ঢাকা ০৬:৪১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
ড্যাপ ও গৃহায়ণ বিধিমালা সংশোধিত হলে সস্তায় ফ্ল্যাট কিনতে পারবে মানুষ : শেখ মজিবুর রহমান ইকবাল বিশ্বমঞ্চে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জিয়া পরিবারের তিন প্রজন্মের উত্তরাধিকারের নতুন অধ্যায় স্বেচ্ছাসেবক দল নেতার দাবি তারেক রহমানের জাতিসংঘে ভাষণ গিনেস বুকে উঠবে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলকে মধ্যপ্রাচ্য ছাড়ার সতর্কবার্তা দিল ইরান ট্রাম্পের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক হবে ‘সুবিধাজনক সময়ে’: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী সেনাবাহিনী প্রধানের সাথে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ বাসভাড়া কত বাড়ানোর প্রস্তাব করল বিআরটিএ বিশ্বমঞ্চে প্রথম ভাষণ দিতে নিউইয়র্কে প্রধানমন্ত্রী, শুরু ঐতিহাসিক সফর জাতিসংঘে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরবেন প্রধানমন্ত্রী: মাহদী আমিন পাসপোর্ট অধিদফতরের নতুন ডিজি মেজর জেনারেল আলীমুল আমীন

হতাশা থেকে মুক্তি দিতে পারে কোরআনের এই ১০ আয়াত

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১১:৩৮:৪৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬
  • ৬০ বার

আধুনিক জীবনের তীব্র প্রতিযোগিতা, ক্যারিয়ারের চিন্তা, পারিবারিক সমস্যা কিংবা ব্যক্তিগত ব্যর্থতা—সব মিলিয়ে ‘হতাশা’ বা ডিপ্রেশন এখন ঘরে ঘরে এক নীরব ঘাতক।এর মাঝে কিছু কিছু মুহূর্ত আসে, যখন চারপাশ অন্ধকারে ঢেকে যায়, দুশ্চিন্তায় ভেঙে পড়ার অবস্থা হয়। ঠিক সেই সময়েই কোরআন আমাদের শেখায়, মুমিন কখনো আশাহীন হয় না। কারণ তার রব অসীম দয়ালু, সর্বশক্তিমান এবং সর্বোত্তম পরিকল্পনাকারী। কোরআনে এমন কিছু আয়াত আছে, যেগুলো ভেঙে পড়া হৃদয়কে শক্তি দেয় , নিরাশ মানুষকে আশার আলো দেখায় এবং বিপদগ্রস্ত বান্দাকে রবের প্রতি আরও দৃঢ় আস্থা ফিরিয়ে দেয়। তাই যখনই হতাশায় ভুগবেন, নিম্নলিখিত কোরআনের এই আয়াতগুলো ধীরে ধীরে তেলাওয়াত করুন। ইনশাআল্লাহ, ভেঙে পড়া হৃদয়ে আবার আশার আলো জ্বলে উঠবে এবং আল্লাহর প্রতি আস্থা আরও দৃঢ় হবে।

কোরআনের এমন ১০টি আয়াত নিচে তুলে ধরা হলো, যা যে কোনো হতাশ হৃদয়ে আশার আলো জ্বালাতে এবং মানসিক প্রশান্তি ফিরিয়ে দিতে পারে:

১. وَلَا تَهِنُوا وَلَا تَحْزَنُوا وَأَنتُمُ الْأَعْلَوْنَ إِن كُنتُم مُّؤْمِنِينَ

অর্থ: তোমরা নিরাশ হয়ো না এবং দুঃখ করো না। যদি তোমরা মুমিন হও, তবে তোমরাই বিজয়ী হবে। (সুরা আলে ইমরান: ১৩৯)

২. لَا يُكَلِّفُ ٱللَّهُ نَفْسًا إِلَّا وُسْعَهَا‌ۚ لَهَا مَا كَسَبَتْ وَعَلَيْهَا مَا ٱكْتَسَبَتْ‌ۗ

অর্থ: আল্লাহ কোনো ব্যক্তির ওপর তার সাধ্যাতীত কোনো বোঝা চাপিয়ে দেন না। সে যা অর্জন করে তা তার জন্যই এবং সে যা কামাই করে তা তার ওপরই বর্তাবে। (সুরা বাকারাহ: ২৮৬)

