ঢাকা ১২:৪০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬, ১১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইরান যুদ্ধেই শেষ যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রভাণ্ডার! বিস্ফোরক তথ্য নিউ ইয়র্ক টাইমসের

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১২:১৫:২৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬
  • ২ বার

ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্বব্যাপী মজুত সামরিক সরঞ্জামের ওপর উল্লেখযোগ্য চাপ তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য নিউইয়র্ক টাইমস। প্রতিবেদনে বলা হয়, চলমান সামরিক কার্যক্রমের কারণে কিছু গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্রের মজুত দ্রুত কমে আসছে, যা পেন্টাগনকে নতুন করে সরবরাহ ব্যবস্থাপনা করতে বাধ্য করছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা সদর দপ্তর পেন্টাগন এশিয়া ও ইউরোপে অবস্থানরত বিভিন্ন সামরিক কমান্ড থেকে অস্ত্র ও সরঞ্জাম সরিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে পাঠাচ্ছে। এর মাধ্যমে যুদ্ধক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের ঘাটতি পূরণের চেষ্টা চলছে। বিশ্লেষকেরা বলছেন, এই পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্রের বৈশ্বিক সামরিক প্রস্তুতির ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে।

খবরে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, চলমান সংঘাতের ব্যয় অত্যন্ত বেশি। যদিও হোয়াইট হাউস আনুষ্ঠানিকভাবে মোট ব্যয়ের হিসাব প্রকাশ করেনি, তবে দুটি স্বাধীন সংস্থার হিসাব অনুযায়ী প্রতিদিন প্রায় ১০০ কোটি ডলার ব্যয় হচ্ছে। সেই হিসেবে মোট ব্যয়ের পরিমাণ ইতোমধ্যে ২৮ বিলিয়ন থেকে ৩৫ বিলিয়ন ডলারের মধ্যে পৌঁছাতে পারে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যে অস্ত্রগুলোর মজুত সবচেয়ে বেশি চাপের মুখে পড়েছে তার মধ্যে রয়েছে প্রিসিশন-স্ট্রাইক মিসাইল, এটিএসিএমএস ভূমি থেকে উৎক্ষেপণযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র এবং প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টর মিসাইল। এগুলো আধুনিক যুদ্ধের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, বিশেষ করে নির্ভুল লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা এবং আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় ব্যবহৃত হয়।

পর্যবেক্ষকদের, দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের ফলে উচ্চ প্রযুক্তির অস্ত্রের ওপর নির্ভরতা বাড়ে এবং সেগুলোর দ্রুত ব্যবহার মজুত কমিয়ে দেয়। এতে করে ভবিষ্যৎ সামরিক প্রস্তুতি এবং অন্যান্য অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের উপস্থিতি বজায় রাখা কঠিন হয়ে উঠতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের জন্য এই পরিস্থিতি একটি কৌশলগত চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। একদিকে চলমান সংঘাত পরিচালনা, অন্যদিকে বৈশ্বিক সামরিক ভারসাম্য বজায় রাখা—এই দুইয়ের মধ্যে সমন্বয় করাই এখন বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

উল্লেখ্য, ইরানকে ঘিরে উত্তেজনা এবং সামরিক তৎপরতা সাম্প্রতিক সময়ে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এর প্রভাব শুধু মধ্যপ্রাচ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং বৈশ্বিক নিরাপত্তা ও অর্থনীতিতেও এর প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সরঞ্জামের মজুত এবং সরবরাহ ব্যবস্থাপনা কীভাবে সামাল দেওয়া হবে, তা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। তথ্যসূত্র : মিডল ইস্ট আই

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরান যুদ্ধেই শেষ যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রভাণ্ডার! বিস্ফোরক তথ্য নিউ ইয়র্ক টাইমসের

আপডেট টাইম : ১২:১৫:২৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬

ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্বব্যাপী মজুত সামরিক সরঞ্জামের ওপর উল্লেখযোগ্য চাপ তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য নিউইয়র্ক টাইমস। প্রতিবেদনে বলা হয়, চলমান সামরিক কার্যক্রমের কারণে কিছু গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্রের মজুত দ্রুত কমে আসছে, যা পেন্টাগনকে নতুন করে সরবরাহ ব্যবস্থাপনা করতে বাধ্য করছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা সদর দপ্তর পেন্টাগন এশিয়া ও ইউরোপে অবস্থানরত বিভিন্ন সামরিক কমান্ড থেকে অস্ত্র ও সরঞ্জাম সরিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে পাঠাচ্ছে। এর মাধ্যমে যুদ্ধক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের ঘাটতি পূরণের চেষ্টা চলছে। বিশ্লেষকেরা বলছেন, এই পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্রের বৈশ্বিক সামরিক প্রস্তুতির ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে।

খবরে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, চলমান সংঘাতের ব্যয় অত্যন্ত বেশি। যদিও হোয়াইট হাউস আনুষ্ঠানিকভাবে মোট ব্যয়ের হিসাব প্রকাশ করেনি, তবে দুটি স্বাধীন সংস্থার হিসাব অনুযায়ী প্রতিদিন প্রায় ১০০ কোটি ডলার ব্যয় হচ্ছে। সেই হিসেবে মোট ব্যয়ের পরিমাণ ইতোমধ্যে ২৮ বিলিয়ন থেকে ৩৫ বিলিয়ন ডলারের মধ্যে পৌঁছাতে পারে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যে অস্ত্রগুলোর মজুত সবচেয়ে বেশি চাপের মুখে পড়েছে তার মধ্যে রয়েছে প্রিসিশন-স্ট্রাইক মিসাইল, এটিএসিএমএস ভূমি থেকে উৎক্ষেপণযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র এবং প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টর মিসাইল। এগুলো আধুনিক যুদ্ধের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, বিশেষ করে নির্ভুল লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা এবং আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় ব্যবহৃত হয়।

পর্যবেক্ষকদের, দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের ফলে উচ্চ প্রযুক্তির অস্ত্রের ওপর নির্ভরতা বাড়ে এবং সেগুলোর দ্রুত ব্যবহার মজুত কমিয়ে দেয়। এতে করে ভবিষ্যৎ সামরিক প্রস্তুতি এবং অন্যান্য অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের উপস্থিতি বজায় রাখা কঠিন হয়ে উঠতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের জন্য এই পরিস্থিতি একটি কৌশলগত চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। একদিকে চলমান সংঘাত পরিচালনা, অন্যদিকে বৈশ্বিক সামরিক ভারসাম্য বজায় রাখা—এই দুইয়ের মধ্যে সমন্বয় করাই এখন বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

উল্লেখ্য, ইরানকে ঘিরে উত্তেজনা এবং সামরিক তৎপরতা সাম্প্রতিক সময়ে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এর প্রভাব শুধু মধ্যপ্রাচ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং বৈশ্বিক নিরাপত্তা ও অর্থনীতিতেও এর প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সরঞ্জামের মজুত এবং সরবরাহ ব্যবস্থাপনা কীভাবে সামাল দেওয়া হবে, তা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। তথ্যসূত্র : মিডল ইস্ট আই