ঢাকা ১০:৩৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০১ এপ্রিল ২০২৬, ১৮ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

প্রধানমন্ত্রীর প্রচেষ্টায় দেশে স্থিতিশীলতা

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১০:০৫:৪২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১ এপ্রিল ২০২৬
  • ১ বার

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের প্রভাবে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ বিপর্যস্ত। তবে বাংলাদেশে এখনও দু’একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের মানুষকে কষ্ট না দিয়ে আমদানি অব্যাহত রেখে বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি নির্দেশনায় বেশ কিছু পদক্ষেপও নেওয়া হয়েছে। এর আওতায় সারা দেশে অবৈধ মজুদের বিরুদ্ধে পরিচালিত হচ্ছে অভিযান। আর তাই এখনো সরকার বাড়ায়নি জ্বালানির দাম। তবে বৈশ্বিক বাজারে মূল্যবৃদ্ধি ও সরবরাহ ঝুঁকি দীর্ঘায়িত হলে দেশের জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় চাপ বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। যদিও অস্থিরতার মধ্যেও চট্টগ্রাম বন্দরে ডিজেল আমদানি অব্যাহত রয়েছে। মালয়েশিয়া থেকে ৩০ হাজার টন ডিজেল নিয়ে ‘পিভিটি সোলানা’ নামের একটি জাহাজ গতকাল ভোরে বন্দরের বহিঃনোঙরে পৌঁছে। চলতি মাসে এটি ডিজেলবাহী অষ্টম জাহাজ।

বন্দর সংশ্লিষ্টদের তথ্যানুযায়ী, গত এক মাসে চট্টগ্রাম বন্দরে জ্বালানি নিয়ে মোট ৩৩টি জাহাজ ভিড়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি অনিশ্চিত থাকলেও বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি আমদানি অব্যাহত রাখার চেষ্টা চলছে। এর অংশ হিসেবে রাশিয়া থেকেও ছয় লাখ টন পরিশোধিত ডিজেল আমদানির পরিকল্পনা করা হয়েছে। ইতোমধ্যে এ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনাও হয়েছে। এদিকে দীর্ঘদিন থেকে জ্বালানি আমদানির অন্যতম নাম ভারত। কিন্তু ভারত সরকার তার দেশের জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে রফতানি শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। যে কারণে ভারত থেকে বাংলাদেশের জ্বালানি আমদানিতে অতিরিক্ত ব্যয়ের প্রভাব পড়ার শঙ্কা রয়েছে। যদিও ডিজেলের ওপর ভারতের রফতানি শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্তে বাংলাদেশের কোনো বাড়তি আর্থিক ক্ষতি হবে না বলে জানিয়েছে জ্বালানি বিভাগ। কারণ, এই চুক্তিটি সরকার-টু-সরকার (জিটুজি) ভিত্তিতে স্বাক্ষরিত হয়েছে।
জ্বালানি বিভাগ জানিয়েছে, জিটুজি চুক্তির আওতায় উভয় পক্ষই আগে থেকে নির্ধারিত শর্তাবলী মেনে চলতে বাধ্য। এই চুক্তিতে রাষ্ট্রীয় নিশ্চয়তা থাকায় কোনো পক্ষ এককভাবে এটি বাতিল বা পরিবর্তন করতে পারে না। তবে নতুন এই শুল্কের পরও বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় জ্বালানি সরবরাহ চুক্তিতে কোনো প্রভাব পড়বে না বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশের কর্মকর্তারা। দেশের বাজারে পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিতে ভারত ডিজেলে লিটারপ্রতি ২১ দশমিক ৫ রুপি এবং এভিয়েশন টারবাইন ফুয়েলের (এটিএফ) ওপর লিটারপ্রতি ২৯ দশমিক ৫ রুপি পর্যন্ত রফতানি শুল্ক আরোপ করেছে। গত ২৭ মার্চ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস. জয়শঙ্কর এ তথ্য জানান। এদিকে ভারত থেকে আমদানি না করে অন্যান্য দেশ থেকে জ্বালানি আমদানি করলে লাভ-ক্ষতির হিসাব আসলে সমান। বরং অন্যান্য দেশের থেকে সাশ্রয়ী।

