ঢাকা ০৩:৪৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ২৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
শিক্ষাদূত মুকুল মাস্টারের অন্তিম প্রহর ধর্ম-বর্ণ-সম্প্রদায় নির্বিশেষে সবার কল্যাণে কাজ করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী এয়ারবাসের ১০ উড়োজাহাজ কিনতে চুক্তি সই পোশাক শ্রমিকদের মজুরি বোর্ড গঠনের নীতিগত সিদ্ধান্ত সরকারের ১৭ হাজার মুসল্লির ধারণক্ষমতাসম্পন্ন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ ৭৮ দেশের সঙ্গে বৈঠক, হজ ব্যবস্থাপনায় বড় পরিকল্পনা সৌদির বিদ্যুৎ ও জ্বালানিতে ৩.৩ বিলিয়ন ডলার বৈদেশিক ঋণ নিচ্ছে সরকার গুগলের বিরুদ্ধে যুক্তরাজ্যে ১.৩৩ বিলিয়ন ডলারের মামলা এমপি নজরুলের জামিন হলে সমাজে বিরূপ প্রতিক্রিয়া হতে পারে, বললেন বিচারক মাদকবিরোধী সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে তরুণ প্রজন্মের প্রতি আহ্বান রাষ্ট্রপতির

হাওরের সব তাজা মাছ, দুই ঘণ্টায় শেষ—ভোরেই জমজমাট ওয়াপদা

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ০৬:০৯:৫৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ১৫৫ বার

Oplus_16908288

ভোরের আকাশে তখনও মৃদু লাল আভা। সারা রাত হাওর–নদীতে জাল ফেলে মাছ ধরার পর খালুই হাতে, কাঁধে মাছভরা ডালা নিয়ে একে একে হাটের দিকে ছুটে আসছেন মৎস্যজীবীরা। আলো যেমন দ্রুত বদলায়, ওয়াপদা–কাশিমপুরের এ হাটও তেমনি চোখের পলকে শেষ হয়ে যায়।

মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার ফতেহপুর ইউনিয়নের কাউয়াদীঘি হাওর ও কুশিয়ারা নদীর তীরে প্রতিদিন সকালে মাত্র দুই ঘণ্টার জন্য বসে এই মাছের হাট। স্থানীয়ভাবে পরিচিত ওয়াপদা–কাশিমপুর হাটটির বয়স প্রায় অর্ধশত বছর হলেও সকালে বিশেষভাবে মাছের হাট বসছে প্রায় ২০–২২ বছর ধরে।

ভোর ছয়টা বাজলেই হাট জমে ওঠে। দূর-দূরান্ত থেকে ক্রেতারা এসে জড়ো হন। কারণ—এখানে মিলবে একেবারে হাওর–নদীর তাজা মাছ। প্রতিদিনই লাখ টাকার মতো মাছ কেনাবেচা হয়। ফলে হাটটির আলাদা সুনাম রয়েছে।

শুক্রবার সকালে সাড়ে ছয়টার দিকে দেখা যায়—হাটের দুই পাশ দিয়ে বিক্রেতারা খালুই ও ডালা নিয়ে ঢুকছেন। আগে এলে আগে নিলামে ওঠার সুযোগ—তাই সবার তাড়া। হাটে থাকা দুটি আড়তে মাছ জমা দিতে না দিতেই উঠছে নিলামের ডাক। ক্রেতারা গোল হয়ে দাঁড়িয়ে দাম হাঁকছেন। সর্বোচ্চ দর বললেই মাছটি হাতবদল হয়ে যাচ্ছে মুহূর্তে।

এখানে নিজেদের খাওয়ার জন্য ক্রেতা যেমন আসেন, তার চেয়ে বড় অংশ আসেন খুচরা বিক্রেতারা। তাঁরা মাছ কিনে মৌলভীবাজার শহর, আশপাশের হাটবাজার কিংবা গ্রামে গ্রামে ফেরি করে বিক্রি করেন।

হাটে পাওয়া যায় নানা প্রজাতির মাছ—
কই, চ্যাং, পুঁটি, মখা (মলা), কাকিয়া, বোয়াল, গ্রাস কার্প, কার্ফু, রুই, চাঁদা, চিংড়ি, পুঁটাসহ আরও অনেক স্থানীয় মাছ।

মাছের পাশাপাশি হাঁস–মুরগি, সবজি, পান–সিগারেটের দোকানও বসে। চায়ের স্টলে ধোঁয়া ওঠা চা, সঙ্গে পরোটা–আখনির গন্ধ মিলিয়ে সকালের হাটটিকে করে তোলে আরও প্রাণবন্ত।

ভোর ছয়টায় শুরু হওয়া এ হাট আটটার মধ্যেই প্রায় ফাঁকা হয়ে যায়। আশির দশকে মনু নদ সেচ প্রকল্প বাস্তবায়িত হওয়ার পর থেকেই এ অঞ্চলে কৃষি ও মৎস্যজীবনের পরিবর্তনের সঙ্গে হাটটিরও বিকাশ ঘটে। এখন আর মাছ নিয়ে দূরে যেতে হয় না; প্রতিদিন ভোরেই কাছের এই হাটে আসলেই হয় ভালো বিক্রি।

