ঢাকা ১১:১৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬, ৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
রাষ্ট্রপতির সঙ্গে প্রধান বিচারপতির সৌজন্য সাক্ষাৎ বাংলাদেশের সঙ্গে ম্যাচ খেলতে চায় ব্রাজিল, জানা গেলো সম্ভাব্য সময় ডিএনএ পরীক্ষায় প্রমাণিত, আলোচিত সেই মাদরাসা শিক্ষকই শিশুটির বাবা কুয়াকাটায় জেলের জালে বিরল ৩ কেজির ‘ভোল পোয়া’, বিক্রি ১১ হাজারে অক্টোবরে কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রপতির এপিএস হলেন মো. ইউনুস আলী মেয়েদের সর্বজনীন উপবৃত্তি পুনরায় চালুর উদ্যোগ, দুই জেলায় মিড-ডে মিলের পাইলট সিরাজগঞ্জে গড়ে উঠবে আধুনিক ‘বিজনেস হাব’: চেয়ারম্যান তাঁত বোর্ড কিশোরগঞ্জের দুই কৃতি সন্তান অতিরিক্ত আইজিপির পদোন্নতি বাংলা কিউআরে দৈনিক লেনদেন ছাড়াল ১১০ কোটি টাকা

তিন নদীতে বাড়ছে পানি, ৫ জেলায় বন্যার শঙ্কা

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১২:১৩:০৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬
  • ৩৬ বার

আগামী দু’দিন তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানির স্তর আরও বাড়তে পারে। কিছু স্থানে পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করে রংপুর অঞ্চলে স্বল্পস্থায়ী বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (বিডব্লিউডিবি) কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গত ২৪ ঘণ্টায় উত্তরাঞ্চলের রংপুর বিভাগে তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানির স্তর বেড়েছে। আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে নদীগুলোর কিছু কিছু স্থানে পানির স্তর বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে।

ফলে লালমনিরহাট, নীলফামারী, রংপুর, গাইবান্ধা এবং কুড়িগ্রাম জেলার এসব নদী সংলগ্ন প্লাবনভূমি ও নিচু এলাকাগুলোতে আকস্মিক ও স্বল্পস্থায়ী বন্যা দেখা দিতে পারে।

তবে তৃতীয় দিনে এই নদীগুলোর পানির স্তর স্থিতিশীল থাকতে পারে।

এদিকে, বিডব্লিউডিবি-র বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র আজ (সোমবার) এক বুলেটিনে জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ব্রহ্মপুত্র অববাহিকায় ব্রহ্মপুত্র ও যমুনা নদীর পানির স্তর বেড়েছে।

আগামী পাঁচদিন ধরে এই নদীগুলোর পানির স্তর বাড়তে পারে বলেও পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে।

আগামী ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, জামালপুর, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ এবং টাঙ্গাইল জেলার কিছু স্থানে এই নদীগুলো সতর্কীকরণ স্তরে প্রবাহিত হতে পারে এবং সংলগ্ন নিচু এলাকাগুলোতে সাময়িক জলমগ্নতা দেখা দিতে পারে।

আবহাওয়া সংস্থাগুলোর তথ্যমতে, আগামী ২৪ ঘণ্টায় বাংলাদেশের রংপুরসহ চারটি বিভাগ এবং ভারতের আসাম, মেঘালয় ও পশ্চিমবঙ্গের সংলগ্ন উজান অঞ্চলে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস রয়েছে।

আজ সকাল ৯টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় ভারতের উজান অঞ্চলের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোতে উইলিয়ামনগরে ৩৭১ মিমি, আরকেএম সোহরায় ২৮২ মিমি, চেরাপুঞ্জিতে ২৭৯ মিমি, গুয়াহাটিতে ১৩৮ মিমি, তুরায় ১০১ মিমি এবং জলপাইগুড়িতে ৫৫ মিমি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

