কৃষ্ণ নন্দীর বিদেশেযোগ, ছবি ও ভ্রমণতথ্য ঘিরে প্রশ্নের ঝড়
খুলনায় ৮-দলীয় বিভাগীয় সমাবেশে জামায়াতে ইসলামী ঘোষিত প্রার্থীকে নিয়ে দলে দলে সমালোচনা শুরু হয়েছে। জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান সমাবেশে খুলনা-১ আসনের প্রার্থী হিসেবে দলটির হিন্দু কমিটির সভাপতি কৃষ্ণ নন্দীর নাম ঘোষণা করেন। ঘোষণার পরপরই দলীয় নেতা-কর্মীদের মধ্যে দেখা দেয় ব্যাপক দ্বিধা–কৌতূহল।
দীর্ঘদিনের জনপ্রিয় জামায়াতের স্থানীয় নেতা শেখ আবু ইউসুফকে পাশ কাটিয়ে কীভাবে অপেক্ষাকৃত অপরিচিত কৃষ্ণ নন্দী মনোনয়ন পেলেন—এ প্রশ্ন এখন খুলনা–রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু।
রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অনুপস্থিতি, তবু মনোনয়ন:
প্রাথমিক অনুসন্ধানে কৃষ্ণ নন্দীর উল্লেখযোগ্য রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের তথ্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় পর্যায়ের একাধিক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন—মনোনয়ন প্রক্রিয়ায় তাঁর উত্থান ‘হঠাৎ ও বিস্ময়কর’।
বিদেশি যোগাযোগ ও বিতর্কিত সম্পর্কের অভিযোগ:
দলীয় ও গোয়েন্দা একাধিক সূত্র দাবি করেছে—কৃষ্ণ নন্দীর সঙ্গে প্রতিবেশী রাষ্ট্রের বিশেষ একটি সংস্থার নিবিড় যোগাযোগ রয়েছে। আরও একটি সূত্র জানিয়েছে, বিতর্কিত সংগঠন ওয়ার্ল্ড হিন্দু স্ট্রাগলের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি শিপন কুমার বসুর সঙ্গে কৃষ্ণ নন্দীর ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের প্রমাণ হিসেবে ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ তারিখে তোলা কয়েকটি ছবি আমাদের হাতে এসেছে।
একই বৈঠকে ভারতের অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা সংস্থা IB – Intelligence Bureau–এর সংশ্লিষ্ট একজন কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন বলেও দাবি সূত্রের।
সংযুক্ত তিনটি ছবির ফরেন্সিক বিশ্লেষণে টেম্পারিং বা এআই ব্যবহারের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। ছবিতে উল্লেখিত সময় অনুযায়ী ওইদিন কৃষ্ণ নন্দী ভারতে অবস্থান করছিলেন—তাঁর ভ্রমণ–সংক্রান্ত নথি যাচাই করে এ তথ্য মেলানো হয়েছে। ২০১৩ সাল থেকে এ পর্যন্ত তিনি মোট ২২ বার ভারত সফর করেছেন।
তবে এসব অভিযোগ স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
অভিযোগ অস্বীকার করলেন কৃষ্ণ নন্দী:
সরাসরি যোগাযোগ করলে কৃষ্ণ নন্দী সব অভিযোগ ‘মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে দাবি করেন।
তিনি বলেন, আমি শিপন কুমার বসুকে চিনি না। তিনি ইচ্ছাকৃতভাবে আমার বিরুদ্ধে মনগড়া গল্প বানাচ্ছেন। ছবিগুলোও এডিটেড।
কৃষ্ণ নন্দীর অভিযোগ—তাঁর কাছে চাঁদা দাবি করে ব্যর্থ হয়ে শিপন কুমার বসু তাঁকে ব্ল্যাকমেইল করছেন।
শিপন কুমার বসুর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
জামায়াত এখনো নীরব:
মনোনয়ন বিতর্কে উত্তাপ ছড়ালেও জামায়াতে ইসলামী কেন্দ্রীয় পর্যায়ে এ বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
স্থানীয় নেতারা মনে করেন, বিষয়টি নিয়ে শিগগিরই দলে অস্বস্তি বাড়তে পারে।
Reporter Name 