৩. فَإِنَّ مَعَ الْعُسْرِ يُسْرًا ۝ إِنَّ مَعَ الْعُسْرِ يُسْرًا

অর্থ: অতএব, নিশ্চয়ই কষ্টের সঙ্গেই রয়েছে স্বস্তি। নিশ্চয়ই কষ্টের সঙ্গেই রয়েছে স্বস্তি। (সুরা আশ-শারহ: ৫-৬)

৪. قُلْ يَـٰعِبَادِىَ ٱلَّذِينَ أَسْرَفُواْ عَلَىٰٓ أَنفُسِهِمْ لَا تَقْنَطُواْ مِن رَّحْمَةِ ٱللَّهِ‌ۚ إِنَّ ٱللَّهَ يَغْفِرُ ٱلذُّنُوبَ جَمِيعًا‌ۚ إِنَّهُۥ هُوَ ٱلْغَفُورُ ٱلرَّحِيمُ

অর্থ: বলো, হে আমার বান্দাগণ, যারা নিজদের ওপর বাড়াবাড়ি করেছো তোমরা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না। অবশ্যই আল্লাহ সকল পাপ ক্ষমা করে দেবেন। নিশ্চয় তিনি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু। (সুরা জুমার: ৫৩)

৫. وَمَن يَتَوَكَّلْ عَلَى اللَّهِ فَهُوَ حَسْبُهُ

অর্থ: যে ব্যক্তি আল্লাহর ওপর ভরসা করে, তার জন্য আল্লাহই যথেষ্ট। (সুরা আত-তালাক: ৩)

৬. أَلَا بِذِكْرِ اللَّهِ تَطْمَئِنُّ الْقُلُوبُ

অর্থ: তারাই ঈমান আনে এবং আল্লাহর স্মরণে তাদের অন্তর প্রশান্তি লাভ করে। জেনে রেখো, আল্লাহর স্মরণের মাধ্যমেই অন্তরে সত্যিকারের প্রশান্তি লাভ করা যায়। (সুরা আর-রাদ: ২৮)

৭. وَعَسَىٰ أَن تَكْرَهُوا شَيْئًا وَهُوَ خَيْرٌ لَّكُمْ

অর্থ: হতে পারে, তোমরা কোনো কিছু অপছন্দ করছ, অথচ তা তোমাদের জন্য কল্যাণকর। (সুরা আল-বাকারাহ: ২১৬)

৮. يَـٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ ٱسْتَعِينُواْ بِٱلصَّبْرِ وَٱلصَّلَوٲةِ‌ۚ إِنَّ ٱللَّهَ مَعَ ٱلصَّـٰبِرِينَ

অর্থ: হে মুমিনগণ, ধৈর্য ও সালাতের মাধ্যমে সাহায্য চাও। নিশ্চয় আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সঙ্গে আছেন। (সুরা-আল বাকারাহ: ১৫৩)

৯. وَٱصْبِرْ وَمَا صَبْرُكَ إِلَّا بِٱللَّهِ‌ۚ وَلَا تَحْزَنْ عَلَيْهِمْ وَلَا تَكُ فِى ضَيْقٍ مِّمَّا يَمْكُرُونَ

অর্থ: আর তুমি সবর কর। তোমার সবর তো শুধু আল্লাহর তাওফিকেই। তারা যেসব ষড়যন্ত্র করছে, তুমি সে বিষয়ে সংকীর্ণমনা হয়ো না। (সুরা নাহল: ১২৭)

১০. ٱدْعُونِىٓ أَسْتَجِبْ لَكُمْۚ إِنَّ ٱلَّذِينَ يَسْتَكْبِرُونَ عَنْ عِبَادَتِى سَيَدْخُلُونَ جَهَنَّمَ دَاخِرِينَ

অর্থ: তোমরা আমাকে ডাকো, আমি (তোমাদের ডাকে) সাড়া দেব। যারা অহংকারবশত আমার ইবাদাত করে না, নিশ্চিতই তারা লাঞ্ছিত অবস্থায় জাহান্নামে প্রবেশ করবে। (সুরা গাফির: ৬০)

