ঢাকা ১২:৪৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ ২০২৬, ৯ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
মারা গেছেন আলোচিত সেই ‌‘সিরিয়াল কিলার’ সাইকো সম্রাট গুপ্ত এবং অদৃশ্য শক্তির বিরুদ্ধে ভোট করতে হয়েছে: পানিসম্পদ মন্ত্রী মেলানিয়া ট্রাম্পের আমন্ত্রণে যুক্তরাষ্ট্রে জুবাইদা রহমান ইরান যুদ্ধে ট্রাম্পের নতি স্বীকার: ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম থেকে পিছুটান ট্রাম্পের আলোচনার দাবিকে উড়িয়ে দিল ইরান, ‘কোনো আলোচনাই হয়নি’—আরাগচি ভুয়া চিকিৎসক দিয়ে অস্ত্রোপচার, ডক্টরস কেয়ার হাসপাতাল সিলগালা গাবতলী থেকে স্মৃতিসৌধ পর্যন্ত তোরণ-পোস্টার লাগানো নিষেধ শারীরিক অবস্থার উন্নতি কথা বলতে পারছেন মির্জা আব্বাস, দোয়া চেয়েছে পরিবার অস্ট্রেলিয়ার পার্লামেন্টে তারেক রহমানকে ‌অভিনন্দন জানিয়ে প্রস্তাব উত্থাপন ৯০ টাকার তরমুজ ৬০ টাকা, তবুও মিলছে না ক্রেতা

৯০ টাকার তরমুজ ৬০ টাকা, তবুও মিলছে না ক্রেতা

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১১:১৯:১৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৩ মার্চ ২০২৬
  • ৪ বার

সদ্য শেষ হওয়া রমজান মাসের শুরুতে প্রতি কেজি তরমুজ ৯০ টাকা, পরে ৮০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। এখন তরমুজ বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকা কেজিতে। দাম বেশ কমে এলেও সেভাবে ক্রেতা পাচ্ছেন না বিক্রেতারা।

বিক্রেতারা বলছেন, রমজান মাসে বাজারে যেসব তরমুজ বিক্রি হয়েছে সেগুলো আগাম তরমুজ ছিল। বর্তমানে যেসব তরমুজ বাজারে আছে সেগুলো মূল মৌসুমের তরমুজ। মৌসুম শুরু হওয়ায় বাজারে তরমুজের দাম কমে এসেছে। কিন্তু ঈদের ছুটিতে মানুষ গ্রামের বাড়ি যাওয়ার কারণে ঢাকায় মানুষ নেই। সে কারণে তরমুজ বিক্রি হচ্ছে না।

dhakapost

তবে অনেক ক্রেতা বলছেন, রমজানে অসাধু ব্যবসায়ীরা বেশি দামে তরমুজ বিক্রি করেছে। এখন পরিপূর্ণ মৌসুম হওয়ার পরও তারা ৬০ টাকা কেজি ধরে তরমুজ বিক্রি করছে। এক একটা তরমুজ কিনতে ৪০০/৫০০ টাকা লেগে যাচ্ছে। ভরা মৌসুমেও এত বেশি দাম হওয়ার কারণেই মূলত মানুষ তরমুজ কিনছে না। দাম কমার পর কিনবে। এছাড়া কেজি হিসেবে না কিনে পিস হিসেবে আরও কম দামে তরমুজ কিনতে আগ্রহী ক্রেতারা।

রাজধানীর মালিবাগ এলাকার তরমুজ বিক্রেতা খোরশেদ আলম বলেন, রমজান মাসে আগাম ফলনের তরমুজ বাজারে ছিল, যে কারণে দাম বেশি ছিল। এখন তরমুজের ভরা মৌসুম শুরু হচ্ছে যে কারণে দাম কমে প্রতি কেজি ৬০ টাকা হয়েছে। ঈদের সময় অনেক মাল বিক্রি হবে এমন আশা করে তরমুজ এনেছিলাম, দামও কমেছে, তবুও বিক্রি হচ্ছে না। পাবলিক আরও কম দামে তরমুজ চায়, সে কারণেই তারা কিনছে না। আসলে যখন যেই দামে আমরা কিনতে পারবো তখন তেমন দামেই তো আমাদের বিক্রি করতে হবে।

dhakapost

গুলশান-বাড্ডা লিংক রোডের তরমুজ বিক্রেতা হাবিবুর রহমান বলেন, ঈদের দুই দিন আগে এক পিকআপ তরমুজ নামিয়েছি। ভেবেছিলাম ঈদে খুব বিক্রি হবে কিন্তু সেভাবে বিক্রি হলো না। দাম শুনে ক্রেতারা বলছে এখনও এত দাম? আসলে আমরা তো আর দাম নির্ধারণ করি না। যেমন দামে পাইকারি বাজারে কেনা পড়ে সামান্য লাভে ছেড়ে দিই। তবুও সেভাবে তরমুজের ক্রেতা পাওয়া যাচ্ছে না।