এ বিষয়ে জ্বালানি বিভাগের যুগ্ম সচিব (অপারেশনস) মনির হোসেন চৌধুরী ইনকিলাবকে বলেন, আগে থেকে নির্ধারিত শর্ত অনুযায়ীই বাংলাদেশ ডিজেল পাবে। তাই রফতানি শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্তে আমাদের কোনো ক্ষতি হবে না, কারণ কেনাবেচার শর্তগুলো আগেই ঠিক করা ছিল। একই সঙ্গে নতুন কোনো শর্ত নির্ধারিত না হওয়া পর্যন্ত আগের চুক্তি অনুযায়ীই বাংলাদেশ ভারত থেকে জ্বালানি সরবরাহ পাবে। ভারত ছাড়া অন্য দেশ থেকে আমদানিতে ব্যয় কম কিনা এ বিষয়ে মনির হোসেন বলেন, আন্তর্জাতিক রেট (ফ্ল্যাট রেট) হিসাব করে দু’দিন আগে পরের দাম সমন্বয় করে জ্বালানি আমদানি করা হয়। দামের ক্ষেত্রে কোন পার্থক্য নেই যে দেশ থেকেই আমদানি করা হোক না কেন। তবে ভারত প্রতিবেশী দেশ হওয়ায় যাতায়াত ভাড়াসহ প্রিমিয়াম কস্ট কম হওয়ায় আমদানির ক্ষেত্রে দেশটি সাশ্রয়ী বলে উল্লেখ করেন তিনি। তিনি বলেন, জ্বালানির মজুদ নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কারণ নেই; দেশে তেলের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। আমরা ক্লিয়ার নির্দেশনা দিয়েছি কৃষিখাতকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ও ইউএনওর মাধ্যমে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে কৃষকরা যাতে ডিজেল পায় সে চেষ্টা করছি।

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি) এবং ভারতের নুমালিগড় রিফাইনারি লিমিটেডের মধ্যকার দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি অনুযায়ী, ভারত ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে (জানুয়ারি-জুন) ভারত-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ পাইপলাইনের মাধ্যমে ১ লাখ ৮০ হাজার টন পর্যন্ত ডিজেল সরবরাহ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। কর্মকর্তাদের মতে, এর মধ্যে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টন সরবরাহের বিষয়টি ইতিমধ্যেই নিশ্চিত করা হয়েছে। বাংলাদেশ প্রতি মাসে গড়ে ১৫ হাজার থেকে ২০ হাজার টন ডিজেল ভারত থেকে আমদানি করে। চলমান জ্বালানি সংকটের মধ্যে বাংলাদেশ ভারতকে চুক্তিতে উল্লেখিত ১ লাখ ৮০ হাজার টনের সীমার ভেতর থেকেই অতিরিক্ত আরও ৬০ হাজার টন ডিজেল সরবরাহের অনুরোধ জানিয়েছে।

সূত্র মতে, আমদানি অব্যাহত রেখে বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছে। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) জানিয়েছে, পানামার পতাকাবাহী জাহাজটি গতকাল ভোর রাত ৩টার দিকে চট্টগ্রাম বন্দরের পানিসীমায় পৌঁছায়। বিপিসির মহাব্যবস্থাপক (বাণিজ্য) মোরশেদ হোসেন আজাদ বলেন, জাহাজটি থেকে লাইটারিংয়ের মাধ্যমে অথবা প্রয়োজন হলে ডলফিন জেটিতে সরাসরি বার্থিং করে জ্বালানি তেল খালাস করা হতে পারে। বিপিসি সূত্রে জানা গেছে, আগামী ৩ এপ্রিল প্রায় একই পরিমাণ ডিজেল নিয়ে আরো একটি জাহাজ বন্দরে ভেড়ার কথা রয়েছে। পাশাপাশি ৪ এপ্রিল প্রায় ৭০ হাজার টন এলএনজি বহনকারী আরেকটি জাহাজ চট্টগ্রামে পৌঁছাতে পারে। এদিকে যুদ্ধের কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়া নিয়ে জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ (টুকু) গত সোমবার সংসদে বলেন, এক মাসে বিশ্ববাজারে ডিজেলের দাম বেড়েছে ৯৮ শতাংশ। প্রতি লিটার ডিজেল আমদানিতে এখন খরচ হচ্ছে ১৯৮ টাকা। ১২০ টাকায় অকটেন বিক্রি করলেও সরকারের খরচ হচ্ছে ১৫০ টাকা ৭২ পয়সা। জ্বালানি তেলের দাম যুদ্ধের আগের ব্যারেলপ্রতি ৬৭ ডলার থেকে বেড়ে বর্তমানে ১১৫ ডলারে উঠেছে। আর প্রতি এমএমবিটিইউ এলএনজির দাম ১০-১২ ডলার থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ডাবল হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে এলএনজি ও জ্বালানি তেল কিনতে বাংলাদেশকে বাড়তি অর্থ ব্যয় করতে হলেও সরকার ভর্তুকি দিয়েও যাচ্ছে। বিপিসি সূত্র বলছে, বর্তমানে প্রতি লিটার ডিজেল বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকায়। বর্তমান আমদানি মূল্যের সঙ্গে সমন্বয় করা হলে ডিজেলের দাম হবে প্রায় ২০০ টাকা। দাম না বাড়ানোয় এক মাসেই পাঁচ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দিতে হবে সরকারকে।

