ঢাকা ০৪:৩১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬, ৩১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
শিক্ষার্থীদের স্বার্থই সরকারের অগ্রাধিকার: মাহদী আমিন ফের লঘুচাপ সৃষ্টির আভাস, আবহাওয়া নিয়ে নতুন বার্তা অধিদপ্তরের চলতি অর্থবছরেই ৪১ লাখ নতুন ফ্যামিলি কার্ড দেবে সরকার দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা সরকারের প্রধান নীতিগত অগ্রাধিকার : প্রধানমন্ত্রী সংসদে ‘ব্যক্তিগত মন্তব্য’ নিয়ে দুঃখ প্রকাশ করলেন শিক্ষামন্ত্রী আদমদীঘিতে কাঁচা মরিচের দামে ‘সেঞ্চুরি’, স্বস্তিতে কৃষক ব্রয়লার মুরগি খাওয়া কতটা নিরাপদ ‘ব্রয়লার মুরগি’ মন্তব্য নিয়ে যে ব্যাখ্যা দিলেন ছাত্রদলের নাছির দেশের যেসব অঞ্চলে রাত ১টার মধ্যে ঝড়ের আভাস দিল্লিতে বসে হুঙ্কার দিয়ে লাভ নেই, সীমানায় ঢুকলেই গ্রেপ্তার: আইনমন্ত্রী

হাদিসের কথা অভাবে মানুষের কাছে আর্জি নয়; আল্লাহর কাছে মিনতিই সমাধান

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১১:০০:১৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • ১০৪ বার
মানবজীবনের অবিচ্ছেদ্য একটি বাস্তবতা হলো অভাব-অনটন। কখনো অর্থকষ্ট, কখনো খাদ্যাভাব, কখনো আবার বেকারত্ব বা নানা সংকট। জীবনের কোনো না কোনো অধ্যায়ে মানুষ এসবের মুখোমুখি হয়। প্রশ্ন হলো, এর সমাধান আমরা কোথায় খুঁজবো? মানুষের দুয়ারে নাকি আল্লাহর দরবারে?

عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ “‏ مَنْ نَزَلَتْ بِهِ فَاقَةٌ فَأَنْزَلَهَا بِالنَّاسِ لَمْ تُسَدَّ فَاقَتُهُ وَمَنْ نَزَلَتْ بِهِ فَاقَةٌ فَأَنْزَلَهَا بِاللَّهِ فَيُوشِكُ اللَّهُ لَهُ بِرِزْقٍ عَاجِلٍ أَوْ آجِلٍ ‏”‏ ‏.‏

আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, ‘রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, কেউ যদি অভাব-অনটনে পড়ে তা মানুষের নিকট উপস্থাপন করে তাহলে তার অভাব-অনটন দূর হবে না।

আর যে ব্যক্তি অভাব-অনটনে পড়ে তা আল্লাহ তা’আলার নিকট উপস্থাপন করে তবে অবশ্যই আল্লাহ তা’আলা তাকে দ্রুত অথবা বিলম্বে রিযিক দান করেন।’ (তিরমিজি, হাদিস: ২৩২৬)সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা

এই হাদিস মানবজীবনের অর্থনৈতিক সংকট ও রিজিকের দর্শনকে গভীরভাবে তুলে ধরেছে। এখানে দু’টি দিকের প্রতি ইঙ্গিত আছে— একদিকে মানুষের কাছে মুখাপেক্ষী হয়ে চাওয়া, অন্যদিকে আল্লাহর কাছে বিনয় ও আস্থার সঙ্গে দোয়া করা।

মানুষের কাছে মুখাপেক্ষী হওয়ার পরিণতি

মানুষের কাছে অভাব প্রকাশ করা প্রথমত আত্মসম্মানকে ক্ষুণ্ণ করে, দ্বিতীয়ত সমস্যার সমাধানও করে না।

সাময়িকভাবে কিছু সাহায্য মেলে, কিন্তু প্রকৃত অভাব থেকে মুক্তি পাওয়া যায় না। বরং অন্যের কাছে মুখাপেক্ষী হওয়ার ফলে লজ্জা, অবমাননা ও নির্ভরতাহীনতার শৃঙ্খল আরো দৃঢ় হয়। রাসুল (সা.) অন্যত্র সতর্ক করে বলেছেন— ‘যে ব্যক্তি মানুষের কাছে কিছু চাইবে, কিয়ামতের দিন সে মুখে কোনো মাংস ছাড়াই আসবে।” (মুসলিম, হাদিস: ১০৪০) অতএব, মানুষের ওপর নির্ভরশীলতা একজন মুমিনকে দুর্বল করে দেয় এবং তার হৃদয় থেকে তাওহীদের দৃঢ়তা মুছে দেয়।
আল্লাহর দরবারে অভাব পেশ করার ফলাফলকোরআনুল কারিমে ঘোষণা করা হয়েছে— “আর যে ব্যক্তি আল্লাহকে ভয় করে, তিনি তার জন্য একটি পথ বের করে দেবেন এবং তাকে এমন জায়গা থেকে রিজিক দিবেন যা তার ধারণাতেও ছিল না।” (সুরা আত-তালাক, আয়াত:২-৩) এ আয়াতের মতোই এ হাদিসে বলা হয়েছে— যদি মানুষ আল্লাহর ওপর আস্থা রাখে এবং অভাবকে তাঁর কাছে উন্মুক্ত করে, তবে আল্লাহ কখনোই তাকে হতাশ করেন না। হয়তো সঙ্গে সঙ্গে সমাধান আসবে, নয়তো বিলম্বে; কিন্তু আল্লাহর ভাণ্ডার থেকে রিজিক অবশ্যই পৌঁছে যাবে।

