ঢাকা ১১:২২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৪ অগাস্ট ২০২৬, ২০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
বৃহত্তর ময়মনসিংহের উন্নয়নে সমন্বিত উদ্যোগের তাগিদ তথ্য প্রতিমন্ত্রীর অস্তিত্বসংকটে বুড়িগঙ্গা ২০২৪-এর জুলাই গণঅভ্যুত্থান প্রবাস থেকে যত প্রতিরোধ মেঘনার এক ইলিশ বিক্রি হলো ১০ হাজার টাকায় মাওলানা মাহমুদ মাদানী ইসরাইলে অস্ত্র সরবরাহ মানবতা ও ভারতের নৈতিক মর্যাদার জন্য কলঙ্ক অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল নিয়ে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে ৫ আগস্ট সংবাদপত্রে ছুটি বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার আধুনিক শিক্ষার সঙ্গে মূল্যবোধভিত্তিক শিক্ষার সমন্বয়ে কাজ করবে আর্মি ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ইনস্টিটিউট : সেনাপ্রধান শেখ হাসিনা যেন ভারতের ভূখণ্ড ব্যবহার করে রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারে: দিনেশ ত্রিবেদীকে হুমায়ুন কবির

বাঁশ-দড়ি বেয়ে মসজিদে যাওয়া সেই অন্ধ মুয়াজ্জিন আর নেই

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ০৯:২২:২৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ এপ্রিল ২০২৬
  • ৫২ বার

বয়স বা শারীরিক প্রতিবন্ধকতা- কোনো কিছুই তার ধর্মীয় একাগ্রতাকে থামাতে পারেনি। নাটোরের প্রবীণ ও অদম্য মুয়াজ্জিন আব্দুর রহমান মোল্লা ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ১২০ বছর। মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আব্দুর রহমান মোল্লার ছেলে মো. শফিকুল ইসলাম সাইফুল।

গত রোববার (৫ এপ্রিল) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে বড়াইগ্রাম উপজেলার নগর ইউনিয়নের বড়দেহা গ্রামের নিজ বাড়িতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। সোমবার (৬ এপ্রিল) সকাল ৯টায় বড়দেহা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে জানাজা শেষে স্থানীয় কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়েছে। তার জানাজায় আশপাশের বিভিন্ন গ্রামের অসংখ্য মুসল্লি অংশ নেন।

পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আজীবন ধর্মপ্রাণ এই মানুষটি প্রায় ২২ বছর আগে এক দুর্ঘটনায় নিজের দৃষ্টিশক্তি হারান। কিন্তু দৃষ্টিহীনতা তার মনোবল ভাঙতে পারেনি। দৃষ্টি হারানোর ছয় বছর পর বড় ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে তিনি পবিত্র হজ পালন করেন। এরপর নিজ গ্রামে নিজের ৫ শতাংশ জমির ওপর একটি পাকা মসজিদ নির্মাণ করেন এবং পরবর্তীতে সেই জমি মসজিদের নামে ওয়াকফ করে দেন।

মসজিদ নির্মাণের পর থেকেই তিনি নিজে সেখানে মুয়াজ্জিনের দায়িত্ব পালন শুরু করেন। দৃষ্টিহীন অবস্থায় বাড়ি থেকে মসজিদে যাতায়াত করা কষ্টকর হওয়ায় তার সন্তানেরা বাড়ি থেকে মসজিদ পর্যন্ত বাঁশ পুঁতে তাতে দড়ি বেঁধে দিয়েছিলেন। দীর্ঘ বছর ধরে সেই দড়ি ধরে এবং লাঠির সাহায্যে পথ চিনে তিনি নিয়মিত মসজিদে গিয়ে আজান দিতেন ও পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করতেন।

একজন শতবর্ষী দৃষ্টিহীন মানুষের এমন ধর্মনিষ্ঠা ও একাগ্রতা এলাকায় দৃষ্টান্ত হয়ে ছিল। তার মৃত্যুতে বড়দেহা গ্রামসহ পুরো উপজেলায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয়রা তাকে একজন সত্যিকারের প্রচারবিমুখ ও ধর্মপ্রাণ মানুষ হিসেবে আজীবন মনে রাখবেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

বৃহত্তর ময়মনসিংহের উন্নয়নে সমন্বিত উদ্যোগের তাগিদ তথ্য প্রতিমন্ত্রীর

বাঁশ-দড়ি বেয়ে মসজিদে যাওয়া সেই অন্ধ মুয়াজ্জিন আর নেই

আপডেট টাইম : ০৯:২২:২৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ এপ্রিল ২০২৬

বয়স বা শারীরিক প্রতিবন্ধকতা- কোনো কিছুই তার ধর্মীয় একাগ্রতাকে থামাতে পারেনি। নাটোরের প্রবীণ ও অদম্য মুয়াজ্জিন আব্দুর রহমান মোল্লা ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ১২০ বছর। মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আব্দুর রহমান মোল্লার ছেলে মো. শফিকুল ইসলাম সাইফুল।

গত রোববার (৫ এপ্রিল) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে বড়াইগ্রাম উপজেলার নগর ইউনিয়নের বড়দেহা গ্রামের নিজ বাড়িতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। সোমবার (৬ এপ্রিল) সকাল ৯টায় বড়দেহা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে জানাজা শেষে স্থানীয় কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়েছে। তার জানাজায় আশপাশের বিভিন্ন গ্রামের অসংখ্য মুসল্লি অংশ নেন।

পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আজীবন ধর্মপ্রাণ এই মানুষটি প্রায় ২২ বছর আগে এক দুর্ঘটনায় নিজের দৃষ্টিশক্তি হারান। কিন্তু দৃষ্টিহীনতা তার মনোবল ভাঙতে পারেনি। দৃষ্টি হারানোর ছয় বছর পর বড় ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে তিনি পবিত্র হজ পালন করেন। এরপর নিজ গ্রামে নিজের ৫ শতাংশ জমির ওপর একটি পাকা মসজিদ নির্মাণ করেন এবং পরবর্তীতে সেই জমি মসজিদের নামে ওয়াকফ করে দেন।

মসজিদ নির্মাণের পর থেকেই তিনি নিজে সেখানে মুয়াজ্জিনের দায়িত্ব পালন শুরু করেন। দৃষ্টিহীন অবস্থায় বাড়ি থেকে মসজিদে যাতায়াত করা কষ্টকর হওয়ায় তার সন্তানেরা বাড়ি থেকে মসজিদ পর্যন্ত বাঁশ পুঁতে তাতে দড়ি বেঁধে দিয়েছিলেন। দীর্ঘ বছর ধরে সেই দড়ি ধরে এবং লাঠির সাহায্যে পথ চিনে তিনি নিয়মিত মসজিদে গিয়ে আজান দিতেন ও পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করতেন।

একজন শতবর্ষী দৃষ্টিহীন মানুষের এমন ধর্মনিষ্ঠা ও একাগ্রতা এলাকায় দৃষ্টান্ত হয়ে ছিল। তার মৃত্যুতে বড়দেহা গ্রামসহ পুরো উপজেলায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয়রা তাকে একজন সত্যিকারের প্রচারবিমুখ ও ধর্মপ্রাণ মানুষ হিসেবে আজীবন মনে রাখবেন।