ঢাকা ০১:১৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৫ অগাস্ট ২০২৬, ২০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
বৃহত্তর ময়মনসিংহের উন্নয়নে সমন্বিত উদ্যোগের তাগিদ তথ্য প্রতিমন্ত্রীর অস্তিত্বসংকটে বুড়িগঙ্গা ২০২৪-এর জুলাই গণঅভ্যুত্থান প্রবাস থেকে যত প্রতিরোধ মেঘনার এক ইলিশ বিক্রি হলো ১০ হাজার টাকায় মাওলানা মাহমুদ মাদানী ইসরাইলে অস্ত্র সরবরাহ মানবতা ও ভারতের নৈতিক মর্যাদার জন্য কলঙ্ক অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল নিয়ে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে ৫ আগস্ট সংবাদপত্রে ছুটি বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার আধুনিক শিক্ষার সঙ্গে মূল্যবোধভিত্তিক শিক্ষার সমন্বয়ে কাজ করবে আর্মি ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ইনস্টিটিউট : সেনাপ্রধান শেখ হাসিনা যেন ভারতের ভূখণ্ড ব্যবহার করে রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারে: দিনেশ ত্রিবেদীকে হুমায়ুন কবির

আল্লাহ ছাড়া কারো নামে কসম কাটা যায়? কসমের কাফফারা কী

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১২:০৯:২১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬
  • ১৫ বার
প্রয়োজনে কসম বা শপথ করা জায়েজ। এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো মহান আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো নামে কসম করা নাজায়েজ, অর্থাৎ জায়েজ নয়।

এটি শিরকের (আল্লাহর সঙ্গে কাউকে শরিক করা) সমতুল্য। ইবনু উমার (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে এসেছে, আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে বলতে শুনেছি, যে ব্যক্তি আল্লাহ তা’আলা ব্যতীত অন্য কারো নামে শপথ করল, সে শিরক করল। (মিশকাত, হাদিস : ৩৪১৯)তবে বর্তমান সময়ে কথায় কথায় মানুষকে কসম কাটতে দেখা যায়। কেউ কেউ তো পান থেকে চুন খসলেও অবলীলায় কসম কাটেন, যা কোনোভাবেই উচিত নয়।

পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘তুমি তার অনুসরণ করো না, যে বেশি বেশি কসম খায় আর যে (বারবার মিথ্যা কসম খাওয়ার কারণে মানুষের কাছে) লাঞ্ছিত।’ (সুরা আল-কলম, আয়াত : ১০)আবার কোনো কিছুতে বিশ্বাসযোগ্যতা বোঝাতে অনেককে বাবা-মায়ের কসম কাটতেও দেখা যায়। এ ক্ষেত্রেও কঠোর নিষেধ রয়েছে। আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে এসেছে, একবার রাসুলুল্লাহ (সা.) উমর ইবনু খাত্তাব (রা.)-কে কোনো বাহনের ওপর আরোহণ অবস্থায় পেলেন।

ওই সময় তিনি তার বাবার নামে কসম করছিলেন। পরে রাসুল (সা.) বললেন, সাবধান! আল্লাহ তা’আলা তোমাদের পিতৃপুরুষদের নামে কসম করতে নিষেধ করেছেন। কেউ যদি কসম করতে চায়, সে যেন আল্লাহর নামে কসম করে, নতুবা চুপ থাকে। (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৬১৯১)তবে প্রয়োজনে কসম কাটা জায়েজ থাকলেও কোনোভাবেই মিথ্যা কসম কাটা যাবে না। এ ক্ষেত্রে আখিরাতে ভয়ংকর শাস্তি রয়েছে।

পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘নিশ্চয়ই যারা আল্লাহর সঙ্গে কৃত অঙ্গীকার এবং নিজেদের শপথকে তুচ্ছ মূল্যে বিক্রয় করে, এরা আখিরাতের কোনো অংশই পাবে না এবং আল্লাহ কিয়ামতের দিন তাদের সঙ্গে কথা বলবেন না, তাদের প্রতি দৃষ্টিপাত করবেন না এবং তাদের পবিত্র করবেন না, বস্তুত তাদের জন্য আছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি। (সুরা আল-ইমরান, আয়াত : ৭৭)অন্যদিকে মিথ্যা কসম কাটা কবীরা গুনাহের (বড় গুনাহ বা পাপ) মধ্যে অন্যতম। আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রা.) সূত্রে মুহাম্মদ ইবনু মুকাতিল (রহ.) থেকে বর্ণিত একটি হাদিসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, কবীরা গুনাহগুলোর অন্যতম হচ্ছে আল্লাহ তা’আলার সঙ্গে শরিক করা, পিতা-মাতার নাফরমানি করা, কাউকে হত্যা করা এবং মিথ্যা কসম করা। (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৬২১৯)