হাদিস থেকে আমাদের জন্য শিক্ষা

১. পরিশ্রম ও দোয়া একসাথে : ইসলাম পরিশ্রমকে পরিত্যাগ করতে বলে না। বরং কাজ করা, চেষ্টা করা, ব্যবসা-বাণিজ্যে মনোযোগী হওয়া হলো সুন্নাহ।

তবে পাশাপাশি হৃদয়ের ভরসা রাখতে হবে শুধু আল্লাহর উপর।২. মানুষের সাহায্য বৈধ, কিন্তু মূল নির্ভরতা আল্লাহর উপর: যাকাত, সদকা কিংবা বৈধ সহায়তা গ্রহণ করা শরীয়তে অনুমোদিত। কিন্তু সাহায্যের আসল উৎস হিসেবে মানুষের উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়া- তা নিরুৎসাহিত।

৩. অভিযোগ নয়, আর্জি :  মানুষের কাছে গিয়ে নিজের অসহায়ত্বকে প্রদর্শন করা একটি অভিযোগের রূপ। কিন্তু আল্লাহর কাছে দোয়া করা হলো আর্জি— যা ইবাদতেরও অন্যতম শ্রেষ্ঠ রূপ।

আজকের যুগে মানুষ যতই সমৃদ্ধ হোক, সংকট তার পিছু ছাড়ে না। অভাবের সময় মানুষের কাছে গিয়ে অভিযোগ করা কেবল অপমান বাড়ায়, কিন্তু সমাধান আনে না। অথচ আল্লাহর দরবারে সেজদায় মস্তক রেখে, চোখের অশ্রু মিশিয়ে, আন্তরিকভাবে বললে- “হে আল্লাহ! তুমি ছাড়া আর কেউই আমার অভাব মেটাতে পারবে না”  তখন আসমানের অদৃশ্য ভাণ্ডার থেকে রিযিকের দুয়ার খুলে যায়।

অতএব, অভাব-অনটনে প্রকৃত সমাধান মানুষের দুয়ারে নয়, বরং আল্লাহর দরবারেই নিহিত। আর আল্লাহর কাছে মুখাপেক্ষী হওয়া অপমান নয়— বরং সেটিই হলো এক মুমিনের সবচেয়ে বড় সম্মান।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

শিক্ষার্থীদের স্বার্থই সরকারের অগ্রাধিকার: মাহদী আমিন

হাদিসের কথা অভাবে মানুষের কাছে আর্জি নয়; আল্লাহর কাছে মিনতিই সমাধান

আপডেট টাইম : ১১:০০:১৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫
মানবজীবনের অবিচ্ছেদ্য একটি বাস্তবতা হলো অভাব-অনটন। কখনো অর্থকষ্ট, কখনো খাদ্যাভাব, কখনো আবার বেকারত্ব বা নানা সংকট। জীবনের কোনো না কোনো অধ্যায়ে মানুষ এসবের মুখোমুখি হয়। প্রশ্ন হলো, এর সমাধান আমরা কোথায় খুঁজবো? মানুষের দুয়ারে নাকি আল্লাহর দরবারে?

عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ “‏ مَنْ نَزَلَتْ بِهِ فَاقَةٌ فَأَنْزَلَهَا بِالنَّاسِ لَمْ تُسَدَّ فَاقَتُهُ وَمَنْ نَزَلَتْ بِهِ فَاقَةٌ فَأَنْزَلَهَا بِاللَّهِ فَيُوشِكُ اللَّهُ لَهُ بِرِزْقٍ عَاجِلٍ أَوْ آجِلٍ ‏”‏ ‏.‏

আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, ‘রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, কেউ যদি অভাব-অনটনে পড়ে তা মানুষের নিকট উপস্থাপন করে তাহলে তার অভাব-অনটন দূর হবে না।

আর যে ব্যক্তি অভাব-অনটনে পড়ে তা আল্লাহ তা’আলার নিকট উপস্থাপন করে তবে অবশ্যই আল্লাহ তা’আলা তাকে দ্রুত অথবা বিলম্বে রিযিক দান করেন।’ (তিরমিজি, হাদিস: ২৩২৬)সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা

