ঢাকা ০১:০৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৩ মার্চ ২০২৬, ৯ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ইরান যুদ্ধের প্রভাবে এশিয়ার শেয়ারবাজারে ধস

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১২:১৭:০৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৩ মার্চ ২০২৬
  • ২ বার

ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কড়া আলটিমেটামের জেরে এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের শেয়ারবাজারগুলোতে বড় ধরনের পতন দেখা দিয়েছে। ইরান হরমুজ প্রণালি খুলে না দিলে দেশটির জ্বালানি অবকাঠামো ধ্বংস করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ট্রাম্প, যার প্রভাব সরাসরি পড়েছে বিনিয়োগকারীদের আস্থায়।

সোমবার দিনের শুরুতেই জাপানের নিক্কেই ২২৫ সূচক প্রায় ৪ শতাংশ এবং দক্ষিণ কোরিয়ার কোসপি সূচক প্রায় ৪ দশমিক ৫ শতাংশ পড়ে যায়। হংকংয়ের হ্যাংসেং সূচক কমেছে প্রায় ২ শতাংশ। এছাড়া অস্ট্রেলিয়ার এএসএক্স ২০০ সূচক ১ দশমিক ৬ শতাংশ এবং নিউজিল্যান্ডের এনজেডএক্স ৫০ সূচক ১ দশমিক ৩ শতাংশ নিম্নমুখী হয়েছে। ওয়াল স্ট্রিটের ফিউচার লেনদেনেও নেতিবাচক প্রবণতা দেখা গেছে। এসঅ্যান্ডপি ৫০০ ও নাসডাক কম্পোজিট সূচকের ফিউচার প্রায় শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ করে কমেছে।

এদিকে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কায় তেলের বাজারে অস্থিরতা বাড়ছে। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুডের দাম একপর্যায়ে ব্যারেলপ্রতি ১১৪ ডলার ছাড়িয়ে গেলেও পরে তা কমে প্রায় ১১২ ডলারে নেমে আসে। ট্রাম্প শনিবার সতর্ক করে বলেন, ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ইরান হরমুজ প্রণালিতে কার্যত অবরোধ তুলে না নিলে দেশটির বিদ্যুৎকেন্দ্র ধ্বংস করে দেওয়া হবে। বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাস রপ্তানির বড় একটি অংশ এই প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়।

অন্যদিকে, তেহরানও পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালালে তারা পুরো প্রণালি বন্ধ করে দেবে এবং অঞ্চলের জ্বালানি ও পানি অবকাঠামোতে প্রতিশোধমূলক আঘাত হানবে। বর্তমানে সীমিত সংখ্যক চীন, ভারত ও পাকিস্তানের পতাকাবাহী জাহাজ প্রণালিটি ব্যবহার করছে। ট্রাম্পের এই আলটিমেটামের সময়সীমা সোমবার রাত ২৩টা ৪৪ মিনিট (জিএমটি) পর্যন্ত নির্ধারিত রয়েছে। এর ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট আরও গভীর হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলার মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া এই সংঘাতে ইতোমধ্যে তেলের দাম ৫০ শতাংশের বেশি বেড়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালি দীর্ঘসময় বন্ধ থাকলে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১৫০ থেকে ২০০ ডলার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।

রবিবার ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের সঙ্গে ফোনালাপে ট্রাম্প মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন। উভয় নেতা একমত হয়েছেন যে, বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে হরমুজ প্রণালি চালু রাখা অত্যন্ত জরুরি। তবে যুদ্ধের লক্ষ্য ও সময়কাল নিয়ে ট্রাম্পের অবস্থান কিছুটা অস্পষ্ট। আলটিমেটাম দেওয়ার কয়েক ঘণ্টা আগেই তিনি বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র তাদের লক্ষ্য অর্জনের খুব কাছাকাছি এবং সামরিক অভিযান কমিয়ে আনার কথাও বিবেচনা করছে। অন্যদিকে, ইসরায়েলের সামরিক মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট কর্নেল নাদাভ শোশানি জানিয়েছেন, আরও অন্তত তিন সপ্তাহ যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরান যুদ্ধের প্রভাবে এশিয়ার শেয়ারবাজারে ধস