সূত্র মতে, যুদ্ধের অস্থিরতায় জ্বালানির দাম বেড়ে দ্বিগুণ হয়েছে। এশিয়ার প্রতিবেশী দেশগুলো জ্বালানির দাম বাড়ালেও বাংলাদেশ এখনও বাড়ায়নি। প্রধানমন্ত্রীর চেষ্টায় টানা দ্বিতীয় মাসের মতো জ্বালানি তেলের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। তাই এপ্রিলেও জ্বালানি তেলের দাম বাড়ছে না। আগের দামেই বিক্রি হবে পেট্রল, অকটেন, ডিজেল, কেরোসিন। গতকাল মঙ্গলবার বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক অফিস আদেশে সরকারের এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়, ভোক্তা পর্যায়ে প্রতি লিটার ডিজেলের দাম এপ্রিলে প্রতি লিটার ১০০ টাকা করা হয়েছে। কেরোসিনের দাম প্রতি লিটার ১১২ টাকা, পেট্রলের দাম প্রতি লিটার ১১৬ আর অকটেনের দাম ১২০ টাকা করা হয়েছে। ফেব্রুয়ারি ও মার্চে এ দামেই বিক্রি হয়েছে জ্বালানি তেল। এর আগে জানুয়ারিতে প্রতি লিটারে ২ টাকা ও ফেব্রুয়ারিতে আরও ২ টাকা করে কমানো হয়েছিল জ্বালানি তেলের দাম। ২০২৪ সালের মার্চ থেকে বিশ্ববাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে জ্বালানি তেলের স্বয়ংক্রিয় মূল্য নির্ধারণ শুরু করে সরকার। সে হিসাবে আগের মাসে আমদানি করা জ্বালানি তেলের খরচ বিবেচনায় নিয়ে প্রতি মাসে নতুন দাম সমন্বয় করা হয়। এ বিষয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেছেন, চাহিদা অনুযায়ী দেশে এপ্রিল মাস পর্যন্ত জ্বালানি তেলের মজুত আছে। একই সঙ্গে তেলের দাম আপাতত বাড়ছে না বলে জানিয়েছেন তিনি। অবশ্য জ্বালানির দাম বৃদ্ধি না করে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে আগামী জুন পর্যন্তই সরকারের প্রয়োজন হবে বাড়তি ৩ বিলিয়ন ডলার। এ অর্থ জোগাড় করতে সরকার আইএমএফসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা থেকে ঋণ সংগ্রহের চেষ্টা শুরু করেছে।

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) তথ্যানুসারে, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ৬৫ লাখ ৬৩ হাজার টন পরিশোধিত এবং ১৪ লাখ টন অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানির প্রাক্কলন রয়েছে। এ পরিমাণ জ্বালানি তেল আমদানিতে সংস্থাটির ব্যয় হবে ৯১ হাজার ২৯৬ কোটি টাকা। পেট্রোবাংলার তথ্যানুসারে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দীর্ঘমেয়াদি ও স্পট মার্কেট থেকে ১১৫ কার্গো এলএনজি আমদানির পরিকল্পনা রয়েছে। এ পরিমাণ কার্গো আমদানিতে ব্যয় প্রাক্কলন করা হয়েছে ৫১ হাজার ৫৪০ কোটি টাকা।

