ঢাকা ০৭:৩৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২৫ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

অর্থনীতির পাশাপাশি রাজনৈতিক সম্পর্কের পথে বাংলাদেশ-কাতার

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১০:৩৬:৫২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৫
  • ৫৩ বার

বাংলাদেশের সাথে কেবল অর্থনৈতিক নয়, বরং রাজনৈতিক সম্পর্কও স্থাপন করছে কাতার। দেশটিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত বলছেন, জুলাই অভ্যুত্থানের পর গণতান্ত্রিক উত্তরণ প্রক্রিয়ায়ও ঢাকাকে সহযোগিতার আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব দিয়েছে দোহা। পাশাপাশি মধ্যস্থতা কূটনীতিতে সক্রিয় দেশটি রোহিঙ্গা ইস্যুতেও থাকতে চায় বাংলাদেশের পাশে— পাওয়া গেছে এমনই বার্তা।

গত বছর জুলাই অভ্যুত্থানের পর চলতি বছরের জানুয়ারিতে উন্নত চিকিৎসার জন্য বহু বছর পর লন্ডন গিয়েছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। তার সেই যাত্রায় বিশেষ এয়ার অ্যাম্বুলেন্স পাঠিয়েছিলেন কাতারের আমির। আবার সেই রয়্যাল এয়ার অ্যাম্বুলেন্সেই ঢাকা ফেরেন সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী।

 

পাশাপাশি গত এপ্রিলে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাতার সফরকেও গুরুত্ব দিয়েছে দেশটি। এ সময় জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় এলএনজি আমদানি বাড়ানোর পাশাপাশি বাংলাদেশে ব্যবসা বাণিজ্য আর বিনিয়োগ বাড়ানোরও আগ্রহ দেখায় তেল সমৃদ্ধ মধ্যপ্রাচ্যের এই দেশ।

সেই সফরে কাতারের বিনিয়োগকারীদের জন্য এ সময় আলাদা রফতানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল (ইপিজেড) তৈরির কথা বলেন অন্তর্বর্তী সরকার প্রধান। কাতারে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হযরত আলী খান বলেন, দু’দেশের মধ্যকার কূটনৈতিক সম্পর্ক চমৎকার। সম্প্রতি প্রধান উপদেষ্টার কাতার সফর ও  গত বছর কাতারের আমিরের বাংলাদেশ সফর সৌহার্দ্যপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককেই নির্দেশ করে। এটি সময়ের সাথে বাড়বে বলেও আশাপ্রকাশ করেন রাষ্ট্রদূত।

মূলত, গত পাঁচ দশক ধরে কাতারের সঙ্গে মূলত শ্রম বাজারকেন্দ্রিক সম্পর্ক বাংলাদেশের। এর সাথে যুক্ত হয়েছে এলএনজি আমদানি। এছাড়া সারসহ আরও কিছু পণ্য আমদানি করলেও কৌশলগত বা রাজনৈতিক ইস্যুতে বাংলাদেশে কাতারের উপস্থিতি দৃশ্যমান ছিল না তেমন।

রাষ্ট্রদূত বলেন, কেবলমাত্র মুসলিম বিশ্বের দেশগুলোর মধ্যকার আন্তঃসম্পর্কের প্রেক্ষাপটেই নয়, বাংলাদেশ-কাতার দু’দেশ ঐতিহ্যগতভাবেই একে অপরের সহযোগী। বাংলাদেশের গণতন্ত্র সুবিন্যস্তকরণে যদি কোনো প্রয়োজন হয়, সেক্ষেত্রেও তাদের পাশে পাওয়ার কথা প্রধান উপদেষ্টাকে জানিয়েছেন খোদ কাতারের প্রধানমন্ত্রী।

কাতারে সম্প্রতি ইসরাইলের হামলার নেপথ্যে ছিল ফিলিস্তিন ইস্যুতে দেশটির অবস্থান ও মধ্যস্থতার চেষ্টা। মধ্যস্থতা কূটনীতিতেও ব্যাপক সক্রিয় কাতার রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধানেও ভূমিকা রাখতে চায়।

প্রসঙ্গত, মধ্যপ্রাচ্যের প্রভাবশালী এই দেশটিতে কাজ করছে প্রায় পাঁচ লাখের মত বাংলাদেশি। বাংলাদেশের রেমিট্যান্স খাতেও পরোক্ষভাবে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব রাখছে কাতার। অর্থনৈতিক এই সম্পর্কের পাশাপাশি দ্বিপাক্ষিক পররাষ্ট্রনীতি ও রাজনৈতিক সম্পর্কও ইতিবাচক আবহে সমান্তরালেই চলবে বলে ধারণা অনেকের।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

