বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, আমরা শুনেছি একটি রাজনৈতিক দলের (জামায়াত) কিছু ব্যক্তি বা বেশ কিছু বিভিন্ন জিনিসের টিকিট বিক্রি করে বেড়াচ্ছে, বিভিন্ন জিনিসের কনফার্মেশন দিয়ে বেড়াচ্ছে। এখন এখন আমি যতটুকু বুঝি, ধর্মীয় বিষয়ে অনেক মুরুব্বি ব্যক্তি আছেন, বুজুর্গ ব্যক্তি আছেন। আমি একজন সাধারণ মুসলমান হিসেবে যতটুকু বুঝি, যা আমার না আমি যদি তা দেবার কথা বলি। অর্থাৎ যেটি আমার না সেটির কমিটমেন্ট যদি করি তাহলে আমি তার সাথে সমকক্ষ দেখছি। অর্থাৎ দোজখ-বেহেশত-দুনিয়া সবকিছুর মালিক আল্লাহ। যেটার মালিক আল্লাহ, যেটার কথা একমাত্র আল্লাহ তালাই বলতে পারে। সেখানে যদি আমি কিছু বলতে চাই আমার নরমাল দৃষ্টিকোণ থেকে আমি বুঝি যে সেটি হচ্ছে শিরক। এটি হচ্ছে শিরকের পর্যায়ে পড়ে।
ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, তোমাদেরকে ঘরে ঘরে যেতে হবে এবং বলতে হবে যারা এইসব কথা বলে তারা শিরিক করছে। আপনি যদি তাদের কথা শুনেন আপনিও শিরকের পর্যায়ে পড়ে যাবেন। যার অধিকার একমাত্র আল্লাহ তালার সেটি একমাত্র আল্লাহর অধিকার। কে কোথায় যাবে? কার ইহকালে কি হবে, পরকালে কি হবে তা ডিসাইড করার অধিকার একমাত্র আল্লাহর। কাজেই যারা এসব কথা বলে তারা শিরক করছে। একজন মুসলমান হিসেবে আমি সেটাই বুঝি। এই কথাগুলো তোমাদেরকে পৌঁছে দিতে হবে।
রোববার (৭ ডিসেম্বর) রাজধানীর ফার্মগেইটে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে বিএনপির আয়োজনে ‘দেশ গড়ার পরিকল্পনার কর্মসূচি’ শীর্ষক আলোচনার সমাপনী অনুষ্ঠানে তিনি এ সব কথা বলেন।
জামায়াতের নাম উল্লেখ না করে তারেক রহমান বলেন, কিছু কিছু মানুষ বা কোন কোন গোষ্ঠী ইদানিং বলতে শুনেছি বা বিভিন্ন জায়গায় কেউ কেউ সোশ্যাল মিডিয়ায় বলে যে, অমুককে দেখলাম, তমুককে দেখলাম তমুককে দেখলাম, এবারও অমুককে দেখুন। যাদের কথা বলে অমুককে দেখুন। তাদেরকে তো দেশের মানুষ একাত্তর সালে দেখেছে। ১৯৭১ সালে তারা তাদের নিজেদের স্বার্থ রক্ষার্থে কিভাবে লক্ষ মানুষকে হত্যা করেছে। ঠিক যেভাবে পতিত স্বৈরাচার পালিয়ে যাওয়ার আগে হাজারো হাজারো মানুষকে হত্যা করেছিল ক্ষমতা ধরে রাখার জন্য, এই যাদেরকে কেউ কেউ বলে যে একবার দেখুন না এদেরকে। তাদেরকে দেশের মানুষ একাত্তর সালেই দেখেছে। তারা নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থ রক্ষার্থে লক্ষ লক্ষ মানুষকে শুধু হত্যাই করেনি, তাদের সহকর্মীরা কিভাবে মা-বোনদের ইজ্জত পর্যন্ত লুট করেছিল, এই কথাটি আমাদেরকে মনে রাখতে হবে।
