ঐতিহাসিক নজীরবিহীন ঘটনা ঘটতে যাচ্ছে। প্রতিপক্ষ রাজনীতিকদের ফাঁসি দেয়ার লক্ষ্যে যে আদালত প্রতিষ্ঠা করেছিলেন শেখ হাসিনা; সেই আদালতে তার বিচার এবং তার বিরুদ্ধে মামলার রায় দেয়া হচ্ছে। দেশবাসীর অপেক্ষার প্রহর শেষ। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ফ্যাসিস্ট হাসিনাসহ তিনজনের বিরুদ্ধে আজ মানবতাবিরোধী অপরাধ ও জুলাই গণহত্যা মামলায় রায় দেবেন। কী রায় হয় তা জানার জন্য সবাই মুখিয়ে রয়েছেন। আদালতের অনুমতি সাপেক্ষে বিটিভিতে রায় ঘোষণা সরাসরি প্রচার করা হবে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমসহ ঢাকায় প্রজেক্টর টাঙ্গিয়ে রায় ঘোষণার বিচারিক কার্যক্রম দেশবাসীকে দেখানো হবে। রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে ভারতে পলাতক মামলায় অভিযুক্ত মনস্টার হাসিনার অনুসারীরা নাশকতা করতে পারে এমন আশঙ্কায় আদালতপাড়াসহ সারাদেশে ব্যাপক নিরাপত্তার ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। আইন-শৃংখলা বাহিনীর পাশাপাশি রাজনৈতিক দলের নেতারাও মাঠে থাকার ঘোষণা দিয়েছে।
গণহত্যা মামলার এই রায় ঘিরে এক সপ্তাহ ধরে আওয়ামী লীগ লকডাউন কর্মসূচির নামে নাশকতার চেষ্টা করছে। টানা কয়েকদিন ধরে দেশের বিভিন্ন স্থানে ককটেল বিস্ফোরণ, বাসে অগ্নিসংযোগ, রাতের আঁধারে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, গণপরিবহন, পেট্রোল ঢেলে স্থাপনায় অগ্নিসংযোগের ঘটনায় দেশ জুড়ে উদ্বেগ-আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। গত বৃহস্পতিবার বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ হাসিনার মামলার রায়ের তারিখ ঘোষণা করেন। ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী। রায়ের বিষয়ে গতকাল রোববার প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামীম সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, আদালতের অনুমতি সাপেক্ষে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের এই রায়টি বিটিভিতে সরাসরি সম্প্রচার করা হবে। একইসঙ্গে অন্য টেলিভিশনও বিটিভি থেকে তা সম্প্রচার করতে পারবে। শেখ হাসিনা ছাড়াও এ মামলার অপর দুই আসামি হলেন সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল (পলাতক) ও পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন। সাবেক আইজিপি মামুন রাজসাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দিয়েছেন। পৃথিবীর নিষ্ঠুর স্বৈরশাসকদের অন্যতম স্বৈরশাসক বর্তমানে ভারতের দিল্লিতে পলাতক শেখ হাসিনা ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্রজনতার অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে পালিয়ে দিল্লি যান। সেখানে হিন্দুত্ববাদী নরেন্দ্র মোদীর অনুকম্পায় বসবাস করছেন এবং বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছেন।
আওয়ামী লীগ সরকার পতন এবং হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর ২০২৪ সালের ৮অক্টোবর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার গঠন করা হয়। অতঃপর খুন, গুম ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠন করা হয়। হাসিনাসহ তিন আসামীর বিরুদ্ধে যে মামলাগুলোর রায় ঘোষণা করা হবে সেগুলো হচ্ছে ২০২৪ সালের ১৪ জুলাই গণভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে শেখ হাসিনার উসকানিমূলক বক্তব্য প্রদান; হেলিকপ্টার, ড্রোন ও প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার করে আন্দোলনকারীদের নির্মূল করার নির্দেশ প্রদান; রংপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আবু সাঈদকে গুলি করে হত্যা; রাজধানীর চানখাঁরপুল এলাকায় ৬ আন্দোলনকারীকে গুলি করে হত্যা এবং আশুলিয়ায় ৬ জনকে পোড়ানোর অভিযোগ। এই পাঁচ অভিযোগে তিন আসামির বিরুদ্ধে গত ১০ জুলাই আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করেন ট্রাইব্যুনাল।
