ঢাকা ০৪:০২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬, ১৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
সমুদ্রের বেলাভূমিতে সাদিয়া আয়মানের ‌‘একটুখানি জাদু’ বোল্টের চেয়েও দ্রুত দৌড়ানো সেই চীনা রোবটের নতুন চমক মহানবী মুহাম্মদ (সা.) : সব সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ যিনি প্রধানমন্ত্রী ইসলামের আদর্শ বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠা করছেন: মঈন খান চুলে রং করার পর যত্ন নেবেন যেভাবে নেপালে বন্যা: প্রাণহানির ঘটনায় প্রধানমন্ত্রীর শোক, সহযোগিতার বার্তা নবীজি (সা.)-এর আদর্শ অনুসরণ ছাড়া বিশ্ব পরিস্থিতির পরিবর্তন সম্ভব নয় : ডিএসসিসি প্রশাসক চারণভূমি সুরক্ষা ও টেকসই ব্যবস্থাপনায় স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে সম্পৃক্ত করার আহ্বান পরিবেশমন্ত্রীর ফ্যাসিবাদ ঠেকাতে সুস্পষ্ট রোডম্যাপ করতে হবে: আইনমন্ত্রী মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিতে যোগদানের বিষয়টি বিবেচনা করছে বাংলাদেশ: শামা ওবায়েদ

কান্না আর আর্তনাদে ভারি চীন-মৈত্রী,গুম-খুনের শিকার ব্যক্তিদের আহাজারিতে কাঁদলেন তারেক রহমান

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ০৭:২৯:০৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৯৭ বার

বিগত সরকারের শাসনামলে গুম ও খুনের শিকার ব্যক্তিদের স্বজনদের কান্না আর আর্তনাদে ভারি হয়ে ওঠে চীন-মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্র। তাদের সঙ্গে কেঁদেছেন তারেক রহমানও।

শনিবার (১৭ জানুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর চীন-মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ‘মায়ের ডাক’ ও ‘আমরা বিএনপি পরিবার’র যৌথ আয়োজনে এ অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা অংশ নেন।

শুরুতেই তারেক রহমান সবার সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। এ সময় অশ্রুসিক্ত স্বজনদের সান্ত্বনা দেন তিনি।

ভুক্তভোগীর পরিবারগুলোর স্বজনরা জানান, বিগত দিনে বাসা-অফিস বা রাস্তা থেকে তাদের স্বজনদের তুলে নেওয়া হয়েছে। স্বজনদের শেষ পরিণতি কী হয়েছে তা তারা জানেন না। অনেক সন্তান তার বাবার ছবি নিয়ে এসেছেন। তারেক রহমানকে কাছে পেয়ে হাউমাউ করে কেঁদে ওঠেন। তাকে জড়িয়ে ধরেন।

এ সময় চোখের পানি ধরে রাখতে পারেননি  তারেক রহমানও। তিনি তাদের মাথায় হাত বুলিয়ে সান্ত্বনা দেন।

গুম হওয়া পারভেজের কন্যা ঋদি বলেন, ‘এবছর যায়, নতুন বছর আসে কিন্তু আমাদের বাবা আর আসে না। ৫ আগস্টের পর একটা বছরের বেশি পার হয়ে গেল কিন্তু আমরা কাউকে ফিরে পেলাম না।’

কথাগুলো বলতে বলতে কান্নায় ভেঙে পড়ে ২০১৩ সালের ২ ডিসেম্বর শাহবাগ থেকে গুম হওয়া পারভেজ কন্যা ঋদি। ঋদির প্রশ্ন, বাবার হাত ধরে স্কুলে যাওয়ার যে স্বপ্ন দেখছে, তা কি পূরণ হবে আদৌ?

ঋদি বলছিল, ‘আমার বয়স যখন আড়াই বছর তখন থেকে আম্মুর কোলে চড়ে এখানে আসি। ছোটবেলা থেকেই আমার স্বপ্ন বাবার সঙ্গে স্কুলে যাবো কিন্তু এখন পর্যন্ত আমার স্বপ্ন পূরণ হচ্ছে না।’

মাত্র ২ মাস বয়সে সাফার বাবা নিখোঁজ হন। তার আক্ষেপ কখনো বাবাই ডাকতে না পারার। নেই বাবার সঙ্গে কোনো স্মৃতিও। কাঁদতে কাঁদতে সাফা বলে, ‘একযুগ ধরে বাবার জন্য সবাই অপেক্ষা করছি কিন্তু এখনো পর্যন্ত তাকে দেখতে পারিনি। অনেক জায়গায় গিয়েছি কিন্তু কোনো খোঁজ পাইনি।’

সমবয়সীদের যখন হাঁটা শেখায় বাবারা, তখন নিজের বাবাকে খুঁজে বেড়ায় ৩ বছর বয়সে বাবাকে হারানো মিম।

কেউ বাবা, কেউ সন্তান, কেউ ভাই আবার কেউ বা হারিয়েছেন স্বামীকে। এখন শুধু সুষ্ঠু বিচার দাবি করছেন পরিবারের সদস্যরা। এসময়, ভুক্তভোগীর স্বজনদের কান্না আর আর্তনাদ শুনে কাঁদেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানও।

