ঢাকা ০৩:৫৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২১ মার্চ ২০২৬, ৬ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ভৈরবের রাজনীতিতে আদর্শহীনতার প্রতীক রফিকুল ইসলাম ‘জিন হুজুর’

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ০৪:৪৭:৩০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ৬৫ বার

Oplus_16908288

স্থানীয় পর্যায়ে নানা অভিযোগ ও বিতর্ক:

কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলার রাজনৈতিক অঙ্গনে রফিকুল ইসলাম ওরফে জিন হুজুর দীর্ঘদিন ধরেই একজন চরম সুবিধাবাদী চরিত্র হিসেবে আলোচিত—এমনটাই দাবি করছেন স্থানীয় রাজনৈতিক কর্মী ও সাধারণ জনগণ।

স্থানীয় সূত্রগুলো জানায়, একসময় তিনি বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় পর্যায়ের নেতা ছিলেন। সে সময় ঢাকায় বিভিন্ন অনিয়ম ও অপকর্মের অভিযোগের প্রেক্ষিতে ছাত্রলীগ থেকে তাকে বহিষ্কার করা হয় বলে রাজনৈতিক মহলে প্রচলিত আছে। পরবর্তীতে তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-তে যোগ দেন।

বিএনপিতে যোগদানের পর দলের সাবেক সংসদ সদস্য মরহুম লতিফ ভূঁইয়ার সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা গড়ে তুলে ব্যক্তিগত স্বার্থ আদায়ের চেষ্টা করেন—এমন অভিযোগ তৃণমূল পর্যায়ে দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত।

তবে অভিযোগ রয়েছে, গত পাঁচ বছর তিনি বিএনপির তৃণমূল পর্যায়ের কোনো সাংগঠনিক কার্যক্রমে সক্রিয় ছিলেন না; যার ফলে স্থানীয় বিএনপি সাংগঠনিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়ে।

পরবর্তীতে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় এলে তিনি প্রকাশ্যে আওয়ামী লীগের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিতি পান এবং দলটির প্রভাবশালী মহলের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা দেখান—এমন দাবিও রয়েছে স্থানীয়দের। সর্বশেষ তিনি জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দিয়েছেন বলে জানা গেছে, যা অনেকের মতে তার রাজনৈতিক আদর্শহীনতা ও সুযোগসন্ধানী চরিত্রের বহিঃপ্রকাশ।

এদিকে মরহুম রমজান মিয়ার পরিবারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি মহিলা কলেজ নিজের নামে প্রতিষ্ঠা করা নিয়েও এলাকায় তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের একাংশ একে বিশ্বাসভঙ্গ ও নৈতিকতার পরিপন্থী কাজ হিসেবে দেখছেন।

আরও অভিযোগ রয়েছে, আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে তিনি নিজের ভাই-বোন ও চাচাতো ভাইদের (মাফুজ ও তৌফিক) ন্যায্য পৈতৃক সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করতে তাদের বিরুদ্ধে মামলা করেন।

সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ হিসেবে স্থানীয়রা উল্লেখ করেন—নিজের ছোট ভাই, সাবেক তিনবারের নির্বাচিত ৭ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর আরিফুল ইসলামকে দুটি হত্যা মামলায় জড়ানো হয়, যা পরবর্তীতে আদালতে মিথ্যা প্রমাণিত হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি।
এই সব ঘটনার প্রেক্ষাপটে স্থানীয় জনগণের বড় একটি অংশের কাছে রফিকুল ইসলাম এখন বিশ্বাসঘাতক, ক্ষমতালোভী ও নৈতিকতাহীন ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত—এমনটাই উঠে এসেছে এলাকাবাসীর কথাবার্তায়।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রফিকুল ইসলামের রাজনৈতিক পথচলা কোনো আদর্শনির্ভর রাজনীতির উদাহরণ নয়; বরং এটি ক্ষমতা ও ব্যক্তিস্বার্থকেন্দ্রিক রাজনীতির একটি নেতিবাচক দৃষ্টান্ত হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