মূলত পুনর্গঠিত ট্রাইব্যুনালে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় প্রথম মামলাটি (মিসকেস বা বিবিধ মামলা) হয় শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে। গত বছরের ১৭ অক্টোবর পুনর্গঠিত ট্রাইব্যুনালের প্রথম বিচারকাজ অনুষ্ঠিত হয়। সেদিনই এ মামলায় শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন ট্রাইব্যুনাল। প্রথম দিকে এ মামলায় শেখ হাসিনাই একমাত্র আসামি ছিলেন। চলতি বছরের ১৬ মার্চ এ মামলায় শেখ হাসিনার পাশাপাশি সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ও সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনকে আসামি করার আবেদন করে প্রসিকিউশন (রাষ্ট্রপক্ষ) এবং ট্রাইব্যুনাল তা মঞ্জুর করেন। একাধিকবার সময় বাড়ানোর পর চলতি বছরের ১২ মে চিফ প্রসিকিউটর কার্যালয়ে এ মামলার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয় ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা। গত ১২ অক্টোবর এ মামলায় যুক্তিতর্ক শুরু হয়। যুক্তিতর্ক শেষ হয় ২৩ অক্টোবর। মূলত গত ১ জুন শেখ হাসিনাসহ এই তিন আসামির বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) দাখিল করে প্রসিকিউশন। আনুষ্ঠানিক অভিযোগে এই তিন আসামির বিরুদ্ধে মোট পাঁচটি অভিযোগ আনা হয়।
আসামি শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান পলাতক। সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন এ মামলার একমাত্র গ্রেপ্তার আসামি। আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের দিন ১০ জুলাই সাবেক আইজিপি মামুন গণ-অভ্যুত্থানের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন এবং রাজসাক্ষী হওয়ার আবেদন করেন।আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামীম গতকাল বলেন, আমরা আসামিদের অপরাধ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে পেরেছি এবং সর্বোচ্চ শাস্তি চেয়েছি। এই রায়টি বিটিভিতে সরাসরি সম্প্রচার করা হবে। একইসঙ্গে অন্য টেলিভিশনও বিটিভি থেকে তা সম্প্রচার করতে পারবে। এছাড়া, রয়টার্সও বিটিভি থেকে সরাসরি সম্প্রচার করবে বলে জানা গেছে। অন্যদিকে, ঢাকার বিভিন্ন স্থানে বড় পর্দা লাগিয়ে সরাসরি সম্প্রচারটি দেখানো হবে। তিনি জানান, ট্রাইব্যুনালে রায় ঘোষণার পর আবারও শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের মাধ্যমে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আবেদন করা হবে। শেখ হাসিনাসহ আসামিদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে সেটা শহীদ পরিবার ও আহতদের ক্ষতিপূরণ হিসেবে দেওয়ার জন্যও তারা আবেদন করেছেন। আমরা ট্রাইব্যুনালে তার (শেখ হাসিনা) সর্বোচ্চ শাস্তি প্রার্থনা করেছি। শুধু তাই নয়, একইসঙ্গে এই আসামিদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে মামলায় যারা ভিক্টিম বা শহীদ আছে, আহত পরিবার আছে- তাদের বরাবর হস্তান্তরের প্রার্থনা জানিয়েছি।
বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন এবং মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী সমন্বয়ে গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ মামলায় পাঁচটি অভিযোগ আনা হয়েছে। শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদ-ের আবেদন করেছে প্রসিকিউশন। অন্যদিকে, আসামিদের নির্দোষ দাবি করে খালাস চেয়েছেন তাদের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী। এছাড়া, রাজসাক্ষী সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনেরও খালাস চেয়েছেন তার আইনজীবী। এই মামলায় প্রসিকিউশন পক্ষে চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম, প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম ও গাজী এস. এইচ. তামীম শুনানি পরিচালনা করেছেন। অন্যান্য প্রসিকিউটর ছিলেন বি. এম. সুলতান মাহমুদ, শাইখ মাহদি ও আবদুস সাত্তার পালোয়ান।
পলাতক শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মো. আমির হোসেন শুনানি করেন। রাজসাক্ষী চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী জায়েদ বিন আমজাদ।ঐতিহাসিক এই মামলায় মোট ৫৪ জন সাক্ষী দেন। এদের মধ্যে আছেন গণঅভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ আবু সাঈদের পিতাসহ পরিবারের সদস্যরা। এছাড়া জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক ও জুলাই আন্দোলনে নেতৃত্বদানকারী নাহিদ ইসলাম এবং দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার সম্পাদক ড. মাহমুদুর রহমান স্টার উইটনেস হিসেবে সাক্ষ্য দেন।
রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে গত এক সপ্তাহ ধরে রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটছে। এ ছাড়া বিভিন্ন মহাসড়কসহ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় বাসে আগুন দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। এমন পরিস্থিতিতে সব আইন-শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি বিজিবিও মাঠপর্যায়ে আইন-শৃংখলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে কাজ করে যাচ্ছে। আইন-শৃংখলা বাহিনীর পাশাপাশি রাজনৈতিক দলের নেতারাও মাঠে থাকার ঘোষণা দিয়েছে। বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, একটি গোষ্ঠী এ পরিস্থিতিকে ঘিরে বিশৃংখলা সৃষ্টির অপচেষ্টা চালাচ্ছে। তাই জাতীয় ঐক্যের কোনো বিকল্প নেই। অপরদিকে, জামায়াতে ইসলামীসহ আট দল রায় উপলক্ষে মাঠে থাকার ঘোষণা দিয়েছে। রোববার আট দলের যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানিয়েছেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। জামায়াতের সেক্রেটারি বলেন, আমরা অতীতের কর্মসূচিতেও মাঠে ছিলাম, এবারও ফ্যাসিবাদের পক্ষে নাশকতার কোনো সুযোগ জাতি দেবে না। তারা (আওয়ামী লীগ) এটার সুযোগ পাবে না। আমরা আটদল মাঠে থাকব।
শেখ হাসিনার ফাঁসির দাবিতে হাইকোর্ট এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল করেছে বিএনপিপন্থি আইনজীবীরা। সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সামনে জড়ো হন দলটির আইনজীবীরা। পরে সেখান থেকে মিছিল নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের অ্যানেক্স ভবনের সামনে দিয়ে আবার সমিতি ভবনের সামনে গিয়ে শেষ হয়। এ সময় তারা শেখ হাসিনার ফাঁসির দাবি জানান।
আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালে অভিযুক্ত এক নম্বর আসামি শেখ হাসিনা কার্যত নিজেকে আইনের ঊর্ধ্বে নিয়ে গিয়ে মনস্টার হয়ে উঠেছিলেন। রাজনীতি এবং রাষ্ট্রীয় প্রশাসনকে তিনি কার্যত অপরাধীদের সিন্ডিকেট তৈরি করেছিলেন। সপরিবারে শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকা-ের পর ৫ বছর বিদেশে থেকে আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত হয়ে ১৯৮১ সালের ১৭ মে দেশে আসেন শেখ হাসিনা। হাসিনার দেশে ফেরার দুই সপ্তাহের মধ্যেই রাষ্ট্রের নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে হত্যা করা হয়। আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে ভারতের পৃষ্ঠপোষকতায় হাসিনা হয়ে উঠেন ভয়ঙ্কর নিষ্ঠুর স্বৈরশাসক। ২০০৭ সালে দিল্লির নীল নকশা অনুযায়ী ওয়ান-ইলেভেনের মাধ্যমে রাজনৈতিক পট-পরিবর্তনের পর ২০০৮ সালের পূর্ব নির্ধারিত ফলাফল তালিকা প্রস্তুতির নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসেন শেখ হাসিনা। অতঃপর দেশে বিডিআর বিদ্রোহের নামে পিলখানা হত্যকা-ে ৫৬ জন সেনা অফিসারকে হত্যা করা হয়। ভারতের নীল নকশা অনুযায়ী রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের উপর সুনামি চালিয়ে ২০১৪ সালে প্রার্থী ও ভোটারবিহীন নির্বাচন, ২০১৮ সালে রাতের ভোট ও ২০২৪ সালে আমি-ডামি’র ভোট করে ক্ষমতা কুক্ষিগত করেন। এই দীর্ঘ ১৫ বছর ৮ মাস শেখ হাসিনা ক্ষমতাকে ইচ্ছামতো ব্যবহার করে নিজেদের ভয়ঙ্কর মনস্টারে পরিণত করেন।
তিনি হয়ে উঠেন অপ্রতিরোধ্য। হত্যা, গুম, হামলা, মামলা করে প্রতিপক্ষ রাজনীতিকে মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দিয়ে ক্ষমতার বলয়ে মাফিয়াচক্র গড়ে তোলেন। প্রতিটি সেক্টরের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে তিনি ভয়ঙ্কর নিষ্ঠুর স্বৈরশাসকের তালিকায় নিজের নাম লেখান। পাশাপাশি যার পৃষ্ঠপোষকতায় ভয়ঙ্কর স্বৈরশাসক হয়ে উঠেন সেই ভারতের নাচের পুতুল হয়ে পড়েন। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হয়ে তিনি ভারতের স্বার্থকে বেশি গুরুত্ব দিতেন। শুধু তাই নয়, ১৯৮১ সালে দেশে ফেরার পর আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম বিবিসিতে দেয়া সাক্ষাৎকারে হাসিনা বলেছিলেন, ‘পিতা হত্যার প্রতিশোধ নিতে রাজনীতিতে নেমেছি’। তিনি মূলত দীর্ঘ ৪৫বছর রাজনীতি এবং টানা ১৫ বছর ৮ মাস রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় থেকে প্রশাসনযন্ত্রকে ব্যবহার করে পিতা হত্যার প্রতিশোধ নেন। হাসিনা ১৫ বছর দেশকে সন্ত্রাসী ও অপরাধীদের অভয়ারণ্যে পরিণত করেছিলেন এবং উন্নয়নের নামে বিদেশী ঋণ নিয়ে বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা বিদেশে পাচার করেন। তিনি নিজের অলিগার্কদের রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুটপাটের অর্থ বিদেশে পাচারের পথ খুলে দেন।
Reporter Name 




