তিনি আরও বলেন, কয়েকদিন আগে ৯০ টাকা কেজি তরমুজ বিক্রি করেছি। এখন দাম কমলেও তখনকার মতো তরমুজ বিক্রি করতে পারছি না। এর কারণ হতে পারে রমজানে মানুষ তরমুজ কিনে খেয়েছে, এখন খাচ্ছে না। আরও দাম কমলে হয়ত বিক্রি বাড়বে। আরেকটা কারণ ঈদের ছুটিতে সবাই বাড়ি গেছে, ঢাকা ফাঁকা হয়ে আছে। ছুটি শেষে মানুষ ঢাকায় ফিরলে তখন আবার বিক্রি বাড়তে পারে। তবে এখন বিক্রি নেই বললেই চলে।

dhakapost

রাজধানীর শান্তিনগর এলাকা থেকে একটি তরমুজ কিনেছেন আব্দুর রহমান নামে একজন। তিনি বলেন, তরমুজের মৌসুম হওয়ার পরও এখনও ৬০ টাকা কেজি তরমুজ। দাম বেশি হওয়ার কারণেই হয়ত মানুষ তরমুজ কিনছে না। আমিও কিনতাম না, কিনেছি এক আত্মীয়র বাসায় নিয়ে যাওয়ার জন্য। অসাধু ব্যবসায়ীরা এভাবে দাম বাড়িয়ে বিক্রি করলে সাধারণ মানুষ তরমুজ না কিনে এভাবেই তাদের উচিত শিক্ষা দেওয়া উচিত।

একই এলাকার আরেকটি দোকানে তরমুজের দরদাম করা আরেক ক্রেতা মোজাম্মেল হক বলেন, রমজান মাসেও মানুষকে জিম্মি করে তরমুজ বিক্রেতারা চড়া দামে তরমুজ বিক্রি করেছে। এখন তরমুজের মৌসুমে এসেও তারা ফের বেশি দামে এবং কেজি হিসেবে তরমুজ বিক্রি করছে। মৌসুমে এসেও তারা ৬০ টাকা কেজিতে তরমুজ বিক্রি করছে। দাম না কমালে আমাদের মতো ক্রেতাদের উচিত তরমুজ না কেনা। যখন তারা দাম কমাবে, কেজি হিসেবে বিক্রি ছাড়া যখন পিস হিসেবে তুলনামূলক দাম কমাবে তখন তরমুজ কিনবো।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

মারা গেছেন আলোচিত সেই ‌‘সিরিয়াল কিলার’ সাইকো সম্রাট

৯০ টাকার তরমুজ ৬০ টাকা, তবুও মিলছে না ক্রেতা

আপডেট টাইম : ১১:১৯:১৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৩ মার্চ ২০২৬

সদ্য শেষ হওয়া রমজান মাসের শুরুতে প্রতি কেজি তরমুজ ৯০ টাকা, পরে ৮০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। এখন তরমুজ বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকা কেজিতে। দাম বেশ কমে এলেও সেভাবে ক্রেতা পাচ্ছেন না বিক্রেতারা।

বিক্রেতারা বলছেন, রমজান মাসে বাজারে যেসব তরমুজ বিক্রি হয়েছে সেগুলো আগাম তরমুজ ছিল। বর্তমানে যেসব তরমুজ বাজারে আছে সেগুলো মূল মৌসুমের তরমুজ। মৌসুম শুরু হওয়ায় বাজারে তরমুজের দাম কমে এসেছে। কিন্তু ঈদের ছুটিতে মানুষ গ্রামের বাড়ি যাওয়ার কারণে ঢাকায় মানুষ নেই। সে কারণে তরমুজ বিক্রি হচ্ছে না।

dhakapost

তবে অনেক ক্রেতা বলছেন, রমজানে অসাধু ব্যবসায়ীরা বেশি দামে তরমুজ বিক্রি করেছে। এখন পরিপূর্ণ মৌসুম হওয়ার পরও তারা ৬০ টাকা কেজি ধরে তরমুজ বিক্রি করছে। এক একটা তরমুজ কিনতে ৪০০/৫০০ টাকা লেগে যাচ্ছে। ভরা মৌসুমেও এত বেশি দাম হওয়ার কারণেই মূলত মানুষ তরমুজ কিনছে না। দাম কমার পর কিনবে। এছাড়া কেজি হিসেবে না কিনে পিস হিসেবে আরও কম দামে তরমুজ কিনতে আগ্রহী ক্রেতারা।