এছাড়াও মিথ্যা কসমকারীর জন্য পরকালে জাহান্নাম অবধারিত। ইমরান ইবন হুসাইন (রা.) থেকে বর্ণিত একটি হাদিসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি কোনো হাকিমের আদালতে বন্দি থাকা অবস্থায় মিথ্যা কসম খায়, সে যেন তার আবাসস্থল জাহান্নামে বানিয়ে নেয়। (সুনান আবু দাউদ, হাদিস : ৩২২৭)

মনে রাখতে হবে, ভালো কিছুর জন্য আল্লাহর নামে কসম কাটার পর সেটি পূরণ করা মুমিনের কর্তব্য। কারণ, কেউ যদি আল্লাহর নামে কসম কেটে কারও কাছে কোনোকিছু দেয়ার ওয়াদা করে কিংবা নিজে কোনোকিছু না করার ওয়াদা করেও তা পূরণে ব্যর্থ হয়, তবে তাকে কসমের কাফফারা (প্রায়শ্চিত্ত বা ক্ষতিপূরণ) দিতে হয়।

এ ক্ষেত্রে জনপ্রিয় ইসলামিক স্কলার শায়খ আহমাদুল্লাহর ভাষ্য, ভুল করে কিংবা রাগের মাথায় কোনোকিছু থেকে বিরত থাকার কসম করার পর কেউ যদি সেটি করে ফেলে তবে তাকে কসমের কাফফারা দিতে হবে। কসমের কাফফারা হলো- হয় ১০ জন মিসকিনকে খাবার খাওয়াতে হবে; নয়তো তিন দিন রোজা রাখতে হবে। অর্থাৎ, কেউ কোনো কিছুর কসম করেও তা পূরণে ব্যর্থ হলে তাকে কাফফারা হিসেবে ১০ জন মিসকিন বা দরিদ্র মানুষকে খাবার খাওয়াতে হবে। অথবা তিনি চাইলে ৩ দিন রোজে রেখেও কসমের কাফফারা বা কসম ভাঙার ক্ষতিপূরণ আদায় করতে পারবেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

বৃহত্তর ময়মনসিংহের উন্নয়নে সমন্বিত উদ্যোগের তাগিদ তথ্য প্রতিমন্ত্রীর

আল্লাহ ছাড়া কারো নামে কসম কাটা যায়? কসমের কাফফারা কী

আপডেট টাইম : ১২:০৯:২১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬
প্রয়োজনে কসম বা শপথ করা জায়েজ। এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো মহান আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো নামে কসম করা নাজায়েজ, অর্থাৎ জায়েজ নয়।

এটি শিরকের (আল্লাহর সঙ্গে কাউকে শরিক করা) সমতুল্য। ইবনু উমার (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে এসেছে, আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে বলতে শুনেছি, যে ব্যক্তি আল্লাহ তা’আলা ব্যতীত অন্য কারো নামে শপথ করল, সে শিরক করল। (মিশকাত, হাদিস : ৩৪১৯)তবে বর্তমান সময়ে কথায় কথায় মানুষকে কসম কাটতে দেখা যায়। কেউ কেউ তো পান থেকে চুন খসলেও অবলীলায় কসম কাটেন, যা কোনোভাবেই উচিত নয়।

পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘তুমি তার অনুসরণ করো না, যে বেশি বেশি কসম খায় আর যে (বারবার মিথ্যা কসম খাওয়ার কারণে মানুষের কাছে) লাঞ্ছিত।’ (সুরা আল-কলম, আয়াত : ১০)আবার কোনো কিছুতে বিশ্বাসযোগ্যতা বোঝাতে অনেককে বাবা-মায়ের কসম কাটতেও দেখা যায়। এ ক্ষেত্রেও কঠোর নিষেধ রয়েছে। আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে এসেছে, একবার রাসুলুল্লাহ (সা.) উমর ইবনু খাত্তাব (রা.)-কে কোনো বাহনের ওপর আরোহণ অবস্থায় পেলেন।

