বাংলাদেশে একটি সুষ্ঠু, গ্রহণযোগ্য ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশনের কাছে কারিগরি সহায়তা চেয়েছে জামায়াতে ইসলামী। দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, নির্বাচন নিরপেক্ষ করতে ইইউর নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশনের পেশাদার পর্যবেক্ষণ ও প্রযুক্তিগত সহায়তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
গতকাল রবিবার রাজধানীতে জামায়াত আমিরের কার্যালয়ে ঢাকা সফররত ইইউর প্রতিনিধিদলের সঙ্গে এক বৈঠকে এই অনুরোধ জানান তিনি। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার।
বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ইলেকশন অবজারভেশন মিশনের প্রতিনিধিদলে ছিলেন দলনেতা এবং নির্বাচনী ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক মেটে বাক্কেন, আইন বিশেষজ্ঞ ম্যানুয়েল ওয়ালি এবং বাংলাদেশে ইইউ ডেলিগেশনের উপপ্রধান বেইবা জারিনা।
জামায়াতের পক্ষ থেকে বৈঠকে আরো উপস্থিত ছিলেন দলের সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক হোসাইন, ঢাকা মহানগর উত্তর জামায়াতের মেডিক্যাল থানার আমির ডা. এস এম খালিদুজ্জামান এবং জামায়াত আমিরের পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মাহমুদুল হাসান।
ফেব্রুয়ারিতেই নির্বাচন চায় জামায়াত : বৈঠকে জামায়াতে ইসলামীর আমির জানান, দলটি আগামী ফেব্রুয়ারিতেই জাতীয় নির্বাচন চায়। তিনি বলেন, ‘এই নির্বাচন আমাদের নির্বাচনী প্রস্তাব ও জুলাই সনদের আইনি ভিত্তির মাধ্যমেই হতে হবে।
তাহলেই এটি হবে একটি ফেয়ার, ফ্রি ও ক্রেডিবল নির্বাচন।’
প্রতি জেলায় পর্যবেক্ষণের আগ্রহ : গোলাম পরওয়ার জানান, জামায়াতে ইসলামী চায় ইইউ প্রতিনিধিরা দেশের ৬৪টি জেলায় নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করুন। এ বিষয়ে জামায়াত আমির জানতে চান, কিভাবে তাঁরা কাজ করবেন।
উত্তরে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পর্যবেক্ষকদল জানায়, তারা প্রতিটি জেলায় একজন করে পর্যবেক্ষক পাঠাবে এবং একটি ভ্রাম্যমাণ দল সারা দেশে কাজ করবে।
নির্বাচন শেষে তারা একটি বিস্তারিত পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদন প্রকাশ করবে। প্রতিনিধিরা পেশাদারি, নিরপেক্ষতা ও স্বচ্ছতা বজায় রেখে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দেন।
প্রবাসীদের ভোটাধিকার নিয়ে দাবি : বৈঠকে প্রবাসীদের ভোটাধিকার নিয়েও আলোচনা হয়। জামায়াত আমির বলেন, ‘আমরাই প্রথম এক কোটির বেশি প্রবাসী ভোটারের ভোটাধিকার নিশ্চিত করার দাবি তুলেছি। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের কাছে চিঠিও দিয়েছি।
কমিশন ও সরকার এরই মধ্যে সে বিষয়ে উদ্যোগ নিয়েছে।’
ক্ষমতায় গেলে জামায়াতের মূল এজেন্ডা : ইইউ প্রতিনিধিদের এক প্রশ্নের জবাবে জামায়াত আমির জানান, ভবিষ্যতে রাষ্ট্রের দায়িত্ব পেলে তাঁরা তিনটি বিষয়কে গুরুত্ব দেবেন—নৈতিক ও কারিগরি দক্ষতাসম্পন্ন শিক্ষাব্যবস্থা; দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গঠন এবং সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা।
জামায়াতকে ঘিরে ভুল তথ্যের অভিযোগ : বৈঠকে জামায়াতে ইসলামী সম্পর্কে দেশ ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ছড়ানো ‘মিসইনফরমেশন ও ডিসইনফরমেশন’ বিষয়ে তথ্য দিলে ইইউ প্রতিনিধিদল তা স্বীকার করে নেয় বলে জানান জামায়াত নেতারা।
ইইউ প্রতিনিধিরা জানান, নির্বাচনকে আরো গ্রহণযোগ্য করতে প্রয়োজনীয় কারিগরি সহায়তা তাঁরা দিতে প্রস্তুত। প্রতিনিধিরা বলেন, নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার আগে তাঁরা আবার বাংলাদেশ সফরে এসে রাজনৈতিক দলসহ বিভিন্ন অংশীজনের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন।
এক প্রশ্নের জবাবে গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘পিআর পদ্ধতি কিংবা বিএনপির প্রসঙ্গ উত্থাপন হয়নি—না তাদের পক্ষ থেকে, না আমাদের।’
জামায়াত আমিরের সঙ্গে স্প্যানিশ রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ : এদিকে বাংলাদেশে নিযুক্ত স্পেনের রাষ্ট্রদূত গ্যাব্রিয়েল সিস্তিয়াগা ওচোয়া ডি চিনচেত্রে গতকাল ঢাকায় জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। জামায়াতের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সাক্ষািট আন্তরিক ও হৃদ্যতাপূর্ণ পরিবেশে হয়েছে।
সাক্ষাতে বাংলাদেশের সার্বিক পরিস্থিতি, বাংলাদেশ-স্পেন দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, বিনিয়োগ ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতাসংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।
বৈঠকে স্পেনের রাষ্ট্রদূত জামায়াত আমিরের শারীরিক খোঁজখবর নেন এবং তাঁর সুস্থতা কামনা করেন। তিনি বাংলাদেশের প্রতি স্পেনের অব্যাহত সমর্থনের কথা জানান এবং দ্বিপক্ষীয় অর্থনৈতিক সহযোগিতা ভবিষ্যতে আরো জোরদার হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
এ সময় জামায়াতের আরো কয়েকজন নেতা উপস্থিত ছিলেন।