ঢাকা ০১:৪০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬, ১২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
সমুদ্রের বেলাভূমিতে সাদিয়া আয়মানের ‌‘একটুখানি জাদু’ বোল্টের চেয়েও দ্রুত দৌড়ানো সেই চীনা রোবটের নতুন চমক মহানবী মুহাম্মদ (সা.) : সব সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ যিনি প্রধানমন্ত্রী ইসলামের আদর্শ বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠা করছেন: মঈন খান চুলে রং করার পর যত্ন নেবেন যেভাবে নেপালে বন্যা: প্রাণহানির ঘটনায় প্রধানমন্ত্রীর শোক, সহযোগিতার বার্তা নবীজি (সা.)-এর আদর্শ অনুসরণ ছাড়া বিশ্ব পরিস্থিতির পরিবর্তন সম্ভব নয় : ডিএসসিসি প্রশাসক চারণভূমি সুরক্ষা ও টেকসই ব্যবস্থাপনায় স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে সম্পৃক্ত করার আহ্বান পরিবেশমন্ত্রীর ফ্যাসিবাদ ঠেকাতে সুস্পষ্ট রোডম্যাপ করতে হবে: আইনমন্ত্রী মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিতে যোগদানের বিষয়টি বিবেচনা করছে বাংলাদেশ: শামা ওবায়েদ

এনসিপির শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ ওপেন সিক্রেট

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ০৪:৪৯:১৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩১ মে ২০২৬
  • ৩৫ বার

জাতীয় নাগরিক পার্টি এনসিপির একাধিক শীর্ষ নেতার বিরুদ্ধে দুর্নীতি, প্রভাব খাটিয়ে নিয়োগ, অর্থ লেনদেন এবং রাজনৈতিক সুবিধা আদায়ের গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন বিএনপি ও সাবেক গণঅধিকার পরিষদের নেতা মুহাম্মদ রাশেদ খাঁন।

রোববার (৩১ মে) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে তিনি দাবিটি করেন। যেখানে এসব বিষয়ে তার কাছে বিভিন্ন সূত্র ও ক্লুর ভিত্তিতে তথ্য রয়েছে এবং দলের নীতিনির্ধারণী মহলেও বিষয়গুলো সম্পর্কে জানা আছে।

মুহাম্মদ রাশেদ খাঁন দাবি করেন, আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগের কারণেই স্বয়ং জামায়াতের আমির ঢাকা-১০ আসন ছাড়েননি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, সাংবাদিকরা এ বিষয়ে জামায়াতের আমিরকে প্রশ্ন করলে প্রকৃত তথ্য জানতে পারবেন।

তিনি আরও বলেন, বিষয়টি এনসিপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের সবাই জানেন। রাজনৈতিক কারণে নাহিদ ইসলাম এ অভিযোগ অস্বীকার করতে পারেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ফেসবুক পোস্টে রাশেদ খাঁন উল্লেখ করেন, একটি ক্লুর সূত্র ধরে তিনি আসিফ মাহমুদ ও তার এপিএস মোয়াজ্জেমের দুর্নীতির তথ্য পেয়েছিলেন। বিষয়টি তিনি আরেকজন উপদেষ্টার সঙ্গেও আলোচনা করেছিলেন এবং ওই উপদেষ্টাও বিষয়টি শুনে বিস্মিত হয়েছিলেন বলে দাবি করেন।

তিনি আরও দাবি করেন, বহুল আলোচিত ডিসি কেলেঙ্কারির তথ্যও অসত্য নয় এবং এতে হাসনাত ও সারজিস জড়িত ছিলেন। এ বিষয়ে তিনি তাদের বিশ্বস্ত ব্যক্তিদের কাছ থেকে কিছু ক্লুসহ তথ্য পেয়েছেন বলেও পোস্টে উল্লেখ করেন।

