ঢাকা ০৭:০১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬, ৩১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
ডাকাত আতঙ্কে পর্যটকশূন্য কিশোরগঞ্জের হাওর ভেঙে পড়েছে পর্যটন অর্থনীতি, বিপাকে হাজারো মানুষের জীবিকা শিক্ষার্থীদের স্বার্থই সরকারের অগ্রাধিকার: মাহদী আমিন ফের লঘুচাপ সৃষ্টির আভাস, আবহাওয়া নিয়ে নতুন বার্তা অধিদপ্তরের চলতি অর্থবছরেই ৪১ লাখ নতুন ফ্যামিলি কার্ড দেবে সরকার দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা সরকারের প্রধান নীতিগত অগ্রাধিকার : প্রধানমন্ত্রী সংসদে ‘ব্যক্তিগত মন্তব্য’ নিয়ে দুঃখ প্রকাশ করলেন শিক্ষামন্ত্রী আদমদীঘিতে কাঁচা মরিচের দামে ‘সেঞ্চুরি’, স্বস্তিতে কৃষক ব্রয়লার মুরগি খাওয়া কতটা নিরাপদ ‘ব্রয়লার মুরগি’ মন্তব্য নিয়ে যে ব্যাখ্যা দিলেন ছাত্রদলের নাছির দেশের যেসব অঞ্চলে রাত ১টার মধ্যে ঝড়ের আভাস

মদনে মৌখিক অনুমতিতে ভেকু দিয়ে চলছে মাটি কাটার মহাউৎসব

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ০৩:৩১:১৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ১০৫ বার

Oplus_16908288

জেলা (নেত্রকোণা) প্রতিনিধিঃ দীর্ঘদিন ধরে নেত্রকোণা মদন উপজেলায় মৌখিক অনুমতিতে, প্রায় প্রতিটি হাওরে দিন-রাত চলছে বাণিজ্যিক ভাবে ভেকু দিয়ে মাটি কাটার মহাউৎসব।

সম্প্রতি মদন উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়ন ঘুরে দেখা যায়, হাওরের ফসলী জমির ২/৩ ফুট (টপ সয়েল) মাটি তুলে নিয়ে বিক্রি করছে মদন পৌর শহরের বিভিন্ন স্থানে ও ইটভাটায়। মাটি কাটাকে কেন্দ্র করে সড়কগুলোতে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে শত শত অনুমোদন বিহীন ট্রলি ও ড্রাম ট্রাক। এসব গাড়ির অবাধ চলাচলের কারণে নষ্ট হচ্ছে গ্রামীণ সড়ক। ট্রলি ও ট্রাকে বহন করা মাটি সড়কের ওপরে পড়ে থাকছে। অতিরিক্ত গাড়ি চলাচলের কারনে সারাদিন ধুলোর কোয়াশায় আচ্ছন্ন থাকে রাস্তাঘাট। এতে বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি। বৃষ্টি হলেই সড়ক ভিজে মাটি পিচ্ছিল হয়ে প্রতিনিয়ত ঘটে দূর্ঘটনা।

সুশীল সমাজের একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা আজহারুল ইসলাম হিরো বলেন, মাটি ব্যবসায়ীরা নগদ টাকার প্রলোভন দেখিয়ে, অল্প টাকায় জমির মালিকদের নিকট থেকে ফসলি জমির মাটি কিনে নেয়। আর এ মাটি বাণিজ্যিক ভাবে বিক্রি করছেন বিভিন্ন স্থানে ও ইটভাটায়। উপজেলা প্রশাসন এ বিষয়ে দু-একটি অভিযান পরিচালনা করলেও কোনো ভাবেই থামছে না অপরিকল্পিত মাটি কাটা। এতে করে জমির উর্বরতা হারিয়ে ফসল উৎপাদন কমে যাচ্ছে। অন্যদিকে দিন দিন ছোট হয়ে আসছে মদন উপজেলার মানচিত্র। মাটি কাটা বন্ধ করতে চাইলে কর্তৃপক্ষের প্রয়োজনীয় অভিযান পরিচালনা করে দোষীদের শাস্তির আওতায় আনতে হবে।

মাটি ব্যবসায়ীদের একজন সাইকুল মিয়া জানান, মানুষের প্রয়োজনে আমরা মাটি কাটি। প্রশাসন আমাদের মৌখিক অনুমতি না দিয়ে, লিখিত অনুমতি দিলে আমরা হয়রানি থেকে বাঁচি। লিখিত অনুমতি না থাকায় আমরা হয়রানির শিকার হচ্ছি।

