দুর্গম চরাঞ্চল লেছড়াগঞ্জ ইউনিয়নের পদ্মা নদীর কোল ঘেঁষে নদীর পাড় দিয়ে প্রায় দুই কিলোমিটার এরিয়া জুড়ে সরিষার চাষ করা হয়েছে। এর ফলে পদ্মাপাড়ে হলুদ রঙে নয়নাভিরাম মনোমুগ্ধকর প্রাকৃতিক দৃশ্য উপভোগ করতে দূর দূরান্ত থেকে ছুটে আসেন দর্শনার্থীরা। প্রতিদিন বিকেলে দর্শনার্থীদের ভিড় জমে পদ্মাপাড়ের এই সরিষা ফুলের মাঝে। শুধু তাই নয়, পরিত্যক্ত এই পদ্মাপাড়ে সরিষা চাষে সফলতারও স্বপ্ন বুনছেন কৃষকেরা।
জানা গেছে, উপজেলার দুর্গম চরাঞ্চল লেছড়াগঞ্জ ইউনিয়নের হরিণাঘাট এলাকায় পদ্মাভাঙ্গন কবলিত পরিত্যক্ত পদ্মাপাড়ের প্রায় দুই কিলোমিটার এরিয়া নিয়ে সরিষা চাষ করেছে চরাঞ্চলের স্থানীয় কৃষকেরা। প্রতিবছর নদী ভাঙ্গনের ফলে এই ইউনিয়নের শত শত হেক্টর জমি পদ্মায় বিলীন হয়ে যায়। এতে দিনে দিনে চরাঞ্চলের আবাদি জমি কমে যাচ্ছে। এই ভাঙ্গন কবলিত পদ্মাপাড়ে শীত মৌসুমের শুরুতেই প্রথমবারের মতো বোনা হয়েছে সরিষা।
মাস দেড়েকের মধ্যেই সরিষা গাছগুলো দেড় ফুট থেকে দুই ফুট উচ্চতায় রূপ নিয়েছে। এতে বাতাসে সরিষা গাছের হলুদ ফুলের দোলায় সৌন্দর্যের এক অপরূপ লীলাভূমি গড়ে উঠেছে। মনোরম সৌন্দর্যের প্রাকৃতিক পরিবেশ বিমোহিত করেছে নানা বয়সের দর্শনার্থীদের। তাই বিকেল হলেই প্রতিদিন এই চরাঞ্চলে বিভিন্ন স্থান থেকে ছুটে আসেন দর্শনার্থীরা এবং উপভোগ করেন সরিষা ফুলের মনোরম প্রাকৃতিক দৃশ্য। অনেকে ব্যস্ত হয়ে পড়েন ছবি তুলে এই মনোমুগ্ধকর প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে স্মৃতির পাতায় সংরক্ষণ করতে।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি রবি মৌসুমে হরিরামপুরে বিভিন্ন জাতের সরিষা চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১১৬৩১ হেক্টর, তবে আবাদ হয়েছে ১০৪৫৫ হেক্টর।
পদ্মাপাড়ের সরিষা চাষী পাট গ্রামের বাসিন্দা মো. জহিরুল ইসলাম জানিয়েছেন, আমরা নদীর শিকস্ত কৃষক। প্রতিবছর নদী ভাঙ্গনের ফলে শতশত হেক্টর জমি পদ্মায় বিলীন হয়ে যায়। বর্ষার পানি চলে যাওয়ার পরে শীতের শুরুতেই আমি এই ভাঙ্গন কবলিত পদ্মাপাড়ে সরিষার চাষ করি। উপজেলা কৃষি অফিস থেকে ১ কেজি বীজ দেওয়া হয়েছে। দেখা গেছে আবাদ ভালোই হয়েছে। আশা করি, প্রকৃতিক দুর্যোগে ক্ষয়ক্ষতি না হলে ভালো ফলন পাব, ইনশাআল্লাহ।
একই গ্রামের মো. আলম মোল্লা জানান, নদীর পাড় তো পরিত্যক্ত অবস্থায় থাকে। এই জায়গাটাকে কাজে লাগানোর চিন্তায় সরিষার চাষ করেছি। উপজেলা কৃষি অফিস আমাদের অনেক সহযোগিতা করেছে। বীজ ও সার দিয়েছে। খরচও অনেকটাই কম হয়েছে। আশা করি ফলনও ভালো হবে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. তৌহিদুজ্জামান খান জানিয়েছেন, হরিরামপুরে সরিষার আবাদ বৃদ্ধির জন্য কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করে এ ধরণের ব্যতিক্রমী উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, ফল বাগান, সাথী ফসল, আইল ফসল, রাস্তার পাশে, পুকুর পাড়ে, বিলের পাড়ে সরিষা চাষ করা হয়েছে। দেশে প্রতি বছর ভোজ্য তেল আমদানি করতে হয়। তাই পতিত জায়গাতেও সরিষা চাষ করা যেতে পারে। এতে পরিবারের চাহিদা পূরণ হবে এবং দেশের চাহিদা মেটাতেও সহায়তা করবে।
Reporter Name 
























