ঢাকা ০৯:৩৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
ফয়েজ উদ্দিন মানিক গোপদিঘী ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে বিএনপি মনোনয়নে যোগ্য দাবিদার আমিই বিশ্বের সেরা ফুটবলার—এমবাপ্পে ওয়াটার এটিএমের নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণে জোর দিলেন এলজিআরডি মন্ত্রী টাকা ছাপতে এক বছরে দ্বিগুণ অর্থ খরচ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে প্রত্যাবাসনে সব ধরনের সহযোগিতা দেবে বাংলাদেশ: প্রধানমন্ত্রী রাজধানীর প্রধান সড়কে অননুমোদিত ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা বন্ধ: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিয়ের পিঁড়িতে বসছেন পূজা চেরী, পাত্র কে ১৫ সেপ্টেম্বর সিলেট যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি দেশে মোবাইল সংযোগ ১৯ কোটি ১০ লাখ: আইসিটি মন্ত্রী গর্ভাবস্থায় কোন ফলগুলো বেশি উপকারী

ড. মাহাথির মোহাম্মদের চট্টগ্রামসংক্রান্ত অগ্রজ ও শৈশবের কাহিনি

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ০৯:২৪:৪০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ নভেম্বর ২০২৫
  • ১২৭ বার

Oplus_16908288

চট্টগ্রামের রক্ত, শুটকি মাছের স্বাদ:

বিশ্বজুড়ে পরিচিত মালয়েশিয়ার প্রখ্যাত রাষ্ট্রনায়ক ড. মাহাথির মোহাম্মদ চট্টগ্রামের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। স্থানীয়রা বলেন, “রক্তে বহিছে চিটাগাং-এর রক্ত, শুটকি মাছ খেতেই হবে।” শিশু মাহাথিরের প্রিয় খাবারের মধ্যে শুটকি, বিশেষ করে লইট্টা মাছ অন্যতম।

মরিয়ম নগরের নূর মোহাম্মদ: স্বাধীনতার আগ্রদূত:
১৮০০ সালের দিকে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার চন্দ্রঘোনা ও কাপ্তাইগামী সড়কের পূর্বে কর্ণফুলী নদীর তীরে অবস্থিত মরিয়ম নগরে ছিলেন যুবক নূর মোহাম্মদ। তিনি প্রথমে ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলনের ডাক দেন। অল্পদিনেই তার নেতৃত্বে ব্রিটিশদেরকে পরাজিত করা হয়। পরবর্তীতে ব্রিটিশ শাসকরা তাকে হত্যা ও বাড়ি পুড়িয়ে দেয়ার হুমকি দেয়।

নূর মোহাম্মদ শেষমেষ জীবন রক্ষার্থে বিদেশে পাড়ি জমান। সেখানে একটি বন্দরে কুলির কাজ শুরু করে এবং সেখানে বিয়ে করে। তার কোলজুড়ে জন্ম নেয় একটি পুত্র, ইস্কান্দার মোহাম্মদ।

ইস্কান্দার ও মাহাথিরের শৈশব:
ইস্কান্দার নিজের পিতার মতো কুলির কাজ চালিয়ে যান। তার বড় ছেলে মাহাথির ছোট বয়সেই পরিবারের দায়িত্ব সামলাতে শুরু করে। একসময় অসুস্থ্য বাবার স্বপ্ন ছিল—ছেলেটি বড় হয়ে ডাক্তার হবে। তাই মাহাথির স্কুল শেষে বন্দরে দাঁড়িয়ে ভাঁজাপুরি বিক্রি করতো। মা-মায়ের উপদেশে সাহসী হয়ে বড় হয়।

ডাক্তারি শিক্ষার প্রথম বর্ষেই মাহাথির বুঝতে পারেন, রাজনীতিতে যুক্ত হয়ে সমগ্র জাতির সেবা করা সম্ভব। ১৯৪৬ সালে তিনি একটি রাজনৈতিক দল গঠন করেন এবং পড়াশোনা চালিয়ে যান।

মালয়েশিয়ার আধুনিক রূপকার:
মাহাথির মোহাম্মদ আধুনিক মালয়েশিয়ার রূপকার হিসেবে বিশ্বে পরিচিত। তার প্রিয় খাবারে ফজলী আম, মিষ্টি দই অন্তর্ভুক্ত। রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে তিনি নিয়মিত “নাম ব্যাজ” ব্যবহার করতেন।

বিশ্বে একমাত্র রাষ্ট্রনায়ক যিনি কাজের সময়ও প্রতিবাদমুখী এবং শক্তিশালী ইমেজ ধরে রাখেন। ২০০২ সালে JFK বিমানবন্দরে নিরাপত্তা ব্যবস্থায় মালয়েশিয়ান পররাষ্ট্র মন্ত্রীর সঙ্গে যে আচরণ ঘটেছিল, তা পরবর্তীতে সারা বিশ্বের বিমানবন্দরে নতুন নীতি প্রণয়নের কারণ হয়।

ব্যক্তিগত সাক্ষাৎকার:
২০১২ সালে লেখক মালয়েশিয়ায় গিয়ে মাহাথিরকে তার অফিসে “টুইন টাওয়ার”-এ দূর থেকে দেখতে পান। সকাল ৯টা থেকে ৫টা পর্যন্ত তার অফিস থাকলেও দর্শনার্থীরা তাকে দেখার জন্য আগে থেকেই ভিড় করতেন।