নাসির পাটোয়ারীকে নিয়েও একাধিক অভিযোগ তোলেন রাশেদ খাঁন। তার দাবি, নাসির পাটোয়ারী প্রায়ই আওয়ামী লীগের সম্পদ দখল এবং অর্থ ছাড়া রাজনীতি সম্ভব নয়— এ ধরনের বক্তব্য দিতেন। নাহিদ ইসলামের মন্ত্রীপাড়ার বাসভবনে রাজনৈতিক আলোচনার সময়ও নাসির পাটোয়ারীর মুখে বারবার অর্থের প্রসঙ্গ আসত বলে উল্লেখ করেন তিনি।

পোস্টে আরও বলা হয়, প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজ নাসির পাটোয়ারীর পরামর্শে নিয়োগ পেয়েছিলেন। রাশেদ খাঁনের দাবি, এজাজ পূর্বে নাসির পাটোয়ারীর সঙ্গে জাতীয় নাগরিক কমিটিতে যুক্ত ছিলেন এবং তার মাধ্যমে অর্জিত অর্থ নাসির পাটোয়ারী ও এনসিপির কাছে যেত।

রাশেদ খাঁন দাবি করেন, বর্তমানে এটি ‘ওপেন সিক্রেট’ যে এনসিপির শীর্ষ এক ডজন নেতা ব্যাপক দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত। তিনি সারজিসের কাছে এক নারীর ৭ লাখ টাকা দেওয়ার ভিডিওর প্রসঙ্গও তুলে ধরেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ওই নারী অভিযোগ করেছিলেন যে, চাকরি বা কাজ পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে তার কাছ থেকে মোট ৪৮ লাখ টাকা নেওয়া হয়েছিল।

পোস্টের শেষাংশে তিনি শহীদ ওসমান হাদীর বক্তব্যেরও উল্লেখ করেন। রাশেদ খাঁনের দাবি, শহীদ ওসমান হাদী এনসিপির তিনটি অপরাধ চিহ্নিত করে গেছেন, যার মধ্যে অন্যতম ছিল দুর্নীতি। তিনি প্রশ্ন তোলেন, শহীদ ওসমান হাদী যদি মিথ্যা বলে থাকেন, তাহলে এনসিপির উচিত প্রকাশ্যে বলা যে তিনি দল সম্পর্কে অসত্য ও বিভ্রান্তিকর বক্তব্য দিয়ে গেছেন।

উল্লেখ্য, এসব অভিযোগ মুহাম্মদ রাশেদ খাঁনের ব্যক্তিগত ফেসবুক পোস্টে উত্থাপিত হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা এনসিপির পক্ষ থেকে এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

সমুদ্রের বেলাভূমিতে সাদিয়া আয়মানের ‌‘একটুখানি জাদু’

এনসিপির শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ ওপেন সিক্রেট

আপডেট টাইম : ০৪:৪৯:১৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩১ মে ২০২৬

জাতীয় নাগরিক পার্টি এনসিপির একাধিক শীর্ষ নেতার বিরুদ্ধে দুর্নীতি, প্রভাব খাটিয়ে নিয়োগ, অর্থ লেনদেন এবং রাজনৈতিক সুবিধা আদায়ের গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন বিএনপি ও সাবেক গণঅধিকার পরিষদের নেতা মুহাম্মদ রাশেদ খাঁন।

রোববার (৩১ মে) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে তিনি দাবিটি করেন। যেখানে এসব বিষয়ে তার কাছে বিভিন্ন সূত্র ও ক্লুর ভিত্তিতে তথ্য রয়েছে এবং দলের নীতিনির্ধারণী মহলেও বিষয়গুলো সম্পর্কে জানা আছে।

মুহাম্মদ রাশেদ খাঁন দাবি করেন, আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগের কারণেই স্বয়ং জামায়াতের আমির ঢাকা-১০ আসন ছাড়েননি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, সাংবাদিকরা এ বিষয়ে জামায়াতের আমিরকে প্রশ্ন করলে প্রকৃত তথ্য জানতে পারবেন।