একই সময়ে, ব্রহ্মপুত্র অববাহিকার ভাটিতে বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলে পঞ্চগড়ে ৯১ মিমি, রংপুরে ৬১ মিমি, ডালিয়ায় ৫৫ মিমি, পাটেশ্বরীতে ৫০ মিমি এবং চিলমারীতে ৪৭ মিমি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

বাংলাদেশেরসংস্কৃতি

বিডব্লিউডিবি’র রংপুর সার্কেলের সুপারিনটেন্ডিং ইঞ্জিনিয়ার মো. আহসান হাবিব বাসসকে জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় উজানে ও ভাটিতে মৌসুমী বৃষ্টিপাত বাড়ায় প্রধান নদীগুলোর প্রায় সব পয়েন্টেই পানির স্তর বৃদ্ধি পেয়েছে।

তিনি আরও জানান, আগামী দিনগুলোতে ব্রহ্মপুত্র অববাহিকায় বড় ধরনের বন্যার কোনো শঙ্কা নেই। আমরা সার্বক্ষণিক পরিস্থিতির ওপর নিবিড় নজর রাখা হচ্ছে।

সোমবার বিকেল ৩টায় নীলফামারীর ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তা নদী নির্ধারিত বিপৎসীমার ৯ সেমি নিচে, রংপুরের কাউনিয়া পয়েন্টে ৩৩ সেমি নিচে এবং গাইবান্ধার তারাপুর ও হরিপুর পয়েন্টে যথাক্রমে ৮ সেমি ও ২৭ সেমি নিচে প্রবাহিত হচ্ছিল।

একই সময়ে দুধকুমার নদী পাটেশ্বরীতে নির্ধারিত বিপৎসীমার ৩৫ সেমি নিচে, ধরলা নদী কুড়িগ্রামে বিপৎসীমার ৬২ সেমি নিচে এবং ব্রহ্মপুত্র নদী নুনখাওয়ায় বিপৎসীমার ৬৯ সেমি, হাতিয়ায় ৫০ সেমি ও চিলমারী পয়েন্টে ৪৫ সেমি নিচে প্রবাহিত হচ্ছিল।

অন্যদিকে যমুনা নদী ফুলছড়িতে মাত্র ৫৯ সেমি, বাহাদুরাবাদে ৫৮ সেমি, সাঘাটায় ৫৯ সেমি, সারিয়াকান্দিতে ৫০ সেমি, কাজিপুরে ১০৩ সেমি এবং সিরাজগঞ্জ পয়েন্টে বিপৎসীমার ৬৫ সেমি নিচে প্রবাহিত হচ্ছিল।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

রাষ্ট্রপতির সঙ্গে প্রধান বিচারপতির সৌজন্য সাক্ষাৎ

তিন নদীতে বাড়ছে পানি, ৫ জেলায় বন্যার শঙ্কা

আপডেট টাইম : ১২:১৩:০৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬

আগামী দু’দিন তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানির স্তর আরও বাড়তে পারে। কিছু স্থানে পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করে রংপুর অঞ্চলে স্বল্পস্থায়ী বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (বিডব্লিউডিবি) কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গত ২৪ ঘণ্টায় উত্তরাঞ্চলের রংপুর বিভাগে তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানির স্তর বেড়েছে। আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে নদীগুলোর কিছু কিছু স্থানে পানির স্তর বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে।

ফলে লালমনিরহাট, নীলফামারী, রংপুর, গাইবান্ধা এবং কুড়িগ্রাম জেলার এসব নদী সংলগ্ন প্লাবনভূমি ও নিচু এলাকাগুলোতে আকস্মিক ও স্বল্পস্থায়ী বন্যা দেখা দিতে পারে।

তবে তৃতীয় দিনে এই নদীগুলোর পানির স্তর স্থিতিশীল থাকতে পারে।

এদিকে, বিডব্লিউডিবি-র বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র আজ (সোমবার) এক বুলেটিনে জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ব্রহ্মপুত্র অববাহিকায় ব্রহ্মপুত্র ও যমুনা নদীর পানির স্তর বেড়েছে।

