মিঠামইন উপজেলা সদরে জন্ম ও বেড়ে ওঠার সুবাদে পারিবারিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে জাহিদুল আলম জাহাঙ্গীর ভাই ছিলেন একজন সর্বজনগ্রহণযোগ্য, সজ্জন ও ভালোবাসার মানুষ। মানুষের সুখে-দুঃখে পাশে থাকা, আপন করে নেওয়া এবং হৃদয় দিয়ে মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলার কারণেই তিনি হয়ে উঠেছিলেন সবার প্রিয় জাহাঙ্গীর ভাই।
তাঁর অনাকাঙ্ক্ষিত ও মর্মান্তিক মৃত্যুতে আজ শুধু একটি পরিবার নয়—কাঁদছে কিশোরগঞ্জ জেলার পুরো মিঠামইন, কাঁদছে হাওরবাসী। তাঁর শেষ বিদায়ের নামাজে জানাজায় লাখো মানুষের উপস্থিতিই প্রমাণ করে, মানুষের হৃদয়ে তাঁর অবস্থান কতটা গভীরে ছিল। এত মানুষের ভালোবাসা ও অশ্রুসিক্ত বিদায় সত্যিই বিরল।
আজও মনে হয়—জাহিদুল আলম জাহাঙ্গীর ভাই নেই, অথচ তাঁর স্মৃতিগুলো আমাদের চারপাশে ছড়িয়ে আছে। তাঁর হাসিমুখ, মানুষের প্রতি ভালোবাসা, পরিচিতজনদের সঙ্গে আন্তরিকতা—সবকিছুই বারবার মনে পড়ে। একজন মানুষ চলে গেলে তাঁর শূন্যতা কতটা গভীর হতে পারে, জাহাঙ্গীর ভাইয়ের চলে যাওয়া আমাদের তা নতুন করে উপলব্ধি করিয়েছে।
মহান আল্লাহ মরহুম জাহাঙ্গীর ভাইকে ক্ষমা করে দিন, তাঁর কবরকে নূরে ভরে দিন এবং জান্নাতুল ফেরদৌসের সর্বোচ্চ মাকাম নসিব করুন। শোকসন্তপ্ত পরিবারকে এই অপূরণীয় ক্ষতি সহ্য করার শক্তি ও ধৈর্য দান করুন। আমিন।
জাহাঙ্গীর ভাইয়ের এই মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডে আমরা গভীরভাবে শোকাহত। তাঁর আত্মীয়স্বজন, বন্ধু-বান্ধব, এলাকাবাসী, দলীয় নেতাকর্মী ও সকল শুভানুধ্যায়ের প্রতি বিনীত অনুরোধ—কেউ আবেগের বশে বা অতি উৎসাহী হয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো যাচাই-বাছাইহীন, বিভ্রান্তিকর বা অনুমাননির্ভর তথ্য প্রচার করবেন না। এতে যেমন জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে, তেমনি শোকাহত পরিবারের কষ্টও আরও বাড়তে পারে।
আমরা বিশ্বাস করি, সত্য একদিন অবশ্যই প্রকাশিত হবে। জাহাঙ্গীর ভাইয়ের হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত, প্রকৃত রহস্য উদঘাটন এবং জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত হোক—এটাই আজ হাওরবাসীর হৃদয়ের দাবি।
আসুন, আমরা সবাই ধৈর্য ধারণ করি, গুজব নয়—সত্যের পাশে থাকি।
জাহাঙ্গীর ভাই হয়তো আজ আমাদের মাঝে নেই, কিন্তু তাঁর প্রতি মানুষের যে ভালোবাসা, শেষ বিদায়ের সেই জনসমুদ্র—তা প্রমাণ করে তিনি মানুষের হৃদয়ে কতটা আপন ছিলেন।
হাওরের মাটিতে জন্ম নেওয়া এই প্রিয় মানুষটির কথা হাওরবাসী কোনোদিন ভুলবে না।
আল্লাহ তাঁকে জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করুন।
Reporter Name 
