ওই সময় তিনি তার বাবার নামে কসম করছিলেন। পরে রাসুল (সা.) বললেন, সাবধান! আল্লাহ তা’আলা তোমাদের পিতৃপুরুষদের নামে কসম করতে নিষেধ করেছেন। কেউ যদি কসম করতে চায়, সে যেন আল্লাহর নামে কসম করে, নতুবা চুপ থাকে। (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৬১৯১)তবে প্রয়োজনে কসম কাটা জায়েজ থাকলেও কোনোভাবেই মিথ্যা কসম কাটা যাবে না। এ ক্ষেত্রে আখিরাতে ভয়ংকর শাস্তি রয়েছে।

পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘নিশ্চয়ই যারা আল্লাহর সঙ্গে কৃত অঙ্গীকার এবং নিজেদের শপথকে তুচ্ছ মূল্যে বিক্রয় করে, এরা আখিরাতের কোনো অংশই পাবে না এবং আল্লাহ কিয়ামতের দিন তাদের সঙ্গে কথা বলবেন না, তাদের প্রতি দৃষ্টিপাত করবেন না এবং তাদের পবিত্র করবেন না, বস্তুত তাদের জন্য আছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি। (সুরা আল-ইমরান, আয়াত : ৭৭)অন্যদিকে মিথ্যা কসম কাটা কবীরা গুনাহের (বড় গুনাহ বা পাপ) মধ্যে অন্যতম। আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রা.) সূত্রে মুহাম্মদ ইবনু মুকাতিল (রহ.) থেকে বর্ণিত একটি হাদিসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, কবীরা গুনাহগুলোর অন্যতম হচ্ছে আল্লাহ তা’আলার সঙ্গে শরিক করা, পিতা-মাতার নাফরমানি করা, কাউকে হত্যা করা এবং মিথ্যা কসম করা। (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৬২১৯)

এছাড়াও মিথ্যা কসমকারীর জন্য পরকালে জাহান্নাম অবধারিত। ইমরান ইবন হুসাইন (রা.) থেকে বর্ণিত একটি হাদিসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি কোনো হাকিমের আদালতে বন্দি থাকা অবস্থায় মিথ্যা কসম খায়, সে যেন তার আবাসস্থল জাহান্নামে বানিয়ে নেয়। (সুনান আবু দাউদ, হাদিস : ৩২২৭)

মনে রাখতে হবে, ভালো কিছুর জন্য আল্লাহর নামে কসম কাটার পর সেটি পূরণ করা মুমিনের কর্তব্য। কারণ, কেউ যদি আল্লাহর নামে কসম কেটে কারও কাছে কোনোকিছু দেয়ার ওয়াদা করে কিংবা নিজে কোনোকিছু না করার ওয়াদা করেও তা পূরণে ব্যর্থ হয়, তবে তাকে কসমের কাফফারা (প্রায়শ্চিত্ত বা ক্ষতিপূরণ) দিতে হয়।

এ ক্ষেত্রে জনপ্রিয় ইসলামিক স্কলার শায়খ আহমাদুল্লাহর ভাষ্য, ভুল করে কিংবা রাগের মাথায় কোনোকিছু থেকে বিরত থাকার কসম করার পর কেউ যদি সেটি করে ফেলে তবে তাকে কসমের কাফফারা দিতে হবে। কসমের কাফফারা হলো- হয় ১০ জন মিসকিনকে খাবার খাওয়াতে হবে; নয়তো তিন দিন রোজা রাখতে হবে। অর্থাৎ, কেউ কোনো কিছুর কসম করেও তা পূরণে ব্যর্থ হলে তাকে কাফফারা হিসেবে ১০ জন মিসকিন বা দরিদ্র মানুষকে খাবার খাওয়াতে হবে। অথবা তিনি চাইলে ৩ দিন রোজে রেখেও কসমের কাফফারা বা কসম ভাঙার ক্ষতিপূরণ আদায় করতে পারবেন।