ঢাকা ০৯:১২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৪ অগাস্ট ২০২৬, ২০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
বৃহত্তর ময়মনসিংহের উন্নয়নে সমন্বিত উদ্যোগের তাগিদ তথ্য প্রতিমন্ত্রীর অস্তিত্বসংকটে বুড়িগঙ্গা ২০২৪-এর জুলাই গণঅভ্যুত্থান প্রবাস থেকে যত প্রতিরোধ মেঘনার এক ইলিশ বিক্রি হলো ১০ হাজার টাকায় মাওলানা মাহমুদ মাদানী ইসরাইলে অস্ত্র সরবরাহ মানবতা ও ভারতের নৈতিক মর্যাদার জন্য কলঙ্ক অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল নিয়ে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে ৫ আগস্ট সংবাদপত্রে ছুটি বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার আধুনিক শিক্ষার সঙ্গে মূল্যবোধভিত্তিক শিক্ষার সমন্বয়ে কাজ করবে আর্মি ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ইনস্টিটিউট : সেনাপ্রধান শেখ হাসিনা যেন ভারতের ভূখণ্ড ব্যবহার করে রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারে: দিনেশ ত্রিবেদীকে হুমায়ুন কবির

যে কারণে মুসলিম বিশ্বে আলোচনার কেন্দ্রে স্পেনের তারকা লামিন ইয়ামাল

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ০১:০৫:৩৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬
  • ১৬ বার
বিশ্বকাপ ফুটবলের ফাইনালকে ঘিরে আলোচনার কেন্দ্রে আছেন দুই প্রজন্মের দুই তারকা— আর্জেন্টিনার লিওনেল মেসি ও স্পেনের লামিন ইয়ামাল। মাঠের লড়াইয়ে একজন অভিজ্ঞ কিংবদন্তি, অন্যজন নতুন প্রজন্মের উজ্জ্বল প্রতিভা। তবে ফুটবলের বাইরে আরও একটি কারণে মুসলিম বিশ্বে ব্যাপক আলোচনায় উঠে এসেছেন স্পেনের এই তরুণ উইঙ্গার।
মাত্র ১৯ বছর বয়সেই বার্সেলোনা ও স্পেন জাতীয় দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়ে পরিণত হয়েছেন লামিন ইয়ামাল। দুর্দান্ত ড্রিবলিং, গতি, সৃজনশীলতা এবং বড় ম্যাচে আত্মবিশ্বাসী পারফরম্যান্স তাকে বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম আলোচিত তারকায় পরিণত করেছে।
২০০৭ সালে স্পেনের বার্সেলোনায় জন্ম নেওয়া ইয়ামালের পুরো নাম লামিন ইয়ামাল নাসরাউই ইবানা। তার বাবা মুনির নাসরাউই মরক্কোর নাগরিক এবং মা শেইলা এবানা বিষুবীয় গিনির বাসিন্দা। পারিবারিকভাবে উত্তর আফ্রিকার সঙ্গে এই সংযোগ এবং তার মুসলিম পরিচয়ের কারণে মধ্যপ্রাচ্য, উত্তর আফ্রিকা ও বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মুসলিম সমর্থকদের মধ্যে তাকে ঘিরে বিশেষ আগ্রহ তৈরি হয়েছে। অনেকেই তাকে নতুন প্রজন্মের মুসলিম ফুটবল আইকন হিসেবেও দেখছেন।
তবে মুসলিম বিশ্বে ইয়ামালকে নিয়ে আলোচনা আরও তীব্র হয় বার্সেলোনার লা লিগা শিরোপা উদযাপনের সময়। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী রিয়াল মাদ্রিদকে হারিয়ে শিরোপা নিশ্চিত করার পর আয়োজিত বিজয় শোভাযাত্রায় হাজারো সমর্থকের সামনে দীর্ঘ সময় ফিলিস্তিনের পতাকা হাতে দেখা যায় তাকে। সেই দৃশ্যের ভিডিও ও ছবি দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
