ঢাকা ০২:১১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৭ এপ্রিল ২০২৬, ২৪ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

মিরসরাইয়ে ভারী বৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত তরমুজ চাষিরা

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ০৩:০৯:০১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩ এপ্রিল ২০২৬
  • ১০ বার

চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে ভারী বৃষ্টিতে ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন তরমুজ চাষিরা। ৩১ মার্চ বিকেলে শুরু হওয়া টানা বৃষ্টিতে নিচু এলাকাগুলোর তরমুজ ক্ষেত বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। চাষ হওয়া জমির প্রায় ২০ শতাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে কৃষি অধিদপ্তর। বৃষ্টি যদি আবার হয় তাহলে বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা করছেন চাষিরা।

উপজেলার ইছাখালী, মিঠানালা ও সাহেরখালী ইউনিয়ন ঘুরে দেখা গেছে, ভারী বৃষ্টির কারণে তরমুজ ক্ষেতগুলোতে পানি জমে গেছে। এতে পাকা, আধা পাকা ও কচি তরমুজগুলোর একাংশ পানিতে ডুবে আছে। মাঠে মাঠে সেচ দিয়ে জমি থেকে পানি বের করার কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকেরা। কোথাও দেখা গেছে বিষণ্ন মনে ক্ষেতের ধারে বসে আছেন কৃষক।

মিরসরাই উপজেলা কৃষি কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এ বছর উপজেলার হিঙ্গুলী, ওসমানপুর, ধুম, ইছাখালী, মিঠানালা, সাহেরখালি, কাটাছরা এই সাতটি ইউনিয়নে ৭৫০ হেক্টর জমিতে তরমুজের আবাদ হয়েছে। জমি ইজারা নিয়ে নোয়াখালী জেলার সুবর্ণচর উপজেলার কৃষকেরা মিরসরাইয়ে এসে তরমুজ আবাদ করেছেন। তাদের দেখাদেখি স্থানীয় কিছু কৃষকও তরমুজ চাষ করেছেন। কিন্তু ৩১ মার্চের বৃষ্টিতে আবাদ হওয়া তরমুজের নিচু জমিগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যদি পুনরায় বৃষ্টি হয় ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে।

tormuz

ডোমখালী এলাকার কৃষক মোহাম্মদ তারেক বলেন, ‘পড়াশোনার পাশাপাশি এবার ৫ একর জমিতে তরমুজ চাষ করেছি। প্রায় ৪ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। এরই মধ্যে ৪ লাখ টাকার বিক্রি করে পুঁজি উঠেছে। যখন বিক্রি করে লাভের মুখ দেখবো; ঠিক সেই সময়ে বৃষ্টি হানা দিয়েছে।’

উপজেলার মিঠানালা ইউনিয়নের পশ্চিমের চরে তরমুজ চাষ করা কৃষক আব্দুল হাই বলেন, ‘মহাজন, এনজিও ও শহরের আড়তদার থেকে আগাম টাকা নিয়ে ৩০ লাখ টাকা খরচ করে ২৫ একর জমিতে তরমুজ চাষ করেছি। এ বছর এমনিতেই বৈরী আবহাওয়ার কারণে ক্ষেতে ভালো তরমুজ হয়নি। কঠোর পরিশ্রম করে যা ফলিয়েছি; তা-ও এখন ভারী বৃষ্টির কারণে জমিতে পানি জমে সব নষ্ট হয়ে যাবে। এখন অবস্থা এমন হয়েছে পুঁজিটাও উঠবে না। সরকার যদি আমাদের একটু সহযোগিতা করতো বাঁচতে পারতাম।’

কাটাছরা ইউনিয়নের কৃষক শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘এবার ৮ একর জমিতে তরমুজের আবাদ করেছি। মাত্র দুইবার ফলন তুলে বিক্রি করা হয়। এরপর বৃষ্টিতে অনেক তরমুজ নষ্ট হয়ে গেছে। কী করবো বুঝতেছি না।’

মিরসরাই উপজেলা কৃষক দলের আহ্বায়ক আশরাফ উদ্দিন বলেন, ‘বৃহস্পতিবার সকালে সাহেরখালীতে তরমুজ ক্ষেত পরিদর্শনে গিয়েছিলাম। বৃষ্টিতে অনেক চাষি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যদি আর বৃষ্টি না হয় তাহলে তেমন ক্ষতি হবে না।’

water melon

মিরসরাই উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা প্রতাপ চন্দ্র রায় বলেন, ‘মিরসরাইয়ের বেশ কিছু ইউনিয়নে এবার ব্যাপকভাবে তরমুজের চাষাবাদ হয়েছে। বিশেষ করে নোয়াখালীর সুবর্ণচরের কৃষকদের পাশাপাশি এবার এখানকার অনেক কৃষক জমি ইজারা নিয়ে তরমুজ আবাদ করেছেন।’

তিনি বলেন, ‘মঙ্গলবার বিকেলে হঠাৎ ভারী বৃষ্টিতে ক্ষেতে পানি জমে তরমুজ চাষিদের বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে। আবাদ হওয়া জমির মধ্যে প্রায় ২০ শতাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যেসব এলাকায় ক্ষেতের তরমুজ পুষ্ট হয়েছে; চাষিরা সেসব তরমুজ দ্রুত বিক্রি করলে ক্ষতি কিছুটা কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।’

