বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্ট হ্যাকের ঘটনায় বঙ্গভবনের সহকারী প্রোগ্রামার মোহাম্মদ ছরওয়ারে আলমকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। গত ৩ ফেব্রুয়ারি মধ্যরাতে রাজারবাগ পুলিশ লাইন অডিটরিয়ামের পূর্ব পাশের সরকারি কোয়ার্টার থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তবে এই গ্রেপ্তারকে ঘিরে শুরু থেকেই নানা প্রশ্ন ও বিতর্ক দেখা দিয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী কোনো সরকারি কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তারের আগে সুনির্দিষ্ট অভিযোগে মামলা, তদন্ত কর্মকর্তার প্রাথমিক প্রতিবেদন এবং সরকারের অনুমোদন প্রয়োজন। কিন্তু এসব প্রক্রিয়া অনুসরণ না করেই রাতের আঁধারে ছরওয়ারে আলমকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে—এমন অভিযোগ উঠেছে পুলিশের ভেতর থেকেই।
একাধিক সূত্রের ভাষ্য, একটি রাজনৈতিক পক্ষকে সন্তুষ্ট করতে পুলিশের উচ্চপর্যায়ের কয়েকজন কর্মকর্তা এ ঘটনায় ভূমিকা রেখেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তাদের দাবি, নির্বাচন সামনে রেখে নিজ নিজ অবস্থান ধরে রাখতে বাহিনীর শীর্ষ পর্যায়ের কিছু কর্মকর্তা এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িয়েছেন, যা পুরো নির্বাচন প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে। এতে পুলিশ বাহিনীর ভেতরেও অস্বস্তি ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
এদিকে বিএনপি চেয়ারম্যানের নির্বাচনীয় মুখপাত্র মাহাদী আমিন বলেছেন, জামায়াত আমিরের অ্যাকাউন্ট হ্যাকের বিষয়টি “সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও মনগড়া”।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পুলিশের একাধিক কর্মকর্তা বলেন, “পুরো বিষয়টি যদি আইনগত প্রক্রিয়া মেনে করা হতো, তাহলে কোনো প্রশ্ন উঠত না। কিন্তু এভাবে গ্রেপ্তার পুলিশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছে।” তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন, এ ধরনের ঘটনা অব্যাহত থাকলে বাহিনীর প্রতি জনআস্থা পুনরুদ্ধার কঠিন হয়ে পড়বে।
ছরওয়ারে আলমকে গ্রেপ্তারের ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকেই ঘটনাটিকে ‘নতুন বন্দোবস্ত’ আখ্যা দিয়ে সমালোচনা করেছেন।
পুলিশের কয়েকজন কর্মকর্তা আরও বলেন, রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান বঙ্গভবনের মতো স্থানে বসে একজন কর্মকর্তার এককভাবে এমন কর্মকাণ্ড চালানো কঠিন। সেখানে সার্বক্ষণিক নজরদারি থাকে। ফলে ঘটনার পেছনে অন্য কোনো বাস্তবতা রয়েছে কিনা, তা খতিয়ে দেখা জরুরি।
তারা দাবি করেন, অতীতে পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় অনেক নিরপরাধ ব্যক্তি নির্যাতন এড়াতে পুলিশের শেখানো বক্তব্য দিতে বাধ্য হয়েছেন—যা এখন ‘ওপেন সিক্রেট’। এখানেও অনুরূপ কিছু ঘটেছে কিনা, তা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, দ্রুত স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্ত না হলে পুলিশের ভেতরে একটি প্রভাবশালী গোষ্ঠী আবারও বেপরোয়া হয়ে উঠতে পারে। এতে ভবিষ্যতে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ার পাশাপাশি দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভাবমূর্তি দেশ-বিদেশে প্রশ্নবিদ্ধ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এ বিষয়ে মামলার অগ্রগতি ও সংশ্লিষ্টতা জানতে ডিবি প্রধান ও অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম, এসবি প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি গোলাম রসুল এবং সিটিএসবির প্রধান ডিআইজি আলী আশরাফের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি। পরে হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠানো হয়।
প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ডিবি প্রধান মো. শফিকুল ইসলাম ও ডিআইজি আলী আশরাফ কোনো জবাব দেননি। তবে এসবি প্রধান গোলাম রসুল বলেন, “যে কোনো মামলার তদন্ত স্পেশাল ব্রাঞ্চ করে থাকে।”
Reporter Name 





















