ঢাকা ০৭:২০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২৫ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

কিশোরগঞ্জ-১ ও ৫: দুই আসনে বিএনপির প্রার্থীরা স্বতন্ত্রের চাপে

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ০৯:৩০:৫০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২৬
  • ১৯ বার

জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কিশোরগঞ্জের ছয়টি আসনের মধ্যে দুটিতে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন বিএনপির বিদ্রোহী দুই প্রার্থী। কিশোরগঞ্জ-১ (সদর-হোসেনপুর) আসনে জেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি ও ঢাকার সাবেক বিভাগীয় স্পেশাল জজ বীর মুক্তিযোদ্ধা রেজাউল করিম খান চুন্নু এবং কিশোরগঞ্জ-৫ (নিকলী-বাজিতপুর) আসনে বাজিতপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি শেখ মুজিবুর রহমান ইকবাল প্রার্থী হয়েছেন। ফলে ২১ জানুয়ারি তাঁদের দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। এদিকে, ভোটের মাঠে তাঁদের শক্ত অবস্থান দলীয় প্রার্থীদের ভোটের ফলে প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন স্থানীয় অনেকেই।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, রেজাউল করিম ২০০৬ সালে ঢাকা বিভাগীয় স্পেশাল জজ থাকা অবস্থায় চাকরি ছেড়ে বিএনপিতে যোগদান করেন। ২০০৭ ও ২০১৮ সালে কিশোরগঞ্জ-১ আসনে দল তাঁকে মনোনয়ন দেয়। ২০১৮ সালে নির্বাচনের দিন সরকারদলীয় নেতা-কর্মীদের হাতে তিনি লাঞ্ছিত হন। দল থেকে এবার মনোনয়ন জোটেনি এই নেতার। এ আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম। আসনটিতে মনোনয়ন পরিবর্তনের দাবিতে লাগাতার আন্দোলন-বিক্ষোভ হয়েছে। কিন্তু কোনো ফল না পেয়ে রেজাউল স্বতন্ত্র প্রার্থী হন।

মাজহারুল ইসলাম বলেন, ‘দল আমার ওপর আস্থা রেখেছে। কিশোরগঞ্জ সদর ও হোসেনপুর উপজেলা বিএনপির সব নেতা-কর্মী আমার সঙ্গে আছেন। হাজার হাজার কর্মী আমার পক্ষে, ধানের শীষের পক্ষে মাঠে কাজ করছেন। আমি জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী।’ এদিকে স্বতন্ত্র প্রার্থী রেজাউল করিমের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাঁকে পাওয়া হয়নি।

অন্যদিকে কিশোরগঞ্জ-৫ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী ও সদ্য বহিষ্কৃত বাজিতপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি শেখ মুজিবুর রহমান ইকবাল ২০০১ সালের নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছিলেন। পরে আন্দোলনের মুখে প্রার্থী বদল করে মজিবুর রহমান মঞ্জুকে মনোনয়ন দেওয়া হয়। এরপর ২০০৮ সালের নির্বাচনেও দলীয় মনোনয়ন বঞ্চিত হন ইকবাল। কিন্তু তিনি দলের আদর্শে অবিচল থেকে আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় থেকেছেন।

ফলে ২০১৮ সালের নির্বাচনে বিএনপি ইকবালকে মনোনয়ন দেয়। এরই ধারাবাহিকতায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য শেখ মুজিবুর রহমান ইকবালকে বিএনপির প্রাথমিক মনোনয়ন দেওয়া হয়। কিন্তু চূড়ান্ত প্রার্থী হন সৈয়দ এহসানুল হুদা। তিনি সম্প্রতি বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে ইকবাল স্বতন্ত্র প্রার্থী হন।

এহসানুল হুদা বলেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ আমি ধানের শীষ প্রতীক পেয়েছি। গত ১৭ বছর মানুষ ভোট দিতে পারেনি। এবার মানুষ ভোট দেবে। নিকলী-বাজিতপুর ধানের শীষের ঘাঁটি। এবার নির্বাচনে ধানের শীষের জোয়ার সৃষ্টি হয়েছে। আর যাঁরা দলীয় নির্দেশ অমান্য করে দলের বিরুদ্ধে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন, দল তাঁদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিয়েছে।’

স্বতন্ত্র প্রার্থী ইকবাল বলেন, ‘আমি প্রার্থী হইনি। নিকলী-বাজিতপুরের মানুষ আমাকে প্রার্থী করেছেন। তাঁদের নিয়েই আমি রাজনীতি করেছি, তাই তাঁদেরকে আমি ছেড়ে যেতে পারি না।’

১৭ নেতা বিএনপি থেকে বহিষ্কার

কিশোরগঞ্জ-৫ আসনে বিদ্রোহী প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচনী প্রচারে নামায় উপজেলা বিএনপির ১৭ নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। গত সোমবার কেন্দ্রীয় বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। তাঁদের দলের প্রাথমিক সদস্যসহ সকল পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে তাঁদের স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে কাজ করার বিষয়ে কিছু উল্লেখ করা না হলেও বলা হয়, দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে সংগঠনবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকায় তাঁদের বহিষ্কার করা হয়েছে।

বহিষ্কৃতদের মধ্যে রয়েছেন বাজিতপুর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান মনির, সিনিয়র সহসভাপতি মোস্তফা আমিনুল হক, দিঘীরপাড় ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি শাহরিয়ার শামীম, বলিয়ারদী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. ফিরোজ খান, নিকলী উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি মো. মানিক মিয়া, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রিয়াজ উদ্দিন, জারুইতলা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি কামরুল ইসলাম, ছাতিরচর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি পরশ মাহমুদ, দামপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. আলী হোসেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