সামনের দিনগুলো ভালো নয়, অনেক কঠিন সময় অপেক্ষা করছে মন্তব্য করে সকলকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, আমি ৫ আগস্টের পর থেকে বলে আসছি যে, আমাদের সামনের সময়গুলো কিন্তু খুব ভালো নয়, সামনে অনেক কঠিন সময়ে অপেক্ষা করছে আমাদের জন্য। বিভিন্নভাবে বিভিন্ন রকম ষড়যন্ত্র, বিভিন্ন জায়গায় হচ্ছে। এই ষড়যন্ত্র রুখে দিতে পারে এই দেশের জনগণ এবং এই ষড়যন্ত্র জনগণকে সাথে নিয়ে রুখে দিতে পারে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী। এই ষড়যন্ত্র, এই ষড়যন্ত্র রুখে দেওয়ার একমাত্র উপায় হচ্ছে, গণতন্ত্র, গণতন্ত্র এবং গণতন্ত্র। আমরা যদি গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারি, যেকোনো মূল্যে জনগণের মতামতে প্রতিষ্ঠিত করতে পারি তাহলে অবশ্যই অনেক ষড়যন্ত্রকে আমরা রুখে দিতে পারব।
কিছু দল ফ্যাসিস্টদের সুরেই গান গাইছে মন্তব্য করে তারেক রহমান বলেন, কেউ কেউ বলে থাকে পলাতক স্বৈরাচার যেভাবে বিএনপি সম্পর্কে যেসব মিথ্যা প্রোপাগান্ডা ছড়াতো। আমরা ইদানিং লক্ষ্য করছি কিছু কিছু ব্যক্তি বা দল ঠিক একই সুরে গান গাইছে বা একই সুরে কতগুলো কথা বলার চেষ্টা করছেন।এখন প্রশ্ন হচ্ছে তাদেরও তো দুইজন ব্যক্তি আমাদের সাথে সেই সময় সরকারে ছিল। এই দুজন ব্যক্তি পৃথিবীতে আর নেই, দু‘জনই সিনিয়র মানুষ, দু‘জনই সিনিয়র রাজনীতিবিদ ছিলেন, তারা গত হয়েছেন। কাজেই যে মানুষ নেই তাদের সম্পর্কে অবশ্যই খারাপ কথা বলা উচিত নয়। তাদের প্রতি পরিপূর্ণ সম্মান রেখেই বলতে চাই, সেই দুইজন ব্যক্তির বিএনপি সরকারে শেষদিন পর্যন্ত থাকা যৌক্তিকভাবে দুইটি জিনিস প্রমাণ করে দেয়, এক. এক তারা অবশ্যই পূর্ণ কনফিডেন্স ছিল খালেদা জিয়ার উপরে, যে খালেদা জিয়া দুর্নীতির বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছে। সেজন্যই তারা শেষ দিন পর্যন্ত ছিলেন।এখন তাদের দলের অন্য যে যত বড় বড় কথা বলুক না কেনো খালেদা জিয়া শেষ দিন পর্যন্ত দুর্নীতির বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছেন এবং দুর্নীতির অবস্থার পরিবর্তন ঘটেছে, এই আত্মবিশ্বাস তাদের মধ্যে ছিল, তারা দেখেছিল সেই সরকারের সেজন্যই তারা শেষ দিন পর্যন্ত বিএনপি সরকারের সাথে তারা ছিলেন। আমরা অন্য কিছু বলতে চাই না।
তিনি বলেন, তাদের দলের কেউ কেউ বলে থাকে যে, তাদের বিরুদ্ধে কোনো কিছু অভিযোগ পাওয়া যায় না। আজকে যখন নিরপেক্ষ কোর্ট বসেছে। স্বৈরাচারের সময় আমরা দেখেছি কিভাবে আদালতকে ইনফ্লুয়েন্স করা হতো। কিন্তু স্বৈরাচার পালিয়ে যাওয়ার পরে মোটামুটি আমরা বলতে পারি যে আদালত এখন নিরপেক্ষ নিরপেক্ষতা আমরা আশা করি। এই সেই নিরপেক্ষ আদালত থেকে আমরা দেখেছি, কারো বিরুদ্ধেই কোন জিনিস প্রমাণিত হয়নি। এটি ছিল প্রভাগান্ডা। আমাদেরকে আজকে এই উপসংহারে আসতে হবে যে একমাত্র বিএনপি পেরেছিল দেশকে দুর্নীতি থেকে বের করে নিয়ে আসতে। ইনশাল্লাহ আগামী দিনেও বিএনপি পারবে।
