ঢাকা ০৯:১০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬, ৩১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
শিক্ষার্থীদের স্বার্থই সরকারের অগ্রাধিকার: মাহদী আমিন ফের লঘুচাপ সৃষ্টির আভাস, আবহাওয়া নিয়ে নতুন বার্তা অধিদপ্তরের চলতি অর্থবছরেই ৪১ লাখ নতুন ফ্যামিলি কার্ড দেবে সরকার দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা সরকারের প্রধান নীতিগত অগ্রাধিকার : প্রধানমন্ত্রী সংসদে ‘ব্যক্তিগত মন্তব্য’ নিয়ে দুঃখ প্রকাশ করলেন শিক্ষামন্ত্রী আদমদীঘিতে কাঁচা মরিচের দামে ‘সেঞ্চুরি’, স্বস্তিতে কৃষক ব্রয়লার মুরগি খাওয়া কতটা নিরাপদ ‘ব্রয়লার মুরগি’ মন্তব্য নিয়ে যে ব্যাখ্যা দিলেন ছাত্রদলের নাছির দেশের যেসব অঞ্চলে রাত ১টার মধ্যে ঝড়ের আভাস দিল্লিতে বসে হুঙ্কার দিয়ে লাভ নেই, সীমানায় ঢুকলেই গ্রেপ্তার: আইনমন্ত্রী

শিক্ষকরা নির্বাচন করতে চাইলে আগে চাকরি ছাড়তে হবে

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১১:৩৬:২৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬
  • ১২ বার
আগামী দিনে কোনো শিক্ষক নির্বাচন করতে চাইলে চাকরি ছেড়ে দিয়ে করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
তিনি বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে চার হাজারের বেশি চেয়ারম্যান পদ ও ৪৯৩টি উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে বিপুলসংখ্যক শিক্ষক অংশ নেন। এতে শ্রেণিকক্ষের শিক্ষা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। নির্বাচন কমিশনের এমন একটি ফ্রি রেগুলেশন বা নিষেধাজ্ঞা থাকা উচিত; যেন শিক্ষকেরা স্থানীয় সরকার নির্বাচনে না যান। যেতে হলে তারা যেন চাকরি ছেড়ে দিয়ে যান। শিক্ষকদের পেছনে রাষ্ট্র যে বিনিয়োগ ও ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা করছে, তা যেন দেশের সুন্দর জাতি গঠনে প্রপারলি (সঠিকভাবে) কাজে লাগে।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) রাজধানীর একটি হোটেলে ‘গ্লোবাল পার্টনারশিপ ফর এডুকেশন (জিপিই) সিস্টেম ট্রান্সফরমেশন গ্রান্ট (এসটিজি) এবং মাল্টিপ্লায়ার গ্রান্ট’-এর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। শিক্ষা মন্ত্রণালয়, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, ইউনিসেফ, ইউনেস্কো এবং এডিবি যৌথভাবে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
এক লাখের বেশি নতুন শিক্ষক নিয়োগের পরিকল্পনার কথা জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, আজ সকালে আমার কাছে আরও একটি সুসংবাদ রয়েছে। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৩২ হাজার ৫০০ জন প্রধান শিক্ষকের নিয়োগের বিষয়ে আপিল বিভাগ রায় ঘোষণা করেছে। বিভাগটি আমাদের আপিল গ্রহণ করেছে এবং আমরা এখন ৩২ হাজার ৫০০ জন প্রধান শিক্ষক নিয়োগ করতে পারব। যার সঙ্গে আরও প্রায় ৭০ হাজার জন (এমপিওভুক্ত শিক্ষক-প্রভাষক) অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারে। এটি আমাদের জন্য একটি বড় খবর।
‎পাবলিক পরীক্ষার কেন্দ্রে পরিদর্শন বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে মন্তব্য করে ‎তিনি বলেন, আজ সকালে আমাদের এইচএসসি পরীক্ষা শুরু হয়েছে। আমাদের পরীক্ষা কেন্দ্র পরিদর্শন করার কথা ছিল, কিন্তু সম্ভবত আমাদের সহকর্মীরা মনে করেন যে আমাদের সেখানে যাওয়ার প্রয়োজন নেই। সেই কারণেই সবাই এই কক্ষে বসে আছি, কিন্তু আগে এমনটা হতো না। অনেক বড় পরিবর্তন এসেছে।‎
