কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলা বিএনপির এক সভা পরিণত হয় ব্যতিক্রমধর্মী আবেগঘন আয়োজনে। বক্তব্য দিতে গিয়ে অশ্রুসিক্ত হয়ে পড়েন ভিপি সাইফুল ইসলাম সুমন, যার উপস্থিত নেতাকর্মীদের মাঝেও নেমে আসে গভীর আবেগের ছায়া।
সভায় দলের দুঃসময়ের ত্যাগ ও সংগ্রামের চিত্র তুলে ধরতে গিয়ে সুমন অতীতের নানা স্মৃতিচারণ করেন। তিনি বলেন, একসময় নেতাকর্মীরা নিজ খরচে কর্মসূচিতে অংশ নিতে গিয়ে পুলিশের ধাওয়ার মুখে পড়েছেন, হারিয়েছেন জুতা, সারাদিন না খেয়ে বাড়ি ফিরেছেন। কখনও জীবন বাঁচাতে পালিয়ে ধানক্ষেতে রাত কাটাতে হয়েছে, আবার কখনও আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে আশ্রয় নিয়ে দিন পার করতে হয়েছে চরম কষ্টে।
এসব অভিজ্ঞতার বর্ণনা দিতে গিয়ে তিনি আবেগ ধরে রাখতে না পেরে কান্নায় ভেঙে পড়েন। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, দীর্ঘদিন জেল-জুলুম ও নির্যাতন সহ্য করেও অনেক ত্যাগী নেতাকর্মী আজও যথাযথ মূল্যায়ন থেকে বঞ্চিত।
নেতাকর্মীদের পারিবারিক ও অর্থনৈতিক বাস্তবতার দিকটি তুলে ধরে তিনি বলেন, “তাদেরও পরিবার আছে, সন্তানদের লেখাপড়া, সংসারের খরচ—সবকিছুই চালাতে হয়। তারা যদি বৈধভাবে ব্যবসা করে জীবিকা নির্বাহ করতে চায়, তবে কেন তাদের পথে এত বাধা ও হয়রানি আসবে?”—এ প্রশ্ন তুলে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
বক্তব্যের এক পর্যায়ে টেবিল ও নিজের বুকে আঘাত করে হাউমাউ করে কেঁদে ওঠেন সুমন। তার এই আবেগঘন মুহূর্তে উপস্থিত প্রায় দুই শতাধিক নেতাকর্মীর অনেকেই অশ্রুসিক্ত হয়ে পড়েন।
সভায় সভাপতিত্ব করেন করিমগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি আজিজুল ইসলাম দুলাল এবং সঞ্চালনা করেন হাজী আশরাফ হোসেন পাভেল।
এ আয়োজন করিমগঞ্জ বিএনপির নেতাকর্মীদের মাঝে ভিন্নধর্মী এক আবহ তৈরি করে, যেখানে অতীতের ত্যাগ-তিতিক্ষার স্মৃতি নতুন করে নাড়া দেয় সবার হৃদয়।
Reporter Name 























