ঢাকা ০১:০১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬, ১৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
১০১ মণের ‘বরকতি ড্যাগের’ খিচুড়ি, খেলেই নাকি রোগমুক্তি ও সন্তান লাভ দুর্নীতি-শর্টকাটে দ্রুত বড়লোক হওয়ার চেষ্টা নয়, আদর্শ আইনজীবী হতে হবে: আইনমন্ত্রী রাষ্ট্রপতিকে অভিনন্দন জানিয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিন এআই ব্যবহার করে মানুষের মৌলিক অধিকার ক্ষুণ্ন করা যাবে না: প্রধান বিচারপতি সমুদ্রের বেলাভূমিতে সাদিয়া আয়মানের ‌‘একটুখানি জাদু’ বোল্টের চেয়েও দ্রুত দৌড়ানো সেই চীনা রোবটের নতুন চমক মহানবী মুহাম্মদ (সা.) : সব সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ যিনি প্রধানমন্ত্রী ইসলামের আদর্শ বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠা করছেন: মঈন খান চুলে রং করার পর যত্ন নেবেন যেভাবে নেপালে বন্যা: প্রাণহানির ঘটনায় প্রধানমন্ত্রীর শোক, সহযোগিতার বার্তা

সৌদির প্রতিরক্ষা সামলে ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতা করতে পারবে পাকিস্তান

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১১:১৩:১৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬
  • ৮৪ বার

একাধারে ওয়াশিংটন-তেহরান আলোচনার মধ্যস্থতাকারী ও অন্যদিকে সৌদি আরবের কৌশলগত সামরিক মিত্র—এই দুই বিপরীতমুখী ভূমিকার মধ্যে এক সূক্ষ্ম ভারসাম্য রক্ষার লড়াই চালাচ্ছে পাকিস্তান।

গত ১১ এপ্রিল ইসলামাবাদে যখন মার্কিন-ইরান সরাসরি আলোচনার সূত্রপাত হয়, ঠিক তখনই সৌদি আরবের কিং আব্দুল আজিজ বিমান ঘাঁটিতে পাকিস্তান বিমান বাহিনীর একটি বিশেষ দল মোতায়েন করা হয়েছে। পাঠানো হয়েছে তিনটি যুদ্ধ বিমান।

২০২৫ সালে স্বাক্ষরিত ‘কৌশলগত পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি’ (এসএমডিএ) অনুযায়ী পাকিস্তান ও সৌদি আরব একে অপরের ওপর আক্রমণকে নিজেদের ওপর আক্রমণ হিসেবে গণ্য করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়েছে।

রিয়াদ-ভিত্তিক বিশ্লেষকদের মতে, পূর্ব প্রদেশে পাকিস্তানের এই যুদ্ধবিমান মোতায়েন মূলত ইরানের সম্ভাব্য হামলা মোকাবিলায় একটি ‘প্রতিরোধমূলক’ পদক্ষেপ। যদিও পাকিস্তান সরকার এ বিষয়ে নীরবতা পালন করছে, তবে উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার এবং সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের উপস্থিতিতে হওয়া এই প্রতিরক্ষা প্রতিশ্রুতি তেহরানের কাছে ইসলামাবাদের অবস্থানকে কিছুটা জটিল করে তুলেছে।

বিপজ্জনক এই মেরুকরণের মধ্যেও পাকিস্তান নিজেকে নির্ভরযোগ্য মধ্যস্থতাকারী হিসেবে প্রমাণ করতে চাইছে। বিশ্লেষক আজিমা চিমার মতে, পাকিস্তানে কোনো মার্কিন ঘাঁটি না থাকা ও ইসরায়েলের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক না রাখা তেহরানের কাছে পাকিস্তানের বিশ্বাসযোগ্যতা ধরে রাখতে সাহায্য করছে।

ইরানি কর্তৃপক্ষ জানে যে, পাকিস্তান সরাসরি যুদ্ধে জড়াতে চায় না, তবে সৌদি আরবের ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষার ক্ষেত্রে তারা নিরপেক্ষ থাকবে না।

১৪ এপ্রিল থেকে ইরানের বন্দরে মার্কিন নৌ অবরোধ কার্যকর হওয়ায় ও ২২ এপ্রিল যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হতে চলায় পাকিস্তানের এই ‘ডাবল রোল’ বা দ্বৈত ভূমিকা বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।

