ঢাকা ০৫:৫৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৪ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

খালেদা জিয়া বেঁচে থাকলে বাংলাদেশ বেঁচে থাকবে: গয়েশ্বর

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১১:৩১:০৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ নভেম্বর ২০২৫
  • ৩০ বার

বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য বাবু গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেছেন, আমাদের মন-প্রাণ পড়ে আছে সেখানে, এভারকেয়ার হাসপাতালে সেই কেবিনে, যেখানে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছেন বেগম খালেদা জিয়া।

তিনি বলেন, যে উদ্দেশ্যে আজকের এ সমাবেশ তার মূল কথা হলো প্রতিশ্রুতি ও অঙ্গীকার। পরিবর্তনের এই রাজনীতিতে আজ দেশের স্বার্থে, গণতন্ত্রের স্বার্থে এবং সমাজের সাম্প্রদায়িক বাস্তবতায় হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান মিলে-মিশে থাকার যে আহ্বান, সেটি বাস্তবায়নের জন্য দীর্ঘ ৪০ বছর রাজপথে লড়াই করেছেন বেগম খালেদা জিয়া।

শনিবার বিকেলে মুন্সীগঞ্জের সিরাজদীখান উপজেলার শেখরনগর ইউনিয়নের রায়বাহাদুর শ্রীনাথ ইনস্টিটিউশন মাঠে মুন্সীগঞ্জ ১ আসনের বিএনপি প্রার্থী শেখ মো. আব্দুল্লাহকে সমর্থনে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি আরো বলেন, যিনি লড়াই করেছেন মানুষের ভোটের অধিকারের জন্য। যার যার ধর্ম শেষে স্বাধীনভাবে পালন করবে, এই নীতিতে অটল ছিলেন তিনি। আপস করেননি, ফ্যাসিবাদের সঙ্গেও মাথা নত করেননি। কারাবরণ সাদরে গ্রহণ করেছেন। কারাগার থেকে হাসতে হাসতে বাইরে এলেও শরীর সুস্থ হয়নি। যথাযথ উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে নেওয়া গেল না। আজ তার শারীরিক জটিলতা এমন পর্যায়ে এসে দাড়িয়েছে, যে প্রধান রোগের চিকিৎসা করাও প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি আজ মারাত্মকভাবে জটিল অবস্থায় আছেন। ১৮ কোটি মানুষ ভগবান ও আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করা ছাড়া কিছুই করার নেই।

গয়েশ্বর রায় আরও বলেন, আমরা ভোট দেব আনন্দে। কিন্তু নেত্রী না থাকলে সেই ভোট আনন্দহীন হয়ে যাবে। ভোট হবে কি না তাতেও সংশয় দেখা দেবে। যদি নেত্রী বিছানায় শুয়ে থাকেন, তবুও সকল ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় আমাদের সাংগঠনিক শক্তি যথেষ্ট। এবারের নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, শুধু সংসদ সদস্য বানানোর নির্বাচন নয়। এই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে রাষ্ট্র কাঠামোতে মানুষের কাম্য

পরিবর্তন আসবে। যাতে নারী-পুরুষের বৈষম্য না থাকে, হিন্দু-মুসলমানের বৈষম্য না থাকে, ধনী-গরিবের বৈষম্য দূর হয়। বৈষম্যহীন রাষ্ট্র গঠনে সবার সহযোগিতা দরকার।

তিনি আরও বলেন, নিজেদের স্বার্থে বোঝার ভান করলে চলবে না। একটা কথা আছে যার হক না দিলে কুকুর খায়। এই কুকুরকে খাবার, ভোট দেওয়া যাবে না। ভোটের মালিক জনগণ। এই জনগণই দেশের মালিক। খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতিতে আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান সাত বছর ধরে দিন-রাত নিরলস কাজ করে দেশ-জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করেছেন ফ্যাসিবাদ পতনের জন্য।

এরপর তিনি কান্না জড়িত কণ্ঠে বলেন, হিন্দু মায়েরা ঠাকুরের সামনে প্রদীপ জ্বালিয়ে প্রার্থনা করবেন। মুসলিম ভাইয়েরা আল্লাহর দরবারে বলবেন, তুমি খালেদা জিয়াকে সুস্থ করো। সবাই বলবেন আমার যা হায়াত আছে, এক বা দুই বছর কমিয়ে দাও, সেই হায়াত খালেদা জিয়ার ওপর আরোপ করো। তাকে টিকিয়ে রাখো। তিনি বেঁচে থাকলে বাংলাদেশ বেঁচে থাকবে। তিনি বেঁচে থাকলে গণতন্ত্র ফেরত পাবে। তিনি বেঁচে থাকলে আমাদের রাখাল রাজার স্বপ্নের বাংলাদেশ পূরণ হবে।

