উপমহাদেশের দীর্ঘ ইতিহাসে এক নারী জন্ম নিয়েছিলেন, যিনি নিছক রাজনৈতিক চরিত্র নন, বরং এক আগুনঝরা ইতিহাসের কেন্দ্রবিন্দু—খালেদা জিয়া। তার পদচারণা বাংলাদেশের রাজনীতিকে নতুন মাত্রা দিয়েছিল। চোখের দৃঢ়তায় অনুপ্রাণিত হয়েছিলো দেশের তারুণ্য; স্বাধীনতার স্পর্ধা, মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর সাহস—সবই তার নেতৃস্থানীয় শক্তির প্রতিফলন।
খালেদা জিয়ার রাজনীতি কখনোই নিছক রাজনীতি ছিল না। তা ছিলো অবিরত সংগ্রামের প্রতীক—শোক, কষ্ট, ষড়যন্ত্র ভরা এক বিস্তীর্ণ যুদ্ধক্ষেত্র। তিনি যৌবনে হারিয়েছেন প্রিয় মানুষকে, বার্ধক্যে সন্তানদের কাছ থেকেও ছিলেন দূরে। অনিবার্য শূন্যতায় বিদায় দিয়েছেন অন্য এক সন্তানকে।
তার বিরুদ্ধে ছুটে এসেছিল কুৎসা ও অপবাদ। কিন্তু তার নীরবতার মধ্যেই লুকানো ছিল অদম্য শক্তি, যা প্রতিপক্ষ কখনো ঠিকমতো বুঝতে পারেনি। ডিসেন্সি ছিল তার কবচ, রাজনৈতিক প্রজ্ঞা ছিল তার অস্ত্র। দুর্নীতির কালিমা থেকে দূরে থাকার সাহস তাকে এনে দিয়েছিল এক উচ্চতায়, যা কোনো বাংলাদেশির জন্য অতিক্রম করা সহজ নয়।
তিনি যে দলের নেতা ছিলেন, সেই দলকে একাই তিনি পাহাড়ের চূড়ায় টেনে তুলেছিলেন। তাঁর অনুসারীরা বুঝতে পারেনি যে তারা যে শিখরে দাঁড়িয়ে আছে, তা আসলে এক নারীর দৃঢ়তার ফল। এই কারণে তার সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় নিজের দলে যোগ্য উত্তরাধিকার খুঁজে পাওয়া যায়নি—এটাই তার মহাকাব্যের ট্র্যাজেডি।
যদি কোনো দিন আমাদের কণ্ঠে তার বিদায় আসে, তা হবে সাধারণ বিদায় নয়। ইতিহাস থমকে দাঁড়াবে, এবং হাজারো তরুণ দূর ভবিষ্যতে তার জীবনগাথা পড়ে অনুভব করবে—বাংলাদেশে এক নারী এসেছিলেন মাতৃরূপে, যিনি জাতিকে দিয়েছে নিরাপত্তা, দৃঢ়তা, অটল সাহস।
তার উপস্থিতি এক যুগের নক্ষত্র ছিল; প্রস্থানও নক্ষত্রের মতো দীপ্তিময় হবে।
বাংলাদেশ জিন্দাবাদ। খালেদা জিয়া জিন্দাবাদ।
Reporter Name 

























