কিশোরগঞ্জ জেলার স্বাস্থ্যখাতসহ সার্বিক উন্নয়নে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম। তিনি বলেছেন, নানা সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও জেলার প্রতিটি উপজেলার মানুষের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সোমবার (৯ মার্চ) রাজধানীর রমনা পার্কে অবস্থিতমি মি.কুক রেস্টুরেন্ট এণ্ড ক্যাটারিংয়ে-এ আয়োজিত কিশোরগঞ্জ সাংবাদিক ফোরাম-ঢাকা আয়োজিত সংবর্ধনা ও ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, কিশোরগঞ্জের বিভিন্ন হাসপাতাল দীর্ঘদিন ধরে নানা সমস্যায় জর্জরিত। এসব সমস্যা চিহ্নিত করে সংশ্লিষ্ট বিভাগ ও সংসদ সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে। মানুষের দোরগোড়ায় উন্নত স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে সরকার কাজ করে যাচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেন, সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ-সহ জেলার সরকারি ও বেসরকারি স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
মো. শরীফুল আলম বলেন, সরকার একটি ন্যায়ভিত্তিক ও মানবিক রাষ্ট্র গঠনে কাজ করছে। এ লক্ষ্য অর্জনে সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে আসতে হবে। কিশোরগঞ্জকে একটি সম্ভাবনাময় জেলা হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, জেলার উন্নয়নে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, কিশোরগঞ্জে শিক্ষা ও প্রশাসনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে কর্মরত অনেক দক্ষ ব্যক্তি রয়েছেন। তাদের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে জেলার উন্নয়নে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। তিনি কিশোরগঞ্জের বিভিন্ন সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার কথাও উল্লেখ করেন এবং বলেন, জেলার মানুষ ডাকলে তিনি সবসময় পাশে থাকবেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘদিন রাজপথে আন্দোলনের মধ্য দিয়ে জনগণের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম করেছেন তিনি। নানা হামলা-মামলার মুখেও রাজনীতি থেকে পিছিয়ে যাননি। জীবনের শেষ রক্তবিন্দু দিয়েও তিনি নেতাকর্মীদের পাশে থাকবেন বলে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
তিনি বলেন, কিশোরগঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয় নামে একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হলেও এখনো এর নিজস্ব অবকাঠামো গড়ে ওঠেনি। বর্তমানে গুরুদয়াল সরকারি কলেজ-এর একটি ভবনে অস্থায়ীভাবে কার্যক্রম চলছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য দ্রুত স্থায়ী ক্যাম্পাস ও প্রয়োজনীয় অবকাঠামো গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
এ সময় তিনি বলেন, বর্তমান সরকার ২০৩৪ সালের মধ্যে দেশের অর্থনীতিকে এক ট্রিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্যে কাজ করছে। এ লক্ষ্য অর্জনে পাটখাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বন্ধ পাটকলগুলো ইজারা প্রক্রিয়ার মাধ্যমে চালু করে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা হবে বলেও জানান তিনি।
ইফতার মাহফিলের আগে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের প্রেসিডেন্ট আবু মো. ইসতিয়াক আজিজ উলফাত, তথ্য অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত প্রধান তথ্য কর্মকর্তা মো. ইয়াকুব আলী, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক প্রফেসর মো. শাহজাহান, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি ও সংগঠনের সাবেক সভাপতি সিনিয়র সাংবাদিক কুদ্দুস আফ্রাদ, সাবেক সভাপতি রাজেন্দ্র চন্দ্র দেব মন্টু এবং আজিজুল হক এরশাদসহ কিশোরগঞ্জের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কিশোরগঞ্জ সাংবাদিক ফোরাম-ঢাকার সভাপতি এরফানুল হক নাহিদ। স্বাগত বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কিরণ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সহ-সভাপতি হামিদ মোহাম্মদ জসিম। অনুষ্ঠানের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় ছিলেন মুশতাক আহম্মেদ লিটনসহ আরো কয়েকজন।
Reporter Name 























