ঢাকা ০৩:৪০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৬ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

তারেক রহমানের আগমনে প্রশাসনে নীরব কাঁপুনি মন্ত্রিপরিষদ সচিব পদ নিয়ে জল্পনা, অস্বস্তিতে ‘৮২ স্পেশাল ব্যাচ’

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ০২:৫৮:৩৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ৪৪ বার

Oplus_16908288

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান-এর স্বদেশ প্রত্যাবর্তনকে ঘিরে প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায়ে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে মন্ত্রিপরিষদ সচিব পদকে কেন্দ্র করে ভেতরে ভেতরে শুরু হয়েছে হিসাব-নিকাশ, উৎকণ্ঠা ও নানা রাজনৈতিক জল্পনা।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বর্তমান মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. শেখ আব্দুর রশিদ ১৯৮২ ব্যাচের কর্মকর্তা। তিনি প্রায় এক যুগ আগে সরকারি চাকরি থেকে অবসর গ্রহণ করেন। তবে ২০২৪ সালের জুলাই মাসের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ ও ভূতাপেক্ষ প্রোমোশনের মাধ্যমে আবারও প্রশাসনের সর্বোচ্চ গুরুত্বপূর্ণ পদে অধিষ্ঠিত হন—যা নিয়ে শুরু থেকেই বিতর্ক রয়েছে।

অন্যের পদ দখলের অভিযোগ;

সূত্রের দাবি, যে পদে বর্তমানে ড. শেখ আব্দুর রশিদ দায়িত্ব পালন করছেন, সেই পদে বৈধভাবে পদোন্নতিপ্রাপ্ত ছিলেন নবম বিসিএস ক্যাডারের সিনিয়র সচিব শামসুল আলম। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান ড. মুহাম্মদ ইউনুস স্বাক্ষরিত অনুমোদন থাকলেও দীর্ঘ এক বছর ধরে তাকে মন্ত্রিপরিষদ সচিব হিসেবে দায়িত্ব বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি।
বরং পদ ছেড়ে দেবেন—এমন প্রতিশ্রুতি দিয়েও ড. শেখ আব্দুর রশিদ কৌশলে সময়ক্ষেপণ করে নিজেই মন্ত্রিপরিষদ সচিব হিসেবে বহাল থাকেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে বঞ্চনা:

প্রশাসনের একাধিক সূত্র বলছে, শামসুল আলমকে দায়িত্ব না দেওয়ার পেছনে মূল কারণ রাজনৈতিক। সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া-এর শাসনামলে টানা প্রায় এক দশক এপিএস হিসেবে দায়িত্ব পালন করায় তাকে বিএনপিপন্থী আমলা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। সে কারণেই তাকে ‘৩৬ জুলাইয়ের কপিরাইট’ ও ‘জুলাই মাস্টারমাইন্ড আমলা’ আখ্যা দিয়ে পরিকল্পিতভাবে কোণঠাসা করা হয়েছে—এমন দাবিও উঠেছে।

অন্যদিকে, ভিন্ন রাজনৈতিক শক্তির এজেন্ডা বাস্তবায়নে সহযোগী ভূমিকা রাখার অভিযোগ থাকলেও ড. শেখ আব্দুর রশিদ প্রশাসনের শীর্ষ পদে টিকে থাকতে সক্ষম হয়েছেন—এ বিষয়টি এখন আর গোপন নয় বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

তারেক রহমানের আগমনে বদলাতে পারে চিত্র:

২৫ ডিসেম্বর তারেক রহমানের দেশে প্রত্যাবর্তনের পর বহু ঘটনা ও জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক বিশ্লেষকরা। সামনে জাতীয় নির্বাচন—এই প্রেক্ষাপটে প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে রদবদল যে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, সে বিষয়েও একমত সংশ্লিষ্ট মহল।

জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি ৫ জুলাইয়ের পটপরিবর্তনের পরপরই তারেক রহমান দেশে ফিরতেন, তাহলে আজ ড. শেখ আব্দুর রশিদ অবৈধভাবে মন্ত্রিপরিষদ সচিবের দায়িত্ব পালন করতে পারতেন না।

সামনে কী অপেক্ষা করছে:

৩৬ জুলাই এক্সপ্রেসওয়েতে দাঁড়িয়ে তারেক রহমান যে রাজনৈতিক বার্তা দিয়েছেন, তার বাস্তব প্রতিফলন প্রশাসনেও পড়বে—এমন প্রত্যাশা ক্রমেই জোরালো হচ্ছে। অনেকের ধারণা, শামসুল আলমকে তার প্রাপ্য পদ বুঝিয়ে দিয়ে ড. শেখ আব্দুর রশিদের সরে দাঁড়ানো এখন কেবল সময়ের অপেক্ষা।

পর্যবেক্ষক মহলের স্পষ্ট ভাষ্য—ক্ষমতা ও কৌশলের জোরে পদ দখলের রাজনীতি আর বেশিদিন টিকবে না। তাই এখনই ‘সাধু সাবধান’।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

