এক জীবনের সম্ভবত সবচেয়ে বড় অর্জন এমন সুতীব্র সম্মানের সাথে মারা যাওয়া, যাতে আপনার মৃত্যুতে আপনার পরম শত্রুও কষ্ট পায়। দুনিয়া থেকে কোনো ব্যক্তি মারা গেলেও দুনিয়ার কিছু যায়-আসে না, বরং পৃথিবী নিজের নিয়মেই চলে এবং চলবে। তবে আমরা শুধু পারি প্রস্থানটাকে অর্থবহ করতে।
‘আমি নাই’, এতে যদি কারও চোখের পাতা বিন্দুমাত্র না কাঁপে তো সেই জীবন ধরে রাখার কোনো মানে আছে? খালেদা জিয়া ঠিক সেভাবেই অর্থাৎ গ্রেসফুলি মহাকালের অংশ হয়ে গেলেন।
এইবার, মুদ্রার উল্টা দিকটা খেয়াল করেন। হাসিনা চরিত্রগতভাবেই খালেদার বাইপোলার অপোজিট। ডিকটেটরের ডিলেমাতে ভুগে সে দেড় বছর পরেও রিয়েলাইজ করতে পারে নায় ‘তার অপরাধটা কী?’
একবার চিন্তা করেন, মহিলাটা জাস্ট পায়ের তলায় পিষে যাওয়া একটা তেলাপোকার মতো ঘেন্না নিয়ে চলে যাবে। অসহায়ের মতো, অনাহুতের মতো, অবাঞ্ছিতের মতো, পৃথিবীর জন্য নিতান্ত অপ্রয়োজনীয় আবর্জনার মতো নিঃশেষ হয়ে যাবে।
বাংলাদেশে অনেক মিষ্টির দোকান খালি হয়ে যাবে ওইদিন। এমনকি, ওর লাশও যদি দেশে আনার চেষ্টা করা হয়, হাদির জানাজা পড়তে আসা মানুষের ঢল চতুর্দিক থেকে ঘেরাও করে এয়ারপোর্ট আটকায় ফেলবে।
বলা চলে, বাংলাদেশে হাসিনার কবর হবে না। ওই লাশ সইবে না বাংলার মাটি।
এতোখানি ডিসগ্রেস নিয়ে, এতো শহীদের অভিশাপ নিয়েও যে হাসিনা এতোদিন পর্যন্ত বেঁচে আছে, তার কারণ একটাই। সেটা হলো— শয়তান এতো সহজে মরে না।
এদিকে খালেদার অপ্রাপ্তির কিছু ছিলো না। পূর্ণ বয়সে, সব দায়িত্ব শেষ করে পরের প্রজন্মের হাতে দায়িত্ব তুলে দিয়ে, সম্মানের সাথে রাণীর মতো বিদায় নিলেন।
তবে তার দুর্ভাগ্য একটাই। সেটা হচ্ছে— ইতিহাসে তার নামটা হাসিনার নামের সাথে উচ্চারিত হবে।
(প্রবাসী লেখক শুভজিত ভৌমিকের ফেসবুক পোস্ট থেকে নেয়া)
Reporter Name 

























