ঢাকা ০৪:১৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬, ১৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
স্থানীয় সরকার নির্বাচন একক প্রার্থী নির্ধারণে প্রস্তুতি বিএনপিতে নেপালে আকস্মিক বন্যায় নিহত বেড়ে ৬২৩, নিখোঁজ ২৪৮২ অটোরিকশাচালক থেকে কোটিপতি, আ.লীগ পুনর্বাসনের কারিগর কে এই ফিরোজ জেনে নিন বিনাখরচে কিভাবে মালয়েশিয়ায় যাওয়া যাবে নেপালে শুটিংয়ে গিয়ে তাণ্ডবের মুখোমুখি অপু, অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা ৪২ কি.মি. যানজট: ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে আটকা শত শত গাড়ি ২৮ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সব উপজেলায় আহ্বায়ক কমিটি গঠনের নির্দেশ এনসিপির সারা দেশে বিশেষ অভিযানের নির্দেশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন আইরিন খান ১০১ মণের ‘বরকতি ড্যাগের’ খিচুড়ি, খেলেই নাকি রোগমুক্তি ও সন্তান লাভ

পাকিস্তানে ব্যাপক সংঘর্ষে ২২ সেনাসহ ২৫৫ জন নিহত

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১১:১৬:১১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ১০০ বার

পাকিস্তানের বেলুচিস্তান প্রদেশে টানা ৩ দিন ধরে চালানো সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানে বিপুল প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। দেশটির নিরাপত্তা বাহিনীর ভাষ্য অনুযায়ী, এই সময়ে ‘ভারত-সমর্থিত’ সশস্ত্র গোষ্ঠীর ১৯৭ জন সদস্য নিহত হয়েছেন। অভিযানে দায়িত্ব পালনকালে প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ২২ জন পাকিস্তানি সেনা। পাশাপাশি সংঘর্ষ ও সহিংস হামলায় শিশুসহ ৩৬ জন বেসামরিক নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে। সব মিলিয়ে মোট নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৫৫ জনে।

বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) জিও নিউজের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, গত ৩১ জানুয়ারি বেলুচিস্তানজুড়ে সমন্বিত হামলার পরপরই এই অভিযান শুরু হয়। ওই দিন বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন বেলুচ লিবারেশন আর্মি (বিএলএ) প্রদেশটির ১২টি শহর ও জনপদে একযোগে হামলা চালায়। এর ফলে পুরো অঞ্চলে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা কার্যত স্থবির হয়ে পড়ে। সেদিনের হামলায় ১৭ জন নিরাপত্তা কর্মকর্তা এবং ৩১ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হন।

পরবর্তী সময়ে কোয়েটা, মাস্তুং, নুশকি, দালবান্দিন, খারান, পাঞ্জগুর, টুম্প, গোয়াদার ও পাসনিসহ বিভিন্ন এলাকায় সাধারণ মানুষের ওপর ধারাবাহিক হামলার ঘটনা ঘটে। নিরাপত্তা সূত্রগুলোর তথ্য অনুযায়ী, গত তিন দিনে এসব হামলায় নারী ও শিশুসহ মোট ৩৬ জন বেসামরিক নাগরিক প্রাণ হারান।

এই পরিস্থিতির পর পাকিস্তানের সেনাবাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলো প্রদেশজুড়ে ব্যাপক ক্লিয়ারেন্স অপারেশন শুরু করে। অভিযানের প্রথম ধাপেই ৯২ জনকে হত্যা করা হয়, যাদের পাকিস্তান সরকার ‘ভারত-সমর্থিত জঙ্গি’ হিসেবে বর্ণনা করছে। নিহতদের মধ্যে তিনজন আত্মঘাতী হামলাকারী ছিলেন বলে জানানো হয়েছে।

পাকিস্তান সেনাবাহিনীর মিডিয়া উইং আইএসপিআর এক বিবৃতিতে জানায়, ‘ফিতনা আল-হিন্দুস্তান’-এর সদস্যরা নারী, শিশু, বৃদ্ধ ও শ্রমিকসহ অন্তত ১৮ জন নিরীহ নাগরিককে হত্যা করেছে। বিবৃতিতে বলা হয়, এসব হামলার মূল উদ্দেশ্য ছিল বেলুচিস্তানের স্বাভাবিক জীবন ও উন্নয়ন কার্যক্রম ব্যাহত করা।

আইএসপিআর আরও জানায়, নিরাপত্তা বাহিনী পেশাদার দক্ষতা ও দৃঢ় অবস্থানের মাধ্যমে এসব হামলার জবাব দিয়েছে। তবে তীব্র সংঘর্ষ ও দীর্ঘস্থায়ী মুখোমুখি লড়াইয়ে সেদিনই ১৫ জন নিরাপত্তা সদস্য নিহত হন।

পরবর্তী পর্যায়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে স্যানিটাইজেশন অপারেশন চালানো হয়। এর লক্ষ্য ছিল হামলার পরিকল্পনাকারী, সহযোগী ও মদদদাতাদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা। আইএসপিআরের দাবি, গোয়েন্দা প্রতিবেদনে স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে যে এসব হামলার পরিকল্পনা ও নির্দেশনা পাকিস্তানের বাইরে অবস্থানরত জঙ্গি নেতাদের কাছ থেকে এসেছে এবং পুরো সময়জুড়ে তারা হামলাকারীদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ রাখে।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বেলুচ লিবারেশন আর্মির তৎপরতা বেড়েছে বলে জানাচ্ছে পাকিস্তানের নিরাপত্তা সংস্থাগুলো। বিশেষ করে বেলুচিস্তানে কর্মরত অন্যান্য প্রদেশের নাগরিক এবং বিদেশি জ্বালানি কোম্পানিগুলোর ওপর হামলার মাত্রা বৃদ্ধি পেয়েছে। গত বছর সংগঠনটি একটি যাত্রীবাহী ট্রেনে হামলা চালায়, যার জেরে দুই দিন ধরে সহিংস পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছিল বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

