ঢাকা ০৩:২৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৬ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সব ‘নোট অব ডিসেন্ট’ স্পষ্ট থাকবে জুলাই সনদে, সেটাই যাবে গণভোটে: সালাহউদ্দিন আহমদ

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১০:৪০:৫৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৫
  • ৪৮ বার

বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, জুলাই জাতীয় সনদের যেসব বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর ভিন্নমত রয়েছে, সেগুলো ‘নোট অব ডিসেন্ট’ আকারে স্পষ্টভাবে সন্নিবেশিত করেই দলিলটি স্বাক্ষরিত হবে। ভিন্নমতসহ ওই সনদ জনগণ সমর্থন করে কি না, তা নির্ধারণে গণভোট অনুষ্ঠিত হবে।

জুলাই জাতীয় সনদ স্বাক্ষর নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে আজ বুধবার সন্ধ্যায় প্রধান উপদেষ্টা ও জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সভাপতি ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে দলগুলোর সঙ্গে জরুরি বৈঠকের পর সাংবাদিকদের সামনে এ কথা বলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির এ সদস্য।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ঐকমত্য কমিশনের উদ্দেশ্যই ছিল—যে বিষয়গুলোয় রাজনৈতিক দলগুলো একমত, সেগুলো সংকলন করা আর যেগুলোয় দ্বিমত আছে, সেগুলো স্পষ্টভাবে নথিবদ্ধ করা। তাই সিদ্ধান্ত হয়েছে, জুলাই জাতীয় সনদ স্বাক্ষরিত হবে ‘উইথ নোট অব ডিসেন্ট’—অর্থাৎ ভিন্নমতগুলো স্পষ্টভাবে ও বিস্তারিত উল্লেখ থাকবে। গণভোটে একটাই প্রশ্ন থাকবে—জনগণ কি জুলাই জাতীয় সনদের পক্ষে আছে, না নেই?

গণভোটের সাংবিধানিক তাৎপর্য ব্যাখ্যা করে বিএনপি নেতা বলেন, গণভোটের মাধ্যমে জনগণ সংসদকে এমন এক সার্বভৌম কর্তৃত্ব দেবে, যাতে এই সংস্কার বাস্তবায়ন বাধ্যতামূলক হয়। এটিই হচ্ছে ‘কনস্টিটিউয়েন্ট পাওয়ার’ বা গাঠনিক ক্ষমতা, যার ফলে এই সংস্কারগুলো পরে আদালতের মাধ্যমে বাতিল করা সম্ভব হবে না।

সালাহউদ্দিন আহমদ আরও বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি, সমগ্র জাতি সংস্কারের পক্ষে। তাই গণভোটে জনগণও জুলাই সনদের পক্ষে রায় দেবে বলেই আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস।’

বিএনপির স্থায়ী কমিটির এ সদস্য জানান, ১৭ অক্টোবর জুলাই জাতীয় সনদ স্বাক্ষরিত হওয়ার পর তা জাতির সামনে উন্মুক্ত করা হবে এবং জাতীয় ঐকমত্য কমিশন তার বাস্তবায়নের প্রস্তাবনা সরকারের কাছে দেবে।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘আমরা প্রস্তাব করেছি, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিনই গণভোট অনুষ্ঠিত হতে পারে। এতে জনগণের অনুমোদনসহ সংস্কারের বাস্তবায়ন শুরু করা সম্ভব হবে।’

সালাহউদ্দিন আহমদ আরও বলেন, জুলাই জাতীয় সনদের সঙ্গে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সরাসরি সম্পর্ক নেই, তবে সংস্কারপ্রক্রিয়াটি দেশের ভবিষ্যৎ রাজনীতির ভিত্তি নির্ধারণ করবে। ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে এখন যাবতীয় কর্মকাণ্ড পরিচালিত হচ্ছে। জুলাই সনদ প্রণয়ন হোক বা অন্যান্য কার্যক্রম হোক—সবকিছুর উদ্দেশ্য একটাই—সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত একটি নির্বাচন আয়োজন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

