ঢাকা ০১:১৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৫ অগাস্ট ২০২৬, ২০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
বৃহত্তর ময়মনসিংহের উন্নয়নে সমন্বিত উদ্যোগের তাগিদ তথ্য প্রতিমন্ত্রীর অস্তিত্বসংকটে বুড়িগঙ্গা ২০২৪-এর জুলাই গণঅভ্যুত্থান প্রবাস থেকে যত প্রতিরোধ মেঘনার এক ইলিশ বিক্রি হলো ১০ হাজার টাকায় মাওলানা মাহমুদ মাদানী ইসরাইলে অস্ত্র সরবরাহ মানবতা ও ভারতের নৈতিক মর্যাদার জন্য কলঙ্ক অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল নিয়ে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে ৫ আগস্ট সংবাদপত্রে ছুটি বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার আধুনিক শিক্ষার সঙ্গে মূল্যবোধভিত্তিক শিক্ষার সমন্বয়ে কাজ করবে আর্মি ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ইনস্টিটিউট : সেনাপ্রধান শেখ হাসিনা যেন ভারতের ভূখণ্ড ব্যবহার করে রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারে: দিনেশ ত্রিবেদীকে হুমায়ুন কবির

ব্রয়লার মুরগি খাওয়া কতটা নিরাপদ

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১০:৩২:৪৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬
  • ২০ বার
ব্রয়লার মুরগি বাংলাদেশের অধিকাংশ পরিবারের প্রোটিনের চাহিদা পূরণে সবচেয়ে সহজলভ্য ও সাশ্রয়ী খাবারের মধ্যে অন্যতম। তবে দীর্ঘদিন ধরেই অনেকের মনে প্রশ্ন রয়েছে, ব্রয়লার মুরগি স্বাস্থ্যের জন্য কতটা ক্ষতিকর?
বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি ক্ষতিকর কি-না তা নির্ভর করে উৎপাদন, সংরক্ষণ ও রান্নার পদ্ধতির ওপর।
ডাক্তার সাহানাজ জানান, ব্রয়লার মুরগি নিজে ক্ষতিকর নয়। বরং এটি উচ্চমানের প্রোটিন, ভিটামিন বি-১২ এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খনিজের ভালো উৎস। তবে মুরগির নিরাপত্তা নির্ভর করে এটি কীভাবে পালন করা হয়েছে, অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের নিয়ম মানা হয়েছে কি-না এবং জবাই ও সংরক্ষণের সময় স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করা হয়েছে কি-না এসব বিষয়ের ওপর।
তিনি বলেন, কিছু খামারে রোগ প্রতিরোধ বা চিকিৎসার জন্য অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করা হয়। কিন্তু নির্ধারিত নিয়ম না মেনে অতিরিক্ত ব্যবহার, বা জবাইয়ের আগে প্রয়োজনীয় সময় অনুসরণ না করলে মাংসে অ্যান্টিবায়োটিকের অবশিষ্টাংশ থাকতে পারে। এর ফলে দীর্ঘমেয়াদে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স বা অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী জীবাণুর ঝুঁকি বাড়তে পারে।
অনেকেই মনে করেন, ব্রয়লার মুরগিকে দ্রুত বড় করতে নিয়মিত হরমোন ব্যবহার করা হয়।
তবে ডাক্তারের ভাষ্য, এই ধারণার পক্ষে শক্ত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। আধুনিক ব্রয়লার মুরগির দ্রুত বৃদ্ধি মূলত উন্নত প্রজাতি, সুষম খাদ্য এবং উন্নত খামার ব্যবস্থাপনার ফল।
খামারে স্বাস্থ্যবিধি না মানা হলে বা জবাই ও সংরক্ষণের সময় অসতর্কতা থাকলে সালমোনেলা ও ক্যাম্পিলোব্যাক্টারের মতো ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া মাংসে থাকতে পারে। তাই মুরগির মাংস অবশ্যই ভালোভাবে রান্না করার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
সঠিকভাবে উৎপাদিত ব্রয়লার মুরগি শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় উচ্চমানের লিন প্রোটিনের একটি উৎকৃষ্ট উৎস। এছাড়া এতে রয়েছে— ভিটামিন বি-১২, ভিটামিন বি-৬, নিয়াসিন (ভিটামিন বি-৩), ফসফরাস, সেলেনিয়াম ও জিংক।
তার মতে, চামড়াবিহীন ব্রয়লার মুরগির মাংস নিয়মিত পরিমিত পরিমাণে খাওয়া একটি স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের অংশ হতে পারে।
তিনি জানান,দেশি ও ব্রয়লার উভয় ধরনের মুরগিই ভালো প্রোটিনের উৎস। দেশি মুরগির স্বাদ ও গঠন ভিন্ন হলেও পুষ্টিগুণের দিক থেকে বড় ধরনের পার্থক্য নেই। মূল বিষয় হলো মুরগির গুণগত মান, নিরাপদ উৎপাদন এবং স্বাস্থ্যসম্মত রান্না।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা কয়েকটি বিষয় মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছেন— বিশ্বস্ত দোকান বা অনুমোদিত খামার থেকে মুরগি কিনুন, দুর্গন্ধযুক্ত বা অস্বাভাবিক রঙের মাংস এড়িয়ে চলুন, কাঁচা ও রান্না মাংস আলাদা করে সংরক্ষণ করুন, মুরগির মাংস সম্পূর্ণ সিদ্ধ করে খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সঠিকভাবে উৎপাদিত, নিরাপদভাবে সংরক্ষিত এবং ভালোভাবে রান্না করা ব্রয়লার মুরগি সাধারণ মানুষের জন্য নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাদ্য। তাই ফার্মের মুরগি নিয়ে অযথা ভয় না পেয়ে সচেতনভাবে বিশ্বস্ত উৎস থেকে কিনে স্বাস্থ্যবিধি মেনে খাওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ উপায়।
Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

