উচ্চশিক্ষা, মেধা, মানবতা আর কর্মনিষ্ঠার সমন্বয়ে গড়ে ওঠা এক অনন্য ব্যক্তিত্ব ডা. জোবাইদা রহমান। তিনি কারো পারিবারিক পরিচয়ের আড়ালে নন—নিজস্ব মেধা, পরিশ্রম ও মানবিকতায় তৈরি করেছেন এক স্বতন্ত্র পরিচয়। চিকিৎসা বিজ্ঞানের জগতে তাঁর অর্জন আজ আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত।
কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে এই অরাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে ঘিরে নানা গণমাধ্যমে অতিরঞ্জিত সংবাদ প্রকাশিত হচ্ছে, যা তাঁকে জনপ্রিয় করার উদ্দেশ্যে নয়—বরং তাঁর ভাবমূর্তিকে ক্ষুণ্ন করার অপচেষ্টা বলেই মনে করছে অনেকেই। রাজনৈতিক পরিসরেও তাঁকে নিয়ে আলোচনার নতুন মাত্রা তৈরি হয়েছে।
এক সময় মন্ত্রিসভার বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁকে ‘‘উচ্চশিক্ষিত ও মেধাবী’’ ব্যক্তিত্ব হিসেবে উল্লেখ করে মন্তব্য করেছিলেন—ডা. জোবাইদা রহমান রাজনীতিতে এলে ভালো করবেন। তবে এই প্রশংসার আড়ালেই অনেকেই দেখেছিলেন তাঁর উজ্জ্বল শিক্ষা-অর্জন ও গ্রহণযোগ্যতার প্রতি এক ধরনের অস্বস্তি বা ভয়ের ছায়া। উচ্চশিক্ষা, বংশমর্যাদা ও আন্তর্জাতিক মানের অর্জন—এসবই তাঁকে স্বতন্ত্রভাবে তুলে ধরে।
শিক্ষাজীবনে একের পর এক শিখর স্পর্শ:
ডা. জোবাইদা রহমানের শিক্ষা ও পেশাগত জীবন এক কথায় উজ্জ্বলতার ধারাবাহিকতা।
ঢাকা মেডিকেল কলেজের ইতিহাসে ডিস্টিংশনসহ সর্বোচ্চ মার্কস নিয়ে এমবিবিএস ডিগ্রি অর্জন—যা এক বিরল অর্জন।
এর পর উচ্চশিক্ষার নেশায় পাড়ি জমান যুক্তরাজ্যের বিশ্বখ্যাত ইমপেরিয়াল কলেজ লন্ডন-এ।
কার্ডিওলজিতে মাস্টার্স (MSc in Cardiology) কোর্সে ৮৩% নম্বর পেয়ে প্রথম স্থান অধিকার করেন।
ইউরোপীয় ইউনিয়ন, কমনওয়েলথভুক্ত দেশ, চীন, নাইজেরিয়া সহ ৫৫টি দেশের মেধাবীদের মধ্যেও তিনি ছিলেন শীর্ষে।
এই সাফল্য তাঁকে আন্তর্জাতিক পেশাজীবনে একাধিক লোভনীয় প্রস্তাব এনে দিলেও সেসবকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বেছে নেন দেশের সেবার পথ।
দেশের মানুষের সেবাকে জীবনের ব্রত:
বিশ্বজোড়া সম্ভাবনাকে পাশ কাটিয়ে দেশেই ফিরে এসে ১৯৯৫ সালে তিনি বিসিএস স্বাস্থ্য ক্যাডারে যোগ দেন। সামান্য একটি সরকারি চাকরি—কিন্তু তাঁর কাছে সেটাই ছিল দেশের মানুষের পাশে থাকার বড় সুযোগ।
তাঁর ধ্যান-জ্ঞান এখনো—কীভাবে দেশের চিকিৎসাসেবা আরও আধুনিক হবে।
তাঁর দীর্ঘদিনের স্বপ্ন—
বাংলাদেশে একটি আন্তর্জাতিক মানের হৃদরোগ হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা।
বিশ্বমানের কার্ডিয়াক কেয়ার সেন্টার বানানোর এই পরিকল্পনা দেশের কোটি মানুষের প্রত্যাশার সঙ্গে মিল রেখেছে।
ধ্বংসস্তূপের স্বাস্থ্যখাতে এক আলোর রেখা:
আজ দেশের স্বাস্থ্যখাত নানা সংকটে জর্জরিত। বিদেশমুখী চিকিৎসা নির্ভরতা, অব্যবস্থাপনা ও মানহীনতা নিয়ে সাধারণ মানুষের হতাশা চরমে। মন্ত্রী-এমপি থেকে শুরু করে সম্পদশালী নাগরিকদেরও চিকিৎসার জন্য বিদেশে ছুটতে হয়—যা রাষ্ট্রের সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে।
এই প্রেক্ষাপটে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন—
রাজনীতি করুন বা না-করুন, ডা. জোবাইদা রহমানের মতো বিশ্বমানের একজন চিকিৎসক দেশের স্বাস্থ্যখাতে পরিবর্তনের অন্যতম চাবিকাঠি হতে পারেন।
তাঁর শিক্ষা, অভিজ্ঞতা, আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ ও দেশপ্রেম—সব মিলিয়ে তাঁর মতো দক্ষতা দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থায় এক বড় পরিবর্তনের সূচনা করতে পারে।
অপপ্রচার নয়, প্রয়োজন তাঁর মেধার সদ্ব্যবহার:
আজ যখন কিছু গণমাধ্যমে তাঁকে নিয়ে অযথা অতিরঞ্জিত ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সংবাদ প্রচার হচ্ছে, তখন বাস্তবতা হলো—দেশের স্বাস্থ্যখাতকে পুনর্গঠনে তাঁর মতো ব্যক্তিত্বের প্রয়োজন আরও বেশি।
বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ চায়—
দেশে এমন একটি স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে উঠুক, যেখানে আস্থা রেখে চিকিৎসা নেওয়া যায়।
আর সে পথেই ডা. জোবাইদা রহমান অনেকদিন ধরেই একটি আলোকবর্তিকার মতো দাঁড়িয়ে আছেন।
Reporter Name 






