আপডেট টাইম : ১২:১৭:০৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৩ মার্চ ২০২৬

ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কড়া আলটিমেটামের জেরে এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের শেয়ারবাজারগুলোতে বড় ধরনের পতন দেখা দিয়েছে। ইরান হরমুজ প্রণালি খুলে না দিলে দেশটির জ্বালানি অবকাঠামো ধ্বংস করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ট্রাম্প, যার প্রভাব সরাসরি পড়েছে বিনিয়োগকারীদের আস্থায়।

সোমবার দিনের শুরুতেই জাপানের নিক্কেই ২২৫ সূচক প্রায় ৪ শতাংশ এবং দক্ষিণ কোরিয়ার কোসপি সূচক প্রায় ৪ দশমিক ৫ শতাংশ পড়ে যায়। হংকংয়ের হ্যাংসেং সূচক কমেছে প্রায় ২ শতাংশ। এছাড়া অস্ট্রেলিয়ার এএসএক্স ২০০ সূচক ১ দশমিক ৬ শতাংশ এবং নিউজিল্যান্ডের এনজেডএক্স ৫০ সূচক ১ দশমিক ৩ শতাংশ নিম্নমুখী হয়েছে। ওয়াল স্ট্রিটের ফিউচার লেনদেনেও নেতিবাচক প্রবণতা দেখা গেছে। এসঅ্যান্ডপি ৫০০ ও নাসডাক কম্পোজিট সূচকের ফিউচার প্রায় শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ করে কমেছে।

এদিকে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কায় তেলের বাজারে অস্থিরতা বাড়ছে। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুডের দাম একপর্যায়ে ব্যারেলপ্রতি ১১৪ ডলার ছাড়িয়ে গেলেও পরে তা কমে প্রায় ১১২ ডলারে নেমে আসে। ট্রাম্প শনিবার সতর্ক করে বলেন, ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ইরান হরমুজ প্রণালিতে কার্যত অবরোধ তুলে না নিলে দেশটির বিদ্যুৎকেন্দ্র ধ্বংস করে দেওয়া হবে। বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাস রপ্তানির বড় একটি অংশ এই প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়।

অন্যদিকে, তেহরানও পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালালে তারা পুরো প্রণালি বন্ধ করে দেবে এবং অঞ্চলের জ্বালানি ও পানি অবকাঠামোতে প্রতিশোধমূলক আঘাত হানবে। বর্তমানে সীমিত সংখ্যক চীন, ভারত ও পাকিস্তানের পতাকাবাহী জাহাজ প্রণালিটি ব্যবহার করছে। ট্রাম্পের এই আলটিমেটামের সময়সীমা সোমবার রাত ২৩টা ৪৪ মিনিট (জিএমটি) পর্যন্ত নির্ধারিত রয়েছে। এর ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট আরও গভীর হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলার মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া এই সংঘাতে ইতোমধ্যে তেলের দাম ৫০ শতাংশের বেশি বেড়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালি দীর্ঘসময় বন্ধ থাকলে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১৫০ থেকে ২০০ ডলার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।

রবিবার ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের সঙ্গে ফোনালাপে ট্রাম্প মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন। উভয় নেতা একমত হয়েছেন যে, বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে হরমুজ প্রণালি চালু রাখা অত্যন্ত জরুরি। তবে যুদ্ধের লক্ষ্য ও সময়কাল নিয়ে ট্রাম্পের অবস্থান কিছুটা অস্পষ্ট। আলটিমেটাম দেওয়ার কয়েক ঘণ্টা আগেই তিনি বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র তাদের লক্ষ্য অর্জনের খুব কাছাকাছি এবং সামরিক অভিযান কমিয়ে আনার কথাও বিবেচনা করছে। অন্যদিকে, ইসরায়েলের সামরিক মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট কর্নেল নাদাভ শোশানি জানিয়েছেন, আরও অন্তত তিন সপ্তাহ যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের।