কুড়িগ্রামে শীতকালীন আগাম সবজি চাষে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। চলতি মৌসুমে প্রায় ২ হাজার হেক্টর জমিতে আগাম বিভিন্ন সবজি চাষ হচ্ছে। যার মধ্যে মুলা, টমেটো, ফুলকপি, বাঁধাকপি, গাজর ও শিম উল্লেখযোগ্য।
আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় চাষিরা সফলভাবে ফসল উৎপাদন করছেন। বাজারে নতুন সবজির ভালো দাম পাওয়ার আশায় কৃষকরা চাষাবাদে আরও আগ্রহী হচ্ছেন।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে জেলায় ৪ হাজার হেক্টর জমিতে সবজি চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ হিসেবে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে প্রতি হেক্টরে ২০ মেট্রিকটন। সে হিসেবে মোট ৮০ হাজার মেট্রিকটন সবজি উৎপাদন হবে। ভরা মৌসুমের আগে দুই থেকে তিন দফায় আগাম সবজি উৎপাদন ও সরবরাহ হবে বাজারে। আবহাওয়া ভালো থাকায় চাষিরা নির্বিঘ্নে চাষাবাদ করছেন।
জেলা সদরের কাঁঠালবাড়ী, মোগলবাসা, হলোখানা, ভোগডাঙা ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকার মাঠগুলোতে দিনভর চাষিদের ব্যস্ততা লক্ষ করা গেছে। মুলা, শিম, বেগুন, ফুলকপি, বাঁধাকপি, টমেটোসহ বিভিন্ন ধরনের আগাম শীতকালীন সবজি চাষ হচ্ছে। জমি প্রস্তুত, বীজ বপন, সার-বালাইনাশক প্রয়োগ, চারার পরিচর্যা ও নতুন ফলন তুলে বাজারে সরবরাহ করছেন চাষিরা।
জেলা সদরের কাঁঠালবাড়ী ইউনিয়নের টগরাইহাট এলাকার সবজি চাষি শহিদুল হক বলেন, গ্রীষ্মকালীন সবজির জোগান প্রায় শেষ। এখন প্রায় সব কৃষকই শীতকালীন চাষাবাদে ঝুঁকছেন। গ্রীষ্মকালীন চাষাবাদ কঠিন ছিল। শুরুতে তীব্র খরায় চারা রোপণ ও উৎপাদন ব্যাহত হয়। দফায় দফায় কীটনাশকের দাম বাড়ায় চাষিদের হিমশিম খেতে হয়েছে। রোগবালাইয়ের আক্রমণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে, ফলে ফলনও আশানুরূপ হয়নি।
তিনি আরও বলেন, ৩৫ শতাংশ জমিতে আগাম জাতের শীতকালীন বাঁধাকপি চাষ করছেন। বাঁধাকপি বাজারে ওঠা পর্যন্ত উৎপাদন খরচ পড়বে প্রায় ৩০ হাজার টাকা। আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে বাঁধাকপি বাজারে তুলতে পারবেন এবং আড়াই লাখ টাকার সবজি বিক্রি করতে পারবেন। একই জমিতে গত বছর বাঁধাকপি আবাদ ও বিক্রি করেছিলেন সোয়া ২ লাখ টাকার।
একই ইউনিয়নের তালুক গ্রামের সবজি চাষি আল ইমরান বলেন, শীতকালীন চাষাবাদের জন্য ভাদ্র মাসের শুরু থেকে প্রস্তুতি নিতে হয়। বর্তমানে তিনি ৮০ শতাংশ জমিতে ফুলকপি চারা রোপণ করেছেন। কয়েক দিনের মধ্যে ফুলকপি বাজারে ওঠাতে পারলে ভালো দাম পাবেন। তবে এরই মধ্যে আগাম জাতের শিম, মুলা, লালশাক, পুঁইশাক, পালংশাক, বরবটি, টমেটো, শসাসহ বেশ কয়েকটি সবজি উঠেছে বাজারে। মৌসুম শুরুর আগেই আগাম জাতের সবজি বাজারে ওঠাতে পারলে ভালো দাম পাওয়া যায়।
৩০ শতাংশ জমিতে গ্রীষ্মকালীন করলা, মিষ্টিকুমড়া ও কাঁচামরিচের আবাদ করেছিলেন পৌর এলাকার উত্তর কৃষ্ণপুর গ্রামের সবজি চাষি মশিউর রহমান। এখন সেই জমিতে শীতের আগাম জাতের মুলা, টমেটো, ফুলকপি, বাঁধাকপি ও শিম চাষ করছেন।
চাষাবাদের বিষয়ে কৃষক মশিউর রহমান বলেন, গ্রীষ্মকালীন সবজির বাজারদর ভালো ছিল। কিন্তু প্রতিকৃল আবহাওয়ার কারণে আশানুরূপ ফলন পাওয়া যায়নি। তাই লাভের আশায় দ্রুত শীতকালীন সবজি চাষাবাদ শুরু করেছি।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, গত বছর আগাম শীতকালীন সবজি চাষে আশানুরূপ লাভবান হওয়ায় আবহাওয়া ও বাজারে সবজির ভালো দাম পাওয়ায় চাষিরা উৎপাদনে আগ্রহী হচ্ছেন। ধান ও ভুট্টার পর সবজি উৎপাদন এগিয়ে চলেছে। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে উৎপাদিত ফলন দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হয়। চলতি মৌসুমে সময়োপযোগী চাষাবাদে কৃষিবিষয়ক পরামর্শ ও সহযোগিতা দিয়ে চাষিদের উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে।
Reporter Name 

























