ঢাকা ১১:৩১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
তুমি আমাদের কবে মুক্তি দেবে, পরীমণিকে আসিফ প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে তারেক রহমানের সপরিবারে সাক্ষাৎ আসন ভাগাভাগি: জামায়াত ১৭৯, এনসিপি ৩০, অন্যরা যা পেল ২১ এপ্রিল শুরু হচ্ছে এসএসসি, চলবে ২০ মে পর্যন্ত নির্ধারিত সময়েই নির্বাচন হবে, সংশয় ছড়িয়ে লাভ নেই: রিজওয়ানা হাসান আপিলেও জাতীয় পার্টির মুজিবুল হক চুন্নুর মনোনয়ন বাতিল জুলাই যোদ্ধাদের দায়মুক্তি আইনের অনুমোদন উপদেষ্টা পরিষদে জাইমা রহমানের আসল ফেসবুক-ইনস্টাগ্রাম আইডি জানালো বিএনপি যুক্তরাজ্যে রাজনৈতিক আশ্রয় পেলেন ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভুত ইসরায়েলি নাগরিক ভিসা স্থগিতের কারণ জানাল যুক্তরাষ্ট্র, আওতার বাইরে থাকবেন যারা

এক বছরে দেশে কোটিপতি বেড়েছে প্রায় ১১ হাজার

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১০:৫৪:৩০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ২৩ বার

দেশের ব্যাংকগুলোতে কোটি টাকা বা তার বেশি অঙ্কের আমানতকারীর হিসাব বাড়ছে ধারাবাহিকভাবে। অর্থনৈতিক সংকট, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও মূল্যস্ফীতির চাপে সাধারণ মানুষের সঞ্চয় কমলেও বড় অঙ্কের জমা বাড়ছে উল্টো গতিতে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ব্যাংকে কোটি টাকা বা তার বেশি জমা আছেএমন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের হিসাব এখন এক লাখ ২৮ হাজারের বেশি।

খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, নিত্যপণ্যের দাম বাড়ায় নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো আগের সঞ্চয় খরচ করতে বাধ্য হচ্ছেন। ফলে ছোট অঙ্কের আমানত কমছে। বিপরীতে সমাজের একটি শ্রেণির আয়-সম্পদ বাড়ছে উল্লেখযোগ্যভাবে। অর্থনৈতিক চাপ থাকলেও সম্পদশালীদের সম্পদ বৃদ্ধির গতি কমেনি– কোটিপতি হিসাবের প্রবৃদ্ধিই তার ইঙ্গিত।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ তথ্য বলছে, ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে কোটিপতি হিসাবের সংখ্যা ছিল ১ লাখ ১৭ হাজার ১২৭টি। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ২৮ হাজার ৭০টিতে। এক বছরে বৃদ্ধি ১০ হাজার ৯৪৩টি– হার ৯ দশমিক ৩৪ শতাংশ।

তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, বড় অঙ্কের সব কোটায় হিসাব বেড়েছে; শুধু ২৫৩০ কোটি টাকার আমানতকারীর হিসাব কিছুটা কমেছে। গত বছরের সেপ্টেম্বরে এই ক্যাটাগরিতে ছিল ৯৬৮টি হিসাব, এবার কমে দাঁড়িয়েছে ৮৯৪টিতে।

বিশেষজ্ঞদের মত, জিডিপি ও মাথাপিছু আয়ের প্রবৃদ্ধি সঞ্চয় করার সুযোগ তৈরি করলেও প্রবৃদ্ধির সুফল সমাজের নির্দিষ্ট একটি শ্রেণির মধ্যেই সীমাবদ্ধ। ফলে কোটিপতির প্রকৃত সংখ্যা সরকারি হিসেবের চেয়ে অনেক বেশি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কারণ, এই পরিসংখ্যানে শুধু ব্যাংকে জমা থাকা অর্থই ধরা হয়; অন্যান্য সম্পদ এতে অন্তর্ভুক্ত নয়।

এদিকে জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বরতিন প্রান্তিকের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায় আমানত ও ঋণের প্রবৃদ্ধি কমছে। এপ্রিলজুন প্রান্তিকে আমানত বৃদ্ধি ছিল ৩ দশমিক ৮০ শতাংশ; জুলাইসেপ্টেম্বরে নেমে দাঁড়ায় ১ দশমিক ৭৩ শতাংশে– এই সময়ে প্রবৃদ্ধি সর্বনিম্ন। ব্যবসাবাণিজ্যে মন্দার কারণে চলতি হিসাবের আমানত প্রায় ৫ শতাংশ কমেছে। গ্রামে আমানত প্রবাহ কমায় গ্রামীণ অর্থনীতিতে চাপ বাড়ছে।

তবে মেয়াদি আমানত বেড়েছে সাড়ে ৫ শতাংশ। এতে ব্যাংকের সার্বিক তারল্যচিত্র উন্নত হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টদের ধারণা।

ঋণপ্রবাহেও একই পরিস্থিতি। জানুয়ারিমার্চে ঋণের প্রবৃদ্ধি ছিল ১ দশমিক ৭৭ শতাংশ, জুলাইসেপ্টেম্বরে নেমে এসেছে মাত্র শূন্য দশমিক ৪৪ শতাংশে। শহরে ঋণপ্রবাহ সামান্য বাড়লেও গ্রামে টানা তিন প্রান্তিক ধরে তা কমছে- সর্বশেষ প্রান্তিকে কমেছে শূন্য দশমিক ৬২ শতাংশ।

তথ্য বলছে, ১৯৭২ সালে ব্যাংক খাতে মাত্র পাঁচজন কোটিপতি ছিলেন। ২০০৮ সালে তা পৌঁছায় ১৯ হাজারে। বর্তমানে এই সংখ্যা ছাড়িয়েছে এক লাখ ২৮ হাজার।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, বৈধ উপায়ে কোটিপতি বাড়া অর্থনীতির ইতিবাচক দিক। তবে কোথাও যদি কালো টাকার সম্পৃক্ততা থাকে, তা খতিয়ে দেখা জরুরি।

বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিসের সাবেক লিড ইকোনমিস্ট জাহিদ হোসেন বলেন, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দুর্নীতিবাজ গোষ্ঠীর অর্থপাচারের সুযোগ কমেছে। ফলে তারা বিভিন্ন উপায়ে ব্যাংকে অর্থ রাখছেন। পাশাপাশি অস্থির সময় ব্যাংক থেকে যারা টাকা তুলে নিয়েছিলেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ায় আবার ব্যাংকে জমাচ্ছেন। এতে সার্বিক আমানত বেড়েছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

তুমি আমাদের কবে মুক্তি দেবে, পরীমণিকে আসিফ

এক বছরে দেশে কোটিপতি বেড়েছে প্রায় ১১ হাজার

আপডেট টাইম : ১০:৫৪:৩০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ ডিসেম্বর ২০২৫

দেশের ব্যাংকগুলোতে কোটি টাকা বা তার বেশি অঙ্কের আমানতকারীর হিসাব বাড়ছে ধারাবাহিকভাবে। অর্থনৈতিক সংকট, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও মূল্যস্ফীতির চাপে সাধারণ মানুষের সঞ্চয় কমলেও বড় অঙ্কের জমা বাড়ছে উল্টো গতিতে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ব্যাংকে কোটি টাকা বা তার বেশি জমা আছেএমন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের হিসাব এখন এক লাখ ২৮ হাজারের বেশি।

খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, নিত্যপণ্যের দাম বাড়ায় নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো আগের সঞ্চয় খরচ করতে বাধ্য হচ্ছেন। ফলে ছোট অঙ্কের আমানত কমছে। বিপরীতে সমাজের একটি শ্রেণির আয়-সম্পদ বাড়ছে উল্লেখযোগ্যভাবে। অর্থনৈতিক চাপ থাকলেও সম্পদশালীদের সম্পদ বৃদ্ধির গতি কমেনি– কোটিপতি হিসাবের প্রবৃদ্ধিই তার ইঙ্গিত।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ তথ্য বলছে, ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে কোটিপতি হিসাবের সংখ্যা ছিল ১ লাখ ১৭ হাজার ১২৭টি। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ২৮ হাজার ৭০টিতে। এক বছরে বৃদ্ধি ১০ হাজার ৯৪৩টি– হার ৯ দশমিক ৩৪ শতাংশ।

তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, বড় অঙ্কের সব কোটায় হিসাব বেড়েছে; শুধু ২৫৩০ কোটি টাকার আমানতকারীর হিসাব কিছুটা কমেছে। গত বছরের সেপ্টেম্বরে এই ক্যাটাগরিতে ছিল ৯৬৮টি হিসাব, এবার কমে দাঁড়িয়েছে ৮৯৪টিতে।

বিশেষজ্ঞদের মত, জিডিপি ও মাথাপিছু আয়ের প্রবৃদ্ধি সঞ্চয় করার সুযোগ তৈরি করলেও প্রবৃদ্ধির সুফল সমাজের নির্দিষ্ট একটি শ্রেণির মধ্যেই সীমাবদ্ধ। ফলে কোটিপতির প্রকৃত সংখ্যা সরকারি হিসেবের চেয়ে অনেক বেশি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কারণ, এই পরিসংখ্যানে শুধু ব্যাংকে জমা থাকা অর্থই ধরা হয়; অন্যান্য সম্পদ এতে অন্তর্ভুক্ত নয়।

এদিকে জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বরতিন প্রান্তিকের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায় আমানত ও ঋণের প্রবৃদ্ধি কমছে। এপ্রিলজুন প্রান্তিকে আমানত বৃদ্ধি ছিল ৩ দশমিক ৮০ শতাংশ; জুলাইসেপ্টেম্বরে নেমে দাঁড়ায় ১ দশমিক ৭৩ শতাংশে– এই সময়ে প্রবৃদ্ধি সর্বনিম্ন। ব্যবসাবাণিজ্যে মন্দার কারণে চলতি হিসাবের আমানত প্রায় ৫ শতাংশ কমেছে। গ্রামে আমানত প্রবাহ কমায় গ্রামীণ অর্থনীতিতে চাপ বাড়ছে।

তবে মেয়াদি আমানত বেড়েছে সাড়ে ৫ শতাংশ। এতে ব্যাংকের সার্বিক তারল্যচিত্র উন্নত হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টদের ধারণা।

ঋণপ্রবাহেও একই পরিস্থিতি। জানুয়ারিমার্চে ঋণের প্রবৃদ্ধি ছিল ১ দশমিক ৭৭ শতাংশ, জুলাইসেপ্টেম্বরে নেমে এসেছে মাত্র শূন্য দশমিক ৪৪ শতাংশে। শহরে ঋণপ্রবাহ সামান্য বাড়লেও গ্রামে টানা তিন প্রান্তিক ধরে তা কমছে- সর্বশেষ প্রান্তিকে কমেছে শূন্য দশমিক ৬২ শতাংশ।

তথ্য বলছে, ১৯৭২ সালে ব্যাংক খাতে মাত্র পাঁচজন কোটিপতি ছিলেন। ২০০৮ সালে তা পৌঁছায় ১৯ হাজারে। বর্তমানে এই সংখ্যা ছাড়িয়েছে এক লাখ ২৮ হাজার।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, বৈধ উপায়ে কোটিপতি বাড়া অর্থনীতির ইতিবাচক দিক। তবে কোথাও যদি কালো টাকার সম্পৃক্ততা থাকে, তা খতিয়ে দেখা জরুরি।

বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিসের সাবেক লিড ইকোনমিস্ট জাহিদ হোসেন বলেন, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দুর্নীতিবাজ গোষ্ঠীর অর্থপাচারের সুযোগ কমেছে। ফলে তারা বিভিন্ন উপায়ে ব্যাংকে অর্থ রাখছেন। পাশাপাশি অস্থির সময় ব্যাংক থেকে যারা টাকা তুলে নিয়েছিলেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ায় আবার ব্যাংকে জমাচ্ছেন। এতে সার্বিক আমানত বেড়েছে।