তারেক রহমানের আগমনে প্রশাসনে নীরব কাঁপুনি মন্ত্রিপরিষদ সচিব পদ নিয়ে জল্পনা, অস্বস্তিতে ‘৮২ স্পেশাল ব্যাচ’

আপডেট টাইম : ০২:৫৮:৩৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ ডিসেম্বর ২০২৫

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান-এর স্বদেশ প্রত্যাবর্তনকে ঘিরে প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায়ে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে মন্ত্রিপরিষদ সচিব পদকে কেন্দ্র করে ভেতরে ভেতরে শুরু হয়েছে হিসাব-নিকাশ, উৎকণ্ঠা ও নানা রাজনৈতিক জল্পনা।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বর্তমান মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. শেখ আব্দুর রশিদ ১৯৮২ ব্যাচের কর্মকর্তা। তিনি প্রায় এক যুগ আগে সরকারি চাকরি থেকে অবসর গ্রহণ করেন। তবে ২০২৪ সালের জুলাই মাসের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ ও ভূতাপেক্ষ প্রোমোশনের মাধ্যমে আবারও প্রশাসনের সর্বোচ্চ গুরুত্বপূর্ণ পদে অধিষ্ঠিত হন—যা নিয়ে শুরু থেকেই বিতর্ক রয়েছে।

অন্যের পদ দখলের অভিযোগ;

সূত্রের দাবি, যে পদে বর্তমানে ড. শেখ আব্দুর রশিদ দায়িত্ব পালন করছেন, সেই পদে বৈধভাবে পদোন্নতিপ্রাপ্ত ছিলেন নবম বিসিএস ক্যাডারের সিনিয়র সচিব শামসুল আলম। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান ড. মুহাম্মদ ইউনুস স্বাক্ষরিত অনুমোদন থাকলেও দীর্ঘ এক বছর ধরে তাকে মন্ত্রিপরিষদ সচিব হিসেবে দায়িত্ব বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি।
বরং পদ ছেড়ে দেবেন—এমন প্রতিশ্রুতি দিয়েও ড. শেখ আব্দুর রশিদ কৌশলে সময়ক্ষেপণ করে নিজেই মন্ত্রিপরিষদ সচিব হিসেবে বহাল থাকেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে বঞ্চনা:

প্রশাসনের একাধিক সূত্র বলছে, শামসুল আলমকে দায়িত্ব না দেওয়ার পেছনে মূল কারণ রাজনৈতিক। সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া-এর শাসনামলে টানা প্রায় এক দশক এপিএস হিসেবে দায়িত্ব পালন করায় তাকে বিএনপিপন্থী আমলা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। সে কারণেই তাকে ‘৩৬ জুলাইয়ের কপিরাইট’ ও ‘জুলাই মাস্টারমাইন্ড আমলা’ আখ্যা দিয়ে পরিকল্পিতভাবে কোণঠাসা করা হয়েছে—এমন দাবিও উঠেছে।

অন্যদিকে, ভিন্ন রাজনৈতিক শক্তির এজেন্ডা বাস্তবায়নে সহযোগী ভূমিকা রাখার অভিযোগ থাকলেও ড. শেখ আব্দুর রশিদ প্রশাসনের শীর্ষ পদে টিকে থাকতে সক্ষম হয়েছেন—এ বিষয়টি এখন আর গোপন নয় বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

তারেক রহমানের আগমনে বদলাতে পারে চিত্র:

২৫ ডিসেম্বর তারেক রহমানের দেশে প্রত্যাবর্তনের পর বহু ঘটনা ও জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক বিশ্লেষকরা। সামনে জাতীয় নির্বাচন—এই প্রেক্ষাপটে প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে রদবদল যে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, সে বিষয়েও একমত সংশ্লিষ্ট মহল।

জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি ৫ জুলাইয়ের পটপরিবর্তনের পরপরই তারেক রহমান দেশে ফিরতেন, তাহলে আজ ড. শেখ আব্দুর রশিদ অবৈধভাবে মন্ত্রিপরিষদ সচিবের দায়িত্ব পালন করতে পারতেন না।

সামনে কী অপেক্ষা করছে:

৩৬ জুলাই এক্সপ্রেসওয়েতে দাঁড়িয়ে তারেক রহমান যে রাজনৈতিক বার্তা দিয়েছেন, তার বাস্তব প্রতিফলন প্রশাসনেও পড়বে—এমন প্রত্যাশা ক্রমেই জোরালো হচ্ছে। অনেকের ধারণা, শামসুল আলমকে তার প্রাপ্য পদ বুঝিয়ে দিয়ে ড. শেখ আব্দুর রশিদের সরে দাঁড়ানো এখন কেবল সময়ের অপেক্ষা।

পর্যবেক্ষক মহলের স্পষ্ট ভাষ্য—ক্ষমতা ও কৌশলের জোরে পদ দখলের রাজনীতি আর বেশিদিন টিকবে না। তাই এখনই ‘সাধু সাবধান’।