উৎসবমুখর পরিবেশে মৌলভীবাজারের শেরপুরে কুশিয়ারা নদীপাড়ে শতবর্ষী ঐতিহ্যবাহী মাছের মেলা বসেছে। পৌষসংক্রান্তির আগের সন্ধ্যা থেকেই শুরু হয় মাছ নিয়ে কোলাহল। সারা রাত ধরে চলে পাইকারি কেনাবেচা, পরদিন চলে খুচরা বিক্রি। দুই রাত ও এক দিনব্যাপী এ মেলা বছরে মাত্র একবারই বসে।
সোমবার সন্ধ্যা থেকে মাছের মেলা শুরু হয়েছে। রাতে প্রধানত পাইকারি কেনাকাটা চলে।
আজ মঙ্গলবার সারা দিন ধরে খুচরা বিক্রি চলছে। আগামীকাল বুধবার সকাল পর্যন্ত এভাবেই মেলার আনুষ্ঠানিকতা চলবে। মাছের পাশাপাশি মেলায় রয়েছে খেলনা, রকমারি খাবার, খই-মোয়া-গজা, কৃষিপণ্য ও ঘরসংসারের নানা সামগ্রী।
মাছের মেলায় ডালায় সাজানো মাছ ঘিরে ভিড় করছেন অনেকে। কেউ ঘুরে ঘুরে দেখছেন, কেউ ছবি তুলছেন, কেউ মাছের সঙ্গে সেলফি তুলছেন। মেলায় মাছ বিক্রেতা রুহিত মিয়া ৪০ কেজি ওজনের বাঘাইড় মাছের দাম হাঁকলেন দেড় লাখ টাকা পরে ৭১ হাজার টাকায় সেই মাছ বিক্রি করেছেন।
মাছ বিক্রেতা আরবেশ মিয়া বলেন, ১০-১৫ লাখ টাকার মাছ নিয়ে মেলায় এসেছেন। প্রায় দেড় মণ ওজনের একটি বাঘাইড় মাছের দাম তিনি চাইছেন দুই লাখ টাকা। আরেক বিক্রেতা মুহিবুর রহমান বলেন, মানুষ কিনছে কম। প্রায় ১৫ লাখ টাকার মাছ নিয়ে তিনি মেলায় এসেছেন।
শেরপুর মাছের মেলা মূলত স্থানীয় হাওর-বাঁওড় ও নদ-নদীর মাছকে কেন্দ্র করেই গড়ে উঠেছিল। এখনো স্থানীয় মাছের প্রতিই ক্রেতাদের আকর্ষণ বেশি। বৃহত্তর সিলেটের সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজার জেলার হাকালুকি, কাউয়াদীঘি, হাইল হাওরসহ বিভিন্ন হাওর এবং কুশিয়ারা নদীসহ অন্যান্য নদ-নদীর মাছই মেলায় আসা ক্রেতাদের প্রধান চাহিদা। এবারও স্থানীয় মুক্ত জলাশয়ের মাছ আলাদা করে সাজিয়ে রাখা হয়েছে। তবে হাওর নদী ভরাটসহ নানা কারণে আগের তুলনায় স্থানীয় মাছের সরবরাহ কমেছে। দামও বেড়েছে, যা অনেক ক্রেতার নাগালের বাইরে। ফলে মেলায় চাষের মাছের সংখ্যাই বেশি।
মেলায় বাঘাইড়, আইড়, বোয়াল, রুই, কাতলা, মৃগেল, চিতল, কালবাউশ, গ্রাসকাপসহ নানা জাতের ছোট-বড় মাছ। অনেক মাছই ছিল একেবারে তরতাজা, কিছু মাছ নড়াচড়াও করছিল। বিক্রেতারা বলেন, শেরপুরের মাছের মেলাকে সামনে রেখে সারা বছর ধরেই মাছ সংরক্ষণ করা হয়। মেলার কয়েক দিন আগে শুরু হয় মাছ ধরা ও সংগ্রহ। কোনো কোনো মাছকে ডোবা কিংবা নৌকায় পানির মধ্যে রাখা হয়।
মাছ ব্যবসায়ী আকবর মিয়া বলেন, ‘এ মেলা আমাদের পূর্ব পুরুষরা বিক্রি করছে। আমিও মাছ বিক্রি করতেছি, আগামীতে আমার ছেলেও বিক্রি করবে।’
মৌলভীবাজার শহরের থেকে আসা রহিম মিয়া বলেন, ৪ কেজি ওজনের একটি বোয়াল সাড়ে চার হাজার টাকায় কিনেছি। তবে দাম কাছে কম মনে হয়েছে।
মৌলভীবাজার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম বলেন, শতবর্ষী মেলা উপলক্ষে যাতে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, সেজন্য পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোষাকে গোয়েন্দা পুলিশ মাঠে রয়েছে।
মৌলভীবাজার সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাজিব হোসেন জানান, খোলা নিলাম ডাকে এবছর মেলা বাবদ সরকার রাজস্ব পেয়েছে।
Reporter Name 
