তিনি নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, ব্যক্তির চেয়ে দল বড়, দল থেকে দেশ বড়। জিয়াউর রহমানের বাণী হৃদয়ে ধারণ করে সবাই দেশের স্বার্থে ঐক্যবদ্ধ থাকবেন। দলের মধ্যে মতবিরোধ থাকতে পারে। দুজনের মতবিরোধ থাকতে পারে। কিন্তু তা ঘরে বসে মিটিয়ে ফেলুন। না হলে জনগণ হতাশ হবে। জয়নগর শক্তি হারাবে। জনগণকে শক্তিশালী করতে হলে একটি সংগঠিত রাজনৈতিক দল দরকার, যার নাম বিএনপি।

আলী আজগর এন্ড আব্দুল্লাহ ডিগ্রী কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ ও মুন্সীগঞ্জ জেলা রামকৃষ্ণ ভক্ত সংঘের সভাপতি বিশুদ্ধানন্দ চক্রবর্তীর সভাপতিত্বে প্রধান বক্তা ছিলেন মুন্সীগঞ্জ-১ আসনে বিএনপি মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী আলহাজ্ব শেখ মো. আব্দুল্লাহ।

সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন শ্রীনগর উপজেলা বিএনপির সভাপতি শহিদুল ইসলাম মৃধা, সাধারণ সম্পাদক হাফিজুল ইসলাম খান, সিরাজদীখান উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এম হায়দার আলী, জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি প্রশান্ত কুমার মণ্ডল, সাধারণ সম্পাদক সুশান্ত চক্রবর্তী, সিরাজদীখান উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি তপন দাস, সাধারণ সম্পাদক জ্ঞানদীপ ঘোষ, শ্রীনগর উপজেলার হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি উত্তম কুমার ঘোষ, সাধারণ সম্পাদক তাপস কুমার দাস, সিরাজদীখান উপজেলা হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি বিমল চন্দ্র দাস, সাধারণ সম্পাদক তপন রাজবংশীসহ সিরাজদীখান ও শ্রীনগরের বিভিন্ন মন্দির কমিটির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, ব্যবসায়ী, শিক্ষক, সমাজসেবকসহ ১০ হাজারেরও বেশি সনাতন ধর্মাবলম্বী সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

খালেদা জিয়া বেঁচে থাকলে বাংলাদেশ বেঁচে থাকবে: গয়েশ্বর

আপডেট টাইম : ১১:৩১:০৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ নভেম্বর ২০২৫

বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য বাবু গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেছেন, আমাদের মন-প্রাণ পড়ে আছে সেখানে, এভারকেয়ার হাসপাতালে সেই কেবিনে, যেখানে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছেন বেগম খালেদা জিয়া।

তিনি বলেন, যে উদ্দেশ্যে আজকের এ সমাবেশ তার মূল কথা হলো প্রতিশ্রুতি ও অঙ্গীকার। পরিবর্তনের এই রাজনীতিতে আজ দেশের স্বার্থে, গণতন্ত্রের স্বার্থে এবং সমাজের সাম্প্রদায়িক বাস্তবতায় হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান মিলে-মিশে থাকার যে আহ্বান, সেটি বাস্তবায়নের জন্য দীর্ঘ ৪০ বছর রাজপথে লড়াই করেছেন বেগম খালেদা জিয়া।

শনিবার বিকেলে মুন্সীগঞ্জের সিরাজদীখান উপজেলার শেখরনগর ইউনিয়নের রায়বাহাদুর শ্রীনাথ ইনস্টিটিউশন মাঠে মুন্সীগঞ্জ ১ আসনের বিএনপি প্রার্থী শেখ মো. আব্দুল্লাহকে সমর্থনে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি আরো বলেন, যিনি লড়াই করেছেন মানুষের ভোটের অধিকারের জন্য। যার যার ধর্ম শেষে স্বাধীনভাবে পালন করবে, এই নীতিতে অটল ছিলেন তিনি। আপস করেননি, ফ্যাসিবাদের সঙ্গেও মাথা নত করেননি। কারাবরণ সাদরে গ্রহণ করেছেন। কারাগার থেকে হাসতে হাসতে বাইরে এলেও শরীর সুস্থ হয়নি। যথাযথ উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে নেওয়া গেল না। আজ তার শারীরিক জটিলতা এমন পর্যায়ে এসে দাড়িয়েছে, যে প্রধান রোগের চিকিৎসা করাও প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি আজ মারাত্মকভাবে জটিল অবস্থায় আছেন। ১৮ কোটি মানুষ ভগবান ও আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করা ছাড়া কিছুই করার নেই।