শেষ কথা:
আল্লাহ যেন এই মহান নেতাকে সুস্থ্য রাখেন। তার জীবন ও কর্মকাণ্ড থেকে শেখার আছে সাহস, ধৈর্য্য এবং দেশের প্রতি ভালোবাসা।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

ফয়েজ উদ্দিন মানিক গোপদিঘী ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে বিএনপি মনোনয়নে যোগ্য দাবিদার

ড. মাহাথির মোহাম্মদের চট্টগ্রামসংক্রান্ত অগ্রজ ও শৈশবের কাহিনি

আপডেট টাইম : ০৯:২৪:৪০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ নভেম্বর ২০২৫

চট্টগ্রামের রক্ত, শুটকি মাছের স্বাদ:

বিশ্বজুড়ে পরিচিত মালয়েশিয়ার প্রখ্যাত রাষ্ট্রনায়ক ড. মাহাথির মোহাম্মদ চট্টগ্রামের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। স্থানীয়রা বলেন, “রক্তে বহিছে চিটাগাং-এর রক্ত, শুটকি মাছ খেতেই হবে।” শিশু মাহাথিরের প্রিয় খাবারের মধ্যে শুটকি, বিশেষ করে লইট্টা মাছ অন্যতম।

মরিয়ম নগরের নূর মোহাম্মদ: স্বাধীনতার আগ্রদূত:
১৮০০ সালের দিকে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার চন্দ্রঘোনা ও কাপ্তাইগামী সড়কের পূর্বে কর্ণফুলী নদীর তীরে অবস্থিত মরিয়ম নগরে ছিলেন যুবক নূর মোহাম্মদ। তিনি প্রথমে ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলনের ডাক দেন। অল্পদিনেই তার নেতৃত্বে ব্রিটিশদেরকে পরাজিত করা হয়। পরবর্তীতে ব্রিটিশ শাসকরা তাকে হত্যা ও বাড়ি পুড়িয়ে দেয়ার হুমকি দেয়।

নূর মোহাম্মদ শেষমেষ জীবন রক্ষার্থে বিদেশে পাড়ি জমান। সেখানে একটি বন্দরে কুলির কাজ শুরু করে এবং সেখানে বিয়ে করে। তার কোলজুড়ে জন্ম নেয় একটি পুত্র, ইস্কান্দার মোহাম্মদ।

ইস্কান্দার ও মাহাথিরের শৈশব:
ইস্কান্দার নিজের পিতার মতো কুলির কাজ চালিয়ে যান। তার বড় ছেলে মাহাথির ছোট বয়সেই পরিবারের দায়িত্ব সামলাতে শুরু করে। একসময় অসুস্থ্য বাবার স্বপ্ন ছিল—ছেলেটি বড় হয়ে ডাক্তার হবে। তাই মাহাথির স্কুল শেষে বন্দরে দাঁড়িয়ে ভাঁজাপুরি বিক্রি করতো। মা-মায়ের উপদেশে সাহসী হয়ে বড় হয়।

ডাক্তারি শিক্ষার প্রথম বর্ষেই মাহাথির বুঝতে পারেন, রাজনীতিতে যুক্ত হয়ে সমগ্র জাতির সেবা করা সম্ভব। ১৯৪৬ সালে তিনি একটি রাজনৈতিক দল গঠন করেন এবং পড়াশোনা চালিয়ে যান।

মালয়েশিয়ার আধুনিক রূপকার:
মাহাথির মোহাম্মদ আধুনিক মালয়েশিয়ার রূপকার হিসেবে বিশ্বে পরিচিত। তার প্রিয় খাবারে ফজলী আম, মিষ্টি দই অন্তর্ভুক্ত। রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে তিনি নিয়মিত “নাম ব্যাজ” ব্যবহার করতেন।

বিশ্বে একমাত্র রাষ্ট্রনায়ক যিনি কাজের সময়ও প্রতিবাদমুখী এবং শক্তিশালী ইমেজ ধরে রাখেন। ২০০২ সালে JFK বিমানবন্দরে নিরাপত্তা ব্যবস্থায় মালয়েশিয়ান পররাষ্ট্র মন্ত্রীর সঙ্গে যে আচরণ ঘটেছিল, তা পরবর্তীতে সারা বিশ্বের বিমানবন্দরে নতুন নীতি প্রণয়নের কারণ হয়।

ব্যক্তিগত সাক্ষাৎকার:
২০১২ সালে লেখক মালয়েশিয়ায় গিয়ে মাহাথিরকে তার অফিসে “টুইন টাওয়ার”-এ দূর থেকে দেখতে পান। সকাল ৯টা থেকে ৫টা পর্যন্ত তার অফিস থাকলেও দর্শনার্থীরা তাকে দেখার জন্য আগে থেকেই ভিড় করতেন।

শেষ কথা:
আল্লাহ যেন এই মহান নেতাকে সুস্থ্য রাখেন। তার জীবন ও কর্মকাণ্ড থেকে শেখার আছে সাহস, ধৈর্য্য এবং দেশের প্রতি ভালোবাসা।