অনেক সমর্থক ইয়ামালের এই পদক্ষেপকে ফিলিস্তিনের মানুষের প্রতি সংহতির প্রতীক হিসেবে দেখেন। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য, উত্তর আফ্রিকা এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মুসলিমদের মধ্যে ঘটনাটি ব্যাপক সাড়া ফেলে। একই সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কও শুরু হয়।
ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী এ ঘটনার সমালোচনা করে অভিযোগ করেন, ইয়ামাল ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ‘ঘৃণা উসকে দেওয়ার’ পথ বেছে নিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, বার্সেলোনার মতো একটি বড় ক্লাবের এমন কর্মকাণ্ড থেকে নিজেদের দূরে রাখা উচিত এবং সন্ত্রাসবাদের সমর্থনের কোনো জায়গা নেই— এ বিষয়টি স্পষ্ট করা প্রয়োজন।
অন্যদিকে স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ প্রকাশ্যে ইয়ামালের পাশে দাঁড়ান। তিনি এক্সে লেখেন, ‘যারা মনে করে কোনো রাষ্ট্রের পতাকা ওড়ানো মানেই ঘৃণা ছড়ানো, তারা হয় বাস্তববোধ হারিয়ে ফেলেছে, নয়তো নিজেদের লজ্জায় অন্ধ হয়ে গেছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘লামিন শুধু ফিলিস্তিনের প্রতি সেই সংহতিই প্রকাশ করেছে, যা লাখো স্প্যানিয়ার্ড অনুভব করে। তাকে নিয়ে গর্ব করার এটি আরও একটি কারণ।’ তার এই বক্তব্য আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমেও গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশিত হয়।
ফলে ইয়ামালের পতাকা প্রদর্শনের ঘটনাটি কেবল ক্রীড়াঙ্গনেই সীমাবদ্ধ থাকেনি; আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও সামাজিক আলোচনারও অংশ হয়ে ওঠে।
তবে মাঠের পারফরম্যান্সে এসব বিতর্কের কোনো প্রভাব পড়েনি। বরং স্পেনের হয়ে ধারাবাহিক নৈপুণ্য দেখিয়ে তিনি দলের অন্যতম নির্ভরযোগ্য আক্রমণভাগের খেলোয়াড়ে পরিণত হয়েছেন। বিশ্বকাপ ফাইনালে আর্জেন্টিনার বিপক্ষেও স্পেনের অন্যতম বড় ভরসা হিসেবে দেখা হচ্ছে এই তরুণ উইঙ্গারকে।
ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, ইয়ামালের জনপ্রিয়তার মূল ভিত্তি তার অসাধারণ প্রতিভা। তবে তার মুসলিম পরিচয়, উত্তর আফ্রিকান পারিবারিক শিকড়, ফিলিস্তিনের পতাকা বহনের ঘটনা এবং তা ঘিরে আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া— সব মিলিয়ে তিনি এখন শুধু একজন প্রতিভাবান ফুটবলার নন; বরং মুসলিম বিশ্বে সবচেয়ে আলোচিত ক্রীড়া ব্যক্তিত্বদের একজন। তাই বিশ্বকাপ ফাইনালের আগে তাকে ঘিরে আগ্রহ সীমাবদ্ধ নেই শুধু ফুটবলে, বরং মাঠের বাইরের নানা কারণেও তিনি আলোচনার কেন্দ্রে অবস্থান করছেন।
Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

বৃহত্তর ময়মনসিংহের উন্নয়নে সমন্বিত উদ্যোগের তাগিদ তথ্য প্রতিমন্ত্রীর

যে কারণে মুসলিম বিশ্বে আলোচনার কেন্দ্রে স্পেনের তারকা লামিন ইয়ামাল

আপডেট টাইম : ০১:০৫:৩৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬
বিশ্বকাপ ফুটবলের ফাইনালকে ঘিরে আলোচনার কেন্দ্রে আছেন দুই প্রজন্মের দুই তারকা— আর্জেন্টিনার লিওনেল মেসি ও স্পেনের লামিন ইয়ামাল। মাঠের লড়াইয়ে একজন অভিজ্ঞ কিংবদন্তি, অন্যজন নতুন প্রজন্মের উজ্জ্বল প্রতিভা। তবে ফুটবলের বাইরে আরও একটি কারণে মুসলিম বিশ্বে ব্যাপক আলোচনায় উঠে এসেছেন স্পেনের এই তরুণ উইঙ্গার।
মাত্র ১৯ বছর বয়সেই বার্সেলোনা ও স্পেন জাতীয় দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়ে পরিণত হয়েছেন লামিন ইয়ামাল। দুর্দান্ত ড্রিবলিং, গতি, সৃজনশীলতা এবং বড় ম্যাচে আত্মবিশ্বাসী পারফরম্যান্স তাকে বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম আলোচিত তারকায় পরিণত করেছে।
২০০৭ সালে স্পেনের বার্সেলোনায় জন্ম নেওয়া ইয়ামালের পুরো নাম লামিন ইয়ামাল নাসরাউই ইবানা। তার বাবা মুনির নাসরাউই মরক্কোর নাগরিক এবং মা শেইলা এবানা বিষুবীয় গিনির বাসিন্দা। পারিবারিকভাবে উত্তর আফ্রিকার সঙ্গে এই সংযোগ এবং তার মুসলিম পরিচয়ের কারণে মধ্যপ্রাচ্য, উত্তর আফ্রিকা ও বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মুসলিম সমর্থকদের মধ্যে তাকে ঘিরে বিশেষ আগ্রহ তৈরি হয়েছে। অনেকেই তাকে নতুন প্রজন্মের মুসলিম ফুটবল আইকন হিসেবেও দেখছেন।
তবে মুসলিম বিশ্বে ইয়ামালকে নিয়ে আলোচনা আরও তীব্র হয় বার্সেলোনার লা লিগা শিরোপা উদযাপনের সময়। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী রিয়াল মাদ্রিদকে হারিয়ে শিরোপা নিশ্চিত করার পর আয়োজিত বিজয় শোভাযাত্রায় হাজারো সমর্থকের সামনে দীর্ঘ সময় ফিলিস্তিনের পতাকা হাতে দেখা যায় তাকে। সেই দৃশ্যের ভিডিও ও ছবি দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
অনেক সমর্থক ইয়ামালের এই পদক্ষেপকে ফিলিস্তিনের মানুষের প্রতি সংহতির প্রতীক হিসেবে দেখেন। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য, উত্তর আফ্রিকা এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মুসলিমদের মধ্যে ঘটনাটি ব্যাপক সাড়া ফেলে। একই সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কও শুরু হয়।
ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী এ ঘটনার সমালোচনা করে অভিযোগ করেন, ইয়ামাল ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ‘ঘৃণা উসকে দেওয়ার’ পথ বেছে নিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, বার্সেলোনার মতো একটি বড় ক্লাবের এমন কর্মকাণ্ড থেকে নিজেদের দূরে রাখা উচিত এবং সন্ত্রাসবাদের সমর্থনের কোনো জায়গা নেই— এ বিষয়টি স্পষ্ট করা প্রয়োজন।
অন্যদিকে স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ প্রকাশ্যে ইয়ামালের পাশে দাঁড়ান। তিনি এক্সে লেখেন, ‘যারা মনে করে কোনো রাষ্ট্রের পতাকা ওড়ানো মানেই ঘৃণা ছড়ানো, তারা হয় বাস্তববোধ হারিয়ে ফেলেছে, নয়তো নিজেদের লজ্জায় অন্ধ হয়ে গেছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘লামিন শুধু ফিলিস্তিনের প্রতি সেই সংহতিই প্রকাশ করেছে, যা লাখো স্প্যানিয়ার্ড অনুভব করে। তাকে নিয়ে গর্ব করার এটি আরও একটি কারণ।’ তার এই বক্তব্য আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমেও গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশিত হয়।
ফলে ইয়ামালের পতাকা প্রদর্শনের ঘটনাটি কেবল ক্রীড়াঙ্গনেই সীমাবদ্ধ থাকেনি; আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও সামাজিক আলোচনারও অংশ হয়ে ওঠে।
তবে মাঠের পারফরম্যান্সে এসব বিতর্কের কোনো প্রভাব পড়েনি। বরং স্পেনের হয়ে ধারাবাহিক নৈপুণ্য দেখিয়ে তিনি দলের অন্যতম নির্ভরযোগ্য আক্রমণভাগের খেলোয়াড়ে পরিণত হয়েছেন। বিশ্বকাপ ফাইনালে আর্জেন্টিনার বিপক্ষেও স্পেনের অন্যতম বড় ভরসা হিসেবে দেখা হচ্ছে এই তরুণ উইঙ্গারকে।
ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, ইয়ামালের জনপ্রিয়তার মূল ভিত্তি তার অসাধারণ প্রতিভা। তবে তার মুসলিম পরিচয়, উত্তর আফ্রিকান পারিবারিক শিকড়, ফিলিস্তিনের পতাকা বহনের ঘটনা এবং তা ঘিরে আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া— সব মিলিয়ে তিনি এখন শুধু একজন প্রতিভাবান ফুটবলার নন; বরং মুসলিম বিশ্বে সবচেয়ে আলোচিত ক্রীড়া ব্যক্তিত্বদের একজন। তাই বিশ্বকাপ ফাইনালের আগে তাকে ঘিরে আগ্রহ সীমাবদ্ধ নেই শুধু ফুটবলে, বরং মাঠের বাইরের নানা কারণেও তিনি আলোচনার কেন্দ্রে অবস্থান করছেন।