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে বিশ্ববাজারে এলএনজি ও জ্বালানি তেলের দামে বড় ধরনের উল্লম্ফন হয়েছে। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর এরই মধ্যে দ্বিগুণ দামে কয়েক কার্গো এলএনজি কিনতে হয়েছে বাংলাদেশকে।
এদিকে জ্বালানির বাড়তি দামের কারণে কী পরিমাণ অতিরিক্ত অর্থ প্রয়োজন হতে পারে, সে বিষয়ে একটি প্রাথমিক মূল্যায়ন করেছে অর্থ বিভাগ। এক্ষেত্রে চলতি অর্থবছরের বাকি সময়ে অর্থাৎ আগামী জুন পর্যন্ত ৩ বিলিয়ন ডলারের মতো অতিরিক্ত অর্থ প্রয়োজন হবে। এ বিষয়ে অর্থ বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, এরই মধ্যে চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেট বরাদ্দ দেয়া হয়ে গেছে। অপ্রতুল রাজস্ব আয়ের কারণে সরকারের পক্ষে বাড়তি অর্থ ব্যয় করার সুযোগ সীমিত। তাছাড়া জ্বালানি কেনার অর্থ পরিশোধ করতে হয় বৈদেশিক মুদ্রায়। সবদিক বিবেচনায় আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর কাছ থেকে ঋণ নেয়া ছাড়া অন্য কোনো উপায় নেই। কেননা নিজেদের অর্থে জ্বালানির বাড়তি ব্যয় মেটাতে গেলে রিজার্ভ উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কমে যাবে। এক্ষেত্রে আইএমএফের কাছ থেকে দেড় বিলিয়ন ডলারের মতো সহায়তা প্রত্যাশা করছে সরকার। তাছাড়া এডিবির কাছ থেকে বাড়তি ২৫ কোটি ডলার এরই মধ্যে বাজেট সহায়তা হিসেবে চাওয়া হয়েছে। বিশ্বব্যাংক ও এআইআইবির কাছেও বাজেট সহায়তা চাওয়া হবে।এপ্রিলের মাঝামাঝি বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের বসন্তকালীন অধিবেশনে এ বিষয়ে সংস্থা দুটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী কথা বলবেন বলে জানা গেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান সাংবাদিকের জানিয়েছেন, আমরা ২ বিলিয়ন ডলারের একটা বিওপি সাপোর্ট চেষ্টা করব। গভর্নর বলেন, এটা নিয়ে আমরা আলোচনা করছি। খুবই প্রাথমিক পর্যায়ে। অ্যাডিশনাল এ পরিমাণ ব্যালান্স অব পেমেন্টের জন্য। যাদের সঙ্গেই আলোচনা হয় তারাও দেখতে চায় যে কী হয়। সাপোর্টের উৎস প্রসঙ্গে গভর্নর বলেন, মূলত আইএমএফকেও বলেছি। ইআরডি আরো চেষ্টা করছে কয়েকটা সোর্স থেকে অ্যাডিশনাল কিছু পাওয়া যায় কিনা।

বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধকে কেন্দ্র করে জ্বালানি সরবরাহের ক্ষেত্রে যে বৈশ্বিক সংকট তৈরি হয়েছে, তাতে বিশ্বের অনেক দেশই আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর কাছে ঋণ চাইবে। ফলে ঋণ সংগ্রহে বাংলাদেশকে প্রতিযোগিতার মুখে পড়তে হবে। এজন্য তাদের কাছ থেকে অর্থায়ন নিতে হলে পর্যাপ্ত প্রস্তুতির দরকার আছে। তিনি বলেন, ইতোমধ্যে যুদ্ধের কারণে যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, সেটির প্রভাব দীর্ঘদিন থাকবে। সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে এর প্রভাব আরো তীব্র হবে।
সূত্র মতে, বাংলাদেশ প্রতি বছর প্রায় ১২ বিলিয়ন ডলারের জ্বালানি আমদানি করে থাকে। এর মধ্যে এলএনজি, পরিশোধিত ও অপরিশোধিত তেল, এলপিজি ও কয়লা রয়েছে।

এ বিষয়ে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো প্রফেসর ড. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, জ্বালানির জন্য বাড়তি যে ব্যয় হবে, সেজন্য যাতে বৈদেশিক মুদ্রার ওপর বেশি চাপ না পড়ে সে কারণে আমাদের অতিরিক্ত উৎস খোঁজাটাই ভালো।

উল্লেখ্য, দেশে ডিজেল, অকটেন, পেট্রল ও জেট ফুয়েলের মজুদ রয়েছে ১ লাখ ৯২ হাজার টনের কিছু বেশি। গতকাল পর্যন্ত দেশে ডিজেলের মজুদ রয়েছে ১ লাখ ২৮ হাজার ৯৩৯ টন, অকটেন ৭ হাজার ৯৪০ টন, পেট্রল ১১ হাজার ৪৩১ টন এবং বিমানের জ্বালানি জেট ফুয়েলের মজুদ রয়েছে ৪৪ হাজার ৬০৯ টন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রধানমন্ত্রীর প্রচেষ্টায় দেশে স্থিতিশীলতা