৫ লাখ ৪৪ হাজার শিক্ষার্থী উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে ভর্তি হলেও প্রমাণ পরীক্ষা দিচ্ছেন না বলে তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, সাধারণ ধারার প্রায় ৩৩ শতাংশ শিক্ষার্থী ঝরে পড়ছে। তারা এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে না। আমাদের কারিগরি শিক্ষায় ৫৪ শতাংশ এবং মাদ্রাসা শিক্ষায় ৪৪ শতাংশ শিক্ষার্থী ঝরে পড়ছে। যখন আমরা দেশের শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে কথা বলছি, তখন এটি আমাদের জন্য ভালো খবর নয়।
‎‎শিক্ষা খাতে বরাদ্দ দেওয়া টাকার অপচয় সহ্য করা হবে না বলে সতর্ক করে মন্ত্রী বলেন, ২০০১ সালে আমি প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছি এবং এসব প্রকল্প সম্পর্কে আমার অভিজ্ঞতা ছিল। পূর্ববর্তী সরকার প্রচুর ঋণ এবং অনুদান নিয়েছিল। কিন্তু তা সঠিকভাবে ব্যবহৃত হয়নি। প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে কঠোর নির্দেশনা রয়েছে যে, আমাদের বিভাগে কোনো অপচয় বা অব্যবস্থাপনা বরদাশত করা হবে না। তাই, আমাদের খুব সতর্ক থাকতে হবে, যা আমাদের সচিব খালেক বারবার বলছেন যে, শিক্ষা খাতে এই অর্থ আমরা কীভাবে বিনিয়োগ করব সে বিষয়ে আমাদের সতর্ক থাকতে হবে। প্রতিটি পয়সা সঠিকভাবে ব্যয়ের মাধ্যমে আমাদের খরচ নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।
মিলন বলেন, ‎দেশে মানসম্মত শিক্ষার ‘সত্যিই প্রয়োজন’। সম্ভবত আমরা মানসম্মত শিক্ষায় পিছিয়ে পড়েছি। আমি বিশ্বাস করি, সরকারের একটি সহায়ক প্রতিষ্ঠান হিসাবে কাজ করা উচিত। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীদের মাধ্যমেই পরিচালিত হবে। কিন্তু আমরা এখানে সহায়ক হিসেবে কাজ করছি, যাতে তারা শিক্ষাকার্যক্রম চালিয়ে যেতে পারে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ, প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন, শিক্ষা সচিব আবদুল খালেক। এছাড়াও অনুষ্ঠানে ব্রিটিশ হাই কমিশন, ইউনিসেফ, ইউনেস্কো, এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক, গ্লোবাল পার্টনারশিপ ফর বাংলাদেশের প্রতিনিধিরা বক্তৃতা করেন। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিব মো. সাখাওয়াৎ হোসেন অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন।
এদিকে, দুপুরে সচিবালয়ে প্রধান শিক্ষক নিয়োগসংক্রান্ত মামলার নিষ্পত্তি উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নিয়োগসংক্রান্ত দীর্ঘদিনের আইনি জটিলতা কাটায় এখন ৩৬ হাজার ২৩৫টি শূন্য প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগ দেওয়া সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। একই সঙ্গে প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতির ফলে শূন্য হওয়া সহকারী শিক্ষক পদেও দ্রুত নিয়োগ দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
মন্ত্রী বলেন, জাতীয়করণ হওয়া বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের জ্যেষ্ঠতা (সিনিয়রিটি) নির্ধারণে ৫০ শতাংশ অভিজ্ঞতা গণনার দাবিতে ৩৮৩ জন শিক্ষক ২০১৭ সালে মামলা করেছিলেন। এরপর দীর্ঘদিন মামলাটির কার্যকর নিষ্পত্তি হয়নি। বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে আইন মন্ত্রণালয়, অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় এবং সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে ধারাবাহিকভাবে যোগাযোগ করা হয়। পরে বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করা হলে তিনি অ্যাটর্নি জেনারেলকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।