অর্থনীতির পাশাপাশি রাজনৈতিক সম্পর্কের পথে বাংলাদেশ-কাতার

আপডেট টাইম : ১০:৩৬:৫২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৫

বাংলাদেশের সাথে কেবল অর্থনৈতিক নয়, বরং রাজনৈতিক সম্পর্কও স্থাপন করছে কাতার। দেশটিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত বলছেন, জুলাই অভ্যুত্থানের পর গণতান্ত্রিক উত্তরণ প্রক্রিয়ায়ও ঢাকাকে সহযোগিতার আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব দিয়েছে দোহা। পাশাপাশি মধ্যস্থতা কূটনীতিতে সক্রিয় দেশটি রোহিঙ্গা ইস্যুতেও থাকতে চায় বাংলাদেশের পাশে— পাওয়া গেছে এমনই বার্তা।

গত বছর জুলাই অভ্যুত্থানের পর চলতি বছরের জানুয়ারিতে উন্নত চিকিৎসার জন্য বহু বছর পর লন্ডন গিয়েছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। তার সেই যাত্রায় বিশেষ এয়ার অ্যাম্বুলেন্স পাঠিয়েছিলেন কাতারের আমির। আবার সেই রয়্যাল এয়ার অ্যাম্বুলেন্সেই ঢাকা ফেরেন সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী।

 

পাশাপাশি গত এপ্রিলে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাতার সফরকেও গুরুত্ব দিয়েছে দেশটি। এ সময় জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় এলএনজি আমদানি বাড়ানোর পাশাপাশি বাংলাদেশে ব্যবসা বাণিজ্য আর বিনিয়োগ বাড়ানোরও আগ্রহ দেখায় তেল সমৃদ্ধ মধ্যপ্রাচ্যের এই দেশ।

সেই সফরে কাতারের বিনিয়োগকারীদের জন্য এ সময় আলাদা রফতানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল (ইপিজেড) তৈরির কথা বলেন অন্তর্বর্তী সরকার প্রধান। কাতারে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হযরত আলী খান বলেন, দু’দেশের মধ্যকার কূটনৈতিক সম্পর্ক চমৎকার। সম্প্রতি প্রধান উপদেষ্টার কাতার সফর ও  গত বছর কাতারের আমিরের বাংলাদেশ সফর সৌহার্দ্যপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককেই নির্দেশ করে। এটি সময়ের সাথে বাড়বে বলেও আশাপ্রকাশ করেন রাষ্ট্রদূত।

মূলত, গত পাঁচ দশক ধরে কাতারের সঙ্গে মূলত শ্রম বাজারকেন্দ্রিক সম্পর্ক বাংলাদেশের। এর সাথে যুক্ত হয়েছে এলএনজি আমদানি। এছাড়া সারসহ আরও কিছু পণ্য আমদানি করলেও কৌশলগত বা রাজনৈতিক ইস্যুতে বাংলাদেশে কাতারের উপস্থিতি দৃশ্যমান ছিল না তেমন।

রাষ্ট্রদূত বলেন, কেবলমাত্র মুসলিম বিশ্বের দেশগুলোর মধ্যকার আন্তঃসম্পর্কের প্রেক্ষাপটেই নয়, বাংলাদেশ-কাতার দু’দেশ ঐতিহ্যগতভাবেই একে অপরের সহযোগী। বাংলাদেশের গণতন্ত্র সুবিন্যস্তকরণে যদি কোনো প্রয়োজন হয়, সেক্ষেত্রেও তাদের পাশে পাওয়ার কথা প্রধান উপদেষ্টাকে জানিয়েছেন খোদ কাতারের প্রধানমন্ত্রী।

কাতারে সম্প্রতি ইসরাইলের হামলার নেপথ্যে ছিল ফিলিস্তিন ইস্যুতে দেশটির অবস্থান ও মধ্যস্থতার চেষ্টা। মধ্যস্থতা কূটনীতিতেও ব্যাপক সক্রিয় কাতার রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধানেও ভূমিকা রাখতে চায়।

প্রসঙ্গত, মধ্যপ্রাচ্যের প্রভাবশালী এই দেশটিতে কাজ করছে প্রায় পাঁচ লাখের মত বাংলাদেশি। বাংলাদেশের রেমিট্যান্স খাতেও পরোক্ষভাবে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব রাখছে কাতার। অর্থনৈতিক এই সম্পর্কের পাশাপাশি দ্বিপাক্ষিক পররাষ্ট্রনীতি ও রাজনৈতিক সম্পর্কও ইতিবাচক আবহে সমান্তরালেই চলবে বলে ধারণা অনেকের।