বৃহত্তর ময়মনসিংহের উন্নয়নে সমন্বিত উদ্যোগের তাগিদ তথ্য প্রতিমন্ত্রীর

ব্রয়লার মুরগি খাওয়া কতটা নিরাপদ

আপডেট টাইম : ১০:৩২:৪৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬
ব্রয়লার মুরগি বাংলাদেশের অধিকাংশ পরিবারের প্রোটিনের চাহিদা পূরণে সবচেয়ে সহজলভ্য ও সাশ্রয়ী খাবারের মধ্যে অন্যতম। তবে দীর্ঘদিন ধরেই অনেকের মনে প্রশ্ন রয়েছে, ব্রয়লার মুরগি স্বাস্থ্যের জন্য কতটা ক্ষতিকর?
বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি ক্ষতিকর কি-না তা নির্ভর করে উৎপাদন, সংরক্ষণ ও রান্নার পদ্ধতির ওপর।
ডাক্তার সাহানাজ জানান, ব্রয়লার মুরগি নিজে ক্ষতিকর নয়। বরং এটি উচ্চমানের প্রোটিন, ভিটামিন বি-১২ এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খনিজের ভালো উৎস। তবে মুরগির নিরাপত্তা নির্ভর করে এটি কীভাবে পালন করা হয়েছে, অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের নিয়ম মানা হয়েছে কি-না এবং জবাই ও সংরক্ষণের সময় স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করা হয়েছে কি-না এসব বিষয়ের ওপর।
তিনি বলেন, কিছু খামারে রোগ প্রতিরোধ বা চিকিৎসার জন্য অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করা হয়। কিন্তু নির্ধারিত নিয়ম না মেনে অতিরিক্ত ব্যবহার, বা জবাইয়ের আগে প্রয়োজনীয় সময় অনুসরণ না করলে মাংসে অ্যান্টিবায়োটিকের অবশিষ্টাংশ থাকতে পারে। এর ফলে দীর্ঘমেয়াদে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স বা অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী জীবাণুর ঝুঁকি বাড়তে পারে।
অনেকেই মনে করেন, ব্রয়লার মুরগিকে দ্রুত বড় করতে নিয়মিত হরমোন ব্যবহার করা হয়।
তবে ডাক্তারের ভাষ্য, এই ধারণার পক্ষে শক্ত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। আধুনিক ব্রয়লার মুরগির দ্রুত বৃদ্ধি মূলত উন্নত প্রজাতি, সুষম খাদ্য এবং উন্নত খামার ব্যবস্থাপনার ফল।
খামারে স্বাস্থ্যবিধি না মানা হলে বা জবাই ও সংরক্ষণের সময় অসতর্কতা থাকলে সালমোনেলা ও ক্যাম্পিলোব্যাক্টারের মতো ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া মাংসে থাকতে পারে। তাই মুরগির মাংস অবশ্যই ভালোভাবে রান্না করার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
সঠিকভাবে উৎপাদিত ব্রয়লার মুরগি শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় উচ্চমানের লিন প্রোটিনের একটি উৎকৃষ্ট উৎস। এছাড়া এতে রয়েছে— ভিটামিন বি-১২, ভিটামিন বি-৬, নিয়াসিন (ভিটামিন বি-৩), ফসফরাস, সেলেনিয়াম ও জিংক।
তার মতে, চামড়াবিহীন ব্রয়লার মুরগির মাংস নিয়মিত পরিমিত পরিমাণে খাওয়া একটি স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের অংশ হতে পারে।
তিনি জানান,দেশি ও ব্রয়লার উভয় ধরনের মুরগিই ভালো প্রোটিনের উৎস। দেশি মুরগির স্বাদ ও গঠন ভিন্ন হলেও পুষ্টিগুণের দিক থেকে বড় ধরনের পার্থক্য নেই। মূল বিষয় হলো মুরগির গুণগত মান, নিরাপদ উৎপাদন এবং স্বাস্থ্যসম্মত রান্না।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা কয়েকটি বিষয় মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছেন— বিশ্বস্ত দোকান বা অনুমোদিত খামার থেকে মুরগি কিনুন, দুর্গন্ধযুক্ত বা অস্বাভাবিক রঙের মাংস এড়িয়ে চলুন, কাঁচা ও রান্না মাংস আলাদা করে সংরক্ষণ করুন, মুরগির মাংস সম্পূর্ণ সিদ্ধ করে খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সঠিকভাবে উৎপাদিত, নিরাপদভাবে সংরক্ষিত এবং ভালোভাবে রান্না করা ব্রয়লার মুরগি সাধারণ মানুষের জন্য নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাদ্য। তাই ফার্মের মুরগি নিয়ে অযথা ভয় না পেয়ে সচেতনভাবে বিশ্বস্ত উৎস থেকে কিনে স্বাস্থ্যবিধি মেনে খাওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ উপায়।