তিনি আরও বলেন, গত সপ্তাহে আদালতের রায়ে সরকারের অবস্থান গ্রহণ করা হয়েছে। এর ফলে দীর্ঘদিনের জটিলতার অবসান হয়েছে এবং এখন শূন্য থাকা ৩৬ হাজার ২৩৫টি প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগ দেওয়া যাবে। পাশাপাশি এসব পদে পদোন্নতির কারণে যে সহকারী শিক্ষক পদগুলো শূন্য হবে, সেগুলোতেও নতুন নিয়োগ দেওয়া সম্ভব হবে।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, এটি প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগের জন্য অত্যন্ত আনন্দের খবর। দীর্ঘদিন ধরে আমরা এই রায়ের অপেক্ষায় ছিলাম। এখন শিক্ষক সংকট নিরসনে বড় ধরনের অগ্রগতি সম্ভব হবে।
তিনি জানান, সম্প্রতি নিয়োগপ্রাপ্ত আরও ১৪ হাজার ৩৮৪ জন শিক্ষককে প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে দ্রুত প্রশিক্ষণে পাঠানো হবে। আগে নয় মাসের প্রশিক্ষণ থাকলেও বর্তমানে প্রশিক্ষণ কাঠামোয় পরিবর্তন আসায় প্রাথমিকভাবে দুই মাসের প্রশিক্ষণ দিয়ে তাদের বিদ্যালয়ে দায়িত্ব দেওয়া হবে। এসময় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ, অ্যাটর্নি জেনারেলে ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল উপস্থিত ছিলেন।
বড় ধরনের জনসমাগমের সম্ভাবনা বিবেচনায় নিয়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ ও নির্মাণাধীন এলাকাগুলো বিশেষভাবে ঘিরে রাখা হয়েছে এবং সেগুলোতে প্রবেশ সীমিত করা হয়েছে। মোসাল্লার কিছু অংশে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে, যাতে যেকোনো ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো যায়।
এ ছাড়া ভিড় নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুরো এলাকায় সমন্বিত ব্যবস্থাপনা চালু করা হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীদের নিরাপত্তা ও সুবিধাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
সরকারি সূচি অনুযায়ী, শুক্রবার বিকেলে বিদেশি অতিথিদের উপস্থিতিতে প্রথম আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। এরপর মোসাল্লা সাধারণ শোকাহত মানুষের জন্য উন্মুক্ত করা হবে। রাজধানী তেহরানসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে বিপুল সংখ্যক মানুষ এতে অংশ নেবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

শিক্ষার্থীদের স্বার্থই সরকারের অগ্রাধিকার: মাহদী আমিন

শিক্ষকরা নির্বাচন করতে চাইলে আগে চাকরি ছাড়তে হবে

আপডেট টাইম : ১১:৩৬:২৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬
আগামী দিনে কোনো শিক্ষক নির্বাচন করতে চাইলে চাকরি ছেড়ে দিয়ে করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
তিনি বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে চার হাজারের বেশি চেয়ারম্যান পদ ও ৪৯৩টি উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে বিপুলসংখ্যক শিক্ষক অংশ নেন। এতে শ্রেণিকক্ষের শিক্ষা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। নির্বাচন কমিশনের এমন একটি ফ্রি রেগুলেশন বা নিষেধাজ্ঞা থাকা উচিত; যেন শিক্ষকেরা স্থানীয় সরকার নির্বাচনে না যান। যেতে হলে তারা যেন চাকরি ছেড়ে দিয়ে যান। শিক্ষকদের পেছনে রাষ্ট্র যে বিনিয়োগ ও ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা করছে, তা যেন দেশের সুন্দর জাতি গঠনে প্রপারলি (সঠিকভাবে) কাজে লাগে।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) রাজধানীর একটি হোটেলে ‘গ্লোবাল পার্টনারশিপ ফর এডুকেশন (জিপিই) সিস্টেম ট্রান্সফরমেশন গ্রান্ট (এসটিজি) এবং মাল্টিপ্লায়ার গ্রান্ট’-এর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। শিক্ষা মন্ত্রণালয়, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, ইউনিসেফ, ইউনেস্কো এবং এডিবি যৌথভাবে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