রাজধানীর মালিবাগ এলাকার তরমুজ বিক্রেতা খোরশেদ আলম বলেন, রমজান মাসে আগাম ফলনের তরমুজ বাজারে ছিল, যে কারণে দাম বেশি ছিল। এখন তরমুজের ভরা মৌসুম শুরু হচ্ছে যে কারণে দাম কমে প্রতি কেজি ৬০ টাকা হয়েছে। ঈদের সময় অনেক মাল বিক্রি হবে এমন আশা করে তরমুজ এনেছিলাম, দামও কমেছে, তবুও বিক্রি হচ্ছে না। পাবলিক আরও কম দামে তরমুজ চায়, সে কারণেই তারা কিনছে না। আসলে যখন যেই দামে আমরা কিনতে পারবো তখন তেমন দামেই তো আমাদের বিক্রি করতে হবে।

dhakapost

গুলশান-বাড্ডা লিংক রোডের তরমুজ বিক্রেতা হাবিবুর রহমান বলেন, ঈদের দুই দিন আগে এক পিকআপ তরমুজ নামিয়েছি। ভেবেছিলাম ঈদে খুব বিক্রি হবে কিন্তু সেভাবে বিক্রি হলো না। দাম শুনে ক্রেতারা বলছে এখনও এত দাম? আসলে আমরা তো আর দাম নির্ধারণ করি না। যেমন দামে পাইকারি বাজারে কেনা পড়ে সামান্য লাভে ছেড়ে দিই। তবুও সেভাবে তরমুজের ক্রেতা পাওয়া যাচ্ছে না।

তিনি আরও বলেন, কয়েকদিন আগে ৯০ টাকা কেজি তরমুজ বিক্রি করেছি। এখন দাম কমলেও তখনকার মতো তরমুজ বিক্রি করতে পারছি না। এর কারণ হতে পারে রমজানে মানুষ তরমুজ কিনে খেয়েছে, এখন খাচ্ছে না। আরও দাম কমলে হয়ত বিক্রি বাড়বে। আরেকটা কারণ ঈদের ছুটিতে সবাই বাড়ি গেছে, ঢাকা ফাঁকা হয়ে আছে। ছুটি শেষে মানুষ ঢাকায় ফিরলে তখন আবার বিক্রি বাড়তে পারে। তবে এখন বিক্রি নেই বললেই চলে।

dhakapost

রাজধানীর শান্তিনগর এলাকা থেকে একটি তরমুজ কিনেছেন আব্দুর রহমান নামে একজন। তিনি বলেন, তরমুজের মৌসুম হওয়ার পরও এখনও ৬০ টাকা কেজি তরমুজ। দাম বেশি হওয়ার কারণেই হয়ত মানুষ তরমুজ কিনছে না। আমিও কিনতাম না, কিনেছি এক আত্মীয়র বাসায় নিয়ে যাওয়ার জন্য। অসাধু ব্যবসায়ীরা এভাবে দাম বাড়িয়ে বিক্রি করলে সাধারণ মানুষ তরমুজ না কিনে এভাবেই তাদের উচিত শিক্ষা দেওয়া উচিত।

একই এলাকার আরেকটি দোকানে তরমুজের দরদাম করা আরেক ক্রেতা মোজাম্মেল হক বলেন, রমজান মাসেও মানুষকে জিম্মি করে তরমুজ বিক্রেতারা চড়া দামে তরমুজ বিক্রি করেছে। এখন তরমুজের মৌসুমে এসেও তারা ফের বেশি দামে এবং কেজি হিসেবে তরমুজ বিক্রি করছে। মৌসুমে এসেও তারা ৬০ টাকা কেজিতে তরমুজ বিক্রি করছে। দাম না কমালে আমাদের মতো ক্রেতাদের উচিত তরমুজ না কেনা। যখন তারা দাম কমাবে, কেজি হিসেবে বিক্রি ছাড়া যখন পিস হিসেবে তুলনামূলক দাম কমাবে তখন তরমুজ কিনবো।