ঢাকা ০৯:১৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৪ অগাস্ট ২০২৬, ২০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
বৃহত্তর ময়মনসিংহের উন্নয়নে সমন্বিত উদ্যোগের তাগিদ তথ্য প্রতিমন্ত্রীর অস্তিত্বসংকটে বুড়িগঙ্গা ২০২৪-এর জুলাই গণঅভ্যুত্থান প্রবাস থেকে যত প্রতিরোধ মেঘনার এক ইলিশ বিক্রি হলো ১০ হাজার টাকায় মাওলানা মাহমুদ মাদানী ইসরাইলে অস্ত্র সরবরাহ মানবতা ও ভারতের নৈতিক মর্যাদার জন্য কলঙ্ক অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল নিয়ে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে ৫ আগস্ট সংবাদপত্রে ছুটি বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার আধুনিক শিক্ষার সঙ্গে মূল্যবোধভিত্তিক শিক্ষার সমন্বয়ে কাজ করবে আর্মি ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ইনস্টিটিউট : সেনাপ্রধান শেখ হাসিনা যেন ভারতের ভূখণ্ড ব্যবহার করে রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারে: দিনেশ ত্রিবেদীকে হুমায়ুন কবির

এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন না ৩৬ শতাংশ শিক্ষার্থী, কারণ কী

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ০২:২৬:০৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩ জুলাই ২০২৬
  • ২৪ বার

চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় একাদশ শ্রেণিতে নিবন্ধিত শিক্ষার্থীদের প্রায় ৩৬ শতাংশই অংশ নিচ্ছেন না। এছাড়া পরীক্ষার ফরম পূরণ করার পরও প্রথম দিন ২৪ হাজার ৭৮৪ জন পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিলেন। বিষয়টিকে উদ্বেগজনক বলে মনে করছেন শিক্ষা বিশ্লেষক ও বিশেষজ্ঞরা।

তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণিতে নিবন্ধন করেছিলেন ১৪ লাখ ৯১ হাজার ৯৩২ জন শিক্ষার্থী। তাদের মধ্যে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফরম পূরণ করেন ৯ লাখ ৪৭ হাজার ৯৪৩ জন। ফলে নিয়মিত শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৫ লাখ ৪৩ হাজার ৯৮৯ জন পরীক্ষায় অংশ নেননি।

সবচেয়ে বেশি ঝরে পড়ার চিত্র দেখা গেছে কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে। সেখানে একাদশ শ্রেণিতে নিবন্ধিত ছিলেন ১ লাখ ৬৫ হাজার ৫৪২ জন শিক্ষার্থী। কিন্তু পরীক্ষার ফরম পূরণ করেন মাত্র ৭৫ হাজার ১৯৭ জন। অর্থাৎ নিয়মিত শিক্ষার্থীদের ৫৪ দশমিক ৫৮ শতাংশই পরীক্ষার বাইরে থেকে গেছেন।

এদিকে, এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার প্রথম দিন ফরম পূরণ করেও ২৪ হাজার ৭৮৪ জন পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিলেন, যা শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের নতুন করে উদ্বেগে ফেলেছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. সৈয়দ আব্দুল হামিদ বলেন, করোনাকালে দীর্ঘদিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় তৈরি হওয়া শিখন ঘাটতি, শিক্ষাঙ্গনের অস্থিরতা এবং অভিভাবকদের নজরদারি কমে যাওয়ার প্রভাব এখন স্পষ্টভাবে সামনে আসছে। তাঁর মতে, শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়া রোধে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।

শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ড. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী পরীক্ষার বাইরে চলে যাওয়ার বিষয়টি দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার জন্য সতর্কবার্তা। তিনি মনে করেন, সমস্যার প্রকৃত কারণ চিহ্নিত করে বড় পরিসরে শিক্ষা ব্যবস্থা সংস্কার এবং শিক্ষার্থীদের নিয়মিত শিক্ষায় ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে শিক্ষা খাতে আরও বড় সংকট তৈরি হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, করোনাকালে দীর্ঘদিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় তৈরি হওয়া শিখন ঘাটতি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে প্রয়োজনীয় সহায়তার অভাব, শিক্ষাঙ্গনের অস্থিরতা এবং সন্তানদের পড়াশোনার প্রতি অভিভাবকদের কমে যাওয়া নজরদারির কারণে এ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

বৃহত্তর ময়মনসিংহের উন্নয়নে সমন্বিত উদ্যোগের তাগিদ তথ্য প্রতিমন্ত্রীর

এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন না ৩৬ শতাংশ শিক্ষার্থী, কারণ কী

আপডেট টাইম : ০২:২৬:০৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩ জুলাই ২০২৬

চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় একাদশ শ্রেণিতে নিবন্ধিত শিক্ষার্থীদের প্রায় ৩৬ শতাংশই অংশ নিচ্ছেন না। এছাড়া পরীক্ষার ফরম পূরণ করার পরও প্রথম দিন ২৪ হাজার ৭৮৪ জন পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিলেন। বিষয়টিকে উদ্বেগজনক বলে মনে করছেন শিক্ষা বিশ্লেষক ও বিশেষজ্ঞরা।

তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণিতে নিবন্ধন করেছিলেন ১৪ লাখ ৯১ হাজার ৯৩২ জন শিক্ষার্থী। তাদের মধ্যে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফরম পূরণ করেন ৯ লাখ ৪৭ হাজার ৯৪৩ জন। ফলে নিয়মিত শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৫ লাখ ৪৩ হাজার ৯৮৯ জন পরীক্ষায় অংশ নেননি।

সবচেয়ে বেশি ঝরে পড়ার চিত্র দেখা গেছে কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে। সেখানে একাদশ শ্রেণিতে নিবন্ধিত ছিলেন ১ লাখ ৬৫ হাজার ৫৪২ জন শিক্ষার্থী। কিন্তু পরীক্ষার ফরম পূরণ করেন মাত্র ৭৫ হাজার ১৯৭ জন। অর্থাৎ নিয়মিত শিক্ষার্থীদের ৫৪ দশমিক ৫৮ শতাংশই পরীক্ষার বাইরে থেকে গেছেন।

এদিকে, এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার প্রথম দিন ফরম পূরণ করেও ২৪ হাজার ৭৮৪ জন পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিলেন, যা শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের নতুন করে উদ্বেগে ফেলেছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. সৈয়দ আব্দুল হামিদ বলেন, করোনাকালে দীর্ঘদিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় তৈরি হওয়া শিখন ঘাটতি, শিক্ষাঙ্গনের অস্থিরতা এবং অভিভাবকদের নজরদারি কমে যাওয়ার প্রভাব এখন স্পষ্টভাবে সামনে আসছে। তাঁর মতে, শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়া রোধে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।

শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ড. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী পরীক্ষার বাইরে চলে যাওয়ার বিষয়টি দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার জন্য সতর্কবার্তা। তিনি মনে করেন, সমস্যার প্রকৃত কারণ চিহ্নিত করে বড় পরিসরে শিক্ষা ব্যবস্থা সংস্কার এবং শিক্ষার্থীদের নিয়মিত শিক্ষায় ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে শিক্ষা খাতে আরও বড় সংকট তৈরি হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, করোনাকালে দীর্ঘদিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় তৈরি হওয়া শিখন ঘাটতি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে প্রয়োজনীয় সহায়তার অভাব, শিক্ষাঙ্গনের অস্থিরতা এবং সন্তানদের পড়াশোনার প্রতি অভিভাবকদের কমে যাওয়া নজরদারির কারণে এ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।