দেড় যুগরেরও বেশি সময় নির্বাসিত জীবন কাটানো বিএনপির চেয়ারম্যান স্বজন হারানো পরিবারগুলোর প্রতি সহমর্মিতা জানান।

ভুক্তভোগী পরিবারের এক সদস্য তারেক রহমানের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘গুম প্রতিরোধে এমন আইন করবেন যেনো ভবিষ্যতে এই অপরাধ করার সাহস কারো না হয়।’

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

সমুদ্রের বেলাভূমিতে সাদিয়া আয়মানের ‌‘একটুখানি জাদু’

কান্না আর আর্তনাদে ভারি চীন-মৈত্রী,গুম-খুনের শিকার ব্যক্তিদের আহাজারিতে কাঁদলেন তারেক রহমান

আপডেট টাইম : ০৭:২৯:০৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬

বিগত সরকারের শাসনামলে গুম ও খুনের শিকার ব্যক্তিদের স্বজনদের কান্না আর আর্তনাদে ভারি হয়ে ওঠে চীন-মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্র। তাদের সঙ্গে কেঁদেছেন তারেক রহমানও।

শনিবার (১৭ জানুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর চীন-মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ‘মায়ের ডাক’ ও ‘আমরা বিএনপি পরিবার’র যৌথ আয়োজনে এ অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা অংশ নেন।

শুরুতেই তারেক রহমান সবার সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। এ সময় অশ্রুসিক্ত স্বজনদের সান্ত্বনা দেন তিনি।

ভুক্তভোগীর পরিবারগুলোর স্বজনরা জানান, বিগত দিনে বাসা-অফিস বা রাস্তা থেকে তাদের স্বজনদের তুলে নেওয়া হয়েছে। স্বজনদের শেষ পরিণতি কী হয়েছে তা তারা জানেন না। অনেক সন্তান তার বাবার ছবি নিয়ে এসেছেন। তারেক রহমানকে কাছে পেয়ে হাউমাউ করে কেঁদে ওঠেন। তাকে জড়িয়ে ধরেন।

এ সময় চোখের পানি ধরে রাখতে পারেননি  তারেক রহমানও। তিনি তাদের মাথায় হাত বুলিয়ে সান্ত্বনা দেন।

গুম হওয়া পারভেজের কন্যা ঋদি বলেন, ‘এবছর যায়, নতুন বছর আসে কিন্তু আমাদের বাবা আর আসে না। ৫ আগস্টের পর একটা বছরের বেশি পার হয়ে গেল কিন্তু আমরা কাউকে ফিরে পেলাম না।’

কথাগুলো বলতে বলতে কান্নায় ভেঙে পড়ে ২০১৩ সালের ২ ডিসেম্বর শাহবাগ থেকে গুম হওয়া পারভেজ কন্যা ঋদি। ঋদির প্রশ্ন, বাবার হাত ধরে স্কুলে যাওয়ার যে স্বপ্ন দেখছে, তা কি পূরণ হবে আদৌ?

ঋদি বলছিল, ‘আমার বয়স যখন আড়াই বছর তখন থেকে আম্মুর কোলে চড়ে এখানে আসি। ছোটবেলা থেকেই আমার স্বপ্ন বাবার সঙ্গে স্কুলে যাবো কিন্তু এখন পর্যন্ত আমার স্বপ্ন পূরণ হচ্ছে না।’

মাত্র ২ মাস বয়সে সাফার বাবা নিখোঁজ হন। তার আক্ষেপ কখনো বাবাই ডাকতে না পারার। নেই বাবার সঙ্গে কোনো স্মৃতিও। কাঁদতে কাঁদতে সাফা বলে, ‘একযুগ ধরে বাবার জন্য সবাই অপেক্ষা করছি কিন্তু এখনো পর্যন্ত তাকে দেখতে পারিনি। অনেক জায়গায় গিয়েছি কিন্তু কোনো খোঁজ পাইনি।’

সমবয়সীদের যখন হাঁটা শেখায় বাবারা, তখন নিজের বাবাকে খুঁজে বেড়ায় ৩ বছর বয়সে বাবাকে হারানো মিম।

কেউ বাবা, কেউ সন্তান, কেউ ভাই আবার কেউ বা হারিয়েছেন স্বামীকে। এখন শুধু সুষ্ঠু বিচার দাবি করছেন পরিবারের সদস্যরা। এসময়, ভুক্তভোগীর স্বজনদের কান্না আর আর্তনাদ শুনে কাঁদেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানও।

দেড় যুগরেরও বেশি সময় নির্বাসিত জীবন কাটানো বিএনপির চেয়ারম্যান স্বজন হারানো পরিবারগুলোর প্রতি সহমর্মিতা জানান।

ভুক্তভোগী পরিবারের এক সদস্য তারেক রহমানের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘গুম প্রতিরোধে এমন আইন করবেন যেনো ভবিষ্যতে এই অপরাধ করার সাহস কারো না হয়।’