স্থানীয় সরকার নির্বাচন একক প্রার্থী নির্ধারণে প্রস্তুতি বিএনপিতে

পাকিস্তানে ব্যাপক সংঘর্ষে ২২ সেনাসহ ২৫৫ জন নিহত

আপডেট টাইম : ১১:১৬:১১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

পাকিস্তানের বেলুচিস্তান প্রদেশে টানা ৩ দিন ধরে চালানো সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানে বিপুল প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। দেশটির নিরাপত্তা বাহিনীর ভাষ্য অনুযায়ী, এই সময়ে ‘ভারত-সমর্থিত’ সশস্ত্র গোষ্ঠীর ১৯৭ জন সদস্য নিহত হয়েছেন। অভিযানে দায়িত্ব পালনকালে প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ২২ জন পাকিস্তানি সেনা। পাশাপাশি সংঘর্ষ ও সহিংস হামলায় শিশুসহ ৩৬ জন বেসামরিক নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে। সব মিলিয়ে মোট নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৫৫ জনে।

বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) জিও নিউজের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, গত ৩১ জানুয়ারি বেলুচিস্তানজুড়ে সমন্বিত হামলার পরপরই এই অভিযান শুরু হয়। ওই দিন বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন বেলুচ লিবারেশন আর্মি (বিএলএ) প্রদেশটির ১২টি শহর ও জনপদে একযোগে হামলা চালায়। এর ফলে পুরো অঞ্চলে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা কার্যত স্থবির হয়ে পড়ে। সেদিনের হামলায় ১৭ জন নিরাপত্তা কর্মকর্তা এবং ৩১ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হন।

পরবর্তী সময়ে কোয়েটা, মাস্তুং, নুশকি, দালবান্দিন, খারান, পাঞ্জগুর, টুম্প, গোয়াদার ও পাসনিসহ বিভিন্ন এলাকায় সাধারণ মানুষের ওপর ধারাবাহিক হামলার ঘটনা ঘটে। নিরাপত্তা সূত্রগুলোর তথ্য অনুযায়ী, গত তিন দিনে এসব হামলায় নারী ও শিশুসহ মোট ৩৬ জন বেসামরিক নাগরিক প্রাণ হারান।

এই পরিস্থিতির পর পাকিস্তানের সেনাবাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলো প্রদেশজুড়ে ব্যাপক ক্লিয়ারেন্স অপারেশন শুরু করে। অভিযানের প্রথম ধাপেই ৯২ জনকে হত্যা করা হয়, যাদের পাকিস্তান সরকার ‘ভারত-সমর্থিত জঙ্গি’ হিসেবে বর্ণনা করছে। নিহতদের মধ্যে তিনজন আত্মঘাতী হামলাকারী ছিলেন বলে জানানো হয়েছে।

পাকিস্তান সেনাবাহিনীর মিডিয়া উইং আইএসপিআর এক বিবৃতিতে জানায়, ‘ফিতনা আল-হিন্দুস্তান’-এর সদস্যরা নারী, শিশু, বৃদ্ধ ও শ্রমিকসহ অন্তত ১৮ জন নিরীহ নাগরিককে হত্যা করেছে। বিবৃতিতে বলা হয়, এসব হামলার মূল উদ্দেশ্য ছিল বেলুচিস্তানের স্বাভাবিক জীবন ও উন্নয়ন কার্যক্রম ব্যাহত করা।

আইএসপিআর আরও জানায়, নিরাপত্তা বাহিনী পেশাদার দক্ষতা ও দৃঢ় অবস্থানের মাধ্যমে এসব হামলার জবাব দিয়েছে। তবে তীব্র সংঘর্ষ ও দীর্ঘস্থায়ী মুখোমুখি লড়াইয়ে সেদিনই ১৫ জন নিরাপত্তা সদস্য নিহত হন।

পরবর্তী পর্যায়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে স্যানিটাইজেশন অপারেশন চালানো হয়। এর লক্ষ্য ছিল হামলার পরিকল্পনাকারী, সহযোগী ও মদদদাতাদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা। আইএসপিআরের দাবি, গোয়েন্দা প্রতিবেদনে স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে যে এসব হামলার পরিকল্পনা ও নির্দেশনা পাকিস্তানের বাইরে অবস্থানরত জঙ্গি নেতাদের কাছ থেকে এসেছে এবং পুরো সময়জুড়ে তারা হামলাকারীদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ রাখে।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বেলুচ লিবারেশন আর্মির তৎপরতা বেড়েছে বলে জানাচ্ছে পাকিস্তানের নিরাপত্তা সংস্থাগুলো। বিশেষ করে বেলুচিস্তানে কর্মরত অন্যান্য প্রদেশের নাগরিক এবং বিদেশি জ্বালানি কোম্পানিগুলোর ওপর হামলার মাত্রা বৃদ্ধি পেয়েছে। গত বছর সংগঠনটি একটি যাত্রীবাহী ট্রেনে হামলা চালায়, যার জেরে দুই দিন ধরে সহিংস পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছিল বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।