ঢাকা ০৮:৫৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬, ২৮ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
গণমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষায় সবাইকে দায়িত্বশীল হতে হবে: মির্জা ফখরুল কিশোরগঞ্জের স্বাস্থ্যখাতসহ সার্বিক উন্নয়নে কাজ চলছে: বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম সংসদ থেকে ভালো রাজনৈতিক সংস্কৃতির চর্চা সংসদ থেকে শুরু করতে চাই : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বাড়ল দেশের রিজার্ভ দায়িত্বের বাইরে কেউ যেন মন্তব্য না করে : প্রধানমন্ত্রী সংসদে দায়িত্বশীল বিরোধী দল হিসেবে ভূমিকা পালন করতে চাই যুদ্ধের মধ্যেই সেনাদের জানাজায় লাখো ইরানির ঢল বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান ও অধিকার সবার আগে : ডিএসসিসি প্রশাসক প্রথম অধিবেশন ঘিরে অতিথিদের প্রবেশ ও গাড়ি পার্কিং নির্দেশনা ইরাকের মাটির নীচে ইরানের ‘মিসাইল সিটি’

১৮ টাকা খরচে উৎপাদিত আলু ৩ টাকায় বিক্রি, আন্দোলনে কৃষকরা

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ০৮:১৭:৩৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ মার্চ ২০২৬
  • ৫ বার
গাইবান্ধা জেলায় আলুর দামে ভয়াবহ ধস নেমেছে। প্রতি কেজি আলু উৎপাদনে কৃষকের খরচ হয়েছে ১৭ থেকে ১৮ টাকা। অথচ বর্তমানে বাজারে তা বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৩ থেকে ৪ টাকায়। এমন পরিস্থিতিতে আলুর লাভজনক দাম নিশ্চিত করা এবং সারের কালোবাজারি বন্ধের দাবিতে আন্দোলনে নেমেছেন স্থানীয় কৃষকরা।
রবিবার (৮ মার্চ) বেলা ১১টায় বাংলাদেশ ক্ষেতমজুর ও কৃষক সংগঠনের উদ্যোগে গাইবান্ধা জেলা প্রশাসক মাসুদুর রহমান মোল্লার মাধ্যমে কৃষিমন্ত্রী বরাবর একটি স্মারকলিপি দেওয়া হয়। এ সময় সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আহসানুল হাবীব সাঈদ, জেলা সভাপতি গোলাম ছাদেক লেবু, কাজী আবু রাহেন শফিউল্লাহ খোকন ও পরমানন্দ দাসসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
নেতারা বলেন, উত্তরবঙ্গের মাটি ও আবহাওয়া আলু চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী হওয়ায় এবার ফলন ভালো হয়েছে। কিন্তু ফলন ভালো হলেও কৃষক লাভের মুখ দেখছে না। আলু পচনশীল সবজি হওয়ায় কৃষক তা বেশিদিন ঘরে রাখা যায় না, দ্রুত বিক্রি করে দিতে হয়। এই সুযোগে ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট বাজারে আলুর দাম কমিয়ে দেয়।
তারা আরও বলেন, কৃষকরা কোল্ডস্টোরেজে আলু রাখার চেষ্টা করলে ব্যবসায়ী ও বড় বড় কোম্পানিগুলো স্টোর মালিকদের সাথে যোগসাজশ করে আগেই বুকিং করে রাখে। ফলে সাধারণ কৃষকরা হিমাগারে জায়গা পায় না। এতে বাধ্য হয়ে কৃষকরা কম দামে আলু বিক্রি করেন। লোকসানের মুখে অনেক কৃষক এখন আলু চাষ বাদ দিয়ে তামাক চাষের দিকে ঝুঁকছেন।
আলুর পাশাপাশি চলমান বোরো মৌসুমে সারের তীব্র সংকট ও বাড়তি দামের বিষয়টিও গুরুত্বের সাথে তুলে ধরা হয়। কৃষকদের অভিযোগ, সারের ডিলার ও ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে কৃত্রিম সংকট তৈরি করেছে। অনেক এলাকায় সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে কেজিপ্রতি আট থেকে ১০ টাকা বেশি নেওয়া হচ্ছে। প্রশাসন বিভিন্ন স্থানে নামমাত্র অভিযান পরিচালনা করলেও তা কাজে আসছে না। কালোবাজারি ও সিন্ডিকেট ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে কৃষক আরও বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
নেতারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে আমরা আশা করেছিলাম, রাষ্ট্র কৃষকের অধিকার রক্ষায় আরও বেশি মনোযোগী হবে। কিন্তু বাস্তবে কৃষক তার ফসলের ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছে এবং কৃষি উপকরণের দাম বেড়েই চলেছে।
এই সংকট নিরসনে সংগঠনের পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসকের কাছে পাঁচ দফা দাবি উত্থাপন করা হয়। জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, কৃষকদের এই দাবিগুলো দ্রুতই সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হবে।
Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

গণমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষায় সবাইকে দায়িত্বশীল হতে হবে: মির্জা ফখরুল

১৮ টাকা খরচে উৎপাদিত আলু ৩ টাকায় বিক্রি, আন্দোলনে কৃষকরা

আপডেট টাইম : ০৮:১৭:৩৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ মার্চ ২০২৬
গাইবান্ধা জেলায় আলুর দামে ভয়াবহ ধস নেমেছে। প্রতি কেজি আলু উৎপাদনে কৃষকের খরচ হয়েছে ১৭ থেকে ১৮ টাকা। অথচ বর্তমানে বাজারে তা বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৩ থেকে ৪ টাকায়। এমন পরিস্থিতিতে আলুর লাভজনক দাম নিশ্চিত করা এবং সারের কালোবাজারি বন্ধের দাবিতে আন্দোলনে নেমেছেন স্থানীয় কৃষকরা।
রবিবার (৮ মার্চ) বেলা ১১টায় বাংলাদেশ ক্ষেতমজুর ও কৃষক সংগঠনের উদ্যোগে গাইবান্ধা জেলা প্রশাসক মাসুদুর রহমান মোল্লার মাধ্যমে কৃষিমন্ত্রী বরাবর একটি স্মারকলিপি দেওয়া হয়। এ সময় সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আহসানুল হাবীব সাঈদ, জেলা সভাপতি গোলাম ছাদেক লেবু, কাজী আবু রাহেন শফিউল্লাহ খোকন ও পরমানন্দ দাসসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
নেতারা বলেন, উত্তরবঙ্গের মাটি ও আবহাওয়া আলু চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী হওয়ায় এবার ফলন ভালো হয়েছে। কিন্তু ফলন ভালো হলেও কৃষক লাভের মুখ দেখছে না। আলু পচনশীল সবজি হওয়ায় কৃষক তা বেশিদিন ঘরে রাখা যায় না, দ্রুত বিক্রি করে দিতে হয়। এই সুযোগে ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট বাজারে আলুর দাম কমিয়ে দেয়।
তারা আরও বলেন, কৃষকরা কোল্ডস্টোরেজে আলু রাখার চেষ্টা করলে ব্যবসায়ী ও বড় বড় কোম্পানিগুলো স্টোর মালিকদের সাথে যোগসাজশ করে আগেই বুকিং করে রাখে। ফলে সাধারণ কৃষকরা হিমাগারে জায়গা পায় না। এতে বাধ্য হয়ে কৃষকরা কম দামে আলু বিক্রি করেন। লোকসানের মুখে অনেক কৃষক এখন আলু চাষ বাদ দিয়ে তামাক চাষের দিকে ঝুঁকছেন।
আলুর পাশাপাশি চলমান বোরো মৌসুমে সারের তীব্র সংকট ও বাড়তি দামের বিষয়টিও গুরুত্বের সাথে তুলে ধরা হয়। কৃষকদের অভিযোগ, সারের ডিলার ও ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে কৃত্রিম সংকট তৈরি করেছে। অনেক এলাকায় সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে কেজিপ্রতি আট থেকে ১০ টাকা বেশি নেওয়া হচ্ছে। প্রশাসন বিভিন্ন স্থানে নামমাত্র অভিযান পরিচালনা করলেও তা কাজে আসছে না। কালোবাজারি ও সিন্ডিকেট ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে কৃষক আরও বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
নেতারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে আমরা আশা করেছিলাম, রাষ্ট্র কৃষকের অধিকার রক্ষায় আরও বেশি মনোযোগী হবে। কিন্তু বাস্তবে কৃষক তার ফসলের ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছে এবং কৃষি উপকরণের দাম বেড়েই চলেছে।
এই সংকট নিরসনে সংগঠনের পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসকের কাছে পাঁচ দফা দাবি উত্থাপন করা হয়। জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, কৃষকদের এই দাবিগুলো দ্রুতই সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হবে।