এক লাখের বেশি নতুন শিক্ষক নিয়োগের পরিকল্পনার কথা জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, আজ সকালে আমার কাছে আরও একটি সুসংবাদ রয়েছে। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৩২ হাজার ৫০০ জন প্রধান শিক্ষকের নিয়োগের বিষয়ে আপিল বিভাগ রায় ঘোষণা করেছে। বিভাগটি আমাদের আপিল গ্রহণ করেছে এবং আমরা এখন ৩২ হাজার ৫০০ জন প্রধান শিক্ষক নিয়োগ করতে পারব। যার সঙ্গে আরও প্রায় ৭০ হাজার জন (এমপিওভুক্ত শিক্ষক-প্রভাষক) অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারে। এটি আমাদের জন্য একটি বড় খবর।
‎পাবলিক পরীক্ষার কেন্দ্রে পরিদর্শন বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে মন্তব্য করে ‎তিনি বলেন, আজ সকালে আমাদের এইচএসসি পরীক্ষা শুরু হয়েছে। আমাদের পরীক্ষা কেন্দ্র পরিদর্শন করার কথা ছিল, কিন্তু সম্ভবত আমাদের সহকর্মীরা মনে করেন যে আমাদের সেখানে যাওয়ার প্রয়োজন নেই। সেই কারণেই সবাই এই কক্ষে বসে আছি, কিন্তু আগে এমনটা হতো না। অনেক বড় পরিবর্তন এসেছে।‎
৫ লাখ ৪৪ হাজার শিক্ষার্থী উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে ভর্তি হলেও প্রমাণ পরীক্ষা দিচ্ছেন না বলে তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, সাধারণ ধারার প্রায় ৩৩ শতাংশ শিক্ষার্থী ঝরে পড়ছে। তারা এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে না। আমাদের কারিগরি শিক্ষায় ৫৪ শতাংশ এবং মাদ্রাসা শিক্ষায় ৪৪ শতাংশ শিক্ষার্থী ঝরে পড়ছে। যখন আমরা দেশের শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে কথা বলছি, তখন এটি আমাদের জন্য ভালো খবর নয়।
‎‎শিক্ষা খাতে বরাদ্দ দেওয়া টাকার অপচয় সহ্য করা হবে না বলে সতর্ক করে মন্ত্রী বলেন, ২০০১ সালে আমি প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছি এবং এসব প্রকল্প সম্পর্কে আমার অভিজ্ঞতা ছিল। পূর্ববর্তী সরকার প্রচুর ঋণ এবং অনুদান নিয়েছিল। কিন্তু তা সঠিকভাবে ব্যবহৃত হয়নি। প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে কঠোর নির্দেশনা রয়েছে যে, আমাদের বিভাগে কোনো অপচয় বা অব্যবস্থাপনা বরদাশত করা হবে না। তাই, আমাদের খুব সতর্ক থাকতে হবে, যা আমাদের সচিব খালেক বারবার বলছেন যে, শিক্ষা খাতে এই অর্থ আমরা কীভাবে বিনিয়োগ করব সে বিষয়ে আমাদের সতর্ক থাকতে হবে। প্রতিটি পয়সা সঠিকভাবে ব্যয়ের মাধ্যমে আমাদের খরচ নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।
মিলন বলেন, ‎দেশে মানসম্মত শিক্ষার ‘সত্যিই প্রয়োজন’। সম্ভবত আমরা মানসম্মত শিক্ষায় পিছিয়ে পড়েছি। আমি বিশ্বাস করি, সরকারের একটি সহায়ক প্রতিষ্ঠান হিসাবে কাজ করা উচিত। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীদের মাধ্যমেই পরিচালিত হবে। কিন্তু আমরা এখানে সহায়ক হিসেবে কাজ করছি, যাতে তারা শিক্ষাকার্যক্রম চালিয়ে যেতে পারে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ, প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন, শিক্ষা সচিব আবদুল খালেক। এছাড়াও অনুষ্ঠানে ব্রিটিশ হাই কমিশন, ইউনিসেফ, ইউনেস্কো, এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক, গ্লোবাল পার্টনারশিপ ফর বাংলাদেশের প্রতিনিধিরা বক্তৃতা করেন। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিব মো. সাখাওয়াৎ হোসেন অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন।
এদিকে, দুপুরে সচিবালয়ে প্রধান শিক্ষক নিয়োগসংক্রান্ত মামলার নিষ্পত্তি উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নিয়োগসংক্রান্ত দীর্ঘদিনের আইনি জটিলতা কাটায় এখন ৩৬ হাজার ২৩৫টি শূন্য প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগ দেওয়া সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। একই সঙ্গে প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতির ফলে শূন্য হওয়া সহকারী শিক্ষক পদেও দ্রুত নিয়োগ দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
মন্ত্রী বলেন, জাতীয়করণ হওয়া বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের জ্যেষ্ঠতা (সিনিয়রিটি) নির্ধারণে ৫০ শতাংশ অভিজ্ঞতা গণনার দাবিতে ৩৮৩ জন শিক্ষক ২০১৭ সালে মামলা করেছিলেন। এরপর দীর্ঘদিন মামলাটির কার্যকর নিষ্পত্তি হয়নি। বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে আইন মন্ত্রণালয়, অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় এবং সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে ধারাবাহিকভাবে যোগাযোগ করা হয়। পরে বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করা হলে তিনি অ্যাটর্নি জেনারেলকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।
তিনি আরও বলেন, গত সপ্তাহে আদালতের রায়ে সরকারের অবস্থান গ্রহণ করা হয়েছে। এর ফলে দীর্ঘদিনের জটিলতার অবসান হয়েছে এবং এখন শূন্য থাকা ৩৬ হাজার ২৩৫টি প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগ দেওয়া যাবে। পাশাপাশি এসব পদে পদোন্নতির কারণে যে সহকারী শিক্ষক পদগুলো শূন্য হবে, সেগুলোতেও নতুন নিয়োগ দেওয়া সম্ভব হবে।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, এটি প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগের জন্য অত্যন্ত আনন্দের খবর। দীর্ঘদিন ধরে আমরা এই রায়ের অপেক্ষায় ছিলাম। এখন শিক্ষক সংকট নিরসনে বড় ধরনের অগ্রগতি সম্ভব হবে।
তিনি জানান, সম্প্রতি নিয়োগপ্রাপ্ত আরও ১৪ হাজার ৩৮৪ জন শিক্ষককে প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে দ্রুত প্রশিক্ষণে পাঠানো হবে। আগে নয় মাসের প্রশিক্ষণ থাকলেও বর্তমানে প্রশিক্ষণ কাঠামোয় পরিবর্তন আসায় প্রাথমিকভাবে দুই মাসের প্রশিক্ষণ দিয়ে তাদের বিদ্যালয়ে দায়িত্ব দেওয়া হবে। এসময় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ, অ্যাটর্নি জেনারেলে ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল উপস্থিত ছিলেন।
বড় ধরনের জনসমাগমের সম্ভাবনা বিবেচনায় নিয়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ ও নির্মাণাধীন এলাকাগুলো বিশেষভাবে ঘিরে রাখা হয়েছে এবং সেগুলোতে প্রবেশ সীমিত করা হয়েছে। মোসাল্লার কিছু অংশে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে, যাতে যেকোনো ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো যায়।
এ ছাড়া ভিড় নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুরো এলাকায় সমন্বিত ব্যবস্থাপনা চালু করা হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীদের নিরাপত্তা ও সুবিধাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
সরকারি সূচি অনুযায়ী, শুক্রবার বিকেলে বিদেশি অতিথিদের উপস্থিতিতে প্রথম আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। এরপর মোসাল্লা সাধারণ শোকাহত মানুষের জন্য উন্মুক্ত করা হবে। রাজধানী তেহরানসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে বিপুল সংখ্যক মানুষ এতে অংশ নেবেন বলে আশা করা হচ্ছে।