পাকিস্তান বর্তমানে ইসলামাবাদে পরবর্তী দফার আলোচনার প্রস্তাব দিচ্ছে ও প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ শিগগিরই সৌদি আরব ও তুরস্ক সফরে যাচ্ছেন।

বিশ্লেষকরা বলছেন, যতদিন আলোচনা চলবে ততদিন এই ভারসাম্য রক্ষা সম্ভব হলেও সর্বাত্মক যুদ্ধ শুরু হলে পাকিস্তানকে যেকোনো একটি পক্ষ বেছে নিতে বাধ্য হতে হতে পারে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

১০১ মণের ‘বরকতি ড্যাগের’ খিচুড়ি, খেলেই নাকি রোগমুক্তি ও সন্তান লাভ

সৌদির প্রতিরক্ষা সামলে ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতা করতে পারবে পাকিস্তান

আপডেট টাইম : ১১:১৩:১৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬

একাধারে ওয়াশিংটন-তেহরান আলোচনার মধ্যস্থতাকারী ও অন্যদিকে সৌদি আরবের কৌশলগত সামরিক মিত্র—এই দুই বিপরীতমুখী ভূমিকার মধ্যে এক সূক্ষ্ম ভারসাম্য রক্ষার লড়াই চালাচ্ছে পাকিস্তান।

গত ১১ এপ্রিল ইসলামাবাদে যখন মার্কিন-ইরান সরাসরি আলোচনার সূত্রপাত হয়, ঠিক তখনই সৌদি আরবের কিং আব্দুল আজিজ বিমান ঘাঁটিতে পাকিস্তান বিমান বাহিনীর একটি বিশেষ দল মোতায়েন করা হয়েছে। পাঠানো হয়েছে তিনটি যুদ্ধ বিমান।

২০২৫ সালে স্বাক্ষরিত ‘কৌশলগত পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি’ (এসএমডিএ) অনুযায়ী পাকিস্তান ও সৌদি আরব একে অপরের ওপর আক্রমণকে নিজেদের ওপর আক্রমণ হিসেবে গণ্য করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়েছে।

রিয়াদ-ভিত্তিক বিশ্লেষকদের মতে, পূর্ব প্রদেশে পাকিস্তানের এই যুদ্ধবিমান মোতায়েন মূলত ইরানের সম্ভাব্য হামলা মোকাবিলায় একটি ‘প্রতিরোধমূলক’ পদক্ষেপ। যদিও পাকিস্তান সরকার এ বিষয়ে নীরবতা পালন করছে, তবে উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার এবং সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের উপস্থিতিতে হওয়া এই প্রতিরক্ষা প্রতিশ্রুতি তেহরানের কাছে ইসলামাবাদের অবস্থানকে কিছুটা জটিল করে তুলেছে।

বিপজ্জনক এই মেরুকরণের মধ্যেও পাকিস্তান নিজেকে নির্ভরযোগ্য মধ্যস্থতাকারী হিসেবে প্রমাণ করতে চাইছে। বিশ্লেষক আজিমা চিমার মতে, পাকিস্তানে কোনো মার্কিন ঘাঁটি না থাকা ও ইসরায়েলের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক না রাখা তেহরানের কাছে পাকিস্তানের বিশ্বাসযোগ্যতা ধরে রাখতে সাহায্য করছে।

ইরানি কর্তৃপক্ষ জানে যে, পাকিস্তান সরাসরি যুদ্ধে জড়াতে চায় না, তবে সৌদি আরবের ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষার ক্ষেত্রে তারা নিরপেক্ষ থাকবে না।

১৪ এপ্রিল থেকে ইরানের বন্দরে মার্কিন নৌ অবরোধ কার্যকর হওয়ায় ও ২২ এপ্রিল যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হতে চলায় পাকিস্তানের এই ‘ডাবল রোল’ বা দ্বৈত ভূমিকা বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।

পাকিস্তান বর্তমানে ইসলামাবাদে পরবর্তী দফার আলোচনার প্রস্তাব দিচ্ছে ও প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ শিগগিরই সৌদি আরব ও তুরস্ক সফরে যাচ্ছেন।

বিশ্লেষকরা বলছেন, যতদিন আলোচনা চলবে ততদিন এই ভারসাম্য রক্ষা সম্ভব হলেও সর্বাত্মক যুদ্ধ শুরু হলে পাকিস্তানকে যেকোনো একটি পক্ষ বেছে নিতে বাধ্য হতে হতে পারে।