আপডেট টাইম : ১০:০৫:৪২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১ এপ্রিল ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের প্রভাবে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ বিপর্যস্ত। তবে বাংলাদেশে এখনও দু’একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের মানুষকে কষ্ট না দিয়ে আমদানি অব্যাহত রেখে বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি নির্দেশনায় বেশ কিছু পদক্ষেপও নেওয়া হয়েছে। এর আওতায় সারা দেশে অবৈধ মজুদের বিরুদ্ধে পরিচালিত হচ্ছে অভিযান। আর তাই এখনো সরকার বাড়ায়নি জ্বালানির দাম। তবে বৈশ্বিক বাজারে মূল্যবৃদ্ধি ও সরবরাহ ঝুঁকি দীর্ঘায়িত হলে দেশের জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় চাপ বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। যদিও অস্থিরতার মধ্যেও চট্টগ্রাম বন্দরে ডিজেল আমদানি অব্যাহত রয়েছে। মালয়েশিয়া থেকে ৩০ হাজার টন ডিজেল নিয়ে ‘পিভিটি সোলানা’ নামের একটি জাহাজ গতকাল ভোরে বন্দরের বহিঃনোঙরে পৌঁছে। চলতি মাসে এটি ডিজেলবাহী অষ্টম জাহাজ।

বন্দর সংশ্লিষ্টদের তথ্যানুযায়ী, গত এক মাসে চট্টগ্রাম বন্দরে জ্বালানি নিয়ে মোট ৩৩টি জাহাজ ভিড়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি অনিশ্চিত থাকলেও বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি আমদানি অব্যাহত রাখার চেষ্টা চলছে। এর অংশ হিসেবে রাশিয়া থেকেও ছয় লাখ টন পরিশোধিত ডিজেল আমদানির পরিকল্পনা করা হয়েছে। ইতোমধ্যে এ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনাও হয়েছে। এদিকে দীর্ঘদিন থেকে জ্বালানি আমদানির অন্যতম নাম ভারত। কিন্তু ভারত সরকার তার দেশের জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে রফতানি শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। যে কারণে ভারত থেকে বাংলাদেশের জ্বালানি আমদানিতে অতিরিক্ত ব্যয়ের প্রভাব পড়ার শঙ্কা রয়েছে। যদিও ডিজেলের ওপর ভারতের রফতানি শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্তে বাংলাদেশের কোনো বাড়তি আর্থিক ক্ষতি হবে না বলে জানিয়েছে জ্বালানি বিভাগ। কারণ, এই চুক্তিটি সরকার-টু-সরকার (জিটুজি) ভিত্তিতে স্বাক্ষরিত হয়েছে।
জ্বালানি বিভাগ জানিয়েছে, জিটুজি চুক্তির আওতায় উভয় পক্ষই আগে থেকে নির্ধারিত শর্তাবলী মেনে চলতে বাধ্য। এই চুক্তিতে রাষ্ট্রীয় নিশ্চয়তা থাকায় কোনো পক্ষ এককভাবে এটি বাতিল বা পরিবর্তন করতে পারে না। তবে নতুন এই শুল্কের পরও বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় জ্বালানি সরবরাহ চুক্তিতে কোনো প্রভাব পড়বে না বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশের কর্মকর্তারা। দেশের বাজারে পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিতে ভারত ডিজেলে লিটারপ্রতি ২১ দশমিক ৫ রুপি এবং এভিয়েশন টারবাইন ফুয়েলের (এটিএফ) ওপর লিটারপ্রতি ২৯ দশমিক ৫ রুপি পর্যন্ত রফতানি শুল্ক আরোপ করেছে। গত ২৭ মার্চ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস. জয়শঙ্কর এ তথ্য জানান। এদিকে ভারত থেকে আমদানি না করে অন্যান্য দেশ থেকে জ্বালানি আমদানি করলে লাভ-ক্ষতির হিসাব আসলে সমান। বরং অন্যান্য দেশের থেকে সাশ্রয়ী।