সুতরাং, হতাশা থেকে মুক্তি পেতে ইতিবাচক চিন্তা অত্যন্ত জরুরি। আর একজন বিশ্বাসী মানুষের জন্য কোরআনের এই আয়াতগুলো হলো সবচেয়ে বড় ইতিবাচক ও অনুপ্রেরণাদায়ক শক্তি। জীবন যখন থমকে দাঁড়ায়, তখন এই আয়াতগুলোর অর্থ অনুধাবন করলে মনের ভেতর এক অলৌকিক শান্তি ও নতুন করে বাঁচার শক্তি পাওয়া যায়।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

ড্যাপ ও গৃহায়ণ বিধিমালা সংশোধিত হলে সস্তায় ফ্ল্যাট কিনতে পারবে মানুষ : শেখ মজিবুর রহমান ইকবাল

হতাশা থেকে মুক্তি দিতে পারে কোরআনের এই ১০ আয়াত

আপডেট টাইম : ১১:৩৮:৪৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬

আধুনিক জীবনের তীব্র প্রতিযোগিতা, ক্যারিয়ারের চিন্তা, পারিবারিক সমস্যা কিংবা ব্যক্তিগত ব্যর্থতা—সব মিলিয়ে ‘হতাশা’ বা ডিপ্রেশন এখন ঘরে ঘরে এক নীরব ঘাতক।এর মাঝে কিছু কিছু মুহূর্ত আসে, যখন চারপাশ অন্ধকারে ঢেকে যায়, দুশ্চিন্তায় ভেঙে পড়ার অবস্থা হয়। ঠিক সেই সময়েই কোরআন আমাদের শেখায়, মুমিন কখনো আশাহীন হয় না। কারণ তার রব অসীম দয়ালু, সর্বশক্তিমান এবং সর্বোত্তম পরিকল্পনাকারী। কোরআনে এমন কিছু আয়াত আছে, যেগুলো ভেঙে পড়া হৃদয়কে শক্তি দেয় , নিরাশ মানুষকে আশার আলো দেখায় এবং বিপদগ্রস্ত বান্দাকে রবের প্রতি আরও দৃঢ় আস্থা ফিরিয়ে দেয়। তাই যখনই হতাশায় ভুগবেন, নিম্নলিখিত কোরআনের এই আয়াতগুলো ধীরে ধীরে তেলাওয়াত করুন। ইনশাআল্লাহ, ভেঙে পড়া হৃদয়ে আবার আশার আলো জ্বলে উঠবে এবং আল্লাহর প্রতি আস্থা আরও দৃঢ় হবে।

কোরআনের এমন ১০টি আয়াত নিচে তুলে ধরা হলো, যা যে কোনো হতাশ হৃদয়ে আশার আলো জ্বালাতে এবং মানসিক প্রশান্তি ফিরিয়ে দিতে পারে:

১. وَلَا تَهِنُوا وَلَا تَحْزَنُوا وَأَنتُمُ الْأَعْلَوْنَ إِن كُنتُم مُّؤْمِنِينَ

অর্থ: তোমরা নিরাশ হয়ো না এবং দুঃখ করো না। যদি তোমরা মুমিন হও, তবে তোমরাই বিজয়ী হবে। (সুরা আলে ইমরান: ১৩৯)

২. لَا يُكَلِّفُ ٱللَّهُ نَفْسًا إِلَّا وُسْعَهَا‌ۚ لَهَا مَا كَسَبَتْ وَعَلَيْهَا مَا ٱكْتَسَبَتْ‌ۗ

অর্থ: আল্লাহ কোনো ব্যক্তির ওপর তার সাধ্যাতীত কোনো বোঝা চাপিয়ে দেন না। সে যা অর্জন করে তা তার জন্যই এবং সে যা কামাই করে তা তার ওপরই বর্তাবে। (সুরা বাকারাহ: ২৮৬)

৩. فَإِنَّ مَعَ الْعُسْرِ يُسْرًا ۝ إِنَّ مَعَ الْعُسْرِ يُسْرًا

অর্থ: অতএব, নিশ্চয়ই কষ্টের সঙ্গেই রয়েছে স্বস্তি। নিশ্চয়ই কষ্টের সঙ্গেই রয়েছে স্বস্তি। (সুরা আশ-শারহ: ৫-৬)