তিনি আরও বলেন, বিষয়টি এনসিপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের সবাই জানেন। রাজনৈতিক কারণে নাহিদ ইসলাম এ অভিযোগ অস্বীকার করতে পারেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ফেসবুক পোস্টে রাশেদ খাঁন উল্লেখ করেন, একটি ক্লুর সূত্র ধরে তিনি আসিফ মাহমুদ ও তার এপিএস মোয়াজ্জেমের দুর্নীতির তথ্য পেয়েছিলেন। বিষয়টি তিনি আরেকজন উপদেষ্টার সঙ্গেও আলোচনা করেছিলেন এবং ওই উপদেষ্টাও বিষয়টি শুনে বিস্মিত হয়েছিলেন বলে দাবি করেন।

তিনি আরও দাবি করেন, বহুল আলোচিত ডিসি কেলেঙ্কারির তথ্যও অসত্য নয় এবং এতে হাসনাত ও সারজিস জড়িত ছিলেন। এ বিষয়ে তিনি তাদের বিশ্বস্ত ব্যক্তিদের কাছ থেকে কিছু ক্লুসহ তথ্য পেয়েছেন বলেও পোস্টে উল্লেখ করেন।

নাসির পাটোয়ারীকে নিয়েও একাধিক অভিযোগ তোলেন রাশেদ খাঁন। তার দাবি, নাসির পাটোয়ারী প্রায়ই আওয়ামী লীগের সম্পদ দখল এবং অর্থ ছাড়া রাজনীতি সম্ভব নয়— এ ধরনের বক্তব্য দিতেন। নাহিদ ইসলামের মন্ত্রীপাড়ার বাসভবনে রাজনৈতিক আলোচনার সময়ও নাসির পাটোয়ারীর মুখে বারবার অর্থের প্রসঙ্গ আসত বলে উল্লেখ করেন তিনি।

পোস্টে আরও বলা হয়, প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজ নাসির পাটোয়ারীর পরামর্শে নিয়োগ পেয়েছিলেন। রাশেদ খাঁনের দাবি, এজাজ পূর্বে নাসির পাটোয়ারীর সঙ্গে জাতীয় নাগরিক কমিটিতে যুক্ত ছিলেন এবং তার মাধ্যমে অর্জিত অর্থ নাসির পাটোয়ারী ও এনসিপির কাছে যেত।

রাশেদ খাঁন দাবি করেন, বর্তমানে এটি ‘ওপেন সিক্রেট’ যে এনসিপির শীর্ষ এক ডজন নেতা ব্যাপক দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত। তিনি সারজিসের কাছে এক নারীর ৭ লাখ টাকা দেওয়ার ভিডিওর প্রসঙ্গও তুলে ধরেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ওই নারী অভিযোগ করেছিলেন যে, চাকরি বা কাজ পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে তার কাছ থেকে মোট ৪৮ লাখ টাকা নেওয়া হয়েছিল।

পোস্টের শেষাংশে তিনি শহীদ ওসমান হাদীর বক্তব্যেরও উল্লেখ করেন। রাশেদ খাঁনের দাবি, শহীদ ওসমান হাদী এনসিপির তিনটি অপরাধ চিহ্নিত করে গেছেন, যার মধ্যে অন্যতম ছিল দুর্নীতি। তিনি প্রশ্ন তোলেন, শহীদ ওসমান হাদী যদি মিথ্যা বলে থাকেন, তাহলে এনসিপির উচিত প্রকাশ্যে বলা যে তিনি দল সম্পর্কে অসত্য ও বিভ্রান্তিকর বক্তব্য দিয়ে গেছেন।

উল্লেখ্য, এসব অভিযোগ মুহাম্মদ রাশেদ খাঁনের ব্যক্তিগত ফেসবুক পোস্টে উত্থাপিত হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা এনসিপির পক্ষ থেকে এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।