এ বিষয়ে জ্বালানি বিভাগের যুগ্ম সচিব (অপারেশনস) মনির হোসেন চৌধুরী ইনকিলাবকে বলেন, আগে থেকে নির্ধারিত শর্ত অনুযায়ীই বাংলাদেশ ডিজেল পাবে। তাই রফতানি শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্তে আমাদের কোনো ক্ষতি হবে না, কারণ কেনাবেচার শর্তগুলো আগেই ঠিক করা ছিল। একই সঙ্গে নতুন কোনো শর্ত নির্ধারিত না হওয়া পর্যন্ত আগের চুক্তি অনুযায়ীই বাংলাদেশ ভারত থেকে জ্বালানি সরবরাহ পাবে। ভারত ছাড়া অন্য দেশ থেকে আমদানিতে ব্যয় কম কিনা এ বিষয়ে মনির হোসেন বলেন, আন্তর্জাতিক রেট (ফ্ল্যাট রেট) হিসাব করে দু’দিন আগে পরের দাম সমন্বয় করে জ্বালানি আমদানি করা হয়। দামের ক্ষেত্রে কোন পার্থক্য নেই যে দেশ থেকেই আমদানি করা হোক না কেন। তবে ভারত প্রতিবেশী দেশ হওয়ায় যাতায়াত ভাড়াসহ প্রিমিয়াম কস্ট কম হওয়ায় আমদানির ক্ষেত্রে দেশটি সাশ্রয়ী বলে উল্লেখ করেন তিনি। তিনি বলেন, জ্বালানির মজুদ নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কারণ নেই; দেশে তেলের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। আমরা ক্লিয়ার নির্দেশনা দিয়েছি কৃষিখাতকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ও ইউএনওর মাধ্যমে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে কৃষকরা যাতে ডিজেল পায় সে চেষ্টা করছি।

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি) এবং ভারতের নুমালিগড় রিফাইনারি লিমিটেডের মধ্যকার দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি অনুযায়ী, ভারত ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে (জানুয়ারি-জুন) ভারত-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ পাইপলাইনের মাধ্যমে ১ লাখ ৮০ হাজার টন পর্যন্ত ডিজেল সরবরাহ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। কর্মকর্তাদের মতে, এর মধ্যে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টন সরবরাহের বিষয়টি ইতিমধ্যেই নিশ্চিত করা হয়েছে। বাংলাদেশ প্রতি মাসে গড়ে ১৫ হাজার থেকে ২০ হাজার টন ডিজেল ভারত থেকে আমদানি করে। চলমান জ্বালানি সংকটের মধ্যে বাংলাদেশ ভারতকে চুক্তিতে উল্লেখিত ১ লাখ ৮০ হাজার টনের সীমার ভেতর থেকেই অতিরিক্ত আরও ৬০ হাজার টন ডিজেল সরবরাহের অনুরোধ জানিয়েছে।

সূত্র মতে, আমদানি অব্যাহত রেখে বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছে। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) জানিয়েছে, পানামার পতাকাবাহী জাহাজটি গতকাল ভোর রাত ৩টার দিকে চট্টগ্রাম বন্দরের পানিসীমায় পৌঁছায়। বিপিসির মহাব্যবস্থাপক (বাণিজ্য) মোরশেদ হোসেন আজাদ বলেন, জাহাজটি থেকে লাইটারিংয়ের মাধ্যমে অথবা প্রয়োজন হলে ডলফিন জেটিতে সরাসরি বার্থিং করে জ্বালানি তেল খালাস করা হতে পারে। বিপিসি সূত্রে জানা গেছে, আগামী ৩ এপ্রিল প্রায় একই পরিমাণ ডিজেল নিয়ে আরো একটি জাহাজ বন্দরে ভেড়ার কথা রয়েছে। পাশাপাশি ৪ এপ্রিল প্রায় ৭০ হাজার টন এলএনজি বহনকারী আরেকটি জাহাজ চট্টগ্রামে পৌঁছাতে পারে। এদিকে যুদ্ধের কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়া নিয়ে জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ (টুকু) গত সোমবার সংসদে বলেন, এক মাসে বিশ্ববাজারে ডিজেলের দাম বেড়েছে ৯৮ শতাংশ। প্রতি লিটার ডিজেল আমদানিতে এখন খরচ হচ্ছে ১৯৮ টাকা। ১২০ টাকায় অকটেন বিক্রি করলেও সরকারের খরচ হচ্ছে ১৫০ টাকা ৭২ পয়সা। জ্বালানি তেলের দাম যুদ্ধের আগের ব্যারেলপ্রতি ৬৭ ডলার থেকে বেড়ে বর্তমানে ১১৫ ডলারে উঠেছে। আর প্রতি এমএমবিটিইউ এলএনজির দাম ১০-১২ ডলার থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ডাবল হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে এলএনজি ও জ্বালানি তেল কিনতে বাংলাদেশকে বাড়তি অর্থ ব্যয় করতে হলেও সরকার ভর্তুকি দিয়েও যাচ্ছে। বিপিসি সূত্র বলছে, বর্তমানে প্রতি লিটার ডিজেল বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকায়। বর্তমান আমদানি মূল্যের সঙ্গে সমন্বয় করা হলে ডিজেলের দাম হবে প্রায় ২০০ টাকা। দাম না বাড়ানোয় এক মাসেই পাঁচ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দিতে হবে সরকারকে।

