ঢাকা ০৫:১৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ২১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
দৈনিক আজকের সারাদিনের ২২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে স্মৃতি পদক পেলেন সাংবাদিক মনোয়ার হোসাইন রনি হামলা-দখল-চাঁদাবাজি থামবে কিভাবে: রাজনীতিতে ভিন্নতা থাকলেও অপরাধ মিলেমিশে আইটি ক্যারিয়ারের প্রস্তুতি, শিক্ষার্থীদের নিয়ে ‘লগইন ইনটু ইন্ডাস্ট্রি নেক্সট’ টানা পাঁচদিনের ছুটি পাচ্ছেন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অটোরিকশায় রক্তাক্ত মহাসড়ক গণমাধ্যমের স্বাধীনতার সঙ্গে জনগণের অধিকার সুরক্ষার তাগিদ তথ্য প্রতিমন্ত্রীর কবর দেওয়ার কত দিন পর একই কবরে দাফন করা যাবে আওয়ামী লীগের সঙ্গে রাজনৈতিক পুনর্মিলনের সুযোগ নেই: ডেপুটি স্পিকার ৭ নভেম্বর সাধারণ ছুটি ঘোষণা সবার জন্য নিরাপদ বাসস্থান নিশ্চিতে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ: প্রধানমন্ত্রী

ওয়াইজ পলিটিক্সের পথে তারেক রহমান: কবর জিয়ারত থেকে বৃহত্তর আস্থার রাজনীতি

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ০৫:২৭:০৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ১৯৩ বার

তারেক রহমান–এর দেশে ফেরার মাত্র দুই দিনের মাথায় কবি কাজী নজরুল ইসলাম ও শহিদ ওসমান হাদীর কবর জিয়ারত ছিল সময়োপযোগী ও গভীর রাজনৈতিক তাৎপর্যপূর্ণ এক সিদ্ধান্ত। এটি কেবল আবেগের প্রকাশ নয়; বরং চলমান রাজনৈতিক চক্রান্তের প্রেক্ষাপটে একটি সুপরিকল্পিত বার্তা।

শহিদ ওসমান হাদীর ভাই প্রকাশ্যেই পরোক্ষ অভিযোগ তুলেছেন—বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীসহ প্রতিক্রিয়াশীল গোষ্ঠীগুলোর দিকে। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট ইঙ্গিত ছিল—আপনারাই খুন করিয়েছেন, আবার নির্বাচন বানচালের চেষ্টা করছেন।

একটি হত্যাকাণ্ড, বহু বয়ান—একই চক্রান্ত
ওসমান হাদী গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর থেকেই দেশে ধারাবাহিকভাবে কিছু বয়ান ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে, যেগুলো মিলিয়ে দেখলে একটি সুস্পষ্ট রাজনৈতিক নকশা চোখে পড়ে—
নির্বাচন হতে দেওয়া হবে না
বিপ্লবী সরকার করতে হবে
বিএনপি ভারতের দালাল—এ ধরনের প্রচারণা
এই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল অত্যন্ত সতর্ক ও পরিমিত কৌশলে পরিস্থিতি মোকাবিলা করেছে—যা প্রকৃত অর্থেই Wise Politics।
বিএনপির কৌশলী মোকাবিলা
হত্যাকাণ্ডের পরপরই বিচার দাবিতে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি
জানাজায় বিএনপির পক্ষ থেকে উল্লেখযোগ্য জনসমাগম নিশ্চিত করা—যাতে কোনো অশুভ রাজনৈতিক অপচেষ্টা তাৎক্ষণিকভাবে নিষ্ক্রিয় করা যায়।

