একাধারে ওয়াশিংটন-তেহরান আলোচনার মধ্যস্থতাকারী ও অন্যদিকে সৌদি আরবের কৌশলগত সামরিক মিত্র—এই দুই বিপরীতমুখী ভূমিকার মধ্যে এক সূক্ষ্ম ভারসাম্য রক্ষার লড়াই চালাচ্ছে পাকিস্তান।
গত ১১ এপ্রিল ইসলামাবাদে যখন মার্কিন-ইরান সরাসরি আলোচনার সূত্রপাত হয়, ঠিক তখনই সৌদি আরবের কিং আব্দুল আজিজ বিমান ঘাঁটিতে পাকিস্তান বিমান বাহিনীর একটি বিশেষ দল মোতায়েন করা হয়েছে। পাঠানো হয়েছে তিনটি যুদ্ধ বিমান।
২০২৫ সালে স্বাক্ষরিত ‘কৌশলগত পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি’ (এসএমডিএ) অনুযায়ী পাকিস্তান ও সৌদি আরব একে অপরের ওপর আক্রমণকে নিজেদের ওপর আক্রমণ হিসেবে গণ্য করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়েছে।
রিয়াদ-ভিত্তিক বিশ্লেষকদের মতে, পূর্ব প্রদেশে পাকিস্তানের এই যুদ্ধবিমান মোতায়েন মূলত ইরানের সম্ভাব্য হামলা মোকাবিলায় একটি ‘প্রতিরোধমূলক’ পদক্ষেপ। যদিও পাকিস্তান সরকার এ বিষয়ে নীরবতা পালন করছে, তবে উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার এবং সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের উপস্থিতিতে হওয়া এই প্রতিরক্ষা প্রতিশ্রুতি তেহরানের কাছে ইসলামাবাদের অবস্থানকে কিছুটা জটিল করে তুলেছে।
বিপজ্জনক এই মেরুকরণের মধ্যেও পাকিস্তান নিজেকে নির্ভরযোগ্য মধ্যস্থতাকারী হিসেবে প্রমাণ করতে চাইছে। বিশ্লেষক আজিমা চিমার মতে, পাকিস্তানে কোনো মার্কিন ঘাঁটি না থাকা ও ইসরায়েলের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক না রাখা তেহরানের কাছে পাকিস্তানের বিশ্বাসযোগ্যতা ধরে রাখতে সাহায্য করছে।

ইরানি কর্তৃপক্ষ জানে যে, পাকিস্তান সরাসরি যুদ্ধে জড়াতে চায় না, তবে সৌদি আরবের ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষার ক্ষেত্রে তারা নিরপেক্ষ থাকবে না।
১৪ এপ্রিল থেকে ইরানের বন্দরে মার্কিন নৌ অবরোধ কার্যকর হওয়ায় ও ২২ এপ্রিল যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হতে চলায় পাকিস্তানের এই ‘ডাবল রোল’ বা দ্বৈত ভূমিকা বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।
পাকিস্তান বর্তমানে ইসলামাবাদে পরবর্তী দফার আলোচনার প্রস্তাব দিচ্ছে ও প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ শিগগিরই সৌদি আরব ও তুরস্ক সফরে যাচ্ছেন।
বিশ্লেষকরা বলছেন, যতদিন আলোচনা চলবে ততদিন এই ভারসাম্য রক্ষা সম্ভব হলেও সর্বাত্মক যুদ্ধ শুরু হলে পাকিস্তানকে যেকোনো একটি পক্ষ বেছে নিতে বাধ্য হতে হতে পারে।
Reporter Name 

