এই হাদিস মানবজীবনের অর্থনৈতিক সংকট ও রিজিকের দর্শনকে গভীরভাবে তুলে ধরেছে। এখানে দু’টি দিকের প্রতি ইঙ্গিত আছে— একদিকে মানুষের কাছে মুখাপেক্ষী হয়ে চাওয়া, অন্যদিকে আল্লাহর কাছে বিনয় ও আস্থার সঙ্গে দোয়া করা।

মানুষের কাছে মুখাপেক্ষী হওয়ার পরিণতি

মানুষের কাছে অভাব প্রকাশ করা প্রথমত আত্মসম্মানকে ক্ষুণ্ণ করে, দ্বিতীয়ত সমস্যার সমাধানও করে না।

সাময়িকভাবে কিছু সাহায্য মেলে, কিন্তু প্রকৃত অভাব থেকে মুক্তি পাওয়া যায় না। বরং অন্যের কাছে মুখাপেক্ষী হওয়ার ফলে লজ্জা, অবমাননা ও নির্ভরতাহীনতার শৃঙ্খল আরো দৃঢ় হয়। রাসুল (সা.) অন্যত্র সতর্ক করে বলেছেন— ‘যে ব্যক্তি মানুষের কাছে কিছু চাইবে, কিয়ামতের দিন সে মুখে কোনো মাংস ছাড়াই আসবে।” (মুসলিম, হাদিস: ১০৪০) অতএব, মানুষের ওপর নির্ভরশীলতা একজন মুমিনকে দুর্বল করে দেয় এবং তার হৃদয় থেকে তাওহীদের দৃঢ়তা মুছে দেয়।
আল্লাহর দরবারে অভাব পেশ করার ফলাফলকোরআনুল কারিমে ঘোষণা করা হয়েছে— “আর যে ব্যক্তি আল্লাহকে ভয় করে, তিনি তার জন্য একটি পথ বের করে দেবেন এবং তাকে এমন জায়গা থেকে রিজিক দিবেন যা তার ধারণাতেও ছিল না।” (সুরা আত-তালাক, আয়াত:২-৩) এ আয়াতের মতোই এ হাদিসে বলা হয়েছে— যদি মানুষ আল্লাহর ওপর আস্থা রাখে এবং অভাবকে তাঁর কাছে উন্মুক্ত করে, তবে আল্লাহ কখনোই তাকে হতাশ করেন না। হয়তো সঙ্গে সঙ্গে সমাধান আসবে, নয়তো বিলম্বে; কিন্তু আল্লাহর ভাণ্ডার থেকে রিজিক অবশ্যই পৌঁছে যাবে।

হাদিস থেকে আমাদের জন্য শিক্ষা

১. পরিশ্রম ও দোয়া একসাথে : ইসলাম পরিশ্রমকে পরিত্যাগ করতে বলে না। বরং কাজ করা, চেষ্টা করা, ব্যবসা-বাণিজ্যে মনোযোগী হওয়া হলো সুন্নাহ।

তবে পাশাপাশি হৃদয়ের ভরসা রাখতে হবে শুধু আল্লাহর উপর।২. মানুষের সাহায্য বৈধ, কিন্তু মূল নির্ভরতা আল্লাহর উপর: যাকাত, সদকা কিংবা বৈধ সহায়তা গ্রহণ করা শরীয়তে অনুমোদিত। কিন্তু সাহায্যের আসল উৎস হিসেবে মানুষের উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়া- তা নিরুৎসাহিত।

৩. অভিযোগ নয়, আর্জি :  মানুষের কাছে গিয়ে নিজের অসহায়ত্বকে প্রদর্শন করা একটি অভিযোগের রূপ। কিন্তু আল্লাহর কাছে দোয়া করা হলো আর্জি— যা ইবাদতেরও অন্যতম শ্রেষ্ঠ রূপ।

আজকের যুগে মানুষ যতই সমৃদ্ধ হোক, সংকট তার পিছু ছাড়ে না। অভাবের সময় মানুষের কাছে গিয়ে অভিযোগ করা কেবল অপমান বাড়ায়, কিন্তু সমাধান আনে না। অথচ আল্লাহর দরবারে সেজদায় মস্তক রেখে, চোখের অশ্রু মিশিয়ে, আন্তরিকভাবে বললে- “হে আল্লাহ! তুমি ছাড়া আর কেউই আমার অভাব মেটাতে পারবে না”  তখন আসমানের অদৃশ্য ভাণ্ডার থেকে রিযিকের দুয়ার খুলে যায়।

অতএব, অভাব-অনটনে প্রকৃত সমাধান মানুষের দুয়ারে নয়, বরং আল্লাহর দরবারেই নিহিত। আর আল্লাহর কাছে মুখাপেক্ষী হওয়া অপমান নয়— বরং সেটিই হলো এক মুমিনের সবচেয়ে বড় সম্মান।