জানাজাস্থলে সালাহউদ্দিন আহমেদকে অপদস্থ করার চেষ্টাকে সেখানেই ব্যর্থ করে দেওয়া
‘বিপ্লবী সরকার’-এর তত্ত্বকে অঙ্কুরেই বিনষ্ট করা
এই ধারাবাহিকতার সর্বশেষ ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ—শহিদ ওসমান হাদীর কবর জিয়ারত।
আরও একটি ‘ওয়াইজ’ সিদ্ধান্ত প্রয়োজন
ওসমান হাদীর হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে লাশের রাজনীতি করতে গিয়ে যেসব সাংস্কৃতিক স্থাপনা ও গণমাধ্যমে আগুন দেওয়া হয়েছে—সেগুলোর অন্তত একটির পরিদর্শনের ঘোষণা যদি তারেক রহমানের কর্মসূচিতে যুক্ত হয়, তবে সেটি হবে আরও একটি শক্তিশালী বার্তা।

বার্তাটি হবে পরিষ্কার—বিএনপি ভাঙচুরের নয়, স্থিতিশীলতার রাজনীতি করে।
ভোট আবেগ নয়, নম্বরের খেলা
ভোট কোনো আবেগী বিষয় নয়; ভোট একটি সংখ্যাগত বাস্তবতা।

তারেক রহমানকে শুধু ডানপন্থী উগ্র গোষ্ঠীর মন জয়ের পথে হাঁটলে চলবে না। এই চরম রাজনৈতিক বিভাজনের সময়ে—
যারা অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ চায়
যারা ভাঙচুর নয়, নীরব প্রতিবাদ ও রাজনৈতিক সংস্কৃতি চায়
যারা এখনো সিদ্ধান্তহীন (প্রায় ৩৫ শতাংশ ভোটার)
—তাদের দিকেও তাকিয়ে আছে দেশ।
আওয়ামী লীগের যেসব সমর্থকের হাতে রক্তের দাগ নেই, তাদের ভোটও প্রয়োজন। তারা ইতোমধ্যে বিএনপির এই কয়েক দিনের ওয়াইজ পলিটিক্স লক্ষ করেছে। বাকিটা নির্ভর করছে সামনের দিনগুলোর কার্যক্রমের ওপর।

আশা ও আশঙ্কার মাঝখানে বাংলাদেশ
আমি খুশি—কারণ দায়িত্বশীল রাজনীতির ইঙ্গিত মিলছে।

আমি চিন্তিত—কারণ চক্রান্ত এখনও শেষ হয়নি।
তবু বিশ্বাস রাখতে হয়—বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে।
তারেক রহমানের ঐতিহাসিক দেশপ্রত্যাবর্তন যেন সত্যিকার অর্থেই ঐতিহাসিক হয়ে থাকে।

তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ হোক সবার বাংলাদেশ।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

দৈনিক আজকের সারাদিনের ২২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে স্মৃতি পদক পেলেন সাংবাদিক মনোয়ার হোসাইন রনি

ওয়াইজ পলিটিক্সের পথে তারেক রহমান: কবর জিয়ারত থেকে বৃহত্তর আস্থার রাজনীতি

আপডেট টাইম : ০৫:২৭:০৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ ডিসেম্বর ২০২৫

তারেক রহমান–এর দেশে ফেরার মাত্র দুই দিনের মাথায় কবি কাজী নজরুল ইসলাম ও শহিদ ওসমান হাদীর কবর জিয়ারত ছিল সময়োপযোগী ও গভীর রাজনৈতিক তাৎপর্যপূর্ণ এক সিদ্ধান্ত। এটি কেবল আবেগের প্রকাশ নয়; বরং চলমান রাজনৈতিক চক্রান্তের প্রেক্ষাপটে একটি সুপরিকল্পিত বার্তা।

শহিদ ওসমান হাদীর ভাই প্রকাশ্যেই পরোক্ষ অভিযোগ তুলেছেন—বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীসহ প্রতিক্রিয়াশীল গোষ্ঠীগুলোর দিকে। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট ইঙ্গিত ছিল—আপনারাই খুন করিয়েছেন, আবার নির্বাচন বানচালের চেষ্টা করছেন।

