কিশোরগঞ্জের তাড়াইল উপজেলা বিএনপির সভাপতি সারোয়ার হোসেন লিটনের একটি ভিডিও বক্তব্যকে কেন্দ্র করে দলীয় অঙ্গনে শুরু হয়েছে তীব্র আলোড়ন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পরপরই নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ, হতাশা ও অসন্তোষ স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
ভিডিওতে দেওয়া বক্তব্য পর্যালোচনা করে তৃণমূলের একাধিক নেতাকর্মী অভিযোগ করেছেন, গত ১৭ বছরের বিতর্কিত নির্বাচন ও দুঃশাসনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের প্রতি ইতিবাচক ও প্রশংসাসূচক অবস্থান নিয়েছেন লিটন। বিষয়টিকে তারা বিএনপির দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অবস্থান ও আদর্শের সঙ্গে সরাসরি সাংঘর্ষিক হিসেবে দেখছেন।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, জাতীয় পার্টির সাবেক মহাসচিব ও সাবেক মন্ত্রী মজিবুল হক চুন্নুকে বক্তব্যে উচ্চ মর্যাদায় তুলে ধরেন লিটন। তাকে ‘প্রভাবশালী’ ও ‘মর্যাদাশীল’ ব্যক্তি হিসেবে উল্লেখ করে প্রশংসা করার পাশাপাশি, তাকে বিএনপিতে সম্পৃক্ত করার ইঙ্গিতও দিয়েছেন—এমন অভিযোগ করেছেন কয়েকজন নেতাকর্মী।
এছাড়া, ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে সাবেক রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ ও মজিবুল হক চুন্নুকে নিয়ে বক্তব্য দিতে গিয়ে তাদের প্রশংসা করতে দেখা গেছে বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের।
দলীয় পর্যবেক্ষকদের মতে, যে শক্তিকে বিএনপি দীর্ঘদিন ধরে ‘গণতন্ত্রবিরোধী’ ও ‘ফ্যাসিবাদী’ হিসেবে আখ্যায়িত করে আসছে, সেই শক্তির প্রতি একজন দায়িত্বশীল নেতার এমন অবস্থান শুধু বিস্ময়করই নয়, বরং তা রাজনৈতিকভাবে স্পর্শকাতর বার্তা বহন করে। এতে করে দলের ভেতরে বিভ্রান্তি তৈরি হচ্ছে এবং তৃণমূল পর্যায়ে নেতাকর্মীদের মনোবলেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক নেতারা বলেন, দলের দুঃসময়ে রাজপথে থেকে নির্যাতন-নিপীড়ন সহ্য করা নেতাকর্মীদের আত্মত্যাগের সঙ্গে এমন বক্তব্য কোনোভাবেই সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তাদের ভাষায়, এটি শুধু অনাকাঙ্ক্ষিত নয়, বরং শহীদদের আত্মত্যাগের প্রতি অবমাননার শামিল।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরাও মনে করছেন, এ ধরনের বক্তব্য দীর্ঘদিনের আন্দোলন-সংগ্রামের অর্জনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারে এবং দলীয় আদর্শিক অবস্থানকে দুর্বল করে দিতে পারে।
এদিকে, তাড়াইল উপজেলা বিএনপির ভেতরে বিষয়টি নিয়ে বিরাজ করছে নীরব উত্তেজনা। অনেক নেতাকর্মীর আশঙ্কা, দ্রুত সময়ের মধ্যে কেন্দ্রীয় বা জেলা পর্যায় থেকে সুস্পষ্ট অবস্থান না এলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।
তবে এ বিষয়ে তাড়াইল উপজেলা বিএনপির সভাপতি সারোয়ার হোসেন লিটনের কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
জেলা বিএনপির রাজনীতিকদের মতে, দায়িত্বশীল নেতাদের বক্তব্যে সংযম ও দলীয় আদর্শের প্রতিফলন থাকা জরুরি। অন্যথায়, তা শুধু ব্যক্তিকেই নয়, পুরো দলকেই অস্বস্তিকর পরিস্থিতিতে ফেলতে পারে।
Reporter Name 






