কিশোরগঞ্জ-১ ও ৫: দুই আসনে বিএনপির প্রার্থীরা স্বতন্ত্রের চাপে

আপডেট টাইম : ০৯:৩০:৫০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২৬

জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কিশোরগঞ্জের ছয়টি আসনের মধ্যে দুটিতে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন বিএনপির বিদ্রোহী দুই প্রার্থী। কিশোরগঞ্জ-১ (সদর-হোসেনপুর) আসনে জেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি ও ঢাকার সাবেক বিভাগীয় স্পেশাল জজ বীর মুক্তিযোদ্ধা রেজাউল করিম খান চুন্নু এবং কিশোরগঞ্জ-৫ (নিকলী-বাজিতপুর) আসনে বাজিতপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি শেখ মুজিবুর রহমান ইকবাল প্রার্থী হয়েছেন। ফলে ২১ জানুয়ারি তাঁদের দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। এদিকে, ভোটের মাঠে তাঁদের শক্ত অবস্থান দলীয় প্রার্থীদের ভোটের ফলে প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন স্থানীয় অনেকেই।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, রেজাউল করিম ২০০৬ সালে ঢাকা বিভাগীয় স্পেশাল জজ থাকা অবস্থায় চাকরি ছেড়ে বিএনপিতে যোগদান করেন। ২০০৭ ও ২০১৮ সালে কিশোরগঞ্জ-১ আসনে দল তাঁকে মনোনয়ন দেয়। ২০১৮ সালে নির্বাচনের দিন সরকারদলীয় নেতা-কর্মীদের হাতে তিনি লাঞ্ছিত হন। দল থেকে এবার মনোনয়ন জোটেনি এই নেতার। এ আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম। আসনটিতে মনোনয়ন পরিবর্তনের দাবিতে লাগাতার আন্দোলন-বিক্ষোভ হয়েছে। কিন্তু কোনো ফল না পেয়ে রেজাউল স্বতন্ত্র প্রার্থী হন।

মাজহারুল ইসলাম বলেন, ‘দল আমার ওপর আস্থা রেখেছে। কিশোরগঞ্জ সদর ও হোসেনপুর উপজেলা বিএনপির সব নেতা-কর্মী আমার সঙ্গে আছেন। হাজার হাজার কর্মী আমার পক্ষে, ধানের শীষের পক্ষে মাঠে কাজ করছেন। আমি জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী।’ এদিকে স্বতন্ত্র প্রার্থী রেজাউল করিমের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাঁকে পাওয়া হয়নি।

অন্যদিকে কিশোরগঞ্জ-৫ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী ও সদ্য বহিষ্কৃত বাজিতপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি শেখ মুজিবুর রহমান ইকবাল ২০০১ সালের নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছিলেন। পরে আন্দোলনের মুখে প্রার্থী বদল করে মজিবুর রহমান মঞ্জুকে মনোনয়ন দেওয়া হয়। এরপর ২০০৮ সালের নির্বাচনেও দলীয় মনোনয়ন বঞ্চিত হন ইকবাল। কিন্তু তিনি দলের আদর্শে অবিচল থেকে আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় থেকেছেন।

ফলে ২০১৮ সালের নির্বাচনে বিএনপি ইকবালকে মনোনয়ন দেয়। এরই ধারাবাহিকতায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য শেখ মুজিবুর রহমান ইকবালকে বিএনপির প্রাথমিক মনোনয়ন দেওয়া হয়। কিন্তু চূড়ান্ত প্রার্থী হন সৈয়দ এহসানুল হুদা। তিনি সম্প্রতি বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে ইকবাল স্বতন্ত্র প্রার্থী হন।

এহসানুল হুদা বলেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ আমি ধানের শীষ প্রতীক পেয়েছি। গত ১৭ বছর মানুষ ভোট দিতে পারেনি। এবার মানুষ ভোট দেবে। নিকলী-বাজিতপুর ধানের শীষের ঘাঁটি। এবার নির্বাচনে ধানের শীষের জোয়ার সৃষ্টি হয়েছে। আর যাঁরা দলীয় নির্দেশ অমান্য করে দলের বিরুদ্ধে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন, দল তাঁদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিয়েছে।’

স্বতন্ত্র প্রার্থী ইকবাল বলেন, ‘আমি প্রার্থী হইনি। নিকলী-বাজিতপুরের মানুষ আমাকে প্রার্থী করেছেন। তাঁদের নিয়েই আমি রাজনীতি করেছি, তাই তাঁদেরকে আমি ছেড়ে যেতে পারি না।’

১৭ নেতা বিএনপি থেকে বহিষ্কার

কিশোরগঞ্জ-৫ আসনে বিদ্রোহী প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচনী প্রচারে নামায় উপজেলা বিএনপির ১৭ নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। গত সোমবার কেন্দ্রীয় বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। তাঁদের দলের প্রাথমিক সদস্যসহ সকল পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে তাঁদের স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে কাজ করার বিষয়ে কিছু উল্লেখ করা না হলেও বলা হয়, দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে সংগঠনবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকায় তাঁদের বহিষ্কার করা হয়েছে।

বহিষ্কৃতদের মধ্যে রয়েছেন বাজিতপুর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান মনির, সিনিয়র সহসভাপতি মোস্তফা আমিনুল হক, দিঘীরপাড় ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি শাহরিয়ার শামীম, বলিয়ারদী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. ফিরোজ খান, নিকলী উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি মো. মানিক মিয়া, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রিয়াজ উদ্দিন, জারুইতলা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি কামরুল ইসলাম, ছাতিরচর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি পরশ মাহমুদ, দামপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. আলী হোসেন।