একটি হত্যাকাণ্ড, বহু বয়ান—একই চক্রান্ত
ওসমান হাদী গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর থেকেই দেশে ধারাবাহিকভাবে কিছু বয়ান ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে, যেগুলো মিলিয়ে দেখলে একটি সুস্পষ্ট রাজনৈতিক নকশা চোখে পড়ে—
নির্বাচন হতে দেওয়া হবে না
বিপ্লবী সরকার করতে হবে
বিএনপি ভারতের দালাল—এ ধরনের প্রচারণা
এই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল অত্যন্ত সতর্ক ও পরিমিত কৌশলে পরিস্থিতি মোকাবিলা করেছে—যা প্রকৃত অর্থেই Wise Politics।
বিএনপির কৌশলী মোকাবিলা
হত্যাকাণ্ডের পরপরই বিচার দাবিতে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি
জানাজায় বিএনপির পক্ষ থেকে উল্লেখযোগ্য জনসমাগম নিশ্চিত করা—যাতে কোনো অশুভ রাজনৈতিক অপচেষ্টা তাৎক্ষণিকভাবে নিষ্ক্রিয় করা যায়।

জানাজাস্থলে সালাহউদ্দিন আহমেদকে অপদস্থ করার চেষ্টাকে সেখানেই ব্যর্থ করে দেওয়া
‘বিপ্লবী সরকার’-এর তত্ত্বকে অঙ্কুরেই বিনষ্ট করা
এই ধারাবাহিকতার সর্বশেষ ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ—শহিদ ওসমান হাদীর কবর জিয়ারত।
আরও একটি ‘ওয়াইজ’ সিদ্ধান্ত প্রয়োজন
ওসমান হাদীর হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে লাশের রাজনীতি করতে গিয়ে যেসব সাংস্কৃতিক স্থাপনা ও গণমাধ্যমে আগুন দেওয়া হয়েছে—সেগুলোর অন্তত একটির পরিদর্শনের ঘোষণা যদি তারেক রহমানের কর্মসূচিতে যুক্ত হয়, তবে সেটি হবে আরও একটি শক্তিশালী বার্তা।

বার্তাটি হবে পরিষ্কার—বিএনপি ভাঙচুরের নয়, স্থিতিশীলতার রাজনীতি করে।
ভোট আবেগ নয়, নম্বরের খেলা
ভোট কোনো আবেগী বিষয় নয়; ভোট একটি সংখ্যাগত বাস্তবতা।

তারেক রহমানকে শুধু ডানপন্থী উগ্র গোষ্ঠীর মন জয়ের পথে হাঁটলে চলবে না। এই চরম রাজনৈতিক বিভাজনের সময়ে—
যারা অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ চায়
যারা ভাঙচুর নয়, নীরব প্রতিবাদ ও রাজনৈতিক সংস্কৃতি চায়
যারা এখনো সিদ্ধান্তহীন (প্রায় ৩৫ শতাংশ ভোটার)
—তাদের দিকেও তাকিয়ে আছে দেশ।
আওয়ামী লীগের যেসব সমর্থকের হাতে রক্তের দাগ নেই, তাদের ভোটও প্রয়োজন। তারা ইতোমধ্যে বিএনপির এই কয়েক দিনের ওয়াইজ পলিটিক্স লক্ষ করেছে। বাকিটা নির্ভর করছে সামনের দিনগুলোর কার্যক্রমের ওপর।

আশা ও আশঙ্কার মাঝখানে বাংলাদেশ
আমি খুশি—কারণ দায়িত্বশীল রাজনীতির ইঙ্গিত মিলছে।

আমি চিন্তিত—কারণ চক্রান্ত এখনও শেষ হয়নি।
তবু বিশ্বাস রাখতে হয়—বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে।
তারেক রহমানের ঐতিহাসিক দেশপ্রত্যাবর্তন যেন সত্যিকার অর্থেই ঐতিহাসিক হয়ে থাকে।

তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ হোক সবার বাংলাদেশ।