বিভাজন নয়, ঐক্যের রাজনীতি করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, শতফুল ফুটবে, সেই শতফুল থেকে একটা শ্লোগান সেই বাগান থেকে বেরিয়ে আসবে সেটাই হচ্ছে বাংলাদেশের জাতীয়তাবাদ। অনেক ভুল-বুঝাবুঝি হয়েছে, অনেক রক্তপাত হয়েছে বাংলাদেশে, অনেক বিভাজন হয়েছে, আমরা এখন এগুলো থেকে বেরিয়ে আসতে চাই।
গতকাল সোমবার গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে হিন্দু সম্প্রদায়ের অর্ধশতাধিক সদস্য বিএনপিতে যোগদানের এক অনুষ্ঠানে তিনি দলের পক্ষ থেকে এই প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। মির্জা ফখরুল বলেন, গত ১৫ বছর ফ্যাসিস্ট সরকার বাংলাদেশের অর্থনীতি, রাজনৈতিক কাঠামো সবকিছুকে ধ্বংস করে ফেলেছে। আমরা সেই ধ্বংসস্তপ থেকে একটা নতুন বাংলাদেশ দেশ তৈরি করতে চাই। যার কথা আমাদের চেয়ারপারস বেগম খালেদা জিয়া ’২৪ এর ৫ আগস্ট রাতেই একটা ছোট্ট বাণীর মধ্য দিয়ে বলেছিলেন যে, আমরা এই দেশে আর প্রতিশোধ-প্রতিহিংসা চাই না, আমরা ভালোবাসার মধ্য দিয়ে মানুষকে জয় করি একটা ঐক্যের রাজনীতি সৃষ্টি করতে চাই। সেটাই হচ্ছে মূলকথা।
তিনি বলেন, আজকে অনেকে অনেক কথা বলবে, স্বার্থের কথা বলবে এবং বলছেও। আমরা রাজনৈতিক দলগুলো বিভিন্ন কথা বলছি। এখন আমাদের দর কষাকষি করছি, এখন আমাদের স্বার্থগুলো সামনে এসে গেছে, কোনটাকে মেনে নেব, কোনটাকে মেনে নেব না, তাই না। কেউ বলছি পিআর করতে হবে, কেউ বলছে পিআর করা যাবে না, আমরা ওই সমস্ত পথে যেতে চাই না। আমরা ১৯৭১ সালে যে বাংলাদেশ তৈরি করেছিলাম, যে বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছিলাম এবং ‘২৪ সালে ৩৬ জুলাই আমরা অভ্যুত্থানে নতুন বাংলাদেশের আর্ভিভূত হলাম সেই বাংলাদেশ নির্মাণ করতে চাই। ’২৪ এর ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে এবং একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান বিএনপি মহাসচিব।
এসময় হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতা সোমনাথ দে, কপিল কৃষ্ণ মন্ডল, সমেন সাহার নেতৃত্বে গোপালগঞ্জসহ বিভিন্ন স্থানে বসবাসরত অর্ধশতাধিক হিন্দু সম্প্রদায়ের সদস্যরা বিএনপি মহাসচিবের হাতে ফুল দিয়ে বিএনপিকে যোগদান করেন। নতুন যোগদানকারীদের অভিনন্দন জানিয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, আসুন আমরা আমাদের মধ্যে আরও বৃহত্তর ঐক্য গড়ে তুলি।
তিনি বলেন, বাইরের কিছু কিছু মানুষ, কিছু দেশ, কিছু মিডিয়া তারা বাংলাদেশে ব্যাপারে একটা মিথ্যা প্রচারণা করার চেষ্টা করেছে। আমরা এই ধারণাটা পাল্টে দিতে চাই। দুর্গা পূজায় আমাদের বিএনপির নেতা-কর্মীরা প্রতিটি পূজা মন্ডপে আপনাদের কাছে গেছে এবং আপনাদের পাশে গিয়ে দাঁড়িয়েছে। আমার নিজের এলাকা ঠাকুরগাঁওয়ে ২৬৫টি পূজা মন্ডপ আছে, সেখানে তাদের সঙ্গে আমাদের নেতা-কর্মীরা পূজার আনন্দ ভাগ করে নিয়েছি।
কিছু মানুষ আমাদের ঐক্যে ভাঙ্গন ধরাতে চায় অভিযোগ করে মির্জা ফখরুল বলেন, সময়টা অনেক কঠিন। কিছু মানুষ চেষ্টা করছে বিভিন্ন রকম কথা বলে, কর্ম করে একাত্তর সালের যুদ্ধে আমরা যে দেশ তৈরি করেছি, যে ঐক্য সৃষ্টি করেছি, ‘২৪ এর বিপ্লবে যে ঐক্য সৃষ্টি করেছি সে ঐক্যের মধ্যে ভাঙ্গন ধরাতে চায়। আমরা অত্যন্ত সচেতনভাবে এই ভাঙ্গনের বিপক্ষে। আমরা বাংলাদেশের মানুষ এক, আমরা যারা এই ভূখ-ে বাস করি আমরা সবাই এক- হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান এবং চাকমা, মারমা, উরাং সবাই আমরা একইসঙ্গে শান্তিতে বসবাস করতে চাই। আমাদের প্রতিটি সম্প্রদায়ের ছেলেমেয়েরা যেন লেখাপড়ার সুযোগ পায়, স্বাস্থ্য সেবার সুযোগ পায়, কর্মসংস্থানের সুযোগ পায়, সেটা আমরা নিশ্চিত করতে চাই।
তিনি বলেন, আমরা সেই নেতা দেখতে চাই না যে নেতা আওয়ামী লীগের মতো পালিয়ে যাবে। আমরা সেই নেতাকে চাই, যেকোন মুহূর্তে সবাইকে নিয়ে সামনে দাঁড়িয়ে নেতৃত্ব দেবে।
সরকারের উদ্দেশ্যে মির্জা ফখরুল বলেন, সরকারের উদ্দেশ্যে বিশেষ করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বাহিনীকে বলতে চাই, আমরা দেখতে চাই না যে, আপনারা আমাদের এই সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষদের কোনরকম বিপদের মধ্যে ফেলেছেন, কোনোরকম সমস্যা সৃষ্টি তৈরি করেছেন, এটা আমি স্পষ্ট করে বলতে চাই। দয়া করে এই সম্প্রদায়ের মানুষদের কেউই কখনো হয়রানি করবেন না।
বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানির সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য বিজন কান্তি সরকার, রমেন বাবু বক্তব্য রাখেন।
Reporter Name 

