জমির মালিকদের একজন আজহারুল ইসলাম জানান, আমরা আমাদের প্রয়োজনেই নিজের জমি থেকে মাটি কাটি।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান জানান, ফসলি জমির টপ সয়েল কেটে ফেললে জমির অনেক ক্ষতি হয়। এই ক্ষতি পূরণ করতে প্রায় ৩ বছর সময় লাগে। ভেকু দিয়ে মাটি কাটতে আমি দু’এক জায়গায় দেখেছি। জমির টপ সয়েল কাটতে আমরা কৃষকদের নিরুৎসাহি করছি।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার বেদবতী মিস্ত্রী জানান, ভেকু দিয়ে ফসলি জমি থেকে মাটি কাটা বন্ধে, অভিযান চলমান আছে, চলমান থাকবে।

 

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

ডাকাত আতঙ্কে পর্যটকশূন্য কিশোরগঞ্জের হাওর ভেঙে পড়েছে পর্যটন অর্থনীতি, বিপাকে হাজারো মানুষের জীবিকা

মদনে মৌখিক অনুমতিতে ভেকু দিয়ে চলছে মাটি কাটার মহাউৎসব

আপডেট টাইম : ০৩:৩১:১৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০২৫

জেলা (নেত্রকোণা) প্রতিনিধিঃ দীর্ঘদিন ধরে নেত্রকোণা মদন উপজেলায় মৌখিক অনুমতিতে, প্রায় প্রতিটি হাওরে দিন-রাত চলছে বাণিজ্যিক ভাবে ভেকু দিয়ে মাটি কাটার মহাউৎসব।

সম্প্রতি মদন উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়ন ঘুরে দেখা যায়, হাওরের ফসলী জমির ২/৩ ফুট (টপ সয়েল) মাটি তুলে নিয়ে বিক্রি করছে মদন পৌর শহরের বিভিন্ন স্থানে ও ইটভাটায়। মাটি কাটাকে কেন্দ্র করে সড়কগুলোতে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে শত শত অনুমোদন বিহীন ট্রলি ও ড্রাম ট্রাক। এসব গাড়ির অবাধ চলাচলের কারণে নষ্ট হচ্ছে গ্রামীণ সড়ক। ট্রলি ও ট্রাকে বহন করা মাটি সড়কের ওপরে পড়ে থাকছে। অতিরিক্ত গাড়ি চলাচলের কারনে সারাদিন ধুলোর কোয়াশায় আচ্ছন্ন থাকে রাস্তাঘাট। এতে বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি। বৃষ্টি হলেই সড়ক ভিজে মাটি পিচ্ছিল হয়ে প্রতিনিয়ত ঘটে দূর্ঘটনা।

সুশীল সমাজের একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা আজহারুল ইসলাম হিরো বলেন, মাটি ব্যবসায়ীরা নগদ টাকার প্রলোভন দেখিয়ে, অল্প টাকায় জমির মালিকদের নিকট থেকে ফসলি জমির মাটি কিনে নেয়। আর এ মাটি বাণিজ্যিক ভাবে বিক্রি করছেন বিভিন্ন স্থানে ও ইটভাটায়। উপজেলা প্রশাসন এ বিষয়ে দু-একটি অভিযান পরিচালনা করলেও কোনো ভাবেই থামছে না অপরিকল্পিত মাটি কাটা। এতে করে জমির উর্বরতা হারিয়ে ফসল উৎপাদন কমে যাচ্ছে। অন্যদিকে দিন দিন ছোট হয়ে আসছে মদন উপজেলার মানচিত্র। মাটি কাটা বন্ধ করতে চাইলে কর্তৃপক্ষের প্রয়োজনীয় অভিযান পরিচালনা করে দোষীদের শাস্তির আওতায় আনতে হবে।

মাটি ব্যবসায়ীদের একজন সাইকুল মিয়া জানান, মানুষের প্রয়োজনে আমরা মাটি কাটি। প্রশাসন আমাদের মৌখিক অনুমতি না দিয়ে, লিখিত অনুমতি দিলে আমরা হয়রানি থেকে বাঁচি। লিখিত অনুমতি না থাকায় আমরা হয়রানির শিকার হচ্ছি।

জমির মালিকদের একজন আজহারুল ইসলাম জানান, আমরা আমাদের প্রয়োজনেই নিজের জমি থেকে মাটি কাটি।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান জানান, ফসলি জমির টপ সয়েল কেটে ফেললে জমির অনেক ক্ষতি হয়। এই ক্ষতি পূরণ করতে প্রায় ৩ বছর সময় লাগে। ভেকু দিয়ে মাটি কাটতে আমি দু’এক জায়গায় দেখেছি। জমির টপ সয়েল কাটতে আমরা কৃষকদের নিরুৎসাহি করছি।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার বেদবতী মিস্ত্রী জানান, ভেকু দিয়ে ফসলি জমি থেকে মাটি কাটা বন্ধে, অভিযান চলমান আছে, চলমান থাকবে।