সব ‘নোট অব ডিসেন্ট’ স্পষ্ট থাকবে জুলাই সনদে, সেটাই যাবে গণভোটে: সালাহউদ্দিন আহমদ

আপডেট টাইম : ১০:৪০:৫৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৫

বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, জুলাই জাতীয় সনদের যেসব বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর ভিন্নমত রয়েছে, সেগুলো ‘নোট অব ডিসেন্ট’ আকারে স্পষ্টভাবে সন্নিবেশিত করেই দলিলটি স্বাক্ষরিত হবে। ভিন্নমতসহ ওই সনদ জনগণ সমর্থন করে কি না, তা নির্ধারণে গণভোট অনুষ্ঠিত হবে।

জুলাই জাতীয় সনদ স্বাক্ষর নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে আজ বুধবার সন্ধ্যায় প্রধান উপদেষ্টা ও জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সভাপতি ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে দলগুলোর সঙ্গে জরুরি বৈঠকের পর সাংবাদিকদের সামনে এ কথা বলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির এ সদস্য।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ঐকমত্য কমিশনের উদ্দেশ্যই ছিল—যে বিষয়গুলোয় রাজনৈতিক দলগুলো একমত, সেগুলো সংকলন করা আর যেগুলোয় দ্বিমত আছে, সেগুলো স্পষ্টভাবে নথিবদ্ধ করা। তাই সিদ্ধান্ত হয়েছে, জুলাই জাতীয় সনদ স্বাক্ষরিত হবে ‘উইথ নোট অব ডিসেন্ট’—অর্থাৎ ভিন্নমতগুলো স্পষ্টভাবে ও বিস্তারিত উল্লেখ থাকবে। গণভোটে একটাই প্রশ্ন থাকবে—জনগণ কি জুলাই জাতীয় সনদের পক্ষে আছে, না নেই?

গণভোটের সাংবিধানিক তাৎপর্য ব্যাখ্যা করে বিএনপি নেতা বলেন, গণভোটের মাধ্যমে জনগণ সংসদকে এমন এক সার্বভৌম কর্তৃত্ব দেবে, যাতে এই সংস্কার বাস্তবায়ন বাধ্যতামূলক হয়। এটিই হচ্ছে ‘কনস্টিটিউয়েন্ট পাওয়ার’ বা গাঠনিক ক্ষমতা, যার ফলে এই সংস্কারগুলো পরে আদালতের মাধ্যমে বাতিল করা সম্ভব হবে না।

সালাহউদ্দিন আহমদ আরও বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি, সমগ্র জাতি সংস্কারের পক্ষে। তাই গণভোটে জনগণও জুলাই সনদের পক্ষে রায় দেবে বলেই আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস।’

বিএনপির স্থায়ী কমিটির এ সদস্য জানান, ১৭ অক্টোবর জুলাই জাতীয় সনদ স্বাক্ষরিত হওয়ার পর তা জাতির সামনে উন্মুক্ত করা হবে এবং জাতীয় ঐকমত্য কমিশন তার বাস্তবায়নের প্রস্তাবনা সরকারের কাছে দেবে।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘আমরা প্রস্তাব করেছি, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিনই গণভোট অনুষ্ঠিত হতে পারে। এতে জনগণের অনুমোদনসহ সংস্কারের বাস্তবায়ন শুরু করা সম্ভব হবে।’

সালাহউদ্দিন আহমদ আরও বলেন, জুলাই জাতীয় সনদের সঙ্গে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সরাসরি সম্পর্ক নেই, তবে সংস্কারপ্রক্রিয়াটি দেশের ভবিষ্যৎ রাজনীতির ভিত্তি নির্ধারণ করবে। ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে এখন যাবতীয় কর্মকাণ্ড পরিচালিত হচ্ছে। জুলাই সনদ প্রণয়ন হোক বা অন্যান্য কার্যক্রম হোক—সবকিছুর উদ্দেশ্য একটাই—সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত একটি নির্বাচন আয়োজন।