্তমানে তিনি সরকারের স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিআরডি) মন্ত্রীর দায়িত্বে নিয়োজিত রয়েছেন। রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী হওয়ার কারণে তিনি দলীয় প্রধান মহাসচিব এবং জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য পদ থেকে ইতোমধ্যেই পদত্যাগ করেছেন।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) দুপুর ২টা ২৫ মিনিটে নির্বাচন কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের কাছে মির্জা ফখরুলের পক্ষে মনোনয়নপত্র জমা দেন বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব।
যেমন ছিল দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলা
রাষ্ট্রপতি পদে নাম চূড়ান্তের পর নতুন করে সামনে আসছে প্রায় ছয় দশকের এক বৈচিত্র্যময় জীবনের গল্প। ১৯৪৮ সালের ২৬ জানুয়ারি ঠাকুরগাঁওয়ের ঐতিহ্যবাহী পরিবারে জন্ম নেন মির্জা ফখরুল। তার বাবা মির্জা রুহুল আমিন ছিলেন একজন আইনজীবী, সাবেক এমপি ও মন্ত্রী।
ঠাকুরগাঁও থেকে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক এবং ঢাকা কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক সম্পন্ন করে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময়ই যুক্ত হন রাজনীতিতে, ছিলেন পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়ন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি ও এসএম হলের সাধারণ সম্পাদক। ঐতিহাসিক ১৯৬৯-এর গণ-অভ্যুত্থানে তিনি তৎকালীন ছাত্র ইউনিয়নের দায়িত্বে ছিলেন।
বামপন্থী রাজনীতি ও মাওলানা ভাসানীর ন্যাপের রাজনীতিতে সম্পৃক্ততা দিয়ে শুরু হলেও কর্মজীবনের শুরুতে তিনি ঢাকা কলেজ ও ঠাকুরগাঁও সরকারি কলেজে অর্থনীতি বিষয়ে অধ্যাপনা করেন। পরবর্তীতে ১৯৭৯ সালে তৎকালীন উপপ্রধানমন্ত্রী এস এ বারীর একান্ত সচিব হিসেবে কাজ করার অভিজ্ঞতাও ঝুলিতে নেন।
১৯৮৬ সালে সরকারি চাকরি ছেড়ে পূর্ণাঙ্গ রাজনীতিতে মনোযোগ দেন তিনি। ১৯৮৮ সালে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করে ঠাকুরগাঁও পৌরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। দেশব্যাপী এরশাদবিরোধী আন্দোলনের সময় নব্বইয়ের শুরুতে বিএনপিতে যোগ দেন এবং ১৯৯২ সালে জেলা বিএনপির সভাপতি নির্বাচিত হন।
২০০১ সালের নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর তৎকালীন সরকারের কৃষি এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দ্বৈত দায়িত্ব পান তিনি।
পরবর্তীতে ২০০৯ সালে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব, ২০১১ সাল থেকে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব এবং ২০১৬ সাল থেকে টানা দলটির মহাসচিবের মতো গুরুদায়িত্ব সফলভাবে পালন করে আসছেন। আওয়ামী লীগ আমলের উত্তাল রাজনৈতিক সংকটে দলীয় প্রধানদের অনুপস্থিতিতে রাজপথের অন্যতম প্রধান কাণ্ডারি হিসেবে নেতৃত্ব দেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

পৌর মেয়র থেকে দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদের পথে মির্জা ফখরুল

আপডেট টাইম : ১২:০৫:২৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬
ছাত্ররাজনীতি দিয়ে হাতেখড়ি, তারপর শিক্ষকতা, সরকারি চাকরি, পৌরসভার মেয়র, সংসদ সদস্য ও মন্ত্রিত্বের দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এখন বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হওয়ার পথে।
বর্তমানে তিনি সরকারের স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিআরডি) মন্ত্রীর দায়িত্বে নিয়োজিত রয়েছেন। রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী হওয়ার কারণে তিনি দলীয় প্রধান মহাসচিব এবং জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য পদ থেকে ইতোমধ্যেই পদত্যাগ করেছেন।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) দুপুর ২টা ২৫ মিনিটে নির্বাচন কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের কাছে মির্জা ফখরুলের পক্ষে মনোনয়নপত্র জমা দেন বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব।
যেমন ছিল দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলা
রাষ্ট্রপতি পদে নাম চূড়ান্তের পর নতুন করে সামনে আসছে প্রায় ছয় দশকের এক বৈচিত্র্যময় জীবনের গল্প। ১৯৪৮ সালের ২৬ জানুয়ারি ঠাকুরগাঁওয়ের ঐতিহ্যবাহী পরিবারে জন্ম নেন মির্জা ফখরুল। তার বাবা মির্জা রুহুল আমিন ছিলেন একজন আইনজীবী, সাবেক এমপি ও মন্ত্রী।
ঠাকুরগাঁও থেকে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক এবং ঢাকা কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক সম্পন্ন করে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময়ই যুক্ত হন রাজনীতিতে, ছিলেন পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়ন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি ও এসএম হলের সাধারণ সম্পাদক। ঐতিহাসিক ১৯৬৯-এর গণ-অভ্যুত্থানে তিনি তৎকালীন ছাত্র ইউনিয়নের দায়িত্বে ছিলেন।
বামপন্থী রাজনীতি ও মাওলানা ভাসানীর ন্যাপের রাজনীতিতে সম্পৃক্ততা দিয়ে শুরু হলেও কর্মজীবনের শুরুতে তিনি ঢাকা কলেজ ও ঠাকুরগাঁও সরকারি কলেজে অর্থনীতি বিষয়ে অধ্যাপনা করেন। পরবর্তীতে ১৯৭৯ সালে তৎকালীন উপপ্রধানমন্ত্রী এস এ বারীর একান্ত সচিব হিসেবে কাজ করার অভিজ্ঞতাও ঝুলিতে নেন।
১৯৮৬ সালে সরকারি চাকরি ছেড়ে পূর্ণাঙ্গ রাজনীতিতে মনোযোগ দেন তিনি। ১৯৮৮ সালে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করে ঠাকুরগাঁও পৌরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। দেশব্যাপী এরশাদবিরোধী আন্দোলনের সময় নব্বইয়ের শুরুতে বিএনপিতে যোগ দেন এবং ১৯৯২ সালে জেলা বিএনপির সভাপতি নির্বাচিত হন।
২০০১ সালের নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর তৎকালীন সরকারের কৃষি এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দ্বৈত দায়িত্ব পান তিনি।
পরবর্তীতে ২০০৯ সালে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব, ২০১১ সাল থেকে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব এবং ২০১৬ সাল থেকে টানা দলটির মহাসচিবের মতো গুরুদায়িত্ব সফলভাবে পালন করে আসছেন। আওয়ামী লীগ আমলের উত্তাল রাজনৈতিক সংকটে দলীয় প্রধানদের অনুপস্থিতিতে রাজপথের অন্যতম প্রধান কাণ্ডারি হিসেবে নেতৃত্ব দেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।