ভৈরবের রাজনীতিতে আদর্শহীনতার প্রতীক রফিকুল ইসলাম ‘জিন হুজুর’

আপডেট টাইম : ০৪:৪৭:৩০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ ডিসেম্বর ২০২৫

স্থানীয় পর্যায়ে নানা অভিযোগ ও বিতর্ক:

কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলার রাজনৈতিক অঙ্গনে রফিকুল ইসলাম ওরফে জিন হুজুর দীর্ঘদিন ধরেই একজন চরম সুবিধাবাদী চরিত্র হিসেবে আলোচিত—এমনটাই দাবি করছেন স্থানীয় রাজনৈতিক কর্মী ও সাধারণ জনগণ।

স্থানীয় সূত্রগুলো জানায়, একসময় তিনি বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় পর্যায়ের নেতা ছিলেন। সে সময় ঢাকায় বিভিন্ন অনিয়ম ও অপকর্মের অভিযোগের প্রেক্ষিতে ছাত্রলীগ থেকে তাকে বহিষ্কার করা হয় বলে রাজনৈতিক মহলে প্রচলিত আছে। পরবর্তীতে তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-তে যোগ দেন।

বিএনপিতে যোগদানের পর দলের সাবেক সংসদ সদস্য মরহুম লতিফ ভূঁইয়ার সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা গড়ে তুলে ব্যক্তিগত স্বার্থ আদায়ের চেষ্টা করেন—এমন অভিযোগ তৃণমূল পর্যায়ে দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত।

তবে অভিযোগ রয়েছে, গত পাঁচ বছর তিনি বিএনপির তৃণমূল পর্যায়ের কোনো সাংগঠনিক কার্যক্রমে সক্রিয় ছিলেন না; যার ফলে স্থানীয় বিএনপি সাংগঠনিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়ে।

পরবর্তীতে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় এলে তিনি প্রকাশ্যে আওয়ামী লীগের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিতি পান এবং দলটির প্রভাবশালী মহলের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা দেখান—এমন দাবিও রয়েছে স্থানীয়দের। সর্বশেষ তিনি জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দিয়েছেন বলে জানা গেছে, যা অনেকের মতে তার রাজনৈতিক আদর্শহীনতা ও সুযোগসন্ধানী চরিত্রের বহিঃপ্রকাশ।

এদিকে মরহুম রমজান মিয়ার পরিবারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি মহিলা কলেজ নিজের নামে প্রতিষ্ঠা করা নিয়েও এলাকায় তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের একাংশ একে বিশ্বাসভঙ্গ ও নৈতিকতার পরিপন্থী কাজ হিসেবে দেখছেন।

আরও অভিযোগ রয়েছে, আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে তিনি নিজের ভাই-বোন ও চাচাতো ভাইদের (মাফুজ ও তৌফিক) ন্যায্য পৈতৃক সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করতে তাদের বিরুদ্ধে মামলা করেন।

সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ হিসেবে স্থানীয়রা উল্লেখ করেন—নিজের ছোট ভাই, সাবেক তিনবারের নির্বাচিত ৭ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর আরিফুল ইসলামকে দুটি হত্যা মামলায় জড়ানো হয়, যা পরবর্তীতে আদালতে মিথ্যা প্রমাণিত হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি।
এই সব ঘটনার প্রেক্ষাপটে স্থানীয় জনগণের বড় একটি অংশের কাছে রফিকুল ইসলাম এখন বিশ্বাসঘাতক, ক্ষমতালোভী ও নৈতিকতাহীন ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত—এমনটাই উঠে এসেছে এলাকাবাসীর কথাবার্তায়।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রফিকুল ইসলামের রাজনৈতিক পথচলা কোনো আদর্শনির্ভর রাজনীতির উদাহরণ নয়; বরং এটি ক্ষমতা ও ব্যক্তিস্বার্থকেন্দ্রিক রাজনীতির একটি নেতিবাচক দৃষ্টান্ত হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।