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

মিরসরাইয়ে ভারী বৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত তরমুজ চাষিরা

আপডেট টাইম : ০৩:০৯:০১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩ এপ্রিল ২০২৬

চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে ভারী বৃষ্টিতে ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন তরমুজ চাষিরা। ৩১ মার্চ বিকেলে শুরু হওয়া টানা বৃষ্টিতে নিচু এলাকাগুলোর তরমুজ ক্ষেত বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। চাষ হওয়া জমির প্রায় ২০ শতাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে কৃষি অধিদপ্তর। বৃষ্টি যদি আবার হয় তাহলে বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা করছেন চাষিরা।

উপজেলার ইছাখালী, মিঠানালা ও সাহেরখালী ইউনিয়ন ঘুরে দেখা গেছে, ভারী বৃষ্টির কারণে তরমুজ ক্ষেতগুলোতে পানি জমে গেছে। এতে পাকা, আধা পাকা ও কচি তরমুজগুলোর একাংশ পানিতে ডুবে আছে। মাঠে মাঠে সেচ দিয়ে জমি থেকে পানি বের করার কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকেরা। কোথাও দেখা গেছে বিষণ্ন মনে ক্ষেতের ধারে বসে আছেন কৃষক।

মিরসরাই উপজেলা কৃষি কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এ বছর উপজেলার হিঙ্গুলী, ওসমানপুর, ধুম, ইছাখালী, মিঠানালা, সাহেরখালি, কাটাছরা এই সাতটি ইউনিয়নে ৭৫০ হেক্টর জমিতে তরমুজের আবাদ হয়েছে। জমি ইজারা নিয়ে নোয়াখালী জেলার সুবর্ণচর উপজেলার কৃষকেরা মিরসরাইয়ে এসে তরমুজ আবাদ করেছেন। তাদের দেখাদেখি স্থানীয় কিছু কৃষকও তরমুজ চাষ করেছেন। কিন্তু ৩১ মার্চের বৃষ্টিতে আবাদ হওয়া তরমুজের নিচু জমিগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যদি পুনরায় বৃষ্টি হয় ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে।

tormuz

ডোমখালী এলাকার কৃষক মোহাম্মদ তারেক বলেন, ‘পড়াশোনার পাশাপাশি এবার ৫ একর জমিতে তরমুজ চাষ করেছি। প্রায় ৪ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। এরই মধ্যে ৪ লাখ টাকার বিক্রি করে পুঁজি উঠেছে। যখন বিক্রি করে লাভের মুখ দেখবো; ঠিক সেই সময়ে বৃষ্টি হানা দিয়েছে।’

উপজেলার মিঠানালা ইউনিয়নের পশ্চিমের চরে তরমুজ চাষ করা কৃষক আব্দুল হাই বলেন, ‘মহাজন, এনজিও ও শহরের আড়তদার থেকে আগাম টাকা নিয়ে ৩০ লাখ টাকা খরচ করে ২৫ একর জমিতে তরমুজ চাষ করেছি। এ বছর এমনিতেই বৈরী আবহাওয়ার কারণে ক্ষেতে ভালো তরমুজ হয়নি। কঠোর পরিশ্রম করে যা ফলিয়েছি; তা-ও এখন ভারী বৃষ্টির কারণে জমিতে পানি জমে সব নষ্ট হয়ে যাবে। এখন অবস্থা এমন হয়েছে পুঁজিটাও উঠবে না। সরকার যদি আমাদের একটু সহযোগিতা করতো বাঁচতে পারতাম।’

কাটাছরা ইউনিয়নের কৃষক শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘এবার ৮ একর জমিতে তরমুজের আবাদ করেছি। মাত্র দুইবার ফলন তুলে বিক্রি করা হয়। এরপর বৃষ্টিতে অনেক তরমুজ নষ্ট হয়ে গেছে। কী করবো বুঝতেছি না।’

মিরসরাই উপজেলা কৃষক দলের আহ্বায়ক আশরাফ উদ্দিন বলেন, ‘বৃহস্পতিবার সকালে সাহেরখালীতে তরমুজ ক্ষেত পরিদর্শনে গিয়েছিলাম। বৃষ্টিতে অনেক চাষি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যদি আর বৃষ্টি না হয় তাহলে তেমন ক্ষতি হবে না।’

water melon

মিরসরাই উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা প্রতাপ চন্দ্র রায় বলেন, ‘মিরসরাইয়ের বেশ কিছু ইউনিয়নে এবার ব্যাপকভাবে তরমুজের চাষাবাদ হয়েছে। বিশেষ করে নোয়াখালীর সুবর্ণচরের কৃষকদের পাশাপাশি এবার এখানকার অনেক কৃষক জমি ইজারা নিয়ে তরমুজ আবাদ করেছেন।’

তিনি বলেন, ‘মঙ্গলবার বিকেলে হঠাৎ ভারী বৃষ্টিতে ক্ষেতে পানি জমে তরমুজ চাষিদের বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে। আবাদ হওয়া জমির মধ্যে প্রায় ২০ শতাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যেসব এলাকায় ক্ষেতের তরমুজ পুষ্ট হয়েছে; চাষিরা সেসব তরমুজ দ্রুত বিক্রি করলে ক্ষতি কিছুটা কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।’