সূত্র মতে, যুদ্ধের অস্থিরতায় জ্বালানির দাম বেড়ে দ্বিগুণ হয়েছে। এশিয়ার প্রতিবেশী দেশগুলো জ্বালানির দাম বাড়ালেও বাংলাদেশ এখনও বাড়ায়নি। প্রধানমন্ত্রীর চেষ্টায় টানা দ্বিতীয় মাসের মতো জ্বালানি তেলের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। তাই এপ্রিলেও জ্বালানি তেলের দাম বাড়ছে না। আগের দামেই বিক্রি হবে পেট্রল, অকটেন, ডিজেল, কেরোসিন। গতকাল মঙ্গলবার বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক অফিস আদেশে সরকারের এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়, ভোক্তা পর্যায়ে প্রতি লিটার ডিজেলের দাম এপ্রিলে প্রতি লিটার ১০০ টাকা করা হয়েছে। কেরোসিনের দাম প্রতি লিটার ১১২ টাকা, পেট্রলের দাম প্রতি লিটার ১১৬ আর অকটেনের দাম ১২০ টাকা করা হয়েছে। ফেব্রুয়ারি ও মার্চে এ দামেই বিক্রি হয়েছে জ্বালানি তেল। এর আগে জানুয়ারিতে প্রতি লিটারে ২ টাকা ও ফেব্রুয়ারিতে আরও ২ টাকা করে কমানো হয়েছিল জ্বালানি তেলের দাম। ২০২৪ সালের মার্চ থেকে বিশ্ববাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে জ্বালানি তেলের স্বয়ংক্রিয় মূল্য নির্ধারণ শুরু করে সরকার। সে হিসাবে আগের মাসে আমদানি করা জ্বালানি তেলের খরচ বিবেচনায় নিয়ে প্রতি মাসে নতুন দাম সমন্বয় করা হয়। এ বিষয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেছেন, চাহিদা অনুযায়ী দেশে এপ্রিল মাস পর্যন্ত জ্বালানি তেলের মজুত আছে। একই সঙ্গে তেলের দাম আপাতত বাড়ছে না বলে জানিয়েছেন তিনি। অবশ্য জ্বালানির দাম বৃদ্ধি না করে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে আগামী জুন পর্যন্তই সরকারের প্রয়োজন হবে বাড়তি ৩ বিলিয়ন ডলার। এ অর্থ জোগাড় করতে সরকার আইএমএফসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা থেকে ঋণ সংগ্রহের চেষ্টা শুরু করেছে।

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) তথ্যানুসারে, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ৬৫ লাখ ৬৩ হাজার টন পরিশোধিত এবং ১৪ লাখ টন অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানির প্রাক্কলন রয়েছে। এ পরিমাণ জ্বালানি তেল আমদানিতে সংস্থাটির ব্যয় হবে ৯১ হাজার ২৯৬ কোটি টাকা। পেট্রোবাংলার তথ্যানুসারে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দীর্ঘমেয়াদি ও স্পট মার্কেট থেকে ১১৫ কার্গো এলএনজি আমদানির পরিকল্পনা রয়েছে। এ পরিমাণ কার্গো আমদানিতে ব্যয় প্রাক্কলন করা হয়েছে ৫১ হাজার ৫৪০ কোটি টাকা।