৪. قُلْ يَـٰعِبَادِىَ ٱلَّذِينَ أَسْرَفُواْ عَلَىٰٓ أَنفُسِهِمْ لَا تَقْنَطُواْ مِن رَّحْمَةِ ٱللَّهِ‌ۚ إِنَّ ٱللَّهَ يَغْفِرُ ٱلذُّنُوبَ جَمِيعًا‌ۚ إِنَّهُۥ هُوَ ٱلْغَفُورُ ٱلرَّحِيمُ

অর্থ: বলো, হে আমার বান্দাগণ, যারা নিজদের ওপর বাড়াবাড়ি করেছো তোমরা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না। অবশ্যই আল্লাহ সকল পাপ ক্ষমা করে দেবেন। নিশ্চয় তিনি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু। (সুরা জুমার: ৫৩)

৫. وَمَن يَتَوَكَّلْ عَلَى اللَّهِ فَهُوَ حَسْبُهُ

অর্থ: যে ব্যক্তি আল্লাহর ওপর ভরসা করে, তার জন্য আল্লাহই যথেষ্ট। (সুরা আত-তালাক: ৩)

৬. أَلَا بِذِكْرِ اللَّهِ تَطْمَئِنُّ الْقُلُوبُ

অর্থ: তারাই ঈমান আনে এবং আল্লাহর স্মরণে তাদের অন্তর প্রশান্তি লাভ করে। জেনে রেখো, আল্লাহর স্মরণের মাধ্যমেই অন্তরে সত্যিকারের প্রশান্তি লাভ করা যায়। (সুরা আর-রাদ: ২৮)

৭. وَعَسَىٰ أَن تَكْرَهُوا شَيْئًا وَهُوَ خَيْرٌ لَّكُمْ

অর্থ: হতে পারে, তোমরা কোনো কিছু অপছন্দ করছ, অথচ তা তোমাদের জন্য কল্যাণকর। (সুরা আল-বাকারাহ: ২১৬)

৮. يَـٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ ٱسْتَعِينُواْ بِٱلصَّبْرِ وَٱلصَّلَوٲةِ‌ۚ إِنَّ ٱللَّهَ مَعَ ٱلصَّـٰبِرِينَ

অর্থ: হে মুমিনগণ, ধৈর্য ও সালাতের মাধ্যমে সাহায্য চাও। নিশ্চয় আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সঙ্গে আছেন। (সুরা-আল বাকারাহ: ১৫৩)

৯. وَٱصْبِرْ وَمَا صَبْرُكَ إِلَّا بِٱللَّهِ‌ۚ وَلَا تَحْزَنْ عَلَيْهِمْ وَلَا تَكُ فِى ضَيْقٍ مِّمَّا يَمْكُرُونَ

অর্থ: আর তুমি সবর কর। তোমার সবর তো শুধু আল্লাহর তাওফিকেই। তারা যেসব ষড়যন্ত্র করছে, তুমি সে বিষয়ে সংকীর্ণমনা হয়ো না। (সুরা নাহল: ১২৭)

১০. ٱدْعُونِىٓ أَسْتَجِبْ لَكُمْۚ إِنَّ ٱلَّذِينَ يَسْتَكْبِرُونَ عَنْ عِبَادَتِى سَيَدْخُلُونَ جَهَنَّمَ دَاخِرِينَ

অর্থ: তোমরা আমাকে ডাকো, আমি (তোমাদের ডাকে) সাড়া দেব। যারা অহংকারবশত আমার ইবাদাত করে না, নিশ্চিতই তারা লাঞ্ছিত অবস্থায় জাহান্নামে প্রবেশ করবে। (সুরা গাফির: ৬০)

সুতরাং, হতাশা থেকে মুক্তি পেতে ইতিবাচক চিন্তা অত্যন্ত জরুরি। আর একজন বিশ্বাসী মানুষের জন্য কোরআনের এই আয়াতগুলো হলো সবচেয়ে বড় ইতিবাচক ও অনুপ্রেরণাদায়ক শক্তি। জীবন যখন থমকে দাঁড়ায়, তখন এই আয়াতগুলোর অর্থ অনুধাবন করলে মনের ভেতর এক অলৌকিক শান্তি ও নতুন করে বাঁচার শক্তি পাওয়া যায়।