গয়েশ্বর রায় আরও বলেন, আমরা ভোট দেব আনন্দে। কিন্তু নেত্রী না থাকলে সেই ভোট আনন্দহীন হয়ে যাবে। ভোট হবে কি না তাতেও সংশয় দেখা দেবে। যদি নেত্রী বিছানায় শুয়ে থাকেন, তবুও সকল ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় আমাদের সাংগঠনিক শক্তি যথেষ্ট। এবারের নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, শুধু সংসদ সদস্য বানানোর নির্বাচন নয়। এই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে রাষ্ট্র কাঠামোতে মানুষের কাম্য

পরিবর্তন আসবে। যাতে নারী-পুরুষের বৈষম্য না থাকে, হিন্দু-মুসলমানের বৈষম্য না থাকে, ধনী-গরিবের বৈষম্য দূর হয়। বৈষম্যহীন রাষ্ট্র গঠনে সবার সহযোগিতা দরকার।

তিনি আরও বলেন, নিজেদের স্বার্থে বোঝার ভান করলে চলবে না। একটা কথা আছে যার হক না দিলে কুকুর খায়। এই কুকুরকে খাবার, ভোট দেওয়া যাবে না। ভোটের মালিক জনগণ। এই জনগণই দেশের মালিক। খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতিতে আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান সাত বছর ধরে দিন-রাত নিরলস কাজ করে দেশ-জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করেছেন ফ্যাসিবাদ পতনের জন্য।

এরপর তিনি কান্না জড়িত কণ্ঠে বলেন, হিন্দু মায়েরা ঠাকুরের সামনে প্রদীপ জ্বালিয়ে প্রার্থনা করবেন। মুসলিম ভাইয়েরা আল্লাহর দরবারে বলবেন, তুমি খালেদা জিয়াকে সুস্থ করো। সবাই বলবেন আমার যা হায়াত আছে, এক বা দুই বছর কমিয়ে দাও, সেই হায়াত খালেদা জিয়ার ওপর আরোপ করো। তাকে টিকিয়ে রাখো। তিনি বেঁচে থাকলে বাংলাদেশ বেঁচে থাকবে। তিনি বেঁচে থাকলে গণতন্ত্র ফেরত পাবে। তিনি বেঁচে থাকলে আমাদের রাখাল রাজার স্বপ্নের বাংলাদেশ পূরণ হবে।

তিনি নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, ব্যক্তির চেয়ে দল বড়, দল থেকে দেশ বড়। জিয়াউর রহমানের বাণী হৃদয়ে ধারণ করে সবাই দেশের স্বার্থে ঐক্যবদ্ধ থাকবেন। দলের মধ্যে মতবিরোধ থাকতে পারে। দুজনের মতবিরোধ থাকতে পারে। কিন্তু তা ঘরে বসে মিটিয়ে ফেলুন। না হলে জনগণ হতাশ হবে। জয়নগর শক্তি হারাবে। জনগণকে শক্তিশালী করতে হলে একটি সংগঠিত রাজনৈতিক দল দরকার, যার নাম বিএনপি।

আলী আজগর এন্ড আব্দুল্লাহ ডিগ্রী কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ ও মুন্সীগঞ্জ জেলা রামকৃষ্ণ ভক্ত সংঘের সভাপতি বিশুদ্ধানন্দ চক্রবর্তীর সভাপতিত্বে প্রধান বক্তা ছিলেন মুন্সীগঞ্জ-১ আসনে বিএনপি মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী আলহাজ্ব শেখ মো. আব্দুল্লাহ।

সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন শ্রীনগর উপজেলা বিএনপির সভাপতি শহিদুল ইসলাম মৃধা, সাধারণ সম্পাদক হাফিজুল ইসলাম খান, সিরাজদীখান উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এম হায়দার আলী, জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি প্রশান্ত কুমার মণ্ডল, সাধারণ সম্পাদক সুশান্ত চক্রবর্তী, সিরাজদীখান উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি তপন দাস, সাধারণ সম্পাদক জ্ঞানদীপ ঘোষ, শ্রীনগর উপজেলার হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি উত্তম কুমার ঘোষ, সাধারণ সম্পাদক তাপস কুমার দাস, সিরাজদীখান উপজেলা হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি বিমল চন্দ্র দাস, সাধারণ সম্পাদক তপন রাজবংশীসহ সিরাজদীখান ও শ্রীনগরের বিভিন্ন মন্দির কমিটির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, ব্যবসায়ী, শিক্ষক, সমাজসেবকসহ ১০ হাজারেরও বেশি সনাতন ধর্মাবলম্বী সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন।