ঢাকা ০৬:১৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৫ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

দিল্লির মঞ্চে শেখ হাসিনার ‘উসকানিমূলক’ বক্তব্য, ক্ষুব্ধ বাংলাদেশ

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১১:১৫:২৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬
  • ১৯ বার

মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডিত পলাতক শেখ হাসিনাকে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে প্রকাশ্য অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়াকে ‘বিস্ময়কর ও গভীরভাবে উদ্বেগজনক’ বলে মন্তব্য করেছে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার। সরকারের অভিযোগ—ওই বক্তব্যে সরাসরি সরকার উৎখাতের আহ্বান জানানো হয়েছে এবং আসন্ন জাতীয় নির্বাচন বানচালের উদ্দেশ্যে সহিংসতায় উসকানি দেওয়া হয়েছে।

রবিবার (২৫ জানুয়ারি) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জারি করা এক বিবৃতিতে বলা হয়, ২৩ জানুয়ারি নয়াদিল্লিতে আয়োজিত একটি প্রকাশ্য অনুষ্ঠানে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দণ্ডিত শেখ হাসিনাকে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়। সেখানে তিনি প্রকাশ্যে বাংলাদেশে সরকার উৎখাতের ডাক দেন এবং তাঁর দলীয় অনুসারী ও সাধারণ জনগণকে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত হওয়ার আহ্বান জানান। এতে বাংলাদেশ সরকার ও জনগণ ‘হতবাক ও ক্ষুব্ধ’ হয়েছে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, দ্বিপক্ষীয় প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় শেখ হাসিনাকে হস্তান্তরের বিষয়ে বাংলাদেশ একাধিকবার আনুষ্ঠানিক অনুরোধ জানালেও ভারত এখনো কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি। বরং ভারতের ভূখণ্ডে দাঁড়িয়ে তাকে এমন উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে, যা বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণ, শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য সরাসরি হুমকি।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ভারতের রাজধানীতে এ ধরনের অনুষ্ঠানের অনুমতি দেওয়া এবং একজন ‘গণহত্যাকারী’ হিসেবে দণ্ডিত ব্যক্তিকে প্রকাশ্যে বিদ্বেষমূলক বক্তব্য দিতে দেওয়া আন্তর্জাতিক সম্পর্কের স্বীকৃত নীতিমালা—বিশেষ করে সার্বভৌমত্বের প্রতি শ্রদ্ধা, অভ্যন্তরীণ বিষয়ে অনধিকার হস্তক্ষেপ না করা এবং সুপ্রতিবেশীসুলভ আচরণের—স্পষ্ট লঙ্ঘন। এটি বাংলাদেশ সরকার ও জনগণের প্রতি একটি প্রকাশ্য অবমাননা হিসেবেও দেখা হচ্ছে।

বাংলাদেশ সরকার সতর্ক করে বলেছে, এই ঘটনা বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের ভবিষ্যতের জন্য একটি বিপজ্জনক নজির স্থাপন করতে পারে। একই সঙ্গে এর ফলে ভবিষ্যৎ নির্বাচিত সরকারের পক্ষে পারস্পরিক কল্যাণমূলক দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক গড়ে তোলা ও এগিয়ে নেওয়ার সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে আরও বলা হয়, আওয়ামী লীগের নেতৃত্বের এই ‘নির্লজ্জ ও উসকানিমূলক বক্তব্য’ আবারও প্রমাণ করে কেনো অন্তর্বর্তী সরকার দলটির রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ করতে বাধ্য হয়েছে। আসন্ন জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে সহিংসতা ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের দায় সংশ্লিষ্টদেরই বহন করতে হবে।

বিবৃতির শেষাংশে সরকার জানায়, জাতীয় নির্বাচন ঘিরে যেকোনো ধরনের সহিংসতা, ষড়যন্ত্র ও অস্থিতিশীলতা প্রতিহত করতে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

দিল্লির মঞ্চে শেখ হাসিনার ‘উসকানিমূলক’ বক্তব্য, ক্ষুব্ধ বাংলাদেশ

আপডেট টাইম : ১১:১৫:২৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬

মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডিত পলাতক শেখ হাসিনাকে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে প্রকাশ্য অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়াকে ‘বিস্ময়কর ও গভীরভাবে উদ্বেগজনক’ বলে মন্তব্য করেছে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার। সরকারের অভিযোগ—ওই বক্তব্যে সরাসরি সরকার উৎখাতের আহ্বান জানানো হয়েছে এবং আসন্ন জাতীয় নির্বাচন বানচালের উদ্দেশ্যে সহিংসতায় উসকানি দেওয়া হয়েছে।

রবিবার (২৫ জানুয়ারি) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জারি করা এক বিবৃতিতে বলা হয়, ২৩ জানুয়ারি নয়াদিল্লিতে আয়োজিত একটি প্রকাশ্য অনুষ্ঠানে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দণ্ডিত শেখ হাসিনাকে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়। সেখানে তিনি প্রকাশ্যে বাংলাদেশে সরকার উৎখাতের ডাক দেন এবং তাঁর দলীয় অনুসারী ও সাধারণ জনগণকে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত হওয়ার আহ্বান জানান। এতে বাংলাদেশ সরকার ও জনগণ ‘হতবাক ও ক্ষুব্ধ’ হয়েছে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, দ্বিপক্ষীয় প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় শেখ হাসিনাকে হস্তান্তরের বিষয়ে বাংলাদেশ একাধিকবার আনুষ্ঠানিক অনুরোধ জানালেও ভারত এখনো কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি। বরং ভারতের ভূখণ্ডে দাঁড়িয়ে তাকে এমন উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে, যা বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণ, শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য সরাসরি হুমকি।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ভারতের রাজধানীতে এ ধরনের অনুষ্ঠানের অনুমতি দেওয়া এবং একজন ‘গণহত্যাকারী’ হিসেবে দণ্ডিত ব্যক্তিকে প্রকাশ্যে বিদ্বেষমূলক বক্তব্য দিতে দেওয়া আন্তর্জাতিক সম্পর্কের স্বীকৃত নীতিমালা—বিশেষ করে সার্বভৌমত্বের প্রতি শ্রদ্ধা, অভ্যন্তরীণ বিষয়ে অনধিকার হস্তক্ষেপ না করা এবং সুপ্রতিবেশীসুলভ আচরণের—স্পষ্ট লঙ্ঘন। এটি বাংলাদেশ সরকার ও জনগণের প্রতি একটি প্রকাশ্য অবমাননা হিসেবেও দেখা হচ্ছে।

বাংলাদেশ সরকার সতর্ক করে বলেছে, এই ঘটনা বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের ভবিষ্যতের জন্য একটি বিপজ্জনক নজির স্থাপন করতে পারে। একই সঙ্গে এর ফলে ভবিষ্যৎ নির্বাচিত সরকারের পক্ষে পারস্পরিক কল্যাণমূলক দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক গড়ে তোলা ও এগিয়ে নেওয়ার সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে আরও বলা হয়, আওয়ামী লীগের নেতৃত্বের এই ‘নির্লজ্জ ও উসকানিমূলক বক্তব্য’ আবারও প্রমাণ করে কেনো অন্তর্বর্তী সরকার দলটির রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ করতে বাধ্য হয়েছে। আসন্ন জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে সহিংসতা ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের দায় সংশ্লিষ্টদেরই বহন করতে হবে।

বিবৃতির শেষাংশে সরকার জানায়, জাতীয় নির্বাচন ঘিরে যেকোনো ধরনের সহিংসতা, ষড়যন্ত্র ও অস্থিতিশীলতা প্রতিহত করতে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।