হাওরপাড়ের মানুষের জীবিকা, ভোরের মানুষের আড্ডা আর তাজা মাছের ঘ্রাণ—সব মিলিয়ে দুই ঘণ্টার এই হাট হয়ে উঠেছে এলাকার প্রাণকেন্দ্র।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

শিক্ষাদূত মুকুল মাস্টারের অন্তিম প্রহর

হাওরের সব তাজা মাছ, দুই ঘণ্টায় শেষ—ভোরেই জমজমাট ওয়াপদা

আপডেট টাইম : ০৬:০৯:৫৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১ ডিসেম্বর ২০২৫

ভোরের আকাশে তখনও মৃদু লাল আভা। সারা রাত হাওর–নদীতে জাল ফেলে মাছ ধরার পর খালুই হাতে, কাঁধে মাছভরা ডালা নিয়ে একে একে হাটের দিকে ছুটে আসছেন মৎস্যজীবীরা। আলো যেমন দ্রুত বদলায়, ওয়াপদা–কাশিমপুরের এ হাটও তেমনি চোখের পলকে শেষ হয়ে যায়।

মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার ফতেহপুর ইউনিয়নের কাউয়াদীঘি হাওর ও কুশিয়ারা নদীর তীরে প্রতিদিন সকালে মাত্র দুই ঘণ্টার জন্য বসে এই মাছের হাট। স্থানীয়ভাবে পরিচিত ওয়াপদা–কাশিমপুর হাটটির বয়স প্রায় অর্ধশত বছর হলেও সকালে বিশেষভাবে মাছের হাট বসছে প্রায় ২০–২২ বছর ধরে।

ভোর ছয়টা বাজলেই হাট জমে ওঠে। দূর-দূরান্ত থেকে ক্রেতারা এসে জড়ো হন। কারণ—এখানে মিলবে একেবারে হাওর–নদীর তাজা মাছ। প্রতিদিনই লাখ টাকার মতো মাছ কেনাবেচা হয়। ফলে হাটটির আলাদা সুনাম রয়েছে।

শুক্রবার সকালে সাড়ে ছয়টার দিকে দেখা যায়—হাটের দুই পাশ দিয়ে বিক্রেতারা খালুই ও ডালা নিয়ে ঢুকছেন। আগে এলে আগে নিলামে ওঠার সুযোগ—তাই সবার তাড়া। হাটে থাকা দুটি আড়তে মাছ জমা দিতে না দিতেই উঠছে নিলামের ডাক। ক্রেতারা গোল হয়ে দাঁড়িয়ে দাম হাঁকছেন। সর্বোচ্চ দর বললেই মাছটি হাতবদল হয়ে যাচ্ছে মুহূর্তে।

এখানে নিজেদের খাওয়ার জন্য ক্রেতা যেমন আসেন, তার চেয়ে বড় অংশ আসেন খুচরা বিক্রেতারা। তাঁরা মাছ কিনে মৌলভীবাজার শহর, আশপাশের হাটবাজার কিংবা গ্রামে গ্রামে ফেরি করে বিক্রি করেন।

হাটে পাওয়া যায় নানা প্রজাতির মাছ—
কই, চ্যাং, পুঁটি, মখা (মলা), কাকিয়া, বোয়াল, গ্রাস কার্প, কার্ফু, রুই, চাঁদা, চিংড়ি, পুঁটাসহ আরও অনেক স্থানীয় মাছ।

মাছের পাশাপাশি হাঁস–মুরগি, সবজি, পান–সিগারেটের দোকানও বসে। চায়ের স্টলে ধোঁয়া ওঠা চা, সঙ্গে পরোটা–আখনির গন্ধ মিলিয়ে সকালের হাটটিকে করে তোলে আরও প্রাণবন্ত।

ভোর ছয়টায় শুরু হওয়া এ হাট আটটার মধ্যেই প্রায় ফাঁকা হয়ে যায়। আশির দশকে মনু নদ সেচ প্রকল্প বাস্তবায়িত হওয়ার পর থেকেই এ অঞ্চলে কৃষি ও মৎস্যজীবনের পরিবর্তনের সঙ্গে হাটটিরও বিকাশ ঘটে। এখন আর মাছ নিয়ে দূরে যেতে হয় না; প্রতিদিন ভোরেই কাছের এই হাটে আসলেই হয় ভালো বিক্রি।

হাওরপাড়ের মানুষের জীবিকা, ভোরের মানুষের আড্ডা আর তাজা মাছের ঘ্রাণ—সব মিলিয়ে দুই ঘণ্টার এই হাট হয়ে উঠেছে এলাকার প্রাণকেন্দ্র।