দুর্নীতি ও আইনশৃঙ্খলা: বিএনপির প্রথম অগ্রাধিকার উল্লেখ করে বিএনপির এই শীর্ষ নেতা বলেন, দুর্নীতি ও আইনশৃঙ্খলা এই দুইটি বিষয় আমাদের এড্রেস করতে হবে। যেকোন মূল্যে দুর্নীতির লাগাম টেনে ধরতে হবে, যেকোন মূল্যে আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির লাগাম টেনে ধরতে হবে। সেজন্য সরকার গঠনের সুযোগ পাওয়ার সাথে সাথে সর্বপ্রথমে আমাদেরকে নজর দিতে হবে, সর্বপ্রথমে আমাদেরকে ব্যবস্থা করতে হবে দুর্নীতির লাগাম কিভাবে আমরা টেনে ধরব?, আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির লাগাম কিভাবে আমরা টেনে ধরব?
তারেক রহমান বলেন, যদি আমরা দুর্নীতি এবং আইন শৃঙ্খলা লাগাম টেনে ধরতে না পারি তাহলে আমরা যে পরিকল্পনাগুলি গ্রহণ করেছি, মানুষের স্বাস্থ্য নিয়ে, দেশের ভবিষ্যৎ সন্তানদের শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে, নারী সমাজকে ক্ষমতায়ন করা, দেশের কৃষি ব্যবস্থা প্রত্যেকটি পরিকল্পনা আমাদের বাধাগ্রস্ত হবে, স্লো হয়ে যাবে। যদি আমরা এই দুইটি বিষয়েএড্রেস করতে না পুরো জাতি এবং দেশ সংকটের মধ্যে পড়বে। আমরা মনে করি, একমাত্র বিএনপিই দুর্নীতির লাগাম টেনে ধরতে পারবে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির লাগাম টেনে ধরতে পারবে। কারণ আমরা অতীতে করেছি, ভবিষ্যতে আমরা সুযোগ পেলে এই কাজটি করে দেখাতে পারব ইনশাল্লাহ। বেকার সমস্যা, শিক্ষা ব্যবস্থা, স্বাস্থ্য ব্যবস্থা, অর্থনৈতিক উন্নয়ন, নারীর ক্ষমতায়, কৃষি ব্যবস্থার উন্নয়নে বিএনপির পরিকল্পনাসমূহে তুলে ধরেন তিনি।
খালেদা জিয়ার শাসনামলে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে আইন রক্ষাকারীর উন্নয়নের কথা উল্লেখ করে বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী রাজনীতিকরণ করা হয়েছে ‘কলঙ্কিত’ করেছে বলে মন্তব্য করে
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, আমাদের লক্ষ্য একটাই আমাদের উদ্দেশ্য একটাই কি দেশকে আমাদের গড়তে হবে। এই দেশকে শহীদ জিয়া গড়েছেন, ঠিক একইভাবে পরবর্তীতে নব্বইয়ে স্বৈরাচারের পরে এই দেশকে আবারো দেশনেত্রী খালেদা জিয়া গড়েছিলেন, ২০০১ সালের পরে আবারো ধ্বংসপ্রাপ্ত দেশকে দুর্নীতি নিমজ্জিত একটি দেশকে কিভাবে খালেদা জিয়া আবার উপরে উঠে নিয়ে এসেছিলেন। মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করা প্রয়োজন। আজ সারা দিন আমরা যেগুলো আলোচনা করেছি, সেগুলো যদি আমরা করতে পারি তাহলেই মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করা সম্ভব। আগামীতে দেশ গড়ার পরিকল্পনা নিয়ে আমরা দেশ গড়ব।