আগামী পাঁচদিন ধরে এই নদীগুলোর পানির স্তর বাড়তে পারে বলেও পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে।

আগামী ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, জামালপুর, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ এবং টাঙ্গাইল জেলার কিছু স্থানে এই নদীগুলো সতর্কীকরণ স্তরে প্রবাহিত হতে পারে এবং সংলগ্ন নিচু এলাকাগুলোতে সাময়িক জলমগ্নতা দেখা দিতে পারে।

আবহাওয়া সংস্থাগুলোর তথ্যমতে, আগামী ২৪ ঘণ্টায় বাংলাদেশের রংপুরসহ চারটি বিভাগ এবং ভারতের আসাম, মেঘালয় ও পশ্চিমবঙ্গের সংলগ্ন উজান অঞ্চলে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস রয়েছে।

আজ সকাল ৯টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় ভারতের উজান অঞ্চলের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোতে উইলিয়ামনগরে ৩৭১ মিমি, আরকেএম সোহরায় ২৮২ মিমি, চেরাপুঞ্জিতে ২৭৯ মিমি, গুয়াহাটিতে ১৩৮ মিমি, তুরায় ১০১ মিমি এবং জলপাইগুড়িতে ৫৫ মিমি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

একই সময়ে, ব্রহ্মপুত্র অববাহিকার ভাটিতে বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলে পঞ্চগড়ে ৯১ মিমি, রংপুরে ৬১ মিমি, ডালিয়ায় ৫৫ মিমি, পাটেশ্বরীতে ৫০ মিমি এবং চিলমারীতে ৪৭ মিমি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

বাংলাদেশেরসংস্কৃতি

বিডব্লিউডিবি’র রংপুর সার্কেলের সুপারিনটেন্ডিং ইঞ্জিনিয়ার মো. আহসান হাবিব বাসসকে জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় উজানে ও ভাটিতে মৌসুমী বৃষ্টিপাত বাড়ায় প্রধান নদীগুলোর প্রায় সব পয়েন্টেই পানির স্তর বৃদ্ধি পেয়েছে।

তিনি আরও জানান, আগামী দিনগুলোতে ব্রহ্মপুত্র অববাহিকায় বড় ধরনের বন্যার কোনো শঙ্কা নেই। আমরা সার্বক্ষণিক পরিস্থিতির ওপর নিবিড় নজর রাখা হচ্ছে।

সোমবার বিকেল ৩টায় নীলফামারীর ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তা নদী নির্ধারিত বিপৎসীমার ৯ সেমি নিচে, রংপুরের কাউনিয়া পয়েন্টে ৩৩ সেমি নিচে এবং গাইবান্ধার তারাপুর ও হরিপুর পয়েন্টে যথাক্রমে ৮ সেমি ও ২৭ সেমি নিচে প্রবাহিত হচ্ছিল।

একই সময়ে দুধকুমার নদী পাটেশ্বরীতে নির্ধারিত বিপৎসীমার ৩৫ সেমি নিচে, ধরলা নদী কুড়িগ্রামে বিপৎসীমার ৬২ সেমি নিচে এবং ব্রহ্মপুত্র নদী নুনখাওয়ায় বিপৎসীমার ৬৯ সেমি, হাতিয়ায় ৫০ সেমি ও চিলমারী পয়েন্টে ৪৫ সেমি নিচে প্রবাহিত হচ্ছিল।

অন্যদিকে যমুনা নদী ফুলছড়িতে মাত্র ৫৯ সেমি, বাহাদুরাবাদে ৫৮ সেমি, সাঘাটায় ৫৯ সেমি, সারিয়াকান্দিতে ৫০ সেমি, কাজিপুরে ১০৩ সেমি এবং সিরাজগঞ্জ পয়েন্টে বিপৎসীমার ৬৫ সেমি নিচে প্রবাহিত হচ্ছিল।