২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকারের পতনের পর সর্বজনীন জিজ্ঞাসা দীর্ঘ নির্বাসন শেষে কবে ফিরবেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান? যিনি সুদূর যুক্তরাজ্যে থেকেও দীর্ঘ দেড় দশকের আওয়ামী ফ্যাসিবাদী শাসনের বিরুদ্ধে নেতৃত্ব দিয়েছেন লড়াই-সংগ্রামে।
বিশেষ করে জুলাই-আগস্ট আন্দোলনে যিনি ছিলেন নেতৃত্বের আসনে। শুধু আন্দোলনে নেতৃত্ব প্রদানই নয়, ৫ আগস্ট পরবর্তী বিশৃঙ্খল বাংলাদেশে শৃঙ্খলা পুনঃপ্রতিষ্ঠায়ও নেতৃত্ব দিয়েছেন তারেক রহমান। যার কারণে দেশের মানুষের কাছে এখন জনপ্রিয় নেতাতে পরিণত হয়েছেন তিনি। সেই নেতার বাংলাদেশে ফেরার অপেক্ষা তাই বহুল কাক্সিক্ষত সংবাদে পরিণত হয়েছে। সারাদেশের মাঠে-ঘাটে, হাটে-বাজারে, গ্রামে-গঞ্জে, শহরে-বন্দরে মানুষের মুখে মুখে জিজ্ঞাসা তারেক রহমান কবে দেশে ফিরছেন?
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দেশে ফেরার বিষয়ে দলের পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট কোন তারিখ বলা না হলেও তিনি যে সহসাই দেশে ফিরছেন সে বিষয়ে নিশ্চিত করেছেন তারেক রহমানের ঘনিষ্ঠ একাধিক ব্যক্তি। তারা জানান, এখন পর্যন্ত ডিসেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে দেশে ফেরার বিষয়ে প্রস্তুতি চলছে। তফসিল ঘোষণার আগে বা ঘোষণার পরপরই তিনি দেশে ফিরতে পারেন। তবে এটি চূড়ান্ত নয়। সবকিছু নির্ভর করবে সার্বিক পরিস্থিতির ওপর। আর তারেক রহমান নিজেই সিদ্ধান্ত নেবেন কবে তিনি ফিরবেন।
তারেক রহমানের দেশে ফেরার বিষয়ে দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান কবে দেশে ফিরবেন সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত হলে দলের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবেই জানিয়ে দেয়া হবে।
বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বিগত আন্দোলন-সংগ্রামে নেতৃত্ব প্রদান এবং ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে দেশে শান্তি-শৃঙ্খলা পুনঃপ্রতিষ্ঠায় যে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছেন, এছাড়া সারাদেশে অসহায়, বিপদাপন্ন মানুষের পাশে যেভাবে দাঁড়াচ্ছে তাতে তিনি এখন দেশের মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছেন। তাই স্বাভাবিকভাবেই তার দেশে ফেরা নিয়ে মানুষের কাছে ভিন্ন রকম আবেগ-অনুভূতি কাজ করছে।
তিনি বলেন, ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে, সেই নির্বাচনে আমরা তারেক রহমানের নেতৃত্বেই অংশগ্রহণ করবো। তাঁর দেশে ফেরার ঘোষণা গোটা জাতির জন্য বিশেষ এক উপলক্ষ্য, তাই সিদ্ধান্ত হলে দলের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবেই জানানো হবে।
তবে বিএনপি সূত্রে জানা যায়, দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ডিসেম্বরের যেকোন সময়ে দেশে ফিরতে পারেন ধরে নিয়ে সার্বিক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। তিনি দেশে ফিরে গুলশান-২ এভিনিউ রোডের ১৯৬ নম্বর বাড়িতে উঠবেন বলে বিএনপি’র একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে। সূত্রটি জানায়, দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের থাকার জন্য বাড়িটি উপযোগী করে তোলা হচ্ছে। করা হচ্ছে সাজসজ্জা। লাগানো হয়েছে সিসিটিভি। বাড়ির নিরাপত্তায় রয়েছেন সিএসএফ। এ ছাড়া দেশে ফিরে তারেক রহমান ধানম-ির ৫ নম্বর সড়কের ‘মাহবুব ভবন’-এ উঠতে পারেন বলেও দলের ভেতরে আলোচনা রয়েছে। তারেক রহমানের শ্বশুর সাবেক নৌবাহিনী প্রধান রিয়াল এডমিরাল মাহবুব আলী খানের বাসভবন এটি।
সমপ্রতি অন্তর্বর্তী সরকার গুলশান-২ এভিনিউ রোডের ১৯৬ নম্বর বাড়ির নামজারি সম্পন্ন করে এ সংক্রান্ত কাগজপত্র বেগম খালেদা জিয়ার হাতে হস্তান্তর করেছে। এই বাড়ির পাশেই ‘ফিরোজা’য় থাকেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া।
এছাড়া বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার নিজস্ব নিরাপত্তা বাহিনীর (সিএসএফ) সদস্যরা তারেক রহমানের নিরাপত্তার দেখভাল করবেন। আর তিনি দেশে ফিরে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিবেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান। এজন্য দু’টি বুলেটপ্রুফ গাড়ি কেনার উদ্যোগও নিয়েছে বিএনপি। খালেদা জিয়া এবং তারেক রহমানের নিরাপত্তায় এই গাড়ি কেনার অনুমতি দিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এ ছাড়া আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্সের জন্যও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবেদন জানিয়েছে বিএনপি।
১/১১’র মঈনুদ্দীন-ফখরুদ্দীন সরকার গঠন করলে ২০০৭ সালের ৭ মার্চ তারেক রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়। কারাগারে তার ওপর চালানো হয় অমানুষিক নির্যাতন। পরের বছরে ৩ সেপ্টেম্বর জামিনে মুক্তি পান তিনি। ১১ সেপ্টেম্বর চিকিৎসার জন্য সপরিবারে লন্ডনে যান তিনি। সেই থেকে লন্ডনেই অবস্থান করছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সেখান থেকেই ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে দলকে পুনর্গঠন, শক্তিশালী করা এবং আন্দোলনে নেতৃত্ব প্রদান করেছেন তিনি।
Reporter Name 



