তিনি বলেন, বিএনপি বাংলাদেশকে সিঙ্গাপুরও বানাতে চায় না, মালয়েশিয়াও বানাতে চায় না, কানাডাও বানাতে চায় না, যুক্তরাষ্ট্র বানাতে চায় না। আমরা চাই একটি স্বাবলম্বী বাংলাদেশ। যেই বাংলাদেশের মানুষ দেশের ভিতরে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা থাকবে। খেয়ে পড়ে বেঁচে থাকবে, শান্তিতে থাকবে। যেখানে দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে থাকবে, দুর্নীতির লাগাম রধতে আমরা সক্ষম হবো। সেরকম একটি বাংলাদেশ চাই।
ছাত্রদলকে মানুষের দ্বারে দ্বারে যেতে হবে মন্তব্য করে বিএনপি প্রধান বলেন, দেশ গড়ার যে পরিকল্পনা এই পরিকল্পনা সফল করতে হলে তোমাদেরকে আজকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়তে হবে, বাংলাদেশে যে যেখান থেকে এসেছো এবং শুধু ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়লে চলবে না। তোমাদেরকে মানুষের দৌড় গোড়ায় চলে যেতে হবে, প্রত্যেকে প্রত্যেকের দৌড়গোড়ায় চলে যেতে হবে। দলের একজন প্রতিনিধি হিসাবে, দলের অ্যাম্বাসেডর হিসেবে ছাত্রদলের প্রত্যেকটি নেতাকর্মীকে তোমার এলাকার গ্রামের ওয়ার্ডের, ইউনিয়নের গোড়ায় গোড়ায় চলে যেতে হবে, ঘরের দরজায় চলে যেতে হবে।বোনদেরকে বলতে হবে তাদের জন্য আমরা কি করব? কৃষকদেরকে বলতে হবে তাদের জন্য আমরা কি করব? তরুণ যুবক-যুবতীদেরকে বলতে হবে তাদের কর্মসংস্থানের জন্য আমরা কি করব? আমরা যদি একসাথে কাজ করি ইনশাআল্লাহ আমরা সেই বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সক্ষম হব যেই বাংলাদেশের প্রত্যাশা আমরা করি।।
তিনি বলেন, অনেক সময় লাগবে কষ্ট হবে, অনেক কঠিন, অনেক শত্রু আছে যারা আমাদেরকে বাধা দিবে কিন্তু এই দেশের মানুষকে কেউ বাধা দিয়ে দাবিয়ে রাখতে পারেনি। ইনশআল্লাহ দেশ গড়ার পরিকল্পনা কাজ যখন আমরা শুরু করব বাংলাদেশের মানুষের রায় নিয়ে তখনও ইনশআল্লাহ কেউ আমাদেরকে দাবিয়ে রাখতে পারবে না।তোমাদেরকে সকলকে যেতে হবে আজকে মানুষের দৌড়গোয় মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করতে হবে।
‘দেশ গড়া পরিকল্পনা’ শীর্ষক কর্মসূচির বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর সভাপতিত্বে ও যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেলের সঞ্চালনায় বিএনপির জিয়া উদ্দিন হায়দার, আবদুল মজিদ, আমিনুল হক, মীর শাহে আলম, ছাত্র দলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব, ছাত্র দলের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির প্রমূখ বক্তব্য রাখেন। পরে ছাত্র দলের নেতা-কর্মীদের বিভিন্ন প্রশ্নেরও জবাব দেন আলোচকরা।
Reporter Name 
