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে বিশ্ববাজারে এলএনজি ও জ্বালানি তেলের দামে বড় ধরনের উল্লম্ফন হয়েছে। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর এরই মধ্যে দ্বিগুণ দামে কয়েক কার্গো এলএনজি কিনতে হয়েছে বাংলাদেশকে।
এদিকে জ্বালানির বাড়তি দামের কারণে কী পরিমাণ অতিরিক্ত অর্থ প্রয়োজন হতে পারে, সে বিষয়ে একটি প্রাথমিক মূল্যায়ন করেছে অর্থ বিভাগ। এক্ষেত্রে চলতি অর্থবছরের বাকি সময়ে অর্থাৎ আগামী জুন পর্যন্ত ৩ বিলিয়ন ডলারের মতো অতিরিক্ত অর্থ প্রয়োজন হবে। এ বিষয়ে অর্থ বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, এরই মধ্যে চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেট বরাদ্দ দেয়া হয়ে গেছে। অপ্রতুল রাজস্ব আয়ের কারণে সরকারের পক্ষে বাড়তি অর্থ ব্যয় করার সুযোগ সীমিত। তাছাড়া জ্বালানি কেনার অর্থ পরিশোধ করতে হয় বৈদেশিক মুদ্রায়। সবদিক বিবেচনায় আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর কাছ থেকে ঋণ নেয়া ছাড়া অন্য কোনো উপায় নেই। কেননা নিজেদের অর্থে জ্বালানির বাড়তি ব্যয় মেটাতে গেলে রিজার্ভ উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কমে যাবে। এক্ষেত্রে আইএমএফের কাছ থেকে দেড় বিলিয়ন ডলারের মতো সহায়তা প্রত্যাশা করছে সরকার। তাছাড়া এডিবির কাছ থেকে বাড়তি ২৫ কোটি ডলার এরই মধ্যে বাজেট সহায়তা হিসেবে চাওয়া হয়েছে। বিশ্বব্যাংক ও এআইআইবির কাছেও বাজেট সহায়তা চাওয়া হবে।এপ্রিলের মাঝামাঝি বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের বসন্তকালীন অধিবেশনে এ বিষয়ে সংস্থা দুটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী কথা বলবেন বলে জানা গেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান সাংবাদিকের জানিয়েছেন, আমরা ২ বিলিয়ন ডলারের একটা বিওপি সাপোর্ট চেষ্টা করব। গভর্নর বলেন, এটা নিয়ে আমরা আলোচনা করছি। খুবই প্রাথমিক পর্যায়ে। অ্যাডিশনাল এ পরিমাণ ব্যালান্স অব পেমেন্টের জন্য। যাদের সঙ্গেই আলোচনা হয় তারাও দেখতে চায় যে কী হয়। সাপোর্টের উৎস প্রসঙ্গে গভর্নর বলেন, মূলত আইএমএফকেও বলেছি। ইআরডি আরো চেষ্টা করছে কয়েকটা সোর্স থেকে অ্যাডিশনাল কিছু পাওয়া যায় কিনা।

বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধকে কেন্দ্র করে জ্বালানি সরবরাহের ক্ষেত্রে যে বৈশ্বিক সংকট তৈরি হয়েছে, তাতে বিশ্বের অনেক দেশই আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর কাছে ঋণ চাইবে। ফলে ঋণ সংগ্রহে বাংলাদেশকে প্রতিযোগিতার মুখে পড়তে হবে। এজন্য তাদের কাছ থেকে অর্থায়ন নিতে হলে পর্যাপ্ত প্রস্তুতির দরকার আছে। তিনি বলেন, ইতোমধ্যে যুদ্ধের কারণে যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, সেটির প্রভাব দীর্ঘদিন থাকবে। সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে এর প্রভাব আরো তীব্র হবে।
সূত্র মতে, বাংলাদেশ প্রতি বছর প্রায় ১২ বিলিয়ন ডলারের জ্বালানি আমদানি করে থাকে। এর মধ্যে এলএনজি, পরিশোধিত ও অপরিশোধিত তেল, এলপিজি ও কয়লা রয়েছে।

এ বিষয়ে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো প্রফেসর ড. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, জ্বালানির জন্য বাড়তি যে ব্যয় হবে, সেজন্য যাতে বৈদেশিক মুদ্রার ওপর বেশি চাপ না পড়ে সে কারণে আমাদের অতিরিক্ত উৎস খোঁজাটাই ভালো।

উল্লেখ্য, দেশে ডিজেল, অকটেন, পেট্রল ও জেট ফুয়েলের মজুদ রয়েছে ১ লাখ ৯২ হাজার টনের কিছু বেশি। গতকাল পর্যন্ত দেশে ডিজেলের মজুদ রয়েছে ১ লাখ ২৮ হাজার ৯৩৯ টন, অকটেন ৭ হাজার ৯৪০ টন, পেট্রল ১১ হাজার ৪৩১ টন এবং বিমানের জ্বালানি জেট ফুয়েলের মজুদ রয়েছে